নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

গতরখাকি


বলি এতো রূপ নিয়া গরীবের ঘরে তোকে জন্মাইতে কে কইছিল শুনি ? তুই মর ! মর ! মর !
কথাগুলো নিঃশ্বাসে বলেই মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল কমলা! কোন কুক্ষণে যে তোর মাতাল বাপটার জৈবিক তাড়না আর বীভৎস কামনার আকর্ষণ আমাকে পুড়িয়ে খাক করে দিয়েছিল কে জানে !

তুই পেটে এলি আর সেই মাতাল অন্য মাগীতে মইজে
আমায় ছাড়ল। পাশের বাড়ির হরিপদ দাদাবাবু
একটু বেশিই খোঁজ খবর রাইখতো আমার ! বুইঝতাম আমায় দেখলেই কেমন শিকারি বেড়ালের মতো ছোঁক ছোঁক কইরতো ! ঘটা করে কেমন মিহি স্বরে কথা বইলতো। একদিন রাতে বাজার থেকে ফেরার সময় স্কুল মাঠের সেই অন্ধকার জায়গাতে আমার হাত দুইখানা চেপে ধরি কি অনুনয় বিনয়। আমাকে বিনিময় প্রথায় বাঁধতে চেয়েছিল, সোনা দানায় ভরিয়ে দিতে চেয়েছিল।
আর, যে বাড়িতে কাজ করতাম সেই দাদাবাবুও তো
একদিন বৌদিকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে আমাকে একটু আদর করতে এসেছিল। একটা থাপ্পর কষিয়ে ছুটে এসে ঘরে খিল দিয়েছিলাম আর ভাইবেছিলাম, রাতের ট্রেনে রেললাইনে মাথা দিয়ে সব জ্বালা জুড়োই। কিন্তু সেই মূহুর্তে যখন ট্রেনটা প্রবল গতিতে ধেয়ে আসছে , আর রেললাইনের ওপর আমি নিথর দাঁড়িয়ে। ট্রেনের আওয়াজকে চাপা দিয়ে কচি কচি কন্ঠের মা ডাক আমার সম্বিত ফেরাইলো।
না! আমার আর মরা হইলো না রে মা ! আমার দেহ জুড়ে তখন তোর কি বাড়বাড়ন্ত তোর কি দাপাদাপি !
একা রাইতে শুয়ে বারবার পেটে হাত বোলাইতাম। একটা বেয়াড়া ঝড় বুকের মধ্যে সবসময় যাতায়াত কইরতো ! কি একটা সুখ ! কি একটা তৃপ্তি ! বোধহয় একেই বলে মাতৃত্ব !

আর তুই ? আমার কোল আলো করে একদিন
পৃথিবীর আলো দেইখলি , কচি কচি হাত দিয়ে আমার গলা জড়িয়ে ধরে আমার বুকে যখন মুখ ঘইষতি তখন কি অপার এক আনন্দ ! তখন কি অপার এক ভালো লাগা আমার গোটা হৃদয় জুইড়ে ! তুই যখন খিদের জ্বালায় ছটফট করতিস তখন আমার বুকের দুধ তোকে দিয়ে আমার কি তৃপ্তি ! কিন্তু, বয়স ষোলো পেরতে না পেরতেই তোর ভরাট গতর আমার কপালে এঁকে দিল চিন্তার ভাঁজ মা!

তোর শরীরের প্রতিটা ভাঁজ আমাকে মনে করিয়ে দিত আমার সর্বনাশের ভয়াবহ সেই দিনগুলোর কথা! মনে মনে খালি ভাবিতাম, চিল শকুনের ছো মারা দৃষ্টি থেকে কি করে তুই নিজেকে বাঁচাইবি রে হতভাগী ? আর হলোও তো তাই !

তুই যখন কলেজ যাস দেখিস না, বাসে ট্রেনে ঠিক তোর হাত রাখার জায়গায় হাত রাখার জন্যে কেমন
শক্ত সুঠাম হাত গুলো খামচাখামচি করে। তোর উষ্ণতা ভিড় বাসে কতজনই তো মাপতে চায় তোর পিছনে লেপ্টে গিয়ে। কতজন তোর দৃষ্টিকে নিজের ঠোঁট দিয়ে নিজের ঠোঁট চাটে! ওরে মেয়ে শোন- আমরা যে গরীব।
তাই ওরা আমাদের সামনে টাকার থলে নাচায় , ইশারায় ডাকে ওদের রাতের বিছানায়।
যে ভুল আমি কইরেছি তা যেন তুই না করিস। না খেয়ে না দেয়ে তোকে বড় কইরেছি কেন জানিস ? কেন তোকে ক্যারাটের ক্লাসে ভর্তি কইরেছি জানিস মা রে ?

এতক্ষণ চুপচাপ থেকে মেয়ে জিজ্ঞেস করে-
কেন মা?
উত্তরে মা বলে, নিজের রক্ষা যে তোকে নিজেকেই কইরতে হবে মা রে। সে যেদিন তুই জন্মাইলি সেদিন থেকেই আমি বুইঝেছিলাম। আর তাই তো দিন রাত এক করে তরু দিদির কারখানায় সেলাই করে আজ একটা সেলাই মেশিন কিনেছি। এই সেলাই মেশিনটাই আমাদের অন্ন দিয়েছেরে মা।
হ্যাঁ আরেকটা কথা তোকে বলা হয়নি! তোর মাতাল বাপটার সঙ্গে সেদিন রাস্তায় দেখা হয়েছিল। গলায় মস্ত সোনার চেন , চোলাই ছেড়ে বিলিতি ধইরেছে, বিড়ি ছেড়ে সিগারেট, ঠিকেদারির দৌলতে হাত কাটা শিবার ডান হাত সে। এখন তোর দিকে নজর পইড়েছে তোর আপন বাপের। তাই আইজ থেকে সঙ্গে একটা ছুরিও রাখিস মা।
মাতাল বেটা বলা তো যায়না কখন কবে তোকে নিয়ে দিয়ে দিবে শিবার হাতে তুলে।

#নোট : ইহা একটি নিছক গল্প মাইত্র। বর্তমান এই সমাজের সাথে ইহার কোন মিল নেই। একদম নেই!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

লালসালু
লালসালু এর ছবি
Offline
Last seen: 5 ঘন্টা 43 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, মার্চ 15, 2018 - 5:54অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর