নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • কৌশিক মজুমদার শুভ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

উলস্টেনক্রাফট অথবা নারীর অধিকার নিয়ে প্রথম কথা বললেন যিনি


১৮শ শতকে অনেক প্রখ্যাত নারী লেখকই আলোচনায় উঠে আসে, যথার্থভাবে বললে আলাদা করে ‘নারী’ না হয়ে ‘লেখক’ হয়ে ওঠেন। এর কারণ হচ্ছে ‘আলোকিতকায়ন বা Enlightenment’। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে ম্যারি উলস্টেনক্রাফট (Mary Wollstonecraft)। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ থেকে বের হয়ে এসে যিনি প্রথম নারীদের শিক্ষার কথা বলেন। পরিবার থেকে শিক্ষার কথা বলেন।

ম্যারি উলস্টেনক্রাফট হচ্ছেন, ‘নারীবাদ’ দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা বা প্রথম এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি একজন ইংরেজ ছিলেন। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে তিনি, তাঁর স্বামী এবং তাদের মেয়ে ও জামাই’কে আমরা সবাই কমবেশি চিনি। তাদের মেয়ে হচ্ছেন, বিখ্যাত উপন্যাস ‘ফ্রাংকেনস্টেইন’ এর লেখিকা ‘ম্যারি শেলি’ এবং তাদের জামাই, আমরা সবাই চিনি, কবি ‘পার্সি বেইশ শেলি’। যারা নিজেদের নারীবাদী দাবি করেন বা তা নিয়ে জানতে চান, আমি তাদেরকে অনুরোধ করব আপনারা ম্যারি উলস্টেনক্রাফট এর জীবনী পড়বেন এবং তাঁর লেখা বিখ্যাত বই দু’টো পড়বেন।

ম্যারি উলস্টেনক্রাফট ১৭৫৯ সালে লণ্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত ছিলেন একজন ইংরেজ লেখিকা ও দার্শনিক। তাঁর পরিবারের অবস্থা শুরুতে ভাল হলেও পড়ে তাদের অবস্থা একেবারে খারাপের দিকে যেতে থাকে ফলে তাদের ঘনঘন বাসস্থান পাল্টাতে হয়। তাঁর বাবা ছিলেন মাতাল এবং প্রায়শই তাঁর মাকে পেটাতেন। ম্যারি উলস্টেনক্রাফট তাঁর মাকে রক্ষা করতেন এবং তাঁর বোনদেরো দেখাশোনা করতেন। তারপর একসময় তিনি বাড়ি থেকে পালান। তিনি মার্কিন ব্যবসায়ী, লেখক ও কূটনৈতিক ‘গিলবার্ট ইমলে’ এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কেউ কেউ বিয়ে বলেও উল্লেখ করেছেন। যদিও তাদের সম্পর্কটা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক কিন্তু তাদের এক সন্তানও হয় নাম ‘ফ্যানি ইমলে’।

গিলবার্ট ইমলে’র সাথে তাঁর সম্পর্ক দিন দিন খারাপ হতে থাকে। ছাড়াছাড়ির পর্যায়ে চলে যায় কিন্তু ম্যারি উলস্টেনক্রাফট, গিলবার্ট ইমলে’কে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। তাকে খুঁজতে খুজতে লণ্ডন চলে আসেন ১৭৯৫ সালের দিকে এবং একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন ‘লাউডানাম’ নিয়ে। কিন্তু গিলবার্ট ইমলে কোন এক ভাবে তাকে বাচান। এরপর ইমলের মন জয় করার জন্য ব্যবসায়ীক লেনদেনের খাতিরে উলস্টেনক্রাফট ‘স্ক্যান্ডেনেভিয়া’ চলে যান। ম্যারি উলস্টেনক্রাফট, ইমলে’কে একের পর এক পথ লিখে যান, যার অনেকগুলো পরে তাঁর বিখ্যাত বই “Letters Written During a Short Residence in Sweden, Norway, and Denmark” এ ছাপা হয় ১৭৯৬ সালে। এরপর ভ্রমণ শেষ আবার লণ্ডনে ফেরার পর উলস্টেনক্রাফট যখন বুঝতে পারেন গিলবার্ট ইমলে’র সাথে তাঁর সম্পর্ক একেবারেই শেষের দিকে তখন তিনি দ্বিতীয়বারের মত আত্মহত্যার চেষ্টা করে ‘থেমস’ নদী’তে। একটি চমৎকার সুসাইড নোটও লিখে যান।

“Let my wrongs sleep with me! Soon, very soon, I shall be at peace. When you receive this, my burning head will be cold ... I shall plunge into the Thames where there is least chance of my being snatched from the death I seek. God bless you! May you never know by experience what you have made me endure. Should your sensibility ever awake, remorse will find its way to your heart; and, in the midst of business and sensual pleasure, I shall appear before you, the victim of your deviation from rectitude”

কিন্তু একজন আগন্তুক দেখে ফেলায় শেষ পর্যন্ত এবারো আর আত্মহত্যা করা হয়নি তাঁর।

আস্তে আস্তে উলস্টেনক্রাফট তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং আবার লেখালেখিতে মন দেন। কিন্তু গিলবার্ট ইমলে’র সাথে তাঁর সম্পর্ক আর স্বাভাবিক হয়নি। এসময় আরেকও বিখ্যাত ব্রিটিশ রাজনৈতিক দার্শনিক ও ঔপন্যাসিক ‘উইলিয়াম গডউইন’ এর সাথে তাঁর একটা ভাল সম্পর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁরা প্রেমে পড়েন একে অপরের। গডউইন জানতেন না যে উলস্টেনক্রাফটের সাথে গিলবার্ট ইমলে’র বিয়ে হয়েছিল। মানে উলস্টেনক্রাফট তাকে কখনো জানাননি।

উইলিয়াম গডউইন’কে আমরা চিনি যে তিনি হচ্ছেন ‘উপযোগবাদ বা Utilitarianism’ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং একই সাথে তিনি হচ্ছেন ‘নৈরাজ্যবাদ বা Anarchism’ এর আধুনিক প্রবক্তা। তাঁর এবং উলস্টেনক্রাফট এর একটি মেয়ে সন্তান হয়। অথচ তখনো তারা বিয়ে করেননি। সুতরাং সন্তানকে বৈধতা দেয়ার জন্য তারা বিয়েতে আবদ্ধ হন। তবে এর ফলে তাদের বহু বন্ধু-বান্ধব হারাতে হয় এবং গডউইন’কে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কারণ গডউইন ছিলেন একজন অ্যানার্কিস্ট, তিনি সামাজিক বিবাহ প্রথাবিরোধী ছিলেন এবং তিনি তাঁর বই ‘Political Justice’ এ বিবাহ প্রথার কড়া সমালোচনা করেছিলেন।

১৭৯৭ সালে তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে ১১ দিন পর উলস্টেনক্রাফট মারা যান। গডউইন ভেঙে পড়েন। তিনিও উলস্টেনক্রাফট’কে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। তিনি তাঁর বন্ধু থমাস হলক্রফট’কে লেখেন-

"I firmly believe there does not exist her equal in the world. I know from experience we were formed to make each other happy. I have not the least expectation that I can now ever know happiness again."

উলস্টেনক্রাফট বলে যান যে, যে পরিবারে প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে ভাল সম্পর্ক রয়েছে এবং একটা সম-ভাব রয়েছে সেই পরিবার থেকে একজন ভাল নাগরিক বা সিটিজেন তৈরি হতে পারে। ছোটবেলায় তিনি তাঁর অত্যাচারী, মাতাল বাবাকে তিনি দেখেছেন যিনি প্রতিদিনই তাঁর মা কে প্রহার করতেন। তিনি বলেছেন যে পরিবারে যদি সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কটা প্রভু ও দাসের মত হয় (Master and Slave) তাহলে একজন ভাল নাগরিক সেই পরিবার থেকে আশা করা যায় না। ভাল নাগরিক হওয়ার শিক্ষাটা পরিবার থেকেই নিতে হবে। আর নারীদের উন্নতির জন্য প্রয়োজন হচ্ছে শিক্ষা। উলস্টেনক্রাফট ছিলেন ‘জ্যাক রুশো’র ভক্ত। তারপরও তাঁর অনেক সমালোচনা করেছেন কিন্তু ‘পরিবার’ বিষয়ে রুশোর মতের সাথে তিনি একমত ছিলেন। উলস্টেনক্রাফট নারী ও পুরুষের আলাদা আলাদা অধিকারের কথা দেখিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন যে পুরুষরা যেখানে দুইটা অধিকার ভোগ করে আর নারীরা কেবল একটা। একটা হচ্ছে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার; আরেকটা হচ্ছে, নারীদের নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার। এই অধিকারটা অলিখিত কিন্তু প্রত্যেক সমাজে এটা বিদ্যমান। নারীদের এই অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে। নিজেদের, পুরুষদের হাতে ছেড়ে দেয়া চলবে না।

উলস্টেনক্রাফট অন্তত ৫টি বিখ্যাত বই লেখেন যার মধ্যে ৩টি বই নারীবাদ দর্শনে বিখ্যাত। এই ৩টি বই হল- ‘A Vindication of the Rights of Woman’। এ বইতে তিনি নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। এবং সমাজে মানুষ হিসেবে নারী ও পুরুষের অবস্থান ও সামাজিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন। অন্য দুটো বই হচ্ছে উপন্যাস- ‘Mary: A Fiction’ এবং ‘Maria: or, The Wrongs of Woman’। এ দুটো বইতে তিনি বিবাহবন্ধনের পুরুষতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং নারীদের উপর এর প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন। উলস্টেনক্রাফট এর বিখ্যাত অন্য দুটো বইয়ের একটি হচ্ছে ফরাসী বিপ্লবের সমালোচনা করা ‘এডমন্ড বার্ক’এর ১৭৯০ সালে প্রকাশিত হওয়া ‘Reflections on the Revolution in France’ এর জবাবে লেখা- ‘A Vindication of the Rights of Men’। এডমন্ড বার্ক তাঁর বইতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, আভিজাততন্ত্র ও চার্চ অফ ইংল্যান্ডের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন।

মৃত্যুর সময় উলস্টেনক্রাফট বেশ কিছু লেখা অসমাপ্ত রেখে যান। তাঁর মৃত্যুর পর গডউইন, উলস্টেনক্রাফট এর স্মরণে ‘Memoirs of the Author of A Vindication of the Rights of Woman’ বইটি লেখেন ও প্রকাশ করেন ১৭৯৮ সালে। গডউইন ও উলস্টেনক্রাফট এর প্রণয় সেসময় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও অনেক সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তারা। তাদের প্রণয় নিয়ে তাদের নিয়ে ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং কবিতা লেখেন যার নাম ‘Wollstonecraft and Fuseli’। আরেক ইংরেজ উইলিয়াম রেসকো তাদের নিয়ে লেখেন-

“Hard was thy fate in all the scenes of life
As daughter, sister, mother, friend, and wife;
But harder still, thy fate in death we own,
Thus mourn'd by Godwin with a heart of stone.”

মার্চ ২০১৮, ঢাকা

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জলের গান
জলের গান এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 3 দিন ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 1, 2013 - 4:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর