নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

মুহাম্মদ কেন কোনভাবেই নবী হতে পারে না , পর্ব -৩


১ম ও ২য় পর্বে বলা হয়েছে , কেন নবী হতে গেলে তাকে আগের নবীদের ধারাবাহিকতায় তৌরাতের বিধান মেনে ইব্রাহীমের বংশধর হতে হবে। বার বার তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবকে স্বীকার করেই মুহাম্মদ নিজের পায় নিজেই কুড়াল মেরেছে।চুড়ান্ত কুড়ালটা মেরেছে একটা চ্যালেঞ্জ করে , যে তার আগমনের খবর পূর্ব বর্তী কিতাব তৌরাত/ইঞ্জিলে বিদ্যমান। তৌরাতে অবশ্যই মুসার পর নবী আসার কথা আছে , কিন্তু দেখতে হবে , সেই নবী মুহাম্মদ কি না।

আরবের ইহুদিরা জানত , যদি ভবিষ্যতে কোন নবী আসে , তাহলে সে আসবে ইসরাইলি বংশধারা থেকে। তাদের তৌরাতে সে কথাই লেখা। কিন্তু এসব বিষয় পৌত্তলিক কুরাইশরা তেমন জানত না। মুহাম্মদ যখন বার বার নিজেকে নবী দাবী করতে লাগল, তখন কুরাইশরা তার এই দাবী নিয়ে ঠাট্টা মস্করা করে , তাকে পাগল উন্মাদ বলতে লাগল , আর তখনই মুহাম্মদ কোরানের নামে নিচের বানী প্রচার করে চ্যালেঞ্জ করল ---

সুরা ইউনুস-১০:৯৪: সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না।

তার মানে মুহাম্মদ কোরানের বানীর নামে চ্যালেঞ্জ করে বলছে , আগের কিতাবে তার আগমনের কথা লেখা আছে। আর তাই আগের কিতাব যারা পড়ে অর্থাৎ ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে জিজ্ঞেস করলেই সেটা জানা যাবে। এই চ্যালেঞ্জটা মুহাম্মদ করে কুরাইশদের কাছে , কারন কুরাইশরা ছিল পৌত্তলিক , তারা এইসব নবী বা নবী ধারা সম্পর্কে কিছুই জানত না। কেন এই চ্যালেঞ্জটা করে , সেটাও বোঝা যায় , একটা হাদিসে ---

ওহীর সূচনা অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ১ :: হাদিস ৩
ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন বুকায়র (র) ......... আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর প্রতি সর্বপ্রথম যে ওহী আসে, তা ছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে ভোরের আলোর ন্যায় প্রকাশ পেত। তারপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তিনি ‘হেরা’ গুহায় নির্জনে থাকতেন। আপন পরিবারের কাছে ফিরে আসা এবং কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া---- এইভাবে সেখানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক রাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তারপর খাদীজা (রা)-র কাছে ফিরে এসে আবার অনুরূপ সময়ের জন্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যেতেন। এমনিভাবে ‘হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে একদিন তাঁর কাছে ওহী এলো। তাঁর কাছে ফিরিশতা এসে বললেন, ‘পড়ুন’। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ “আমি বললাম, ‘আমি পড়িনা’। তিনি বলেনঃ তারপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হলো। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘পড়ুন’। আমি বললামঃ আমিতো পড়ি না। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হলো। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ ‘পড়ুন’। আমি জবাব দিলাম, ‘আমিতো পড়িন’। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন, তারপর তৃতীয়বার তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। এরপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পড়ুন আর আপনার রব্ মহামহিমান্বিত।” (৯৬: ১-৩)

তারপর এ আয়াত নিয়ে ররাসূলুল্লাহ্ (সা) ফিরে এলেন। তাঁর অন্তর তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজা বিন্‌ত খুওয়ালিদের কাছে এসে বললেন, ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।’ তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর ভয় দূর হলো। তখন তিনি খাদীজা (রা) এর কাছে সকল ঘটনা জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি নিজের উপর আশংকা বোধ করছি। খাদীজা (রা) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম, কখখনো না। আল্লাহ্ আপনাকে কখখনো অপমানিত করবেন না। আপনিতো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায় দুর্বলের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন, মেহমানের মেহমানদারী করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। এরপর তাঁকে নিয়ে খাদীজা (রা) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইব্‌ন নাওফিল ইব্‌ন ‘আবদুল আসাদ ইব্‌ন ‘আবদুল ‘উযযার কাছে গেলেন, যিনি জাহিলী যুগে ‘ঈসায় ’ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষা লিখতে জানতেন এবং আল্লাহ্‌র তওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল থেকে অনুবাদ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজা (রা) তাঁকে বললেন, ‘হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।’ ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাতিজা! তুমি কী দেখ?’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) যা দেখেছিলেন, সবই খুলে বললেন। তখন ওয়ারাকা তাঁকে বললেন, ‘ইনি সে দূত যাঁকে আল্লাহ্ মূসা (আ) এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম। আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কাওম তোমাকে বের করে দেবে।’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ তাঁরা কি আমাকে বের করে দিবে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, অতীতে যিনিই তোমার মত কিছু নিয়ে এসেছেন তাঁর সঙ্গেই শত্রুতা করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে প্রবলভাবে সাহায্য করব।’ এর কিছুদিন পর ওয়ারাকা (রা) ইন্তিকাল করেন। আর ওহী স্থগিত থাকে।

এই হাদিসে বলছে প্রথমে মুহাম্মদের কাছে ওহী আসত ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মত। তার মানে মুহাম্মদ উদ্ভট সব স্বপ্ন দেখত। আধুনিক মনোবিজ্ঞান এই ধরনের স্বপ্ন কেন মানুষ দেখে তার সুন্দর ব্যখ্যা দিতে পারে। একজন মানুষ যখন মারাত্মক হতাশায় ভোগে , তখনই এই ধরনের স্বপ্ন দেখে। আর সেটাকেই হাদিস বলছে আল্লাহর ওহী। বর্তমানেও বহু মানুষ নানা কিছিমের স্বপ্ন দেখে থাকে , কেউ স্বপ্নে মুহাম্মদকে দেখে , ভুত প্রেত , জ্বীন পরী ইত্যাদি স্বপ্নে দেখে , নানা ওষুধ পায় ইত্যাদি। যাইহোক , এর পরই দেখা যায় , মুহাম্মদ বৈরাগ্য নিয়ে ঘর সংসার ত্যাগ করে হেরা গুহায় গিয়ে বসে থাকে। মুহাম্মদের জীবনি পর্যালোচনা করলেও এর কারনটা বোঝা সহজ। মুহাম্মদের বয়স তখন মাত্রই ৪০ আর তার বিবি খাদিজার বয়স ৫৫। মুহাম্মদ তখনও যুবক , আর খাদিজা প্রৌড়া। বিগত ১৫ বছর ধরে খাদিজার ঘরে মুহাম্মদ ঘর জামাই থাকে।একজন লোক যদি দীর্ঘদিন ঘরজামাই থাকে , তার মধ্যে মারাত্মক হতাশা সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তারপর আবার স্ত্রী প্রৌড়া, সুতরাং কামুক স্বভাবের আরবদেরই একজন মুহাম্মদের মনে যে মারাত্মক হতাশা তৈরী হবে , সেটা চোখ বুজে বলা যায়। যাইহোক , এরপরের প্রসঙ্গে আসি।

উক্ত হাদিসে বলছে , হেরা গুহায় মুহাম্মদ কি যেন কাকে দেখল , কিন্তু তাতে মুহাম্মদ মারাত্মক ভয় পেয়ে গেল , নানা রকম বিপদ আপদ সহ এমন কি জীবন হানির আশংকা করতে লাগল। সব চাইতে মজার বিষয় হলো - উক্ত হাদিসে কোথাও সেই জীব যার নাম নাকি জিব্রাইল সে কিন্তু কোন পরিচয়ই দিল না , যে সে হলো একজন ফেরেস্তা , সে আল্লাহর কাছ থেকে বানী নিয়ে মুহাম্মদের কাছে এসেছে। এটা কিন্তু অস্বাভাবিক। সেই জীবটা যে কে , কোথা থেকে আসছে , কে তাকে পাঠিয়েছে , কি তার উদ্দেশ্য ; মুহাম্মদকে স্রষ্টা নবী হিসাবে মনোনীত করলে সেটা সে পরিস্কার ভাবে বলবে না ? সে কিছু তো বললই না , পরন্তু মুহাম্মদ এমন ভয় পেল যে , কাঁপতে কাঁপতে বাড়ী ফিরে গেল , তার গায়ে প্রচন্ড জ্বর চলে এল , খাদিজা তার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিল। বেহেস্ত থেকে যদি কেউ আসে , স্বয়ং ঈশ্বরই যদি কাউকে পাঠায় , তাকে দেখে কেন মুহাম্মদ ভয় পাবে ? কেন তার গায়ে জ্বর আসবে ? সে কি দেখতে তাহলে ভয়ংকর কিছু নাকি ? তার মানে এই হাদিসে যে আগেই বলা হয়েছে , মুহাম্মদ দু:স্বপ্ন দেখত , এই কথিত জীবও কি তাহলে তার স্বপ্নে এসেছিল ? অর্থাৎ বাস্তবে মুহাম্মদ আসলে কিছুই দেখে নাই। হেরা গুহায় বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে গেছিল , আর তখনই এই দু:স্বপ্ন দেখেছিল। এটাই স্বাভাবিক। বেহেস্তী জীব হয়ে থাকলে , সে নিশ্চয়ই অপরূপ সুন্দর দেখতে , তার সাক্ষাতে বরং মুহাম্মদের মনের ভিতর অপার আনন্দ হওয়ারই কথা , কিন্তু ঘটনা ঘটল তার উল্টো। এরপর যা ঘটল তা আরও উদ্ভট , অবাস্তব ও গাজাখুরি।

পরদিন খাদিজা মুহাম্মদকে নিয়ে তার চাচা ওরাকা বিন নওফেলের কাছে গেল যে ছিল একজন ধার্মিক খৃষ্টান। সব কিছু শুনে ওরাকা বলল - সেই জীব মুসার কাছে আসত। কি উদ্ভট কথা। ওরাকা বিন নওফেল যদি একজন খৃষ্টান হয়ে থাকে , তাহলে এই ধরনের উদ্ভট কথা কোনদিনও বলবে না। কারন সে ভালই জানে , মুসা নবী সরাসরি ঈশ্বরের সাথে কথা বলত , কোন জীব কখনও তার কাছে এসে বানী দিয়ে যেত না। সব মুসলমানই জানে , মূসা নবী সরাসরি ঈশ্বরের সাথে কথা বলত। কোন ফেরেস্তা এসে তার কাছে বানী দিত না।তাছাড়া একজন খৃষ্টান হিসাবে ওরাকার ভালই জানার কথা যে যীশুর পরে , আর কোন নবী আসবে না , বরং একেবারে শেষের দিকে কেয়ামতের সময় স্বয়ং যীশুই আবার ফিরে আসবে। যে এটা বিশ্বাস করে না , সে খৃষ্টানই নয়। সেই বিশ্বাসটা মুসলমানরাও নিজেদের করে নিয়েছে পরে। সুতরাং ওরাকা যে সাক্ষী দিল , ফেরেস্তা এসেছিল মুহাম্মদের কাছে , আর সেই কারনে মুহাম্মদ নবী , এটা সম্পূর্ন ডাহা মিথ্যা কথা , বানোয়াট , উদ্ভট , গাজাখুরি কিচ্ছা।

সুতরাং হয় ওরাকা বিন নওফেল মিথ্যা কথা বলেছে , না হয় ওরাকা বিন নওফেলের এই গল্পটা মুহাম্মদ মরার অনেক পরে বানান হয়েছে। আর সবাই জানে , হাদিস গুলো লেখা হয়েছে মুহাম্মদ মরার পর থেকে ২২০ থেকে ৩০০ বছরের মধ্যে। ঘটনা বোঝা যাবে , বাংলাদেশের বহু পীর যখন বেঁচেছিল তখন কেউ তাদের কেরামতি বা মোজেজা দেখে নাই , কিন্তু যেই মারা গেল , তার পর থেকেই প্রচার শুরু হয় , সেই পীর কত প্রকারে কেরামতি বা মোজেজা দেখিয়েছিল। বলা বাহুল্য এসব প্রচারকারীরা হলো সেই পীরের আখড়ার লোকজন যাদের পেশাই হলো আখড়ায় মানুষ আকৃষ্ট করে বিনা শ্রমে বিপুল অর্থ উপার্জন করা। মুহাম্মদের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল তাই। বুখারি যখন ২২০ বছর পর এই হাদিস লেখে তখন খলিফা ছিল আব্বাসীয়রা। তাদের শাসন ক্ষমতার একটা মোক্ষম অস্ত্র ছিল ইসলাম। সুতরাং এটা খুবই স্বাভাবিক যে , তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় , হাদিস লেখকরা এই ধরনের গল্প বানিয়েছিল , কিন্তু বুঝতে পারে নি , এই ধরনের গল্প পরে বুমেরাং হয়ে যাবে।

তবে ইদানিং কালে কিছু কথিত মুসলমান পন্ডিত, যীশু খৃষ্টের বানীর মধ্যে মুহাম্মদের উক্ত কথিত আগমনের ইংগিত পায় , আর সেটাই তারা ওরাকা বিন নওফেলের বক্তব্যের পক্ষে পেশ করে। এবার সেটা দেখা যাক ---

যোহন-১৪:
১৪ তোমরা যদি আমার নামে আমার কাছে কিছু চাও, আমি তা পূর্ণ করব।
১৫ ‘তোমরা যদি আমায় ভালবাস তবে তোমরা আমার সমস্ত আদেশ পালন করবে।
১৬ আমি পিতার কাছে চাইব, আর তিনি তোমাদের আর একজন সাহায্যকারী দেবেন, যেন তিনি চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকেন।
১৭ তিনি সত্যের আত্মা,যাঁকে এই জগত সংসার মেনে নিতে পারে না, কারণ জগত তাঁকে দেখে না বা তাঁকে জানে না। তোমরা তাঁকে জান, কারণ তিনি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গেই থাকেন, আর তিনি তোমাদের মধ্যেই থাকবেন।

যোহন-১৪:
২৬ কিন্তু সেই সাহায্যকারী পবিত্র আত্মা, যাঁকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন, তিনি তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দেবেন, আর আমি তোমাদের যা যা বলেছি, সে সকল বিষয় তিনি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেবেন।

যীশুর গসপেলের উক্ত যোহনের যে বাক্য সমূহে বলা হয়েছে , যীশু একজন সাহায্যকারী পাঠাবে, ইদানিংকালে কথিত ইসলামী পন্ডিতরা তাকেই মুহাম্মদের আগমন হিসাবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু যার মাথায় সামান্য জ্ঞান আছে , সে সহজেই উক্ত বাক্যগুলো পড়ে বুঝতে পারবে , উক্ত বানীগূলো আসলে কোন মানুষের কথা বলছে না , বলছে , একটা পবিত্র আত্মার কথা , যে নাকি মানুষের হৃদয়ে সব সময় থাকবে। সেই আত্মার প্রকৃতি কি হবে সেটাও বলা হচ্ছে পরিস্কার ভাবে , যে তাকে কেউ দেখতে পায় না , তাকে কেউ জানতে পারে না। পবিত্র আত্মা যখন , যে নাকি প্রত্যেকের হৃদয়ে থাকবে , সে তো অদৃশ্য , তাকে কে দেখতে পাবে বা তাকে কেই বা জানতে পারবে ?

খৃষ্টানরা যে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে , এখানে মূলত: সেই ত্রিত্ববাদের কথা বলা হচ্ছে। ত্রিত্ববাদের মূল বিষয় হলো - ঈশ্বর তিন রূপে বিদ্যমান : ঈশ্বর পিতা , পূত্র যীশু আর পবিত্র আত্মা। সমীকরনটা হলো - ঈশ্বর পিতা= যীশু= পবিত্র আত্মা। মুসলমানরা জোর করে , সেটাকে বানায় , ঈশ্বর পিতা + যীশু + পবিত্র আত্মা = ঈশ্বর। তার অর্থ , খৃষ্টানরা ঈশ্বর পিতা , যীশু ও পবিত্র আত্মাকে একই ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন রূপ বলে বিশ্বাস করে , তারা বিশ্বাস করে , উক্ত তিন রূপ একই ঈশ্বরের। তারা প্রকৃতিতে ভিন্ন , কিন্তু সত্ত্বা এক। ঈশ্বর পিতা সব কিছু শাসন করেন স্বর্গে থেকে , যীশু ঈশ্বরেরই মানব রূপ যে জগতে এসে মানুষকে উদ্ধার করেছে এবং পবিত্র আত্মা যে সকল মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্যে উৎসাহিত করে। পক্ষান্তরে মুসলমানরা রসিয়ে রসিয়ে সেটাকেই বলে ,খৃষ্টানদের তিনজন ঈশ্বর। যীশুকে প্রচন্ত অপমান করে বলে , যীশু মারা গেছে মানে ঈশ্বর মারা গেছে , এই বলে তারা নাউজুবিল্লাহও পড়ে। যীশুর মারা যাওয়া আবার জীবিত হওয়ার যে মাহাত্ম সেটার ব্যখ্যা আছে। পরে কোন এক নিবন্ধে সেটা ব্যখ্যা করা হবে। বোধ বুদ্ধিহীন জড় মনের মুসলমানরা যীশুর মাহাত্ম কিভাবে বুঝবে , তারা কি গসপেল কোনদিন পড়েছে ? পড়ে ? পড়ে না বলেই ধূর্ত ও ধর্ম ব্যবসায়ী কথিত ইসলামী পন্ডিতরা যা আবোল তাবোল বকে , সেটাই সাধারন মুসলমানরা চোখ বুজে বিশ্বাস করে।

কিন্তু ধূর্ত মুসলমান পন্ডিতরা মুসলমানদের মূর্খতা ও অন্ধত্বের সুযোগে , সেই পবিত্র আত্মাকে মুহাম্মদের আগমন বলে প্রচার করে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে , সেই সাথে সাথে খৃষ্টান ধর্ম না জানা খৃষ্টানদেরকেও বিভ্রান্ত করেছে অনেক। তারপরেও ধরে নেয়া যাক , উক্ত বাক্যগুলো মুহাম্মদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে , তাহলে এই বাক্যটা আবার দেখুন --

যোহন-১৪:
২৬ কিন্তু সেই সাহায্যকারী পবিত্র আত্মা, যাঁকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন, তিনি তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দেবেন, আর আমি তোমাদের যা যা বলেছি, সে সকল বিষয় তিনি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেবেন।

মুহাম্মদকে ঈশ্বর কি তাহলে যীশুর নামে পাঠিয়েছিল ? মুসলমানরা কি সেটা বিশ্বাস করে ? যীশুর নামেই যদি মুহাম্মদ এসে থাকে , তাহলে যীশুর মর্যাদা কোথায় , আর মুহাম্মদের মর্যাদা কোথায় ? তাহলে যীশু কি মুহাম্মদের প্রভু হয়ে গেল না ? মুসলমানরা কি সেটা মানে ? মানবে ? তারপর মুহাম্মদ কি এখন বেঁচে থেকে সবার সাথে আছে , নাকি মরে ভুত হয়ে কবরে ১৪০০ বছর আগেই পচে গলে মাটির সাথে মিশে গেছে ? যদি বলে মুহাম্মদকে সকল মুসলমান যে স্মরন করে সেটাই হলো সবার হৃদয়ে থাকা , কিন্তু মুহাম্মদ ছাড়া হিটলারকেও তো শত শত কোটি মানুষ স্মরন করে , তাহলে হিটলার কি হবে ? সেও কি নবী হয়ে যাবে?

কথিত ইসলামী পন্ডিতরা গসপেলের আর কিছুই বিশ্বাস করে না ,এবং প্রচার করে , খৃষ্টানরা নাকি গসপেল বিকৃত করে ফেলেছে , যা নাকি কোরান বলে নি , মুহাম্মদ বলে নি, বরং তারা বলেছে গসপেল বিশুদ্ধ , সেই কারনেই বার বার কোরান গসপেলকে সাক্ষী মানছে , তারা শুধুই বিশ্বাস করে যোহনের উক্ত ১৪ অধ্যায়ের দুই চার লাইন। তাও নিজেদের মত বিকৃত করে প্রচার ক'রে কোটি কোটি মুসলমানের মাথা নষ্ট করছে , তাদেরকে বানাচ্ছে জঙ্গি সন্ত্রাসী বর্বর ও অসভ্য।

মুহাম্মদ কেন কোনভাবেই নবী হতে পারে না , পর্ব- ২

Comments

চোত্রা পাতা এর ছবি
 

তৃতীয় পর্বটা খুব বেশি ভালো লাগল, চতুর্থ পর্বের অপেক্ষায়.....

সামাজিক, রাজনৈতিক অন্যায় ও
অবিচার , ধর্মীয় কু-সংস্কৃতির
বিরুদ্ধে আমার আজন্ম যুদ্ধ।এই যুদ্ধের
কখনও আমি সেনাপতি কখনও
সৈনিক। অস্র বলতে আছে বর্শার মত
ধারালো কলম। কলম দিয়েই আমি
শত্রুকে হামলা করি, বন্ধুকে
ভালবাসায় ভরিয়ে দেই কবিতায়,
গানে, প্রবন্ধে,উপন্যা

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Online
Last seen: 43 min 40 sec ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর