নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

উন্নয়নের জোয়ারে, ভেসে যায় আহারে!


উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। সব সময়েই উন্নয়ন,সব জায়গাতেই উন্নয়ন। উন্নয়নের মেঘমন্দ্রিত সরকারি গর্জনে কান ঝালাপালা হওয়ার দশা। মাইকের মতো অবিরত যারা কল্পিত উন্নয়নের শিবের গীত গাচ্ছেন তারা কি একবার দয়া করে বলবেন উন্নয়ন বলতে আপনারা কী বোঝেন? কোন স্কেল দিয়ে আপনারা উন্নয়ন পরিমাপ করছেন? উন্নয়ন পরিমাপ করার সূচকগুলো কী? উন্নয়ন মানে কি ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের ফরেন রিজার্ভ, ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি, সুউচ্চ সুরম্য প্রাসাদের আধিক্য, মেট্রোরেল আর পদ্মাসেতু এবং চৌদ্দশ ডলার মাথাপিছু আয়? উন্নয়ন মানে কি চার লক্ষ কোটি টাকার বাজেট, সাবমেরিন, মিগ টুয়েন্টি নাইন? উন্নয়ন মানে কী শিশু ও নারী ধর্ষণ, ধর্মীয় মৌলবাদের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া? উন্নয়ন মানে বেসরকারি হাসপাতাল, শপিং মল, রোবট সোফিয়ার প্রদর্শনী, ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁস, বিচারহীনতা ও ব্যাংক লুটপাট?

উন্নয়নের আধুনিককালের সংজ্ঞাগুলো পড়ে দেখেছেন আপনারা? আজকালকার অর্থনীতিবিদরা কী বলেন, ইউনেস্কো কী বলে, জাতিসংঘের ভাষ্য কী এসব খোঁজ কি একটু রাখেন? উন্নয়নের সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক স্পষ্ট নয় যদিও, তবে আধুনিককালের উন্নয়ন চিন্তায় উন্নয়নের সাথে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার সম্পর্ককেও যুক্ত করা হচ্ছে। তা আমাদের দেশের নাগরিকরা কতখানি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তার সাথে চলাচলের স্বাধীনতা উপভোগ করছে? উন্নয়ন বলতে বিল্ডিং নির্মাণ নয়, জনগনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাধীনতা উপভোগের ক্ষমতা বৃদ্ধিকে বোঝায়। এসব চিন্তার কোন বালাই নেই দেশের রাজনীতিক ও প্রশাসকদের মধ্যে। দেশে আয় ও সম্পদ বৈষম্য কত, রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে না নেই, ফ্রিডম অব স্পিচ এ্যন্ড প্রেসের কি হাল?এসব বিষয় বিচার বিবেচনা করে তারপর আসুন উন্নয়নের ফিরিস্তি দিতে।

ভারতের তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ইথিওপিয়ার ১৯৭৩ এর দুর্ভিক্ষ এবং বাংলাদেশের ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষগুলো পর্যালোচনা করে অমর্ত্য সেন দেখিয়েছেন যে সেই দুর্ভিক্ষগুলো খাদ্যের ঘাটতির কারনে হয়নি। খাদ্য যথেষ্টই ছিল কিন্তুু সেই খাদ্যে মানুষের অভিগম্যতা ছিল না (lack of people's access to that food)। সেন FOOD ENTITLEMENT নামে একটি ধারণা প্রবর্তন করেছেন। সহজ করে বললে আমি ওইটার অর্থ বুঝি "খাদ্যের উপর মালিকানার অধিকার"। সেনের মতে উপরোক্ত দুর্ভিক্ষের সময়ে জনগনের খাদ্যের উপর মালিকানার অধিকার চরমভাবে হ্রাস পেয়েছিল। হ্রাস পাওয়ার বহুবিধ কারন থাকতে পারে। যেমন জনগনের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, উৎপাদিত খাদ্যের সুষম বন্টন ব্যবস্থার অভাব, মজুদদারী, উৎপাদন হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি। যখন আমি দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সরকারি ঢক্কানিনাদ শুনি, আমার কেবলি মনে হয় দেশের সকল মানুষের আদৌ খাদ্যের উপর যথেষ্ট মালিকানা আছে তো? যারা খাদ্যের অভাবে মারা না যেয়ে বেঁচে আছে, তারা আসলে কী রকমভাবে বেঁচে আছে, কী খেয়ে বেঁচে আছে, কতটুকু খায়, যথেষ্ট পুষ্টি পায় তো? আর যারা অতিপ্রাচুর্যের দরুণ অতিরিক্ত খায় তারাই বা কী খায়? ফরমালিন এবং কৃত্রিম রং। এসব খেয়ে যখন অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ খেতে শুরু করে, সেইসব ঔষধের মান কী রকম? গরীবের চিকিৎসার কথা বাদই দিলাম। হাজার পনেরশ টাকা ফিস দিয়ে কনসালটেন্ট দেখানো তাদের স্বপ্নের অতীত। বেশিরভাগ গরীব রোগীর দৌড় প্যারাসিটামল আর এন্টাসিড পর্যন্ত। খুব বেশী হলে কোয়াক ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মতো তৃতীয় শ্রেণীর ওষুধ কোম্পানির এন্টিবায়োটিক যদিও তার কোন প্রয়োজনই হয়তো ছিলো না, এবং সাত দিন খেতে বললেও তিনদিন খাওয়ার পরেই বন্ধ করে দেওয়া। কেউ টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে না পেরে কেউবা রোগ ভালো হয়ে গেছে সেকথা ভেবে। মানুষকে এতো স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রেখে আপনারা উন্নয়নটা করলেন কোথায়? আপনারা হয়তো এখন আমাকে এভারেজ লাইফ এক্সপেক্টেন্সি দেখাতে আসবেন। বলবেন আমরা এখন বাহাত্তর বছর বাঁচি। হুম, বাঁচেন বটে। এই বাহাত্তরের বছরের মধ্যে অন্তত ত্রিশটা বছর আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে স্রেফ টাকার জোরে। জীবনের এই দিনগুলো আপনাকে বেসরকারি ডাক্তার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল এবং ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অতি উচ্চমূল্যে কিনতে হবে। এই ঢাকা শহরে ধনী পরিবারে যারা অন্তত সত্তর বছর বয়স্ক মানুষ আছেন, তাদের বেশীরভাগই এভাবেই বেঁচে আছেন হয়তো। টাকা দিয়ে আয়ু কেনার উন্নয়ন চালু করেছেন আপনারা? গরীব মানুষের এতো টাকা কই আয়ু কেনার?

শিক্ষা খাতের উন্নয়নের খতিয়ান হিসেবে আপনারা বলবেন দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে অনেকগুলো। বুঝলাম। তা কত শতাংশ মানুষ ওইসব প্রতিষ্ঠানের "শিক্ষা পণ্য" ক্রয় করতে পারে? এসব প্রতিষ্ঠানে ছেলে মেয়েকে পড়াতে গিয়ে বাপ মাকে কী অর্থনৈতিক দুর্গতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে সে খবর রাখেন? ব্যাংক আছে দেশে ষাটের বেশী। কত শতাংশ মানুষের কত টাকা আমানত আছে ওসব ব্যাংকে? এখনতো আবার কয়েকটা বেসরকারি ব্যাংকে চেক দিয়েও টাকা পাওয়া যাচ্ছেনা। এইসব দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকার চুপিচুপি "বেইল আউট" বা ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে সরকারি তহবিল থেকে। জনগনের ট্যাক্সের টাকার কী চমৎকার ব্যবহার!

গণতন্ত্র গণতন্ত্র করে চিৎকার করেন।গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা বাদ দিলাম, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সেতো দূরকল্পনা। গণতন্ত্রের কিছু পদ্ধতিগত বিষয় আছে, যেমন নির্দিষ্ট সময় পরপর ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগনের অংশগ্রহণ এসব। ইলেকশন হয়তো হচ্ছে।তবে কিভাবে হচ্ছে তা বলে লাভ নেই। জনগনের অংশগ্রহণ!সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের খবর মন্ত্রীরাই জানেন না। জনগণ তো কোন ছার।

আপনারা "কম গণতন্ত্র বেশী উন্নয়ন" এই থিওরি কপচাচ্ছেন।বোঝা যাচ্ছে রাজনৈতিক শাসনের ক্ষেত্রে এদেশ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করছে। কিন্তুু এখানেই বড় ভুল হচ্ছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ষাট ও সত্তরের দশকের সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা আর বর্তমানের গ্লোবাল ভিলেজের যুগে এদেশের বাস্তবতা এক নয়। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার শাসন পদ্ধতি তাদের পিকুইলিয়ার বৈশিষ্ট্যের অর্ন্তগত। সেটা বাংলাদেশে এখন রেপ্লিকেবল না। যারা ভাবছেন Authoritarian regime will bring about higher economic prosperity তাদের জন্য দুঃসংবাদ আছে প্রচুর। Democracy and Development নিয়ে গত বিশবছরে অসংখ্য গবেষণা হয়েছে,বিশেষ করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে প্রবন্ধ নিবন্ধ বেরিয়েছে প্রচুর। কোন গবেষকই সুনির্দিষ্ট উপসংহারে পৌছাতে পারেনি। যারা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের উদাহরণ দিচ্ছেন,তাদের কাউন্টার একজাম্পলও আছে।যেমন ফিলিপাইনস, ইন্দোনেশিয়া, আর আফ্রিকার দেশগুলো। এই দেশগুলোতে কর্তৃত্ববাদী শাসন চালু থাকা সত্ত্বেও উন্নতি করতে পারেনি। আবার বতসোয়ানা গণতান্ত্রিক শাসনেই উন্নতি করেছে। হান্টিংটন, লিপসেট, প্রণব বর্ধন, রবিনসন ও হোয়াইট, পেজোরস্কি প্রভৃতি প্রচুর গবেষকের লেখা আছে এই বিষয়ে। একটু দেখুন দয়া করে।

বর্তমান সরকার একটা বিজ্ঞাপননির্ভর সরকারে পরিণত হয়েছে।এই সরকার উন্নয়নের বিজ্ঞাপন দিতে যে পরিমাণ প্রয়াস ও পয়সা ব্যয় করছে, সমপরিমাণ প্রয়াস ও পয়সা যদি আন্তরিকতা এবং সততার সাথে প্রকৃত অর্থেই উন্নয়নের কাজে ব্যয় করতো,তাহলে আজ তাদেরকে রাজনৈতিক দল, সরকারি প্রচারযন্ত্র, এবং তাদের পকেটে থাকা দাসানুদাস বেসরকারি ভাঁড় শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীদেরকে দিয়ে একযোগে উন্নয়নের বিজ্ঞাপন প্রচার করা লাগতো না।জনগন সকলেই শিক্ষিত না হলেও জন্মান্ধ নয়। জন্মের সময় তারা একটা মাথা এবং তার ভেতর মগজ সঙ্গে করে নিয়েই জন্মায়।এবং জীবনযাপন করতে করতে এবং চারপাশের ঘটনাবলী দেখতে দেখতে তারা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অনেককিছুই শিখে ফেলে (এখানে জ্ঞান বিষয়ে কান্ট বা হেগেলের দার্শনিক কচকচি নিষিদ্ধ)।সুতরাং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনগনের মধ্যে হাইপাররিয়েল "উন্নয়ন জগৎ" বা "ফলস কনশাসনেস" তৈরীর যে অপচেষ্টা চলছে,বিজ্ঞাপনের গোয়েবলসীয় আফিমে জনগণ কিছুদিন তাতে বুদ থাকলেও চোখ মেললেই সব ফকফকা পরিষ্কার দেখতে পাবে। সাধু সাবধান!

উন্নয়নের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে সত্যিকারের উন্নয়ন কাজে মনযোগ দিন। তাতেই আপনারও মঙ্গল আমাদেরও বৃহস্পতি।

Comments

চোত্রা পাতা এর ছবি
 

সহমত

সামাজিক, রাজনৈতিক অন্যায় ও
অবিচার , ধর্মীয় কু-সংস্কৃতির
বিরুদ্ধে আমার আজন্ম যুদ্ধ।এই যুদ্ধের
কখনও আমি সেনাপতি কখনও
সৈনিক। অস্র বলতে আছে বর্শার মত
ধারালো কলম। কলম দিয়েই আমি
শত্রুকে হামলা করি, বন্ধুকে
ভালবাসায় ভরিয়ে দেই কবিতায়,
গানে, প্রবন্ধে,উপন্যা

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 17 min ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর