নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ভূমিকার বিশ্লেষণ ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ (পর্ব ৯)



বইটির ২৩ নং পৃষ্ঠার প্রথম প্যারার পরে লেখক আরিফ আজাদ যা বলেছেন “সেটা হচ্ছে মানুষ সময়ের বাইরে কল্পনা করতে পারে না। সে সময়ের ফ্রেমে বন্দী। সে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ এই তিন ফ্রেমের মধ্যে বন্দী পাখির মতো। সে চিন্তা করতে পারে অতীতে কী হয়েছিল তা নিয়ে। সে চিন্তা করতে পারে আজ কী হচ্ছে। তা নিয়ে। সে চিন্তা করতে পারে আগামীকাল কী হতে পারে তা নিয়ে। কিন্তু এই অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের বাইরে এসে কোনো কিছুই সে কল্পনা করতে পারে না। কারণ, সে টাইম-ফ্রেমের মধ্যে বন্দী। কিন্তু বাই ডেফিনেইশান, স্রষ্টা কোনো টাইম-ফ্রেমে বন্দী নন। তিনি ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সবকিছুর ঊর্ধ্বে”। লেখক এখানে তার এই উক্তিটির মাধ্যমে যা বোঝাতে চেয়েছেন তা হচ্ছে স্রষ্টা বা ঈশ্বর (কল্পিত) সে যা খুশি তাই চিন্তা করতে পারে এবং তার চিন্তা শক্তি নাকি মানুষের চিন্তা শক্তির বাইরে। আসল কথা হচ্ছে এই স্রষ্টা মানুষেরই তৈরি করা একটি কল্পনা শক্তির চরিত্র মাত্র। মানুষ যদি স্রষ্টাকে বা স্রষ্টা চরিত্রের মতো কোন কিছুকে তৈরি করতে পারে তাহলে সেই চরিত্রের যত ক্ষমতা ও চিন্তা করার শক্তি তা সবই মানুষের জ্ঞান আর চিন্তা শক্তি দিয়েই তৈরি হবার কথা। এটা সত্য যে মানুষ একটি নির্দিষ্ট টাইম ফ্রেমের মধ্যে বন্দি। কারন এটাই আমাদের মহাবিশ্বের নিয়ম। তবে আজকে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের বাইরে যেই ইউনিভার্স ও মাল্টিভার্স আছে তা নিয়ে গবেষনা করছে এবং আমাদের জানাচ্ছে আমাদের এই মহাবিশ্ব বাদেও অন্য মহাবিশ্ব (অন্য আইনের দ্বারা পরিচালিত) থাকার সম্ভবনার কথা। সেখানে মহাবিশ্বের কাছে ধুলিকণা পরিমান আমাদের এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর টাইমফ্রেম নিয়ে মানুষ খুব একটা চিন্তিত না।

শুধু মাল্টিভার্সের অন্যান্য মহাবিশ্ব-ই নয়, আমাদের এই মহাবিশ্বেই আছে রহশ্যময় ব্লাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর যার মধ্যে আমাদের পৃথিবীর প্রচলিত টাইমফ্রেমের ব্যাতিক্রম দেখা সম্ভব। ধরুন কৃষ্ণগহ্বর বা ব্লাকহোল এমন একটি স্থান যেখানে গেলে মানুষের শরীর চুইংগাম এর মতো লম্বা ও বাকা হতে থাকবে। উপর থেকে যখন আপনাকে নিচে ফেলে দেওয়া হবে আপনি নিচে পড়তেই থাকবেন কিন্তু তার শেষ হবেনা। দেখা যাচ্ছে হাজার বছর পরেও আপনি উপর থেকে নিচেই পড়ছেন কিন্তু তার শেষ হচ্ছে না। যাইহোক এখানে লেখক আরিফ আজাদ বলার চেষ্টা করেছেন মনুষ্য সৃষ্ট কাল্পনিক স্রষ্টা নাকি এরকম কিছু চিন্তা করতে পারে যা মানুষের চিন্তাশক্তির বাইরে আর এটাই মানুষের সীমাবদ্ধতা। কিন্তু আমরা এই পৃথিবীতে প্রচলিত যত ধর্ম দেখি এবং প্রতিটি ধর্মের যত ঈশ্বর বা স্রষ্টা দেখি তাদের প্রত্যেকের চিন্তা করার ক্ষমতা ও যুক্তি মানুষের চিন্তা শক্তি ও যুক্তির বাইরে নয় বলে আজকের আধুনিক যুগে প্রমাণিত। এই সমস্ত ধর্ম গুলো মানুষের মৃত্যুর পরে যে জীবনের ব্যাখ্যা আমাদের দিয়ে থাকে তার সাথে এই পৃথিবী এবং মানুষের প্রচলিত জীবন যাত্রার বাইরে অতিরিক্ত কিছুই পাওয়া যায় না আর এতেই প্রমাণ করে যে ঈশ্বর বা স্রষ্টা মানুষের চিন্তা শক্তির থেকে বেশি (যেহেতু ঈশ্বরের স্রষ্টা-ই মানুষ) চিন্তা করতে পারেনা। শুধু তাই নয় ধর্ম বিশ্বাসীদের দাবি করা ঈশ্বর প্রদত্ত সকল ধর্মীয় পবিত্র গ্রন্থ যে মানুষের চিন্তা শক্তি ও বর্তমান সব নতুন নতুন আবিষ্কারের কাছে ভুল ব্যাখ্যা হয়ে দাড়িয়েছে তা আর এখানে নতুন করে দেখাতে চাচ্ছি না। তবে আশা করি লেখক আরিফ আজাদের লেখা বই “আরজ আলী সমীপে” এর সামনের কিছু উক্তি নিয়ে আলচনায় তা উঠে আসবে।

এই কল্পিত ঈশ্বর বা স্রষ্টা আছে মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে। আর বিশ্বাস কি এবং কাকে বলে তা আমরা ৮ম পর্বে আলোচনা করেছি। যে জিনিষের কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা হয়না যাকে কোন ভাবেই প্রমাণ করা যায়না তাকেই মূলত বিশ্বাস করতে হয় বা বিশ্বাস বলা হয়ে থাকে। আধুনিক বিজ্ঞানে বিশ্বাসের কোন ভিত্তি নেই আছে তথ্য ও প্রমাণের। তাহলে এখানে প্রশ্ন আসতে পারে এই ঈশ্বর বা স্রষ্টা তাহলে মানুষের মাথায় কিভাবে আসলো আর কেনই বা মানুষ এই কল্পিত চরত্রটিকে বিশ্বাস করে, তাহলে বলতে হয়, শুরুতে মানুষ আসলে কোন ঈশ্বরে বিশ্বাস করতো না। মানুষের মন আসলে অনুসন্ধিৎসু। তারা শুধুই প্রশ্নের উত্তর খুজে বেড়ায়। একটা সময় ছিলো মানুষ জানতো না কেনো বৃষ্টি হয়, কেনো বজ্রপাত হয়, মানুষ কিভাবে জন্ম নেই, সুর্য কি, সুমদ্র কত বড় ইত্যাদি। এরকম সময়ে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মতবাদ দিয়ে এসবের উত্তর দিতে থাকে। যার বা যাদের উত্তর সব চেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য হয়ে থাকে তাদের মতবাদ সঠিক বলে স্বীকৃতি পেতে থাকে। এরমধ্যেই কিছু বিষয় মানুষ পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে জানতে পেরেছে, ধীরে ধীরে মানুষ আরও জ্ঞান অর্জন করেছে, আরও বেশি জেনেছে। আর যেগুলো সম্পর্কে মানুষ জানতে পারেনি, সে সময়ের জ্ঞান যে পর্যন্ত পৌছেনি, সেগুলো সম্পর্কে মানুষ ধারনা করেছে, কল্পনা করেছে, চিন্তা করেছে। অজ্ঞানতা, জানতে না পারার হতাশা, অজ্ঞতা একধরনে হীনমন্যতায় রুপ নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে অজ্ঞানতার অন্ধকার একপর্যায়ে ঈশ্বর নামক একটা কল্পনা দিয়ে তারা ভরাট করে দিয়েছে। অর্থ্যাৎ তারা যা জানে না তা শুধুই ঈশ্বর জানে এই বলে প্রচার করেছে। এই হিসাবে আমরা বলতে পারি যে অজ্ঞানতার অন্ধকারের অপর নাম ঈশ্বর বা স্রষ্টা। আর এই স্রষ্টা যেহেতু মানুষের কল্পিত একটি চরিত্রের নাম তাহলে সেই চরিত্র কিভাবে মানুষের থেকে বেশি চিন্তা করতে পারে বা কিভাবে এই পৃথিবীর টাইমফ্রেম অতীত, বর্তমান, ভবিষৎ এর বাইরে তার চিন্তা ক্ষমতা হয়ে থাকে তা নিশ্চয় আমাদের বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়।

এরপরের প্যারাতে লেখক আরিফ আজাদ লিখেছেন “মানুষের সীমাবদ্ধতার দরুন সে বাহ্যিক জগতেও অনেক কিছু দেখতে পায় না, অনেক কিছু শুনতে পায় না। যেমন ধরুন মানুষের চোখ। সাধারণত ৩৯০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো মানুষ দেখতে পারে। এরচেয়ে কম বা এরচেয়ে বেশি আলো মানুষ দেখতে পারে না। কেন পারে না? এটা মানুষের সীমাবদ্ধতা” এখানে বলতেই হয়, আজকের দিনের আমরা যে মানুষ বা হোমোস্যাপিয়েন্স এই আমরা কোটি কোটি বছর ধরে বিবর্তিত হতে হতে আজ এখানে এসে দাড়িয়েছি এবং আগামীতেও আমাদের এই বিবর্তনের ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। আমারা বিবর্তিত হয়ে এই পর্যায়ে এসেছি আমাদের প্রাকৃতিক নিয়মেই। যেমন একটি “জিরাফ” এর প্রয়োজন ছিলো লম্বা একটি গলা যাতে করে সে মাটিতে দাড়িয়েই উচু উচু গাছের পাতা খেতে পারে তাই বিবর্তনের ফলে তাদের ঘাড় ও গলা শরীরের থেকে অনেক বেশি লম্বা হয়ে গিয়েছে। একটা “চিল”-এর খাবার সংগ্রহের জন্য দরকার ছিলো খুব শক্তিশালী একটি চোখ যা দিয়ে সে অনেক উচু থেকেও মাটিতে চলতে থাকা তার খাবার সম্পর্কে জানতে পারে এবং সঠিক সময়তে তাকে দেখে শিকার করে খেতে পারে তাই তার চোখে দেখা শক্তি অনেক বেশি। ঠিক তেমনি কুকুরের ঘ্রান শক্তি, ইদুরের শ্রবন শক্তি, এবং ট্রেডিগ্রেন্ড নামক একজাতীয় (মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা যায়) ব্যাক্টেরিয়ার প্রাণ শক্তি যাদের মৃত্যু নেই বলা চলে এসব প্রানীদের শক্তি আলাদা আলাদা। এসবই আসলে বিবর্তনের মাধ্যেমে একেকটি প্রানীর একেকটি ক্ষমতা। মানুষের বর্তমানে যা ক্ষমতা আছে তাও মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে এই বিবর্তনের মাধ্যেমে। মানুষ ৩৯০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘের আলো দেখতে পারে কিন্তু এই ৩৯০ থেকে কম বা ৭০০ থেকে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘের আলো মানুষ দেখতে পারেনা এটাও বিবর্তনের একটি কারণ বলা যায়। কোটি কোটি বছর ধরে চলমান এই বিবর্তনে যদি মানুষ এই ৩৯০ বা ৭০০ তরঙ্গদৈর্ঘের বেশি বা কম আলো দেখে দেখে অভ্যাস্ত হতো তাহলে তাদের চোখ সেভাবেই তৈরি হতো এটা কোন সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বরের তৈরি করা সীমাবদ্ধতা হতে পারেনা।

এরপরের প্যারেতে লেখক আরিফ আজাদ আবার বলেছেন “আবার ধরুন মানুষের কান। সাধারণত 20Hz-20,000Hz এর মধ্যে থাকলেই কেবল আমরা শব্দ শুনতে পাই। এরচেয়ে কম বা বেশি হলে সেই শব্দ আমরা শুনতে পাই না। কেন শুনতে পাই না? আমাদের সীমাবদ্ধতা” এটাও কোন ঈশ্বরের বা সৃষ্টিকর্তার নির্ধারণ করে দেওয়া আমাদের সীমাবদ্ধতা হতে পারেনা কারণ এটাও আমাদের বিবর্তনের ফলে প্রাপ্ত শক্তির মধ্যেই পড়ে। আমাদের এই প্রকৃতিতে যদি কোটি কোটি বছর ধরে আমাদের 20,000Hz এর উপরের শব্দ শুনতে হতো তাহলে মানুষেরও কানও আজ 40,000Hz এর শব্দ শুনতে পারতো। ভারতের আসাম প্রদেশে কিছু সীসা কারখানার গল্প শুনেছিলাম অনেক আগে। এই কারখানা গুলার ভেতরে এতো পরিমানে শব্দ হতো যে বাইরে থেকে সাধারণ মানুষ হঠাৎ করে এই কারখানাতে ঢুকলে অতিরিক্ত শব্দ সহ্য করতে পারতো না। কিন্তু যারা শেখানে কাজ করছে বছরের পর বছর ধরে তারা শেখানেই কাজ করে অবসর সময়ে কারখানার মধ্যে ঘুমাচ্ছে। সাইবেরিয়াতে প্রচন্ড ঠান্ডার কারনে সারাবছর শেখানকার মানুষের এসি (এয়ারকন্ডিশন) বা ফ্রীজের ব্যাবহার করতে দেখা যায়না। কিন্তু মধ্যরাচ্যের একটি দেশে বা আমাদের বাংলাদেশে মানুষেরা এসি বা ফ্রীজ ছাড়া জীবন যাপনের কথা ভাবতে পারেনা। কিন্তু এসব আবিষ্কারের পূর্বেও মানুষ তাদের জীবন যাপন করেছে তাই এটাকেও আমরা বিবর্তনের একটি ধাপ বলতে পারি। মানুষ 20Hz-20,000Hz এর কম বা বেশি শব্দ শুনতে পারেনা বা মানুষের কানের এই ক্ষমতা বা অক্ষমতা কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের ফলাফল এটা সীমাবদ্ধতা হতে পারে তবে কল্পিত ঈশ্বর প্রদত্ত কোন সীমাবদ্ধতা কখনই হতে পারেনা।

বইটির ২৩ নং পৃষ্ঠার এরপরের প্যারাতে উল্লেখ করা হয়েছে “এত এত সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমরা কীভাবে আশা করি যে স্রষ্টা আমাদের ল্যাবের অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এসে ধরা দেবেন? মানুষকে স্রষ্টা এই ক্ষমতা দেননি। এ জন্য তিনি বলেছেন তাকে না দেখে বিশ্বাস করতে হবে। তবে কি মানুষ কখনোই স্রষ্টাকে দেখবে না? অবশ্যই দেখবে। তবে সেটা নির্দিষ্ট সময়ে। সেটি কোন সময়? আখেরাত” এই কল্পিত স্রষ্টার অবস্থান আছে শুধুই মানুষের মস্তিষ্কে এবং তার কল্পনা শক্তিতে। এখানে এমন একটা কাল্পনিক চরিত্রকে ল্যাবের অণুবীক্ষন যন্ত্রের নিচে এসে ধরা দেবার কথা চিন্তা করাও হাস্যকর যেমনটি বাস্তবে এধরনের কোন চরিত্র আছে মনে করাও হাস্যকর। লেখক আরিফ আজাদ তার এই হাস্যকর চরিত্রকে এমনভাবে পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করে মানুষের মনে কুসংস্কারের জন্ম দেবার একটি ব্যার্থ চেষ্টা করেছেন এই যুক্তিবাদী সমাজে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। মানুষের অজ্ঞানতা আর না জানার ব্যার্থতা থেকে যে কল্পিত চরিত্রের সৃষ্টি হয়েছে সে কিভাবে এই মানুষকেই চিন্তা করার ক্ষমতা দিতে পারে এটা মানুষ খুব ভালো করেই ধরে ফেলতে পারবে দেখেই বিভিন্ন ধর্মের বিশেষ করে একেশ্বরবাদী ধর্ম গুলোর স্রষ্টা সম্পর্কে মানুষ মানুষকে এমন ধারণা দিয়েছেন যুগে যুগে তাকে কেউ জীবিত থাকতে দেখতে পারবে না বলে। আসলে কিন্তু মানুষের মৃত্যুর পরে আর কোন কাজ নেই বা অন্য কোন জীবন নেই যেটা এখানে লেখক আরিফ আজাদ “আখেরাত” নাম দিয়েছেন সেটাও আসলে মানুষের তৈরি করা একটি কল্পিত জগৎ যা যুগে যুগে মানুষের মস্তিষ্কে এই জাতীয় কল্পিত চরিত্র গুলিকে বাচিঁয়ে রাখতে সাহায্য করে এসেছে।

এরপরের লাইনে লেখক বলেছেন “কড়া বা হালকা বিজ্ঞানমনস্করা এতটুকু পড়ে হয়তো-বা আমাকে দু-চারবার মনে মনে গালমন্দ করে ফেলেছেন। বলছেন, “না দেখে আবার বিশ্বাস কী” পুর্বের ৮ম পর্বেই আমরা বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করেছিলাম যে বিশ্বাসের কোন ভিত্তি নেই। যা আমরা যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করতে পারিনা যার কোন তথ্য প্রামণ নেই তাকেই আমরা বিশ্বাস করতে বলি। তাহলে এখানে আবার না দেখে বিশ্বাসের কথা যদি আসে তাহলে সেই বিশ্বাস কি সেটা বুঝতে কোন রকেট সাইন্টিস্ট যে হতে হয়না তা নিশ্চয় লেখকের জানা থাকার কথা। এখানে কড়া বা হালকা বিজ্ঞানমনষ্ক কোন ব্যাক্তির প্রয়োজন নেই, একজন একেবারেই অবৈজ্ঞানিক ব্যাক্তিকেও রুপকথার গল্প না বলে কেউ বিশ্বাস করাতে পারবে না যে সূর্য আসলে একটা না দুইটা। এরপরের প্যারাতে লেখক লিখেছেন “বিজ্ঞানকে যারা দেখে বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত অথবা যারা যারা Seeing is believing তত্ত্বানুরাগী, তাদের জন্য আমাদের কাছে রয়েছে মহা দুঃসংবাদ। দুঃসংবাদটি হলো, বিজ্ঞান নিজেও এখন আর Seeing is believing তত্ত্বে বিশ্বাস করে না। কারণ, এতদিন ধরে যারা ‘মহাবিশ্বকে জেনে ফেলেছি, বুঝে ফেলেছি’ বলতে বলতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতেন, তাদের জন্য ভয়ংকর দুঃসংবাদ শোনাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’। তারা বলছে, এতদিন ধরে, এত বছর শ্রমসাধনা করে আমরা মহাবিশেষ, জেনেছি সেটার পরিমাণ খুবই ক্ষুদ্র। NASA স্পষ্ট করে জানাচ্ছে, আমাদের জানার পরিমাণ মাত্র ৫% এরও কম। বাকি ৯৫ % তাহলে কী? বাকি ৯৫০, ৮ ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য বস্তু। এই ৯৫ % অদৃশ্য বস্তু নিয়েই আমাদের সরু মহাবিশ্ব পরিবেষ্টিত। কিন্তু এই অদৃশ্য বস্তুগুলোকে আমরা বুঝতে পারছি না। দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের শত শত বছরের উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করেও আমরা জানতে পারছি না এই অদৃশ্য বস্তু আসলে কী আর এখানে কী হয়” এখানে নাসার উদাহরণ টেনে লেখক আরিফ আজাদ যে ভুল ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করেছেন তা যদি সত্যও প্রামাণিত হয় তবুও এতে প্রামাণ হয়না যে সেই বাকি ৯৫% বা ৯৯.৯৯% অজানা যায়গা থাকার ফলে একজন বা বহুজন ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে। শুধু তাই নয় এখানে লেখক নাসার মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানার ভুল তথ্য দিয়েছেন এই বই এর পাঠকদের সেটা হচ্ছে নাসা এখন পর্যন্ত মহাবিশ্বের যতটুকু জানতে পেরেছে বলে দাবি করা হয়ে থাকে তা হচ্ছে ৯৯.৯৯% বাদে যে বাকি সংখ্যা থাকে সেটুকু মাত্র।

এখানে শুধু তাই নয় লেখক আরিফ আজাদ আরো যে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তার বই এর সাধারণ পাঠকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন তা হচ্ছে বিজ্ঞানকে নাকি দেখে বিশ্বাস করতে হয়। আসলে বিজ্ঞান এমন একটি বিষয় যা মানুষকে থিউরী বা তত্ব দিয়ে থাকে। আবার বিজ্ঞান এটাও বলে থাকে যে এই তত্ব-ই যে শেষ এরপরে আর কিছু আসতে পারে না বা হতে পারেনা এমনটা নয় যেটা বিভিন্ন ধর্মীয় কিতাব মতে ধর্ম বিশ্বাসীরা মেনে থাকে। ধর্মবিশ্বাসীদের ধারনা ঈশ্বর প্রদত্ত ধর্মীয় কিতাব গুলিই একমাত্র ফুল এন্ড ফাইনাল যার কোন পরিবর্তন হবে না। কিন্তু বিজ্ঞান তা বলে না। বিজ্ঞান বলে আমি যে তত্ব বা থিউরী দিলাম তা ততক্ষন পর্যন্ত গ্রহনযোগ্য যতক্ষন না সেই তত্বের পক্ষে বা বিপক্ষে কেউ নতুন কোন তত্ব আবিষ্কার করতে না পারছে। তাই আমরা বিজ্ঞান চোখে দেখে নয় তার উপরে আস্থা রেখেই বুঝে থাকি। লেখক আরিফ আজাদ যে Seeing is believing তত্বের কথা বলে দুঃসংবাদ দিয়েছেন তা আসলে বিজ্ঞানের কোন তত্ব-ই না। বিজ্ঞান দেখে দেখে কোন কিছু সত্য বা মিথ্যা দাবি করেনা। বিজ্ঞানে যেহেতু বিশ্বাসের কোন ভ্যালুই নেই সেহেতু Seeing is believing বিশ্বাস করে বা করে না এমন কোন যুক্তি দিয়ে বিজ্ঞানকে বিচার করা একাবারেই হাস্যকর। আর এখানে আরেকটা মিথ্যাচার ছড়িয়েছেন লেখক আরিফ আজাদ তার এই বইতে। সেটা হচ্ছে এই লেখক দাবি করেছেন “এতোদিন ধরে যারা বলে এসেছে মহাবিশ্বকে জেনে ফেলেছেন বুঝে ফেলেছেন” অর্থ্যাৎ তার দাবি কেউ সম্পুর্ণ মহাবিশ্বকে জানতে পেরেছে বলে দাবি করেছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট ও লেখকের মনগড়া যুক্তি ছাড়া আর কিছুই না। আমি আগেই বলেছি এই পর্যন্ত মানুষ মহাবিশ্বের যতটুকু জানতে পেরেছে বলে দাবি করা হয়ে থাকে তা হচ্ছে ৯৯.৯৯% বাদে যে বাকি সংখ্যা থাকে সেটুকু মাত্র। আর এর বেশি কেউ জানতে পেরেছে বলে যদি কেউ দাবি করে থাকে তারা হলে হতে পারে চাদেঁ কোন ফাশিঁর আসামীর চেহারা দেখা ব্যাক্তি তাছাড়া অন্য কেউ না। আবারও সেই কথাটিই বলে এই পর্বটির শেষ করছি, যে ০০.০১% বাদে ৯৯.৯৯% মহাবিশ্ব মানুষের অজানা আছে তাতে কখনই এটা প্রমাণ করেনা যে কোন কল্পিত ঈশ্বর বা স্রষ্টা আছে বা অতীতে ছিলো। বাকী অংশ পরের পর্বে .........

বইটির ২৩ ও ২৪ নং পৃষ্টাতে যেভাবে আছে সেটা এখানে দেখতে পারেন।

পৃষ্ঠা ২৩
পৃষ্ঠা ২৪

মৃত কালপুরুষ
০৫/০৪/২০১৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 ঘন্টা 36 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর