নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ভূমিকার বিশ্লেষণ ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ (পর্ব ১০)



মহাবিশ্বের ৯৯.৯৯% মানুষের অজানাকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ৯৫% বলে সেই স্থানের কোথাও কল্পিত ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা আছে বলে দাবি করার পরে বইটির ২৪ নং পৃষ্ঠার ২য় প্যারাতে লেখক আরিফ আজাদ মহাবিশ্ব সম্পর্কে আরো লিখেছেন “NASA-এর বিজ্ঞানীরা বলছে, ‘More is unknown than is known. No one expected this, no one knew how to explain it. But something was causing it. It is a complete mystery. But it is an important mystery. তাদের মতে, এটা যতটুকু না জানা গেছে তারচেয়ে বেশি অজানা। তাহলে, এই অজানা বস্তুকে আমরা কী করব? বিজ্ঞানীরা কী করবেন? পদার্থবিজ্ঞানীরা কী করবেন? এগুলোকে অস্বীকার করবেন? ‘নাই নাই বলে পাশ কাটবেন? একদম না। বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিতে হলে তাদের এই বিশাল পরিমাণ অদৃশ্য বস্তুকে ‘বিশ্বাস করে আগাতে হবে। ধরে নিতে হবে যে—‘আছে। এরা আছে” NASA-এর বিজ্ঞানীদের ভাষ্য দিয়ে এখানে লেখক কি বোঝাতে চেয়েছেন তা কিন্তু পরিষ্কার না। তবে সে যে এই অজানা আর রহস্যময় বলে আখ্যায়িত করা অবস্থানকে কল্পিত ঈশ্বরের আবাস্থল বা বিভিন্ন ধর্ম মতে প্রচলিত মানুষের কল্পিত পরকাল জীবন বিষয়ক স্বর্গ বা নরকের অবস্থান বলে বোঝাতে চাচ্ছে তা কিন্তু পরিষ্কার। লেখক এখানে বিজ্ঞানীকদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে এই উক্তি নিয়ে বলছেন, “এটা সম্পর্কে জানার চেয়ে আমাদের অজানায় বেশি। কেউ কিভাবে এটার ব্যাখ্যা করবে তাও কেউ এখন পর্যন্ত ব্যাক্ত করেনি। কিন্তু কিছু কারণ আছে। এটি সম্পুর্ণ রহস্যময়। কিন্তু এটি সম্পুর্ণ একটি গুরুত্বপুর্ণ রহস্য”। NASA-এর বিজ্ঞানীদের এমন উক্তির পেছনে কিন্তু ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব বা কোন ধর্ম বিশ্বাস করে এমন উক্তি করার কোন কারণ নেই। আসলে প্রকৃত মহাবিশ্বের যে সমস্ত রহস্যময় ঘটনা ও স্থানের সন্ধান মানুষ এপর্যন্ত পর্যবেক্ষন ও গবেষণার মাধ্যমে পেয়েছে তার উদ্দেশেই এমন কথা বলা যেটাকে পুজি করে লেখক আরিফ আজাদ ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণের ব্যার্থ চেষ্টা করেছেন।

এই যে মহাবিশ্বের বিশাল অজানা একটি অংশ বা স্থান সেটাকে লেখক আরিফ আজাদ এখানে বস্তু অর্থ্যাৎ পদার্থ বলেছেন। যেটা আসলে তার ভুল নয় কারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত কল্পিত ঈশ্বর প্রদত্ত ঐশরিক পবিত্র গ্রন্থগুলো তাদের সেভাবেই শিক্ষা দিয়েছে। যেমন, কোন কোন ধর্মের পবিত্র গ্রন্থে বায়ুমন্ডলের যে নীল অংশকে আমরা আকাশ বলে থাকি সেই আকাশকে ছাদ বলা হয়ে থাকে, তাতে কোন খুটি নেই বলা হয়ে থাকে, তাতে কোন ছিদ্র নেই বলা হয়ে থাকে অর্থ্যাৎ এই সব ধর্ম বিশ্বাসীদের ধারনা আকাশ একটি ছাদের মতো বস্তু বা পদার্থ। আমি আর এখানে উদাহরণ দিচ্ছি না কোন ধর্মের ঐশরিক কিতাবে এমন লেখা আছে। এখানে লেখক আরিফ আজাদের প্রশ্ন “আমরা এই আজানা বস্তু নিয়ে কি করবো ?” আসলে মহাবিশ্বের যে স্থান গুলোতে মানুষ এখনও পৌছতে পারেনি সেগুলো নিয়ে মানুষের এই চিন্তার থেকে এখন বেশি কাজ করছে তারা কিভাবে শেখানে পৌছাতে পারবে। আর যেখানে যেখানে গিয়ে মানুষ পৌছাতে পেরেছে যেমন চাদঁ, মঙল গ্রহ । এই চাঁদ নিয়ে মানুষের গবেষণা এখনও চলছে। মঙ্গল গ্রহে মানুষের প্রাণের অনুসন্ধান সহ প্রাণী বসবাসের পরিবেশ তৈরি করার গবেষনা চলছে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে এই আজানা বস্তু নিয়ে আমরা কি করবো তা চিন্তা করার পূর্বে আমাদের ভাবতে হবে আগে শেখানে কিভাবে পৌছানো যায়। লেখক আরো প্রশ্ন করেছে “বিজ্ঞানীরা এমনকি পদার্থ বিজ্ঞানীরা এই অজানা স্থানকে কি অস্বীকার করবে কিনা ?” কিন্তু আমরা জানি বিজ্ঞানীরা আমাদের প্রতিনিয়ত এই আজানা বিষয় সম্পর্কে আমাদের তথ্য দিচ্ছে তাহলে যদি তারা এই মহাবিশ্বের অজানা যায়গাকে অস্বীকারই করতো তাহলে কোনদিন আমাদের এভাবে ডেমো দেখাতো না যে মহাবিশ্ব আসলে দেখতে এরকম এবং এখানে এইরকম এইরকম জিনিষ আছে।

যাইহোক এর পরের প্যারাতে লেখক আরিফ আজাদ যা বলেছেন তা হচ্ছে, “ব্যাপারটাকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন ডক্টর জাফর ইকবাল। মানুষ যে আদতে প্রকৃতির সব রহস্য ভেদ করতে পারবে না, তা এখনকার বিজ্ঞান অকপটে স্বীকার করে। অধ্যাপক জাফর ইকবাল তাঁর লেখা কোয়ান্টাম মেকানিক্স বইতে লিখেছেন,“কাজেই যারা বিজ্ঞান চর্চা করে তারা ধরেই নিয়েছে আমরা যখন বিজ্ঞান দিয়ে পুরো প্রকৃতিটাকে বুঝে ফেলবো, তখন আমরা সবসময় সবকিছু সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবো। যদি কখনো দেখি কোন একটা কিছু ব্যাখ্যা করতে পারছি না, তখন বুঝতে হবে এর পেছনের বিজ্ঞানটা তখনো জানা হয়নি। যখন জানা যাবে তখন সেটা চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবো। এককথায়, বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা ভবিষ্যদ্বাণী সবসময়েই নিখুত এবং এবং সুনিশ্চিত, কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিজ্ঞানে এই ধারণাটাকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা সবিস্ময়ে আবিষ্কার করে যে, প্রকৃতি আসলে কখনোই সবকিছু জানতে দেবে না। সে তার ভিতরের কিছু জিনিস মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে। মানুষ কখনোই সেটা জানতে পারবে না”। এখানে অধ্যাপক জাফর ইকবালের উক্তি সঠিক আছে কারণ তিনি বলেছেন এই প্রকৃতি আমরা যতক্ষন না বুঝতে পারবো ততক্ষন তার সঠিক ব্যাখ্যা করতে পারবো না। যখন আমরা প্রকৃতি সম্পর্কে পরিপুর্ণভাবে জানতে পারবো তখনই আমরা তার ব্যাখ্যা দিতে পারবো। এখন আমার কথা হচ্ছে অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যারের প্রতি আমি যথেষ্ট সম্মান রেখেই বলছি এখানে তার উক্তি ব্যাবহার করে লেখক আরিফ আজাদ এমন একটা চেষ্টা করেছেন যাকে বলে “আমি কোরান পড়ে বিগ ব্যাং সম্পর্কে বুঝেছি” টাইপের ব্যাখ্যা। মানুষ প্রকৃতির রহস্য ভেদ করতে পারবে না এমন কথা বিজ্ঞান কখনও কোথাও বলেনি যা এই আরিফ আজাদ এখানে তার মিথ্যাচারের অব্যাহত ধারাবাহিকতায় এখানেও বজায় রেখেছেন।

লেখক আরিফ আজাদের দাবি করা কথা যেটা সে অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যারের কোয়ান্টাম মেকানিক্স বই এর একটি উক্তি দিয়ে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যার্থ চেষ্টা করেছেন সেটা যে ভুল এবং মিথ্যাচার তা আমরা বিজ্ঞানের প্রকৃতি সম্পর্কে নতুন নতুন করা ব্যাখ্যা থেকেই প্রমাণ পেয়ে আসছি। যেমন ধরুন একটা সময় খালে বিলে মিথেইন গ্যাস-এর ফলে সৃষ্ট একধরনের চলমান আলো বা আগুনের কুন্ডলীকে মানুষ মনে করতো কল্পিত চরিত্র জ্বীন, পরী বা ভূত, পেত্নির ছায়া বা কোন অশুভ শক্তি। গ্রামাঞ্জলে রাতের বেলা ফাকা অঞ্চলে প্রকৃতিতে এমন কিছু দেখলে মানুষ কল্পিত ঈশ্বরের নাম ধরে সাহস যোগাতো। বিজ্ঞান যখন আমাদের জানালো মিথেন একটি টেট্রাহাইড্রাল অণু যাতে চারটি সমতুল্য কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন আছে।স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও চাপে মিথেন একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন গ্যাস।নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিচিত গন্ধ সাধারণত ট্রেট-বিউথাইল নামক সুগন্ধক যোগ করার কারনে হয়।এক বায়ুমন্ডলীয় চাপে মিথেনের স্ফুটনাঙ্ক হচ্ছে -১৬১° সেলসিয়াস।বাতাসে যখন এর ঘনত্ব একটি সংকীর্ণ পরিসীমায় ৫-১৫% হয় এটি তখন শুধুমাত্র প্রজ্বলিত হয়।তরল মিথেন উচ্চ চাপ ছাড়া (সাধারনত ৪-৫ বায়ুমন্ডলীয় চাপ) প্রজ্বলিত হয় না। তখন মানুষ বুঝতে পারলো এই আলোকিত চলমান কুন্ডলী আসলে কোন জ্বীন ভূত বা অশুভ শক্তি না। আর এভাবেই বিজ্ঞান মানুষকে দিনে দিনে প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে চলেছে মানুষকে। আর এই একই কথা অধ্যাপক আফর ইকবাল স্যার তার বই কোয়ান্টাম মেকানিক্স এ বলতে চেয়েছেন।

এরপরের প্যারাতে লেখক আরিফ আজাদ যা লিখেছে তা হচ্ছে “সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে, এটা কিন্তু বিজ্ঞানের অক্ষমতা বা অসম্পূর্ণতা নয়। এটাই হচ্ছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানীরা একটা পর্যায়ে গিয়ে কখনোই আর জোরগলায় বলবেন না হবে, তারা মাথা নেড়ে বলবেন—‘হতে পারে। অধ্যাপক জাফর ইকবালের কথার সারমর্ম এই যে, বিজ্ঞানীরা কোনোদিনও প্রকৃতির সকল রহস্য উদঘাটন করতে পারবেন না। এই না পারাটা কি বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানীদের অক্ষমতা? জাফর ইকবাল বলছেন, ‘না এটা বিজ্ঞানের অক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটাই বিজ্ঞানের ধর্ম। বিজ্ঞানীরা আর উঁচু গলায় বলতে পারবেন না যে—হবে। তাদের বলতে হবে—‘হতে পারে”। এখানে বলতেই হয় আবারও লেখক আরিফ আজাদ সে পুরাতন মিথ্যাচার আর মনগড়া উদাহরণ দিয়ে তার পাঠকদের ব্রেন ওয়াশ করার চেষ্টা করেছেন। যেমন, বিজ্ঞানীরা আজ পর্যন্ত কোন থিউরী দিয়ে কেউ কোনদিন বলেনি যে এটা আমার উদ্ভাবিত তত্ব যার পরে আর কেউ কোন তত্ব দিতে পারবে না বা আমার দেওয়া তত্বকে কেউ কোনদিন ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। বিজ্ঞান সব সময়ই বলে আসছে আমার এই তত্ব বা থিউরী ততক্ষন পর্যন্ত গ্রহন কর যতক্ষন পর্যন্ত এটা ভুল না প্রমাণ করা হচ্ছে। তাহলে কোন হিসাবে লেখক আরিফ আজাদ এখানে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা কখনই জোর গলায় বলবেন না হবে তারা মাথা নেড়ে বলবেন হতে পারে ? এরপরে সেই অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যারের উক্তির পা ধরে কান্নাকাটি দেখা যাচ্ছে যা আদতে না। অধ্যাপক জাফর ইকবাল-এর যে উক্তি এখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে তাতে কখনই এটা প্রমাণ করেনা যে তিনি দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা কোনদিনও প্রকৃতির সকল রহস্য উদঘাটন করতে পারবেন না। এটা একটি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এই বইএর পাঠকদের ব্রেন ওয়াশ বলা যায়।

একটা বিষয় এখানে বলা উচিৎ বলে মনে করি। আস্তিকরা যখন আরিফ আজাদের বই আরজ আলী সমীপে বইটি পড়ে তখন তারা মনে মনে খুশি হয় এই ভাবে যে এখানে মনে হয় আরজ আলী মাতুব্বরের উপস্থাপিত যুক্তি ও প্রশ্নের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বা নাস্তিকদের দাত ভাঙ্গা জবাব দেওয়া হয়েছে যা আসলে সম্পুর্ণ একটি ভুল ধারনা। এই বইটি আসলে লেখাই হয়েছে আস্তিকদের একটু সান্তনা দেবার জন্য। তারা যে সময় আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্নের কোন জবাব না দিতে পেরে নিজেদের অসহায় মনে করতো তার পক্ষে একটা সান্তনা বানী বলা যেতে পারে এই আরজ আলী সমীপে বইটি তাছাড়া কিছুই না। এখানে আসলে লেখক আরজ আলী মাতুব্বরের একটি যুক্তিও খন্ডন করে দেখাতে সক্ষম হয়নি। যাই হোক চলে যাচ্ছি পরের প্যারাতে যেখানে বলা হচ্ছে “এই হচ্ছে বিজ্ঞানের অবস্থা। এই যে প্রকৃতির কিছু রহস্য বিজ্ঞান উদঘাটন করতে পারছে না বা পারবে না, তার মানে কি আমাদের ধরে নিতে হবে যে এগুলোর অস্তিত্ব নেই? নাহ। বিজ্ঞান মোটেও তা বলে না। বিজ্ঞান সেই না-জানা, না-দেখা, বুঝতে পারা রহস্যতেও ঈমান আনে। বিশ্বাস করে। বিজ্ঞান এভাবেই আগায়। বিজ্ঞানকে এভাবেই আগাতে হয়। সুতরাং আরজ আলী সাহেবের মতে শুধু ধর্মই ‘বিশ্বাস’ নিয়ে আগায় না, তাদের পরম পূজিত বিজ্ঞানও আধুনিককালে এত্তোগুলো ঈমান নিয়ে চলে। এই ঈমান ছাড়া তারা এগুতে পারে না” আমার মনে হয় যদি কোন যুক্তিবাদী আর বিচক্ষন ব্যাক্তি লেখক আরিফ আজাদের এই অযৌক্তিক বই পড়ে তাহলে একা একাই হাসতে থাকবে তার এই জাতীয় কুযুক্তি দেখে। বিজ্ঞান আমাদের যে তত্ব বা থিউরী দিয়ে থাকে সেই থিউরী কখনই সর্বশেষ থিউরী এমনটা বিজ্ঞান কখনই দাবি করে না তারপরও বিজ্ঞান নাকি এমন কিছু দাবি করে বলে লেখক আরিফ আজাদ এখানে বলছেন “বিজ্ঞানের হচ্ছে এই অবস্থা যা বলতেই পারেনা হবে যা বলে থাকে হতে পারে”।

আবারও লেখক এখানে দাবি করছেন যে বিজ্ঞান নাকি প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না ও পারবে না তাও আবার জাফর ইকবালে স্যারের একটি উক্তি পুজি করে যা আমরা দেখলাম একটি ভুল দাবি ছাড়া কিছুই না। বিজ্ঞান কখনই বলেনা যে প্রকৃতির যে বিষয় গুলা বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারছে না তার অস্ত্বিত্ব নেই বা এমন কিছু। এখানে লেখক বলছে এই না জানা না বোঝা বিষয়ে নাকি বিজ্ঞান ঈমান আনে। আসল কথা হচ্ছে ঈমান বলতে এখানে যা বোঝানো হচ্ছে তার নেই কোন ভিত্তি নেই কোন সঠিক ব্যাখ্যা। আমরা জানি পানির পরিমাপের একক হচ্ছে সিসি, মিলি, লিটার ইত্যাদি, তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য সেন্টিগ্রেড, ফারেনহাইট, বিদুৎ মাপার জন্য ভোল্ট, এম্পায়ার ও ওজন মাপার জন্য কেজি, টন উচ্চতা ও দৈর্ঘ মাপার জন্যও আছে নানা একক। কিন্তু আমরা প্রায় ধর্ম বিশ্বাসীদের বলতে শুনে থাকি এই কাজে ঈমান আনে আর এই কাজে ঈমান নষ্ট হয়, এই কাজে এতো নেকি আর এই কাজে কোন নেকি নেই কিন্তু তাদের কাছে যখনই জিজ্ঞাসা করা হয়ে থাকে যে এই ঈমান বা নেকি পরিমাপের এককের নাম কি তখনই তারা ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় কারণ আসলে এমন কোন বিষয় বলে কিছুই নেই যাকে বলে ঈমান বা নেকি। আর নেই জিনিসের উপরে বিজ্ঞানের বিন্দু মাত্র আস্থা নেই। বিজ্ঞানের আস্থা আছে তথ্য প্রমাণ ও যৌক্তিক ব্যাখ্যার উপরে। তাহলে কথা হচ্ছে লেখক আরিফ আজাদ এখানে কিভাবে দাবি করছেন যে বিজ্ঞান নাকি ঈমান আনে এবং এই ঈমান ছাড়া নাকি বিজ্ঞান এগোতে পারেনা।

এরপরের প্যারাতে লেখক আরিফ আজাদ লিখেছেন “এই অধ্যায়ের শেষের দিকে আরজ আলী সাহেব আরও মজার বিষয়ের অবতারণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আজকাল যেখানে-সেখানে শোনা যাইতেছে যে, সংসারে নানা প্রকার জিনিসপত্র হইতে বরকত উঠিয়া গিয়াছে। কারণ লোকের আর পূর্বের মতো ঈমান অর্থাৎ বিশ্বাস নাই। পূর্বে লোকের ঈমান ছি্লো, ফলে তাহারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বাস করিতো। আর আজকাল মানুষের ঈমান নাই। তাই তাহাদের অভাব ঘুচছে না। ঈমান নাই বলিয়াই ক্ষেতে আর সাবেক ফসল জন্মে না। ফলের গাছে ফল ধরে না। পুকুরে-নদীতে মাছ পড়ে না। ঈমান নাই বলিয়াই মানুষের ওপর গজবরূপে কলেরা, বসন্ত, বন্যা-বাদল, অনাবৃষ্টি ইত্যাদি নানা প্রকার বালা-মুছিবত নাজেল হয়। অথচ মানুষের হুঁশ হয় না। এইরূপ যে নানা প্রকার অভাব-অভিযোগের জন্য ঈমানের অভাবকেই দায়ী করা হয়, তাহা কতোটুকু সত্য?”” এটা ছিলো আরজ আলী মাতুব্বরের ঈমান আর বরকত মানে ভাগ্য বা কপাল সম্পর্কিত একটা দারুন উক্তি। আমার মনে হয়না এই উক্তি কেউ খন্ডন করে দিতে পারবে। আসলেই কিন্তু আরজ আলী মাতুব্বরের সময়তে সহ বর্তমানেও কিছু কিছু অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন অঞ্চলে এমন মনোভাব প্রচলিত আছে যে ঈমানের অভাবে বরকত হচ্ছেনা। এমনকি শিক্ষিত সমাজেও দেখা যায় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করার পুর্বে কল্পিত ঈশ্বরের নামে পূজা দেওয়া বা মিলাদ পড়াবার মতো কান্ড কারখানা। সেই হিসাবে আরজ আলী মাতুব্বরের এই উক্তি দিয়ে এমন প্রশ্ন “এটা কতটুকু সত্য” রাখার ফলে জবাব দিতে গিয়ে কিন্তু ধর্ম বিশ্বাসীদের ঘাম ছুটে যাবার কথা। বাকি অংশ পরের পর্বে ……

বইটির ২৪ ও ২৫ নং পৃষ্টাতে যেভাবে আছে সেটা এখানে দেখতে পারেন।

পৃষ্ঠা ২৪
পৃষ্টা ২৫

মৃত কালপুরুষ
০৬/০৪/২০১৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 ঘন্টা 37 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর