নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

আমাদের দলিত সকাল-সন্ধ্যা !



১০-দিন ক্রমাগত ধর্ষণ শেষে ঋ্জু পায়ে কাঁপতে কাঁপতে ঘরে ফেরে ১৫-বছরের কিশোরি সন্ধ্যা। উঠোনে দাঁড়ানো মা মেয়ের এ করুণ অবস্থায় ফিরতে দেখে চিৎকার দিয়ে ডাকে স্বামীকে। ১০-দিন নিখোঁজ থাকার পর মেয়ের এ অবস্থায় প্রত্যাবর্তনে বাকরহিত হয়ে জগদীশ তাকিয়ে থাকে একখন্ড দুখরূপী হেঁটে আসা সন্ধ্যার দিকে। মাকে জড়িয়ে ধরার আগেই দরজায় পড়ে যায় ১০-দিনের ক্লান্ত-শ্রান্ত ধর্ষিতা সন্ধ্যা!
:
২০০৪ সনের কথা। নবগ্রামের দরিদ্র কৃষক জগদীশ তার ধানী জমি আর বাড়িটি বন্ধক রেখে দশ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল ক্ষমতাধীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা আক্কেল আলী থেকে। কিন্তু জগদীশের একমাত্র বেধাবী কন্যা সন্ধ্যা প্রত্যহ ৩-টা টিউশানি করে, ৬-মাসের মাথায় একদিন পুরো ১০-হাজার টাকা নিয়ে হাজির হলো আক্কেল আলীর বাড়ি। এবং বললো, "কাকা টাকাটা রাখুন আর আর্শীবাদ করবেন আমায়, যেন ইন্টারে ভাল কলেজে ভর্তি হতে পারি আমি। পড়ালেখা করে ভাল চাকুরি করে মা-বাবার দু:খ ঘোচাতে চাই আমি। যাতে ছেলে না থাকার কষ্ট না থাকে তাদের মনে"।
:
হাতে নগদ ১০-হাজার টাকা পেয়ে মনটা দারুণ খারাপ হয় আক্কেল আলীর। সে কোনদিন মনে করিনি, জগদীশ নামের দরিদ্র হিন্দু কৃষক কখনো ১০-হাজার টাকা একত্র করতে পারবে এবং ছুটাতে পারবে তার বন্ধককৃত জমি। সন্ধ্যার প্রতি দারুণ রাগ হয় তার। এ মেয়েটা মেধাবী না হলে, টিউশানি করে টাকা না কামাতে পারলে, কোনদিন নিতে পারতো না এ সোনার জমি তার থেকে। রাগে ক্ষোভে নিজের রাজনৈতিক গুন্ডা ক্যাডার টগন আর কাল্টুকে ডেকে বলে, "সন্ধ্যাকে অপহরণ করে নিয়ে যা কাল্টু তোর বাড়িতে"।
:
পরদিন টিউশানিতে যাওয়ার পথে, একটা গাড়িতে মুখ চেপে অপহরণ করে সন্ধ্যাকে কাল্টু আর টগন। যা ঘটনাক্রমে দেখে ফেলে নাপিত হরলাল। হিন্দু প্রতিবেশী হরলাল দৌঁড়ে এসে জগদীশকে খবর দেয়, তার মেয়ে সন্ধ্যাকে অপহরণের ঘটনা। স্ত্রী আর হরলালসহ জগদীশ উপস্থিত হয় আক্কেল আলীর বাড়ি। পায়ে ধরে বলে কাল্টু আর টগন কর্তৃক তার মেয়েকে অপহরণের কথা এবং তাকে ছেড়ে দিতে। আক্কেল আলী ডেকে আনে কাল্টু আর টগনকে। তারা কসম করে বলে এ ঘটনা মিথ্যা, বানানো। তারা কখনো দেখেনি সন্ধ্যাকে। মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্যে নাপিত হরলালকে গলা ধাক্কা দেয় আক্কেল ও তার গুন্ডা দল। চোখ ঘুরিয়ে হরলালকে বলে, "এমন করলে এ মুসলিম দেশে থাকতে পারবা না মালাউন বাছারা তোমরা। মুসলমানের নামে এতোবড় বদনাম"!
:
স্থানীয় থানায় গিয়ে একই অভিযোগ করে জগদীশ আর হরলাল। থানার ওসি সাহেব আক্কেল আলীর মত বড় সম্মানি নেতার নামে এমন মারাত্মক মিথ্যা অভিযোগ করার জন্যে বের করে দেয় দুজনকে। বলে, "বাড়াবাড়ি করলে নিজের মেয়েকে গুম করার জন্যে গারদে ঢুকাবো নোমো চাড়াল দুজনকে"। চোখ মুছতে মুছতে থানা থেকে বেড়িয়ে আসে জগদীশ। কি করবে এ দরিদ্র অশিক্ষিত সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য, জামাত সমর্থিত হিন্দু বিদ্বেষী ক্ষমতাসীন জোট সরকারের স্থানীয় দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে, কুল কিনারা পায়না।
:
পুরো ১০-দিন কাল্টুর বৌ-হীন বাড়িতে পর্যায়ক্রমে সন্ধ্যাকে ধর্ষণ করতে থাকে আক্কেল, টগন আর কাল্টু। মানে ১০-দিনে কমপক্ষে ৩০-বার ধর্ষিতা হয় সন্ধ্যা। এ ১০-দিন তাকে ঐ ঘরে পুরো উলঙ্গ করে রাখে অপহরণকারীরা। শেষ দিন সন্ধ্যাকে আক্কেল মিয়া বলে, "মা সন্ধ্যা, তোমাকে এখন ছাইড়া দিমু কিন্তুক কাপড় ছাড়া ঘরে ফিরবা ক্যামনে? একটা মুচলেকা লেইকা দিলে, কাপড় পরাইয়া সম্মানের সাথে বাড়ি দিয়া আমু তোমারে"। অবশেষে সন্ধ্যা এইমর্মে একটা মুচলেকা দেয় যে, "তার মা-বাবার সাথে রাগ করে নিজ ইচ্ছেতে আক্কেল মিয়ার বাড়িতে এই ১০-দিন ছিল সে। তাকে আক্কেল মিয়া খুবই আদর যত্ন করেছে মেয়ের মত, কোন খারাপ আচরণ তার সাথে করা হয়নি"।
:
বাড়ি ফিরে একদম বোবা হয়ে থাকে সন্ধ্যা। মা-বাবা কারো সাথে কোন কথাই বলেনা সে। প্রতিবেশিরা নানা কানাঘুষা করতে থাকলে, একদিন নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরায় সন্ধ্যা। চিৎকার শুনে মা-বাবা পানি দিতে দিতে ৯০% শরীর পুড়ে যায় এসএসসি পাস মেধাবী তরুণি ১৫-বছরের সন্ধ্যার। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে খবর শুনে এসপি নিজে এসে বয়ান গ্রহণ করেন সন্ধ্যার। মৃত্যুর আগে সন্ধ্যা তাকে অপহরণ, ১০-দিন আটকে রেখে ৩-জনের ধারাবাহিক ধর্ষণের লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে পারে এসপি সাহেবকে। পরদিন হাসপাতালে মৃত্যু হয় জগদীশের একমাত্র সন্তান সন্ধ্যার। এমন মেয়েটির মৃত্যু দারুণ আঘাত করে মানবিক এসপিকে। তিনি সরাসরি থানায় গিয়ে সাসপেন্ড করেন ওসিকে ও নিজে 'এফআইআর' নিয়ে গ্রেফতার করে আনেন আক্কেল, কাল্টু আর টগনকে।
:
পরদিন জেলা সদরে চালানের আগে, রাতে থানা হাজতে রাখেন ঐ ৩-ধর্ষককে। গভীর রাতে একটা বড় দা নিয়ে মেয়ে হারাণো জগদীশ থানা হাজতের সামনে এলে, কন্যা হারাণো পিতার দলনে দলিত আরেক পিতা এসপি নিজে খুলে দেন হাজতের দরজা। কন্যা ধর্ষণের জিঘাংসায় জগদীশ এলোপাথারি কোঁপাতে থাকে আক্কেল, কাল্টু আর টগনকে। পুলিশ সব চোখ ফিরিয়ে থাকে অন্যদিকে, যতক্ষণ না জগদীশ সফলভাবে হত্যা করতে পারে আক্কেল, কাল্টু আর টগনকে। রক্তাক্ত দা নিয়ে বেড়িয়ে যায় জগদীশ সবার সামনে দিয়ে। পুলিশ ঘটনা না দেখার ভান করে।
:
আসলে এ কাহিনির শেষ প্যারাটি 'অসত্য'। এটা লেখকের বানানো 'কল্পনা'। প্রকৃত ঘটনা হয়েছিল, এসপি কর্তৃক থানায় আটকের পর আক্কেল হাজতে বসেই মোবাইল করে ক্ষমতাধর বড় নেতার কাছে। অনেকটা হুমকি দিয়ে বলে, "লিডার সকাল থেকে হাজতে মশার কামড় খা্ইতাছি। এখনো আমারে ছাড়ার কোন ব্যবস্থা করলেন না আপনে। আপনারে বলি, গত পরশু লীগ থেকে আমারে অফার দিছে, তাদের দলে গেলে জেলার সাধারণ সম্পাদকের পদ দেবে আমায়। মামলা মোকদ্দমাও দেখবে তারা। আমি তাকে হা বা না কিছু বলিনাই। এটা নির্ভর করে আপনের উপর। আমারে আজ রাতের মধ্যে না ছাড়াইলে আমি লীগে যোগ দিব কইলাম আপনারে। আর ঐ মেয়েটাতো মারাই গেছে। ঐসব হিন্দু কাফের মরলে আমাগো মত ইসলামপন্থী দলের কি আসে যায়? এটা তো সোয়াবের কাজ করছি আমরা ৩-জনে"।
:
হাজতে বসে একজন ধর্ষক আর খুনের আসামির এমন দম্ভকথা শুনে কিছুই করতে পারেনা অসহায় এসপি। তার ইচ্ছে করে এখনই গুলি করে মারে এ ৩-জনকে। কিন্তু পচা রাজনীতির এ বাণিজ্যিক অকল্যাণ শব্দমালা গরম শীশার মত এসপির কানে ঢুকতে থাকে ক্রমাগত। দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্ততার মত সন্ধ্যার মা আর বাবা দলিত হতে থাকে, তাদের কিশোরি কন্যা হারাণোর দলনে। পারা-বিদ্যায় নির্ধারিত রাত যাপনের শেষে এসপি ঘুমাতে পারেনা এ বিবেক দহনে। আর পাখিহীন কাকভেজা ক্লান্তিকর বিরহী শ্রাবণ মেঘে সন্ধ্যাকে খুঁজে ফিরে তার দরিদ্র অসহায় মা বাবা। জীবনের এসব চলমান কথামালায় পাহাড়ি শো-শো দু:খ নদীর বাঁকে বাঁকে জমে থাকা ক্লেদরা হেঁটে বেড়ায় সন্ধ্যা, এসপি, জগদীশ আর হরলালদের বুকে। কিন্তু তারপরো শ্রদ্ধা-বৃক্ষ পরিণত হয়ে ঘৃণার কুটিল কালচক্রে এ আক্কেল আলীরা টিকেই থাকে সন্ধ্যাকে দলিত করে সকাল সন্ধ্যায় এ সমাজে!
:
(ভারতের একটি সত্যি ঘটনায় রূপকল্পে রচিত)

Comments

সলিম সাহা এর ছবি
 

ভারতে ঘটে যাওয়া একটা সত্য ঘটনাকে, বাংলাদেশের মুসলমান কর্তৃক এক হিন্দু সংখ্যা লঘুকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে প্রকাশ করে, শেষে লিখেছেন এটা কল্পকাহিনী। এটা কোন ধরণের কল্পনা? এই পোষ্ট বাংলাদেশের হিন্দু মুসলিমের সু-সম্পর্ক বিনষ্টে প্রভাব ফেলবে। তাই অনুরোধ করছি, এই পোষ্টের মূল ঘটনা ভারতের, তাই আপনি সঠিক তথ্য নির্ভর পোষ্ট করুন। নচেৎ এই পোষ্টটি মুছে ফেলুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ব্লগ কর্তৃপক্ষের। আশা করি যথা বিহিত ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

কেন এমন ঘটনা বাংলাদেশে শুনেননি? বিউটির ঘটনা জানেন না আপনি?

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

বিউটির ঘটনা সংখ্যা গুরু সম্প্রদায় কর্তৃক সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের আওতায় পড়ে কি? অহেতুক ভুলভাল তথ্য উপস্থাপন না করার জন্য অনুরোধ রইলো। সেই সাথে এই পোষ্টটি মুছে ফেলুন।

 
মাহবুবুল আলম রনি  এর ছবি
 

বিপ্লব কি রপ্তানীর জিনিস ? এক দেশের কাহিনী আরেক দেশের সাথে মিলিয়ে ঝামেলা বাধানোর চেষ্টা করার কোন দরকার আছে ?

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

বিউটির ঘটনা সংখ্যা গুরু সম্প্রদায় কর্তৃক সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের আওতায় পড়ে কি? অহেতুক ভুলভাল তথ্য উপস্থাপন না করার জন্য অনুরোধ রইলো। সেই সাথে এই পোষ্টটি মুছে ফেলুন।

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

হায়রে পোস্ট মুছতে হবে? কোন গ্রহে থাকেন রে ভাই!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 18 ঘন্টা 10 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর