নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

মুহাম্মদ কেন কোনভাবেই নবী হতে পারে না, পর্ব -১


যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম , ঈশ্বর আছে আর সে দুনিয়াতে মাঝে মাঝে নবী পাঠায় মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্যে। সে ক্ষেত্রে এই নবী ধারাটা সৃষ্টি হলো কোথা থেকে সেটা জানার পর , মুহাম্মদ কোন ভাবে সেই ধারা মোতাবেক নবী হতে পারে কি না , সেটা বুঝতে হবে। বিষয়টা হলো , আমি একটা সম্পত্তির মালিকানা দাবী করছি , সে ক্ষেত্রে আমাকে প্রমান করতে হবে উক্ত সম্পত্তির মালিক ছিল আমার বাবা , তার পুর্বে আমার দাদা এবং সেই সূত্রে ওয়ারিশ হিসাবে আমি সেই সম্পত্তির মালিক- সেটা আমাকেই প্রমান করতে হবে।

প্রথমে ধরা যাক , আমি একটা জমির মালিকানা দাবী করছি যার রেকর্ড আমার নামে নেই। তাহলে কিভাবে সেই জমির মালিক আমি হতে পারি। এক- ক্রয় করে , দুই- ওয়ারিশ হিসাবে। যদি ক্রয় করি, তাহলে আমাকে কারও ওয়ারিশ হওয়ার দরকার নেই। যদি ক্রয় না করি তাহলে আমাকে প্রমান করতে হবে , আমার বাবা উক্ত জমির মালিক ছিলেন , তার আগে তার বাবা উক্ত জমির মালিক ছিলেন এবং আমাকে দেখাতে হবে একটা সনদ পত্র , যা দ্বারা প্রমানিত হয় আমি আমার বাবার ওয়ারিশ। বিষয়টা ভাল করে মনে রাখতে হবে।

মুহাম্মদ নিজেকে নবী দাবী করেছেন , ক্রয় সুত্রে নয় , বরং ওয়ারিশ সূত্রে। তিনি দাবী করেছেন , ইব্রাহীম , মূসা , দাউদ , সোলেমান , ঈশা ইত্যাদির সূত্রে সর্বশেষ নবী। তাই যদি হয় , তাহলে প্রথমেই মুহাম্মদকে প্রমান করতে হবে তিনি ইব্রাহীমের ওয়ারিশ। কোরান হাদিস ইত্যাদি থেকে দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদ ইব্রাহীমের ওয়ারিশ হিসাবে দাবী করছেন। ইব্রাহীমের দুই পুত্র - ইসমাইল ও ইসহাক। মুহাম্মদ দাবী করছেন তিনি হলেন ইসমাইলের বংশধর। এখন তিনি যদি নিজেকে ইসমাইলের বংশধর দাবী করেন , তাহলে তার সনদ পত্র কোথায় ? দাবী করলেই তো হবে না , সনদপত্র দেখাতে হবে , যেমনটা আমার পিতার জমির দাবী আমি করি , তাহলে আমাকে দেখাতে হবে ওয়ারিশ নামা। মুহাম্মদের ক্ষেত্রে সেই সনদপত্র আছে বাইবেলের পুরাতন নিয়ম যার একটা খন্ড হলো তাওরাত। এখন তাওরাতের কোথাও কি বলা আছে যে ইব্রাহিম বা ইসমাইল বা তাদের বংশধর কখনও মক্কা বা মদিনায় বাস করত ? না কোথাও বলা নেই। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসলামী পন্ডিতরা দাবী করে , তাওরাত কিতাব ইহুদিরা বিকৃত করে ফেলেছে। অর্থাৎ আগের সনদপত্র বা দলিল বিকৃত বা জাল। তার অর্থ কি দাড়াচ্ছে ?

এখন আমি নিজেই যদি দাবী করি , আমার ওয়ারিশনামা হলো বিকৃত বা জাল , আর সেটা যদি প্রচার করি , তাহলে আমি আগে যে জমি খন্ডের মালিকানা দাবী করছিলাম , সেটার মালিক কি আমি হতে পারব ? ওয়ারিশনামা বিকৃত বলার অর্থ হলো , আগে জমির যে মালিক ছিল , আমি সেই মালিকের উত্তরাধিকারী নই। বরং জাল করে একটা ওয়ারিশনামা তৈরী করেছি। অর্থাৎ জাল ওয়ারিশ নামা দেখিয়ে আমি জমির মালিকানা দাবী করছি , যা ভয়াবহ অন্যায় , ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আশা করি , এতক্ষনে সবাই বুঝে গেছেন , ইসলামের আলেম বা কথিত পন্ডিতরা যখন দাবী করে , যে আগের দলিল তথা তাওরাত বিকৃত , তখন তারা আসলে তাদের নবী মুহাম্মদের নবুয়ত্ব যে প্রকারান্তরে খারিজ করে দিচ্ছে ,সেটা তারা উপলব্ধি করতে পারছে না। জাল দলিলের মাধ্যমে মুহাম্মদ কোনভাবেই নিজেকে প্রমান করতে পারবে না যে , সে হলো ইব্রাহীম বা ইসমাইলের উত্তরাধিকারী।

এখানে আরও একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ন । তা হলো , আপনি যখন একটা দলিলকে জাল বা বিকৃত বলবেন , তখন তার কোন তথ্যই আপনি আর গ্রহন করতে পারবেন না ,কারন আপনি জানেন না , আসলে কোন তথ্য বিকৃত আর কোন তথ্য সঠিক। যে কোন আদালতের বিচারে পুরো দলিলটাই বাতিল বলে গণ্য হবে। সুতরং ইসলামের আলেমরা যখন দাবী করে তাওরাত বিকৃত , ইঞ্জিল বিকৃত , বাইবেল বিকৃত তখন আইনের বিচারে , তারা ঐসব কিতাবের কোন তথ্যকেই নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে পারবে না। আইন ও আদালতের বিচারে তা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদ সার্বিকভাবেই নিজেকে ইব্রাহীম বা ইসমাইলের ওয়ারিশ হিসাবে প্রমান করতে ব্যর্থ। অন্য কথায় , ইসলামী আলেমরাই মুহাম্মদকে আর ইব্রাহীম বা ইসমাইলের ওয়ারিশ হিসাবে প্রমান করতে পারবে না। তবে মজার বিষয় , মুহাম্মদ বিষয়টা আসলে ভালমতই জানত , সেই কারনে , সে কিন্তু কখনই দাবী করে নি যে তাওরাত বা ইঞ্জিল এসব বিকৃত। কোরান বা হাদিসের কোথাও সেটা বলে নি। এটা সম্পূর্নই ইসলামী আলেমদের দাবী যা আসলে শুরু হয় মুহাম্মদ মারা যাওয়ার প্রায় ৩০০ বছর পর থেকে। মুহাম্মদ মারা যাওয়ার ৩০০ বছর পর যখন ইসলাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে , তখন মুসলমানরা খৃষ্টানদের সম্মূখিন হয় , আর খৃষ্টানরা তখন জানতে চায় , মুহাম্মদ যে নবী তার ওয়ারিশনামা কোথায়। তখনকার মুসলমানরা যারা একটু লেখা পড়া করত , কোরান হাদিস চর্চা করত , তারা উপলব্ধি করতে পারে , তাওরাত বা ইঞ্জিলকে যদি সঠিক বা বিশুদ্ধ বলে বিবেচনা করা হয় , তাহলে মুহাম্মদ কোনভাবেই নবী হতে পারে না। সেটা উপলব্ধি করার পর থেকেই মুলত: বাইবেল বিকৃত - এই ধরনের প্রপাগান্ডা শুরু হয়। ইবনে হাজম নামের এক ইসলামী পন্ডিত সর্ব প্রথম অান্দালুসিয়াতে ১১শ শতকে , প্রচার শুরু করেন , বাইবেল বিশেষ করে , গসপেল বিকৃত।এর কারন হলো - যীশুর মৃত্যু নিয়ে গসপেল যা বলেছে কোরানে ঠিক তার উল্টো বলা হয়েছে। গসপেলে বলা আছে - যীশু ক্রুশে নিহত হয়েছেন , কিন্তু কোরানে বলেছে , যীশু ক্রুশে মারা যান নি , বরং আল্লাহ যীশুর মত কাউকে ক্রুশে স্থাপন করে যীশুকে সোজা বেহেস্তে তার নিজের কাছে নিয়ে গেছেন। এইমত অবস্থায় ইবনে হাজম বুঝতে পারেন , গসপেলের বিবরন সত্য হলে , কোরান মিথ্যা প্রমানিত হবে। সুতরাং একজন ধার্মিক ও নিবেদিত প্রান মুসলমান হিসাবে তিনি কোরানকে সত্য প্রমান করতে গিয়ে ,গসপেলকেই বিকৃত বলেছেন।

ইবনে হাজম শুধুমাত্র গসপেল বিকৃত বলেছেন , তৌরাত সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। কিন্তু বর্তমানের ইসলামী স্কলাররা সেটাকেই তৌরাত সহ বাইবেলের সব কিছুই বিকৃত বলে প্রচার ও দাবী করে , ,মূলত: মুহাম্মদকেই নবূয়ত্বের ওয়ারিশ থেকে খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু সেটা তারা বুঝতে পারে না। তাদের প্রধান অস্ত্র হলো , সাধারন মুসলমানদের অজ্ঞতা , আর অমুসলিমদের ইসলাম ও খৃষ্টান ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অনীহা। তারা জানে সাধারন মানুষ এত শত পড়াশুনা করে না , গবেষণা করে না , তাই তারা সবাই মিলে যদি হিটলারের প্রচার মন্ত্রী গোয়েবলসের মত একটা মিথ্যাকে হাজার বার প্রচার করতে থাকে , তাহলে সেটাই সত্য হয়ে যায়। কিন্তু সেই মিথ্যাটাকে সত্য প্রমান ও প্রতিষ্ঠিত করতে গিযে খোদ মুহাম্মদকে যে নবূয়ত্ব থেকে খারিজ করে দিচ্ছে , সেটা আর টের পায় নি।

সূত্র: ইবনে হাজম- Ibne Hazm on Christianity: https://idosi.org/wjihc/wjihc1(4)11/4.pdf

Comments

সলিম সাহা এর ছবি
 

আমি আপনার লেখাটি সম্পূর্ণ পড়লাম, অনেক ধৈর্যের সাথে। আপনার লেখার সারমর্ম হল, কোন অবস্থাতেই মোহাম্মদ নবী হতে পারে না।আর মোহাম্মদ নিজেকে নবী প্রমাণ করতে চাইলে, প্রথমে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে- সে ইব্রাহীমের বংশধর।
তো- আপনি আমার একটি প্রশ্নের জবাব দিন, যে- তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিলে- মুসা, দাউদ ও যীশু, নিজেকে নবী বা রাসুল বলে দাবি করেছে কি? করলে কোথায় করেছে?
আর যদি- মুসা, দাউদ ও যীশু নিজেকে নবী ও রাসুল বলে দাবি না করে থাকে- তাহলে আপনি কোন যুক্তিতে নবী-রাসুল দাবী না করা ব্যক্তিদেরকে মোহাম্মদের বলা নবী-রাসুলদের সাথে তুলনা করে মোহাম্মদের অনুসারীদের কাছে প্রমাণ চাইছেন?
আশা করি যুক্তিসঙ্গত জবাব করবেন।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

ইব্রাহিম , মুসা ইসা এরা নিজেকে নবী দাবী করেছিল কি না ? কোরান হাদিস কি বলে ? কোরান হাদিস তো তাদেরকে নবী হিসাবে স্বীকার করে নিচ্ছে। কোরান হাদিস স্বীকার করে নিলে , এই ধরনের প্রশ্ন কি অর্থহীন নয় ? মুহাম্মদ নিজেই যখন তাদেরকে নবী হিসাবে স্বীকার করে নিচ্ছে , তখন মুহাম্মদকেই এখন প্রমান করতে হবে , সে নিজেও তাদের সূত্রে ইব্রাহিমের বংশধর। আর যদি সেটা প্রমান করতে যায় , তখন ইব্রাহিমের বংশের কোন ধারা থেকে নবী আসবে , সেই সূত্রটাও তাকে বলতে হবে , এবং এরপর মুহাম্মদকেই প্রমান করতে হবে সে হলো সেই ধারায় নবী। শুধু মুখে বললে তো হবে না।

আপনি দাবী করলেন , আপনি কোন এক কলিমুদ্দিনের ওয়ারিশ। সুতরাং এখন আপনাকেই ওয়ারিশনামা জোগাড় করে প্রমান করতে হবে , আপনি কলিমুদ্দিনের ওয়ারিশ। মুখে মুখে বললে তো কেউ মানবে না। তাই না ?

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আমার জিজ্ঞাসা ছিল- তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলে মুসা, দাউদ ও যীশু নিজেকে নবী বা রাসুল দাবী করেছে কি-না?
আপনি বলছেন মোহাম্মদ কোরআনে তাদেরকে নবী রাসুল বলেছে তাই, মহাম্মদকেই প্রমাণ করতে হবে যে সে ইব্রাহীমের বংশধর।
আপনার জবাবটি অযৌক্তিক হয়ে গেলো না? কারণ- এমনও তো হতে পারে যে- মোহাম্মদ যে মুসা, দাউদ ও ইসা কে নবী ও রাসুল বলেছেন, নবী রাসুল দাবী না করা আপনার ঐ মুসা, দাউদ ও যীশু তাঁরা নয়।
আর যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে মোহাম্মদ বা মোহাম্মদের অনুসারীদের কিসের এত দায় যে- মোহাম্মদের নবী প্রমানে, মোহাম্মদকে আপনার বলা ঐ ইব্রাহীমের বংশের প্রমাণ করা?
ভালো করে প্রশ্নটি পড়ে জবাব করবেন আশা করি।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

পোষ্ট হয় ভালো মতো পড়েন নি , না হয় পড়ে বোঝেন নি। নবূয়ত্ব বিষয়টা আব্রাহামিক ধর্মের ধারায়। হিন্দু ধর্মের মধ্যে কিন্তু নবুয়ত্ব বিষয়টা নেই। নবূয়ত্ব বিষয়টা আসছে স্রষ্টার সাথে বিশেষ একটা বংশের ধারায় ।ইব্রাহিমের আগে নবী আসলেও স্রষ্টা ইব্রাহিমের সাথে বিশেষ একটা চুক্তি করে , আর বলে দেয় যে তার বংশধারা থেকেই নবী রসুল আগমন করবে। সেই ধারা মোতাবেকই পরবর্তীতে ইসমাইল, ইসহাক , ইয়াকুব , মূসা , দাউদ , সোলেমান , ইসা ইত্যাদির আগমন ঘটে। এটাই তৌরাত কিতাবের নবীদের ধারাবাহিকতা।

সমস্যাটা হলো - মুহাম্মদ সেই তৌরাত কিতাবকে বার বার সত্য কিতাব স্বীকার করেছে , কোরান স্বীকার করেছে। তার মানে মুহাম্মদ তৌরাত কিতাবের সেই নবূয়ত্বের ধারাবাহিকতা স্বীকার করে নিজেকে নবী দাবী করছে। এইমত অবস্থায় মুহাম্মদকে নবী হিসাবে প্রমান করতে গেলে , সেই তৌরাত কিতাবে বর্নিত ইব্রাহিমের সাথে ঈশ্বরের সেই চুক্তি অনুযায়ী হতে হবে অর্থাৎ ইব্রাহিমের বংশধারা থেকেই মুহাম্মদকে আসতে হবে।

আপনি যে জমিতে বাস করছেন , সেটার রেকর্ড আপনার নামে নেই , এখন সেই জমির মালিক যে আপনি তা প্রমান করতে গেলে , আপনাকে তো প্রমান করতে হবে , উক্ত জমির রেকর্ড যার নামে , আপনি তার ওয়ারিশ। তাই না ? আপনি গায়ের জোরে সেই জমিতে বাস করলেও সেটা তো আপনার জমি হবে না। আইন আদালতে গেলে , আপনাকে উচ্ছেদ করে দেয়া হবে। তেমনি , মুহাম্মদ নিজেকে নবী হিসাবে দাবী করছে , কিন্তু নবূয়ত্বের দাবীদার হবে শুধুই মাত্র ইব্রাাহীমের বংশধররা। মুহাম্মদ বার বার সেটা তৌরাত কিতাবকে আল্লাহর কিতাব বলে স্বীকার করে সেটা মেনেও নিচ্ছে। , অত:পর নিজেকে যদি ইব্রাহীমের বংশধর প্রমান করতে না পারে , তখন নিজেকে যতই নবী বলে দাবী করুক না কেন , আইনের বিচারে , তাকে বহিস্কার হতে হবে।

মুহাম্মদ যদি আগের নবীদের , তাদের কিতাবগুলোকে স্বীকার না করে নিত , তাহলে সেটা ভিন্ন বিষয় হতো। কিন্তু আগের নবীদেরকে স্বীকার করে নেয়ার পর , তাদের কিতাব তৌরাতকে স্বীকার করার পর , মুহাম্মদের আর কোন উপায় নেই।

২য় পর্বে বিষয়টা লেখা আছে , ভাল করে পড়ে দেখুন।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আপনার বক্তব্য হচ্ছে, মোহাম্মদ বলেছে নবুয়তের ধারা থাকবে ইব্রাহীমের বংশে। তাই নবী প্রমাণের জন্য মোহাম্মদকে প্রথমে ইব্রাহীমের বংশের প্রমাণ করতে হবে।
বিষয়টা একটু মনোযোগের সাথে অবলোকন করুন। মোহাম্মদ বলেছে নবুয়তের ধারা থাকবে ইব্রাহীমের বংশে। এখন বলুন,
১। তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলে- মুসা, দাউদ ও যীশু বলেছে কি যে- ইব্রাহীমের বংশে নবুয়তের ধারা থকবে?
২। মুসা, দাউদ ও যীশু কি তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলের কোথাও বলেছে যে- তাঁরা তাঁদের কিতাব আল্লাহ্‌ হতে নবুয়াতের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছে? বলে থাকলে কোথায় ও কীভাবে বলেছে?
মোহাম্মদ কিন্তু বলেছে তাঁর প্রচারিত বাণীসমূহ আল্লাহ্‌ কর্তৃক নবুয়াতের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছে। তাহলে সারমর্ম এই হয় কি না, যে- মোহাম্মদ যে মুসা, দাউদ ও ইশার কথা বলেছে, তাঁদের কাছে যে কিতাব এসেছে তা আল্লাহ্‌ কর্তৃক তাঁদের কাছে নবুয়াতের মাধ্যমে এসেছে। আর আপনি যে মুসা, দাউদ ও যীশুর কথা বলছেন তাঁরা নিজেকে কখনোই নবী বা রাসুল বলে দাবী করে নাই, এবং তাঁরা এও বলে নাই যে, তাঁরা আল্লাহ্‌ কর্তৃক নবুয়াতের মাধ্যমে কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে।
তাহলে আপনি কোন যুক্তিতে আপনার বলা মুসা, দাউদ ও যীশুকে মোহাম্মদের বলা মুসা, দাউদ ও ইশা বলে প্রমাণ করতে চাচ্ছেন?
মোহাম্মদ ও মোহাম্মদের অনুসারীদের কোন দায় নাই যে, যাদের কথা পবিত্র কোরআনে মোহাম্মদ বলে নাই তাঁদের মাধ্যমে মহাম্মদকে নবী প্রমাণ করার।
আশা করি বুঝাতে পেরেছি?

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

বুঝেছি। আপনার বক্তব্য , মুহাম্মদ ইব্রাহিম , মুসা ইসার কথা বলেছে , তারা তৌরাতে বর্ণিত সেই ইব্রাহিম , মুসা বা ইসা না। তাই তো ? তাহলে এবার আপনি বলুন , মুহাম্মদ কোন ইব্রাহিম , মুসা বা ইসার কথা বলেছে। মুহাম্মদ কোন তৌরাত বা ইঞ্জিলের কথাই বলেছে ? এবার একটু ঝেড়ে কাসুন। মুহাম্মদের কথিত ইব্রাহিম , মুসা বা ইসা কোথায় জন্মেছিল , কোথায়ই বা তারা তাদের ধর্ম প্রচার করেছিল। পরিস্কার করে বলুন।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আপনার এবারের অবস্থানটা ভালো। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে যতটুকু ভালো অবস্থান হওয়ার কথা ততটুকু ভালো অবস্থানের লাগে নি। কারণ- কারও কাছ থেকে নতুন কোন বিষয় জানতে হলে, প্রশ্নকারীকে বিনয়ের সাথে প্রশ্ন করতে হয়। কিন্তু আপনি এবার একটু ঝেড়ে কাসুন। বাক্যের মাধ্যমে জবাবকারীকে খাটো করার অপচেষ্টা করেছেন।
আমার বক্তব্যের সারকথা ছিল- তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলে-মুসা, দাউদ ও যীশু নিজেকে কখনোই নবী ও রাসুল দাবী না করায়, এবং তাঁরা তাঁদের গ্রন্থগুলিকে আল্লাহ্‌ কর্তৃক নবুয়াতের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন তা স্বীকার না করায়, মোহাম্মদ পবিত্র কোরআনে যে মুসা, দাউদ ও ইসার কথা উল্লেখ করেছে, তাদেরকে মোহাম্মদ নবী ও রাসুল বলে পরিচয় দেওয়ায়, এবং তাঁদের কিতাবগুলিকে আল্লাহ্‌ কর্তৃক নবুয়াতের মাধ্যমে প্রাপ্ত হওয়ার কথা বলায়, আপনার বলা মুসা, দাউদ ও যীশু মোহাম্মদের বলা মুসা, দাউদ ও ইসা নয়, একথা আপনি স্বীকার করেন কি না?

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

আমার স্বীকার বা অস্বীকার করার কিছু নেই। এখন আমি জানতে চাই , মুহাম্মদের বলা সেই ইব্রাহিম , মুসা ইসা এরা কারা ? পরিস্কার করে বলে ফেলুন। আগে আপনার বক্তব্য পরিস্কার করুন।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আমার স্বীকার বা অস্বীকার করার কিছু নেই।
যদিও আপনার স্বীকার বা অস্বীকারে মুসলমানের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবে না। কারণ পৃথিবীর ১২০ কোটি মুসলিম আপনার কথায় ইসলাম পরিত্যগ করবে না। তারপরও আপনাকে স্বীকার করার কথা এজন্য বলেছি যে- যেহেতু আপনি মোহাম্মদকে নবী মানতে সন্দেহ করেছেন।
দেখুন মোল্লা সাহেব, পবিত্র কোরআন বুঝতে হলে কোরআনের পরিভাষায় বুঝতে হবে। নিজের মতো করে কোরআন বুঝতে গেলে নিজেও গুলিয়ে যাবেন ও অপরকেও গুলানোর অপচেষ্টা করে যাবেন। কোরআনের পরিভাষায় কোরআন জানতে হবে এর স্বপক্ষে আমি কোরআনের একটি আয়াত উপস্থাপন করছি, দয়া করে আপনি বলবেন, আপনার জ্ঞানে এই আয়াতটিকে আপনি কীভাবে দেখেন।
সূরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে যে- মোহাম্মদ কোন পুরুষের পিতা নন। কিন্তু তিনি আল্লাহ্‌র রাসুল ও শেষ নবী।
এখন বলুন, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদের ঔরসে ৩ জন মতান্তরে ৪ জন পুরুষ সন্তানের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু মোহাম্মদ তাঁর কোরআনে- মোহাম্মদ কোন পুরুষের পিতা নন বলে নিজেই নিজেকে বিতর্কিত করেছেন, নাকি এর মধ্যে অন্য কোন অজানা সত্য লুকিয়ে আছে?
পরিশেষে-যে মোহাম্মদ কোন পুরুষের পিতা নন, ও যে মোহাম্মদ ৩-৪টি পুরুষ সন্তানের জনক, এই দুই মোহাম্মদ বিষয়ে আপনি কি বুঝেন।
এর মাধ্যমেই বুঝা যাবে যে- আপনার বলা মুসা, দাউদ ও যীশু এবং মোহাম্মদের বলা মুসা, দাউদ ও ইসার মধ্যে পার্থক্য কি, বা এঁরা যে মুলতই আলাদা ব্যাক্তি বা বস্তু তা বুঝতে সহজ হবে।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

"সূরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে যে- মোহাম্মদ কোন পুরুষের পিতা নন। কিন্তু তিনি আল্লাহ্‌র রাসুল ও শেষ নবী। "

তা জনাব , আপনার উক্ত আয়াতের প্রেক্ষাপটটা কি ? নাকি কোন প্রেক্ষাপটই নেই। দুনিয়ার সব আলেমের মত হলো - প্রেক্ষাপট হলো , মুহাম্মদ তার পালক পুত্র বধুর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিল , তখন পালক পুত্র যে তার আসল পুত্র না , সেটা বুঝিয়ে মুহাম্মদ বলতে চাচ্ছিল পালক পুত্র জায়েদের স্ত্রী জয়নাবকে বিয়ে করতে তার কোনই সমস্যা নেই। এটা মুহাম্মদের একটা বদ খাসলত পুরনের জন্যে নিজেরই বানান কথা। কিন্তু তারপরেও উক্ত আয়াত দিযে আপনি কি বুঝালেন ? উক্ত আয়াত দ্বারা মুহাম্মদ আগের তৌরাত বর্ণিত কথিত নবী রসুলদেরকে কিভাবে অস্বীকার করল ?

যাইহোক , আপনার এই ধরনের নতুন আবিস্কার আসলে কোন কাজে আসবে না। কারন মুহাম্মদ বার বারই তার কোরানে আগের তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবের কথা বলেছে , যা নাকি ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে ছিল।এমন কি বিভিন্ন বিষয়ের সমাধানের জন্যে কোরানে বলেছে , ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে যে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব আছে , তা তার সামনে আনতে। মুহাম্মদ সেই কিতাবের ভিত্তিতে নানা সমাধানও দিয়েছে। তো সেইসব কিতাবের মুসা ইসাকে মুহাম্মদ যদি স্বীকারই না করে , তাহলে মুহাম্মদ কোন কাল্পনিক মুসা ইসার কথা বলল , সেটা আমার বুঝে আসে নাই। আপনার কল্পনায় যদি কোন কল্পিত মুসা ইসার কাহিনী ধরা পড়ে , সেসবের বর্ণনা না করে , ত্যানা প্যাচাচ্ছেন কেন ? সেই কাহিনীটা বলে ফেলুন না।

আপনি আমার পরের ২য় পর্বে , তার বিশদ বিবরন পাবেন। দয়া করে , আপনার জবাবটা সেখানে দিন। তবে তার আগে পোষ্টটা ভাল মতো পড়ে নিবেন।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

মোহাম্মদের পালিত পুত্র যায়েদের কারণে সূরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতের অবতারনা। (সেই সাথে মোহাম্মদের নষ্টামিকে তুলে ধরেছেন।) ভালো! এখন বলুন- সূরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতের অবতারনা না হলে, যায়েদ মোহাম্মদের ঔরস জাত সন্তান হয়ে যেতো। আর আহযাবের ঐ আয়াতটি অবতরনের কারণে যায়েদ মোহাম্মদের ঔরস জাত সন্তান হতে পারে নি, তাইতো?
যার মান নাই সে কাউকে মান দিয়ে কথা বলেনা, আর যার জ্ঞান নাই সে সকলকেই অজ্ঞ ভাবে।
যায়েদের কোন ঘটনার জন্য আল্লাহ্‌ বললেন যে- মোহাম্মদ কোন পুরুষ সন্তানের পিতা নহে। দয়া করে জানাবেন।
আর- দয়া করে জানাবেন, আপনার বলা মুসা, দাউদ ও যীশু তোরাহ, যবুর ও গসপেল এ নিজেদেরকে নবী ও রাসুল বলে দাবী করেছে কি-না, এবং তাঁদের ঐ গ্রন্থগুলিকে আল্লাহ্‌ কর্তৃক নবুয়াতের মাধ্যমে তাঁরা প্রাপ্ত হয়েছেন, সে কথা বলেছে কিনা।
কোরআনের দৃষ্টিতে মোহাম্মদের উপাধি নবী ও রাসুল, তোরাহ, যবুর ও গসপেল এর দৃষ্টিতে মুসা, দাউদ ও যীশুর উপাধি কি?

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

আপনি আসল কথা না বলে , ত্যানা প্যাচাচ্ছেন কেন ? সুরা আহযাবের পুরাটাই মুহাম্মদের লুচ্চামিকে জায়েজ করার জন্যে মুহাম্মদ বলেছে। কিভাবে সে পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করে ঘরে তুলবে , কিভাবে যত ইচ্ছা খুশি বিয়ে করতে পারবে এইসব। এর সাথে তৌরাতের বা তৌরাতের বাইরের মুসা ইসার কি সম্পর্ক , জনাব ?

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আপনার সাথে আলোচনা করা যায় না। কারণ আলোচনা করে জ্ঞানীরা, ঝগড়া করে মূর্খরা আর মারামারি করে পশুরা।
আলোচনা করতে হলে আগে মার্জিত ভাষা জানতে হয়। কোন বিষয়ে কাউকে আপনি সন্দেহ করতেই পারেন। তাই বলে সন্দেহের উপর নির্ভর করে কাউকে অপমানকর উক্তি করতে পারেন না, যতক্ষণ না আপনার সন্দেহকে প্রমাণ করতে পারেন। কিন্তু আপনি অনুমান নির্ভর ধারনায় সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ১২০ কোটি মানুষ যার অনুসারী সেই মোহাম্মদকে অপমানকর বিশেষণ দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি বিবেচনার ভার ইষ্টিশন এর যাত্রীদের উপর অর্পণ করলাম।
এবার আসল কথায় আসি। আপনার পোষ্টের মূল বক্তব্য হল- মোহাম্মদকে নবী প্রমাণ করতে হলে প্রথমে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে, সে ইব্রাহীমের বংশধর। কেন না সে কোরআনে মুসা, দাউদ ও ইসার ধারাবাহিকতায় তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলের পরে কোরআন প্রাপ্ত হয়েছে নবুয়াতের মাধ্যমে। যেহেতু নবুয়াতের ধারা থাকবে ইব্রাহীমের বংশে, মুসা, দাউদ ও ইসা ইব্রাহীমের বংশধর, এখন মোহাম্মদ যে ইব্রাহীমের বংশধর তা যদি প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে সে নবী হতে পারে না।
উপরিউক্ত কথা আপনি কি ভেবেচিন্তে বলেছেন? আসলে মানুষ কতবড় দেউলিয়া হলে নিজের নাম, বাবার নাম, উপাধি সব ত্যাগ করে অন্যের দেওয়া নাম, বাবার নাম ও উপাধি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
কাঠমোল্লা সাহেব, মোহাম্মদ কোরআনে উল্লেখ করেছে মুসা, দাউদ, ইসা, ইব্রাহীমের নাম, আর কিতাবের নাম উল্লেখ করেছে তাওরাত,যবুর ও ইঞ্জিল, তাতে করে আপনার দাবী মুসা, দাউদ, ইব্রাহিম ও ইসা আপনাদের নবি এবং তাওরাত যবুর ও ইঞ্জিল আপনাদের নবিদের গ্রন্থ। দয়া করে বলবেন কি যে- আপনাদের কোন ধর্মগ্রন্থে ইব্রাহিম, মুসা, দাউদ ও ইসার নাম উল্লেখ আছে, ও তাঁদের ধর্মগ্রন্থের নাম তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিল?
যদি আপনাদের কোন ধর্ম গ্রন্থে ইব্রাহিম, মুসা, দাউদ ও ইসা নাম থাকে, ও তাঁদের ধর্মগ্রন্থের নাম তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিল থাকে তাহলে নবী প্রমাণের জন্য মোহাম্মদকে অবশ্যয় ইব্রাহীমের বংশের প্রমাণ করতে হবে। আর যদি আপনাদের কোন ধর্মগ্রন্থে ইব্রাহিম, মুসা, দাউদ ও ইসার নাম না থাকে, এবং তাঁদের ধর্মগ্রন্থের নাম তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিল না থাকে, তাহলে মোহাম্মদকে ইব্রাহীমের বংশের প্রমাণ করাতে না পারলে সে নবী নয় বলার জন্য আপনার কি শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?
মূল কথা- যে নামে আপনাদের কোন ধর্ম প্রবর্তক নাই, এবং যে নামে আপনাদের কোন ধর্মগ্রন্থ নাই, সে নাম সমূহ কোরআনে ব্যবহার হয়েছে। অথচ আপনারা কতবড় ধর্মীয় দেউলিয়া হয়েছেন যে, আপনাদের ধর্ম প্রবর্তকের মূল নাম পরিবর্তন করে কোরআনে মোহাম্মদের দেওয়া নামে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন, এবং আপনাদের ধর্মগ্রন্থের মূল নাম পরিবর্তন করে কোরআনে মহাম্মদের দেওয়া নামে পরিচিতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এটা কতবড় লজ্জার তা অনুমান করার মতো জ্ঞান থাকলে বড় কথা না বলে, মোহাম্মদের বিষয়ে শ্রদ্ধায় মাথা অবনত করে রাখতেন

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

আচ্ছা , তাহলে এই আপনার কারসাজি ? খৃষ্টানরা তাদের কিতাবকে বাইবেল বলে , তো আপনার যুক্তি হলো , কোরানে যেহেতু বাইবেল কিতাব বলে কোন কিতাব নেই , তাই কোরানের মুসা ইসা ইব্রাহিমের সাথে বাইবেলের মুসা ইসা ইব্রাাহীমের সম্পর্ক থাকবে কি ভাবে ? তাই তো ? দারুন কৌশল আপনার। ধরে নিলাম , আপনার যুক্তি সঠিক। এবার বলুন তো ইহুদিরা তো তাদের কিতাবকে তৌরাতই বলে। খৃষ্টানদের কথা বাদ দিন। এবার আপনার মুসা ইসা ইব্রাহীম কি সেই তৌরাতের মুসা ইসা ইব্রাহিম ?

আর আপনার এইসব অযৌক্তিক কথা বার্তার উত্তর কিন্তু পরে আমার ২য় ও ৩য় পর্বে দেয়া আছে বিস্তারিত। মুহাম্মদের সময়কালে খৃষ্টান ও ইহুদিদের কাছে যে কিতাব ছিল , সেসবকে স্বীকার করে নিয়েছিল কি না , তার কোরানের রেফারেন্স সহ উত্তর দেয়া আছে। সুতরাং আপনি যদি উত্তর দিতে চান , তাহলে ২য় বা ৩য় পর্বে দিন। খামোখা এখানে উল্টো পাল্টা কথা বলছেন কেন ?

সেখানে দেখা হবে।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আপনি কোথায় পেয়েছেন যে ইহুদীরা তাঁদের ধর্মগ্রন্থকে তৌরাত বলে, আর তাঁদের ধর্ম প্রবর্তককে মুসা বলে? রেফারেন্স দিন।
মোহাম্মদের কোরআন শরীফে গ্রন্থটির নাম কোরআন বলে পরিচয় দিয়েছে, ও তাঁদের ধর্ম প্রবর্তককে মোহাম্মদ বলে পরিচয় দিয়েছে।
এখন আপনি বলুন যে, ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থের কোন স্থানে তাঁদের ধর্মগ্রন্থকে তৌরাত বলেছে ও তাঁদের ধর্ম প্রবর্তককে মুসা বলে পরিচয় দিয়েছে। রেফারেন্স দিন।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

২য় বা ৩য় পর্বে উত্তর দিন। সেখানে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া আছে। মুহাম্মদের সময় ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে যে কিতাব ছিল , মুহাম্মদ সেগুলোকে স্বীকার করে নিয়েছিল। তো মুহাম্মদ যেটা স্বীকার করে নিয়েছে , আপনি সেটা অস্বীকার করেন নাকি ? আর ইহুদিরা তাদের কিতাবকে তৌরাত না Torah বলে। এখন আপনি কি সেটাও অস্বীকার করেন নাকি ? যাকগে , পরেরর দুই পর্বে আপনার প্রশ্নের উত্তর আছে। সেখানে যান। নাকি ভয় পাচ্ছেন ?

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আপনার ঐ সকল পোষ্টে যাওয়ার মতো সময় এখনো হয় নি। প্রথমে আপনি আপনার প্রথম পোষ্টের বিষয়ের মীমাংসা দিন। এই পোষ্টের মীমাংসা হলে পরবর্তী পোষ্টে যাওয়ার চেষ্টা করবো।
এখন দয়া করে বলুন- মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থের প্রবর্তক মোহাম্মদ তাঁর কোরআনে উল্লেখ করেছেন যে-
রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।বাকারা ১৮৫

এবং সূরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতে বলেছে- মোহাম্মদ কোন পুরুষের পিতা নন, সে আল্লাহ্‌র রাসুল ও শেষ নবী।
তাঁর মানে মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনেই গ্রন্থটির নাম কোরআন তা উল্লেখ করেছে, এবং ধর্ম প্রবর্তকের নাম মোহাম্মদ তাও উল্লেখ করেছ। আপনি বলেন- ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থের কোথায় উল্লেখ আছে যে তাঁদের ধর্মগ্রন্থের নাম তাওরাত ও ধর্ম প্রবর্তকের নাম মুসা।
উল্টাপাল্টা কথা বলে সময় ক্ষেপণের চেষ্টা করবেন না। সময়ের অনেক দাম।
এছাড়া কোন ধর্ম গ্রন্থে দাউদ ও ইসার নাম আছে, এবং তাঁদের ধর্মগ্রন্থের নাম যবুর ও ইঞ্জিল বলেছে। জবাব দিন।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

সুরা ইউনুস-১০:৯৪: সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না।

এখানে আগের কিতাব বলতে কি বুঝাচ্ছে কোরান ? সেসব কারা পাঠ করত ? তাদেরকে সাক্ষী মেনে কি বুঝাতে চাচ্ছে মুহাম্মদ ? মুহাম্মদের সময় সেই কিতাব পাঠকারী কারা ছিল? উত্তর দিন। অনেক ক্ষন ধরেই আপনি ঘ্যান ঘ্যান করছেন।

সুরা মায়দা -৫:১১০:যখন আল্লাহ বলবেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলে থাকতেও এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি এবং যখন তুমি কাদামাটি দিয়ে পাখীর প্রতিকৃতির মত প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে আমার আদেশে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে; ফলে তা আমার আদেশে পাখী হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্টরোগীকে নিরাময় করে দিতে এবং যখন আমি বনী-ইসরাঈলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা বললঃ এটা প্রকাশ্য জাদু ছাড়া কিছুই নয়।

এখানে কোরান কাকে তৌরাত ও ইঞ্জিল বলছে ?

ইউনুস-১০:৯৪ নং আয়াতে যে আগের কিতাব পাঠকারীর কথা বলছে , তারা কি এই তৌরাত কিতাব ও ইঞ্জিল পাঠ করত , নাকি ভিন্ন কিছু ? সোজা উত্তর চাই।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আমি কোরআন থেকে কোন জবাব চাই নি। আপনার দৃষ্টিতে মোহাম্মদ নবী নয়, ও কোরআন কোন ধর্মগ্রন্থ না। অতএব সেই কোরআনের দলীল দিয়ে আপনাদের কিতাবের সত্যতার সনদ আমি চাই নি।
আমি জানতে চাই যে- মোহাম্মদ কোরআনে উল্লেখ করেছে, ইব্রাহিম, মুসা, দাউদ ও ইসা নাম, এবং তাঁদের পরিচয় দিয়েছেন নবী ও রাসুল নামে। আর তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলকে বলেছেন পূর্বের কিতাব, যা আল্লাহ্‌ হতে নবুয়াতের মাধ্যমে মুসা, দাউদ ও ইসা নামক নবী ও রাসুলেরা প্রাপ্ত হয়েছেন।
এখন আপনি বলুন যে- মোহাম্মদের কোরআন উল্লিখিত মুসা, দাউদ ও ইসা আপনাদের ধর্ম প্রবর্তক হলে, আপনাদের কোন ধর্ম গ্রন্থে আপনাদের ধর্ম প্রবর্তকের নাম মুসা, দাউদ ও ইসা বলেছে?
আপনাদের কোন ধর্মগ্রন্থে মুসা, দাউদ ও ইসাকে নবী বা রাসুল বলেছে?
আপনাদের কোন ধর্মগ্রন্থে বলেছে- আপনাদের ধর্ম প্রবর্তকের কাছে আল্লাহ্‌ হতে নবুয়াতের মাধ্যমে ধর্মগ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে?
আপনাদের কোন ধর্মগ্রন্থে আপনাদের ধর্মগ্রন্থের নাম তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিল বলেছে?
যদি উক্ত বিষয়ে আপনাদের ধর্ম গ্রন্থে কোন প্রমাণ না থাকে, তাহলে কোন যুক্তিতে কোরআনে বলা কথাকে আপনাদের বিষয় বলছেন?
ইহাতে কি ইহাই প্রমাণ হয় না যে- আপনাদের ধর্মগ্রন্থের নাম মোহাম্মদের কোরআন থেকে ধার করা, আপনাদের ধর্ম প্রবর্তকের নাম মোহাম্মদের কোরআন থেকে ধার করা?
তাঁর মানে আপনাদের ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ ও ধর্ম প্রবর্তকের নাম পরিচয়ের সনদ মোহাম্মদের কোরআনের দ্বারা সত্যায়ন হয়েছে। তাই নয় কি?

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

আচ্ছা। এতক্ষনে আপনার মূল মর্মার্থ বোঝা গেল।

আপনি বলতে চাচ্ছেন , কোরানের আগে ইব্রাহীম মুসা বা ইসা কে ইহুদি খৃষ্টানরা নবী বলে মানত না বা জানত না। কোরানই বরং তাদেরকে নবী বলে প্রচার করেছে ও স্বীকার করেছে। তবে আপনার কথা আংশিক ঠিক , ইহুদিরা যীশুকে নবী বা ঈশ্বরের পূত্র কোনটাই স্বীকার করে না , শুধুমাত্র একজন রাব্বি মানে। আর খৃষ্টানরা তো যীশুকে ঈশ্বরের পূত্র হিসাবে মানে , নবী নয়।

এখন আমি জানতে চাচ্ছি , মুহাম্মদের আগে , তাহলে ইহুদি খৃষ্টানরা কি কিতাব পাঠ করত , যা কোরান বার বার সত্যায়ন করছে , আর এমন কি মুহাম্মদ যে নবী তার সাক্ষী হিসাবে সেই কিতাবগুলোকে স্বীকার করছে। নাকি তাদের কাছে কোন কিতাবই ছিল না ? কোরান ও হাদিসের কোথাও পরিস্কারভাবে কিন্তু বলাও নেই যে , ইহুদি খৃষ্টানদের কাছে থাকা সেই কিতাবগুলো বিকৃত বা ভূয়া। এটা তো মুহাম্মদ মরার ৩৫০ বছর পর থেকে আবিস্কৃত হয়েছে ও তার পর থেকে প্রচার শুরু হয়েছে।

পরিশেষে, আপনার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে , ইহুদি খৃষ্টানদের কাছে বর্তমানে যে কিতাব আছে , যেমন তৌরাত বা ইঞ্জিল ( ইঞ্জিল কিন্তু মুহাম্মদেরই দেয়া নাম , খৃষ্টানরা যাকে বলে গসপেল), সেসব ইহুদি ও খৃষ্টানরা বরং মুহাম্মদের কোরান প্রচার করার পরই রচনা করেছে। কোরান থেকে কাহিনী ধার করে। কোরান যখন বার বার ইব্রাহিম , মুসা , ইসাকে নবী হিসাবে প্রচার করছে , তখন ইহুদি খৃষ্টানরা তাদের ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে , কোরান থেকে এইসব কাহিনী শুনে তারপর তাদের তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব রচনা করেছে ,তাদের মন মত করে। বিষয়টা কি তাই দাড়ায় না ? এটাই কি আপনার মত ? আর সেই কারনেই আপনারা কি প্রচার করে থাকেন , যে তৌরাত বা ইঞ্জিল কিতাব বিকৃত ?

আর কোরানকে কেন আমি সাক্ষী মানছি বার বার ? শুনুন , কোরান , তৌরাত , ইঞ্জিল পড়ার পর মনে হয়েছে , মুহাম্মদ নিজেকে নবী হিসাবে প্রমান করতে গিয়ে , তৌরাত বা ইঞ্জিলের কাহিনী সমূহ ভালমতো না জেনে , বরং মক্কা মদিনার আশ পাশ , বা মুহাম্মদ যখন যুবক বয়েসে সিরিয়া বানিজ্য করতে যেত , তখন সেখানকার ইহুদি খৃস্টানদের কাছ থেকে তৌরাত বা ইঞ্জিলের কাহিনী জেনে , যেটুকু তার মনে ছিল , তার ভিত্তিতে কাহিনী বলেছে , কোরানের বানীর নামে। মুহাম্মদের যেটুকু মনে ছিল , সেটুকু বলতে গিযে , মাঝে মাঝে উল্টো পাল্টা বলে ফেলেছে , যাতে মনে হয়েছে , তৌরাত বা ইঞ্জিলের প্রকৃত বিষয় মুহাম্মদ উপলব্ধি করতে না পেরেই নিজের মত করে বলতে গিয়ে এই উল্টো পাল্টা কথা বলেছে। যেমন - মুহাম্মদ যীশুর মাতা মারিয়ামকে মুসা বা হারুনের বোন বলেছে , যীশু নাকি মাটি দিয়ে পাখী তৈরী করেছিল বলেছে , তারপর ৫:৩২ আয়াতের যে বিষয় তা তৌরাত কিতাবে নেই , ওটা আছে ইহুদিদের কাব্বালা নামক গ্রন্থে , কাব্বালাকে ইহুদিরা ঈশ্বরের বানী মনে করে না । এ ছাড়াও মুহাম্মদ শুনে শুনে আরও কাহিনী বলেছে যা উদ্ভট । যেমন - ফেরাউনের কথা বলেছে , কিন্তু ফেরাউন কোন মানুষের নাম না , উপাধি , ফেরাউনের উপাধি ওয়ালা কম পক্ষে ১০০ জন শাসক ছিল মিশরে , সুতরাং ফেরাউন পানিতে ডুবে মারা গেল ধরনের কথাবার্তা উদ্ভট , বলতে হবে সেই ফেরাউনের নামটা । তারপর সেই সময়ে আলেক্সান্ডারের বীরত্বের গল্প ব্যপক ভাবে প্রচলিত ছিল , মুহাম্মদ তার গল্প বলতে গিয়ে তার নামকে বলেছে জুলকারনাইন ( বড় বড় সব আলেমদের সেটাই মত ) , আর জুলকারনাইনকে নবী বলেছে যা উন্মাদীয় প্রলাপ , সে নাকি পঙ্কিল জলাশয়ে সূর্যকে ডুবতে ও উদয় হতে দেখে , যা একমাত্র শিশুরা বলতে পারে। এরকম আরও বহু কিছু।

আমি কোরানকে সাক্ষী মানছি এটা বুঝাতে যে , কোরান আগের কিতাবগুলোকে সাক্ষী মেনে নিজের সত্যতা প্রমান করতে গিয়ে , আগের কিতাবের কাহিনী সম্পর্কে ভাল ভাবে না জেনে , না বুঝে , উল্টোপাল্টা কথা বলেছে। তো আপনাদের বর্তমান যুক্তি হলো - ইহুদি খৃষ্টানরাই বরং কোরানের কথা শুনে , পরে মুহাম্মদ মরার পর তাদের কিতাব বিকৃত করে , কোরানের কাহিনীর সাথে মিলিয়ে রচনা করেছে। খুব ভাল উদ্যোগ আপনার বা আপনাদের। দেখুন এই ধরনের কায়দা কতটা কাজ দেয়।

আপনার কথা হলো - আজ থেকে ৬০০ বছর পরের মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে যা বলবে সেটাই হলো আসল কাহিনী , কিন্তু ১৯৭১ সালে যারা সরাসরি যুদ্ধ করেছে , দেখেছে , আর তার ভিত্তিতে যে কাহিনী লিখেছে , তা সত্য না। হা হা হা । যীশু মরার পর ৬০০ বছরের বেশী পর মুহাম্মদ এসে যীশু সম্পর্কে যে সব প্রলাপ বকল , আপনার কাছে সেটাই সত্য , কিন্তু যীশুর শিষ্যরা বা তার পরবর্তি জেনারেশনের লোকজন যীশু সম্পর্কে যা কিছু লিখে গেছিল , সেসব হলো উদ্ভট কাহিনী - এটাই হলো আপনার কৌশল।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

শুনুন কাঠমোল্লা সাহেব- আপনি একেক বার একেক রকম অনুমান নির্ভর নিজস্ব মন্তব্য উপস্থাপন করে চলেছেন। এটা আসলে ঠিক নয়। কোন বিষয়ে ১০০% নিশ্চিত না হয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক না। আর আপনি মোহাম্মদ ও কোরআন বিষয়ে ঠিক সেই কাজটিই করে চলেছেন।
এটা কিন্তু কোন সুস্থ মানুষের কাজ নয়।
তবে এই মুহূর্তে আমি আপনাকে যে বার্তা দিচ্ছি সেটা হল-
পবিত্র কোরআনে মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মুসা, দাউদ ও ইসা নাম সংকেতে যাদেরকে বুঝাতে চেয়েছে, তাঁরা আপনার বুঝের ঐ ব্যক্তি সকল নয়।
কারণ- আপনি যে ব্যক্তি সকলকে কোরআনে বলা ব্যক্তিদের সাথে মিলাতে চাচ্ছেন, তাঁদের ধর্মগ্রন্থে তাঁদের নাম ইব্রাহিম, মুসা, দাউদ ও ইসা বলে প্রকাশ করে নি।
আবার, আপনি যে ব্যক্তি সকলকে কোরআনে বলা ব্যক্তির সাথে মিলাতে চাচ্ছেন, তাতে আপনার ধারনার ব্যক্তিরা কেউ ই নবী বা রাসুল নয়, কিন্তু মোহাম্মদ কোরআনে যাদের নাম বলেছেন তাঁরা নবী ও রাসুল।
আবার, আপনি যে সকল ধর্ম প্রবর্তকের দেওয়া ধর্মগ্রন্থ সমূহের কথা বলছেন, সেগুলর নাম তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিল নয়। কিন্তু কোরআন পূর্ববর্তী গ্রন্থ সমূহের নাম বলেছে, তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিল।
আবার, আপনার ধারনার ধর্ম প্রবরতকেরা কেউ ই বলে নি যে, তাঁরা তাঁদের ধর্মগ্রন্থ নবুয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ হতে প্রাপ্ত হয়েছে, কিন্তু মোহাম্মদ কোরআনে বলেছে যে- মুসা, দাউদ ও ইসা আল্লাহ্‌ হতে নবুয়াতের মাধ্যমে তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিল গ্রন্থ পেয়েছে।
তাহলে এখন আপনি বলুন যে- এই পোষ্টে আপনি মোহাম্মদ, কোরআন, ইব্রাহিম, মুসা, দাউদ ও ইসা বিষয়ে যে সকল মন্তব্য করেছেন তাহা ভুল, অথবা অন্যায়?
যদি এই অনুভূতি আপনার মাঝে জাগ্রত হয় যে আপনি ভুল করেছেন, তাহলে মোহাম্মদ ও কোরআন বিষয়ে লেখা পোষ্ট সমূহ আপনি মুছে দিবেন। তারপরে বিবেচনা করবো যে- আপনার প্রশ্ন সমূহের জবাব কীভাবে দেওয়া যায়। আর যদি পোষ্ট সমূহ না মুছেন, তাহলে জানবো, ভুল নয়, জেনে বুঝে আপনি অন্যায় করছেন।
আমার পূর্বের মন্তব্যে বলা-
ইহাতে কি ইহাই প্রমাণ হয় না যে- আপনাদের ধর্মগ্রন্থের নাম মোহাম্মদের কোরআন থেকে ধার করা, আপনাদের ধর্ম প্রবর্তকের নাম মোহাম্মদের কোরআন থেকে ধার করা?
তাঁর মানে আপনাদের ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ ও ধর্ম প্রবর্তকের নাম পরিচয়ের সনদ মোহাম্মদের কোরআনের দ্বারা সত্যায়ন হয়েছে। তাই নয় কি?

উক্তির কারণে আপনি বলেছেন-
পরিশেষে, আপনার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে , ইহুদি খৃষ্টানদের কাছে বর্তমানে যে কিতাব আছে , যেমন তৌরাত বা ইঞ্জিল ( ইঞ্জিল কিন্তু মুহাম্মদেরই দেয়া নাম , খৃষ্টানরা যাকে বলে গসপেল), সেসব ইহুদি ও খৃষ্টানরা বরং মুহাম্মদের কোরান প্রচার করার পরই রচনা করেছে। কোরান থেকে কাহিনী ধার করে। কোরান যখন বার বার ইব্রাহিম , মুসা , ইসাকে নবী হিসাবে প্রচার করছে , তখন ইহুদি খৃষ্টানরা তাদের ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে , কোরান থেকে এইসব কাহিনী শুনে তারপর তাদের তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব রচনা করেছে ,তাদের মন মত করে। বিষয়টা কি তাই দাড়ায় না ?
মুলতঃ আমার বক্তব্য তা নয়। আমি বক্তব্য ছিল- কোরআনে বলা নামকে যদি আপনি আপনাদের ধর্ম প্রবর্তক ও ধর্মগ্রন্থের নাম ভাবেন, যে নাম আপনাদের ধর্মগ্রন্থে না থাকা সত্বেও, তাহলে কি আপনারা কোরআন থেকে ধার করে নিজেদের ধর্ম প্রবর্তক ও ধর্মগ্রন্থের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন?
এটা আমার সিদ্ধান্ত ছিলো না। এটা ছিল আমার জিজ্ঞাসা। না হলে আমার উপরের মন্তব্য পড়ে দেখতে পারেন। ওখানে বাক্যের শেষে জিজ্ঞাসা চিহ্নই রয়েছে।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

যাকগে, আপনার মন্তব্য থেকে একটা বিষয় পরিস্কার হওয়া গেল , তা হচ্ছে , কোরানের ইব্রাহীম ,মুসা , ইসা ইত্যাদিরা বাইবেলের ইব্রাহিম , মুসা বা ইসা কেউ না কারন , বাইবেলে তাদেরকে ডাকা হয়েছে , Abraham, Moses , Jesus বলে। এমন কি বাইবেলের ঈশ্বরের নাম Yehweh যেটা তার ব্যাক্তিগত নাম বা Proper Noun , আবার Elohim ও বলা হয়েছে যেটা তার সাধারন নাম বা Common Noun, কিন্তু কোরানের ঈশ্বরের নাম আল্লাহ , যেটা নিতান্তই আরবের একজন ঈশ্বরের নাম , যে কিনা ৩৬০ টা দেব দেবীর প্রধান , যাকে কুরাইশরা আল্লাহ বলে ডাকত। মুহাম্মদ সেই প্যাগান আল্লাহকেই তার আরাধ্য ঈশ্বর বলে গ্রহন ও স্বীকার করেছে। সুতরাং আবারও প্রমানিত হলো, আব্রাহামিক ধারার ধর্মের সাথে ইসলামের বা মোহাম্মদের কোন সম্পর্ক নেই ।একই সাথে এটাও প্রমানিত হচ্চে যে , মুহাম্মদ নিজেই নিজেকে নবী দাবী করে , সেটাই প্রতিষ্ঠা করে গেছে। প্রথমে মিষ্টি কথায় চেষ্টা করেছে , কাজ হয় নি। পরে তরবারীর মাধ্যমে সেটা প্রতিষ্ঠা করেছে।

আপনি আসলে আমার বিষয়টাকেই যে এতক্ষন ধরে প্রমানের চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন পরোক্ষভাবে , সেটা বুঝতে পারি নি। এখন বুঝতে পারলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আপনাদের মতো লোকদের প্রধান কাজই হল ষড়যন্ত্র করা ও মিথ্যা অপ-প্রচারের মাধ্যমে সত্যকে পরাস্ত করার অপচেষ্টা করা, এবং মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করতে জোর তদবির করা। সেখানে- একটি ষড়যন্ত্র ও অপ-প্রচারের কৌশল মানুষ ধরে ফেললে, নির্লজ্জের মতো হাঁসি দিয়ে, নতুন আরেকটি অপ-কৌশলের আশ্রয় নেওয়া।
আর, এখানে আপনিও তাঁর ব্যতিক্রম করেন নি। এবার নতুন অপ- কৌশলে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার শুরু করলেন। আশা করি এখানেও সফল হবেন না। কারণ- মাথায় পঁচিশ বছর ধরে চুল রাখলেও, নাপিত খুরের এক চাঁছাতেই মাথা ন্যাড়া করে দিতে পারে। ঠিক তেমনি- আপনি যত অপ-বুদ্ধি নিয়েই অপ-কৌশলের চেষ্টা করেন না কেন, এক নিমেষেই তা ভণ্ডুল হয়ে যাবে আশা করি।
এবার আপনার ষড়যন্ত্রের অপ-কৌশলটা হল-
কিন্তু কোরানের ঈশ্বরের নাম আল্লাহ , যেটা নিতান্তই আরবের একজন ঈশ্বরের নাম , যে কিনা ৩৬০ টা দেব দেবীর প্রধান , যাকে কুরাইশরা আল্লাহ বলে ডাকত।
তাতে কি হয়েছে? তৎকালীন সময়ে আরবের লোকেরা মাটির মূর্তি বানিয়ে সেই মূর্তিকে আল্লাহ্‌ জ্ঞানে পূজা করতো, আরবি আল্লাহ্‌ শব্দের বাংলা অর্থ হল- উপাস্য। কিন্তু মোহাম্মদ মূর্তিপূজারীদেরকে বলল যে, মাটির মূর্তি কখনোই আল্লাহ্‌ বা উপাস্য হতে পারে না। আল্লাহ্‌ হচ্ছে তিনি, যিনি সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। এবং মানুষ মোহাম্মদের কথা বিশ্বাস করেছে ও ইসলাম গ্রহণ করেছে, বর্তমানে মোহাম্মদের অনুসারী সংখ্যা ১২০ কোটি।
তাঁর পরে বলেছেন-
মুহাম্মদ নিজেই নিজেকে নবী দাবী করে , সেটাই প্রতিষ্ঠা করে গেছে। প্রথমে মিষ্টি কথায় চেষ্টা করেছে , কাজ হয় নি। পরে তরবারীর মাধ্যমে সেটা প্রতিষ্ঠা করেছে।
অবশ্যই তাই। কারণ কেউই আল্লাহ্‌র মুখ থেকে কোন কথা শোনেনি। সকলেই মোহাম্মদের কথা শুনেই বিশ্বাস করে মোহাম্মদের অনুসারী হয়েছে। আর আগ বাড়িয়ে মোহাম্মদ কাউকে তরবারির আঘাত করে নি। বরং আপনার মতো একচোখা মানুষগুলি মোহাম্মদের জ্ঞানের কাছে হেরে গিয়ে, মোহাম্মদকে একের পর এক আক্রমন করেছে। আর মোহাম্মদ সেগুলি প্রতিহত করেছে মাত্র।
সবশেষে আপনি বলেছেন যে-
আপনি আসলে আমার বিষয়টাকেই যে এতক্ষন ধরে প্রমানের চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন পরোক্ষভাবে , সেটা বুঝতে পারি নি। এখন বুঝতে পারলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।
কখনোই না। আমি যা বুঝাচ্ছি তা আপনি কখনো কল্পনাতেও আনতে পারেন নি। এবং আগামীতে আমি আরও যা বুঝাবো, তা আপনি এই জীবনে ভেবে কিনারা করতে পারবেন না।
আর আপনার বুঝটা যে ভুল তা আমি প্রমাণ করেছি, যা আগের মন্তব্য গুলি পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবে।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

উহু , এই মন্তব্যে আপনি পুরোটাই আব্রাহামিক ধর্মের ধারাটা পাশ কাটিয়ে গেলেন। তার মানে আপনি আবারও স্বীকার করে নিলেন , মুহাম্মদ আব্রাহামিক ধারার কোন নবী না। ওহ হ্যা, আব্রাহামিক ধারার নবী বা ধর্ম সম্পর্কে আমরা কিন্তু বাইবেল থেকেই জানি , তা সেই বাইবেল আপনাদের মত অতি ধূর্তদের কাছে যতই বিকৃত কিতাব হোক না কেন। মুহাম্মদও কিন্তু বার বার তার চারপাশের ইহুদি খৃষ্টানদেরকে তাদের সেই বাইবেল (ওহ বাইবেল শব্দটায় আপত্তি আছে আপনার ) থুক্কু , তৌরাত কিতাব আনতে বলত। কোরানও সেটা বলেছে । কিন্তু এত কথার মধ্যেও , আপনি ব্যাক্তিগত আক্রমনের বহু কথা বলে গেলেন , একবারও উত্তর দিলেন না যে , মুহাম্মদ তার সময়ে ইহুদি বা খৃষ্টানদেরকে কোন কিতাব তার সামনে আনতে বলত। যদি সত্যিই আপনার কাছে কল্পনাতীত কোন তথ্য থাকে , এবার তাহলে প্রথমে , উত্তরটা দিন , মুহাম্মদ তার সময়ে তার আশপাশের ইহুদি খৃষ্টানদেরকে কোন কিতাব তার সামনে আনার জন্যে বলত, বা কোন ইহুদিদের কাছে থাকা কোন কিতাবকে মুহাম্মদ সাক্ষী হিসাবে মানত। এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলে , আপনার সাথে বিতর্ক এখানেই শেষ।

আর হ্যা , আপনি নিজেকে যদি মনে করেন গাছের ডালে ডালে চলেন , তাহলে পাতায় পাতায় চলার মত বহু লোক আপনার আশপাশেই আছে।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

মোহাম্মদ কোন অবস্থাতেই আব্রাহামিক ধর্মের অনুসারী ছিল না। বরং মোহাম্মদ ইব্রাহীমের ধর্মের লোক ছিল। আর সে ইব্রাহিম একজন নবী ও রাসুল ছিলেন।
আপনি আবার ভুল করছেন। বাইবেল আর তাওরাত এক জিনিস নয়। পবিত্র কোরআন পূর্বের কিতাব দেখতে বলেছেন, বাইবেল নয়। তাওরাত কিতাব মুসা নামক নবীর কাছে আল্লাহ্‌ হতে নবুয়াতের মাধ্যমে এসেছে। বাইবেল আল্লাহ্‌ হতে কোন নবীর কাছে নবুয়াতের ধারায় আশে নাই।
আর মোহাম্মদ ইয়াহুদিদেরকে কিতাব আনতে বলেছেন। কোন খৃস্টানকে কিতাব আনতে বলে নি। ইয়াহুদি শব্দের বাংলা অর্থ- পথনির্দেশ খোঁজা ব্যক্তি। অর্থাৎ যারা সঠিক পথের খোঁজ করেন, তারাই ইয়াহুদি। ইয়াহুদি বলতে আপনি যাহা বুঝাতে চাচ্ছেন, মোহাম্মদ তাদেরকে ইয়াহুদি বলে নাই। আর কোরআনের কোথায় বলেছে খৃষ্টানদের কথা? জানা থাকলে দেখাবেন। আশা করি এই জীবনে তা দেখাতে পারবেন না।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

আচ্ছা , তাওরাত কিতাব আনতে বলত ? হুম । তো সেই তাওরাত কিতাবের যে ইব্রাহিম , মুসা , সোলেমান , দাউদ ইত্যাদির কথা আছে , তার সাথে মুহাম্মদ ও তার কোরানের কি সম্পর্ক ? কোরানের ইব্রাহিম , মুসা ,দাউদ ও তৌরাতের ইব্রাহিম , মুসা দাউদ সোলেমান কি একই ব্যাক্তি নাকি ভিন্ন ?

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

আর আগ বাড়িয়ে মোহাম্মদ কাউকে তরবারির আঘাত করে নি।

মুহাম্মদ প্রথম জীবনের ডাকাতি করত। সুরা বাকারা - ২: ২১৭ আয়াতের প্রেক্ষাপট দেখুন। ওটা একটা ডাকাতিকে বৈধতা দেয়ার জন্যে মুহাম্মদের বানান আয়াত। তবে আপনার কাছে সেই ডাকাতিটা হলো জিহাদ। এরপর মুহাম্মদ আতর্কিকে বিভিন্ন জনপদ আক্রমন করত মদিনায় থাকা কালিন অবস্থায়। এভাবেই আক্রমন করেছিল খায়বার , যেখানে সে ইহুদি সর্দার কিনানার স্ত্রী সাফিয়াকে গণিমতের মাল হিসাবে বন্দি করে সেই দিনই ধর্ষন করে। মুহাম্মদ তার জীবনে প্রায় ২৭টা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহন করেছে , তার মধ্যে এক খন্দকের যুদ্ধ ছাড়া বাকী সব যুদ্ধেই আক্রমনকারী ছিল। সুরা তাওবার প্রতিটা আয়াতই হলো আক্রমনাত্মক আয়াত। বিনা উস্কানিতে নিরীহ অমুসলিমদের ওপর আক্রমন করে তাদেরকে হত্যা করার জন্যে বলা হচ্ছে।

মুহাম্মদ ছিল দুনিয়ার সব চাইতে বর্বর , অসভ্য আর নিষ্ঠুর একজন এক নায়ক। দু:খ হলো তার সেই বর্বরতা ও অসভ্যতার আদর্শকে শত কোটির ওপর লোক ধর্ম হিসাবে গ্রহন করেছে। গত ১৪০০ বছর ধরে মুহাম্মদের এই অপকর্ম কেউ প্রকাশ করে নি , যেই করতে গেছে , তার কল্লা কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটের কল্যানে , সেটা এখন আর সম্ভব না। যতই ইসলামের ভিতরে ঢোকা হচ্ছে ততই দুর্গন্ধ বেরোেচ্ছে , আর আত্মরক্ষার্থে আপনাদের মত অতি ধুরন্ধর কিছু ব্যাক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যারা ইচ্ছামতো কোরান ও হাদিসের ব্যখ্যা শুরু করেছে। কিন্তু উহু , কাজ হবে না। আপনাদের চাইতে আমাদের লেখনী আরও বেশী শক্তিশালী , এত শক্তিশালী , আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। আপনার নিজ জীবনেই দেখে যাবেন , ইসলামের কি হাল হয়।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

ভুল বললেন। মোহাম্মদ শুধু ওদেরকেই ধর্ষণ করেনি। মনে হয় মোহাম্মদ বর্তমানেও আপনার মা, বোন ও বৌকে ধর্ষণ করে চলেছে। তাই আপনি মোহাম্মদের উপর এত ক্ষ্যাপা। এতক্ষনে ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম। আগে বুঝতে না পারার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

সঠিক বলেছেন। মুহাম্মদের খাটি অনুসারী সেই আই এস সিরিয়া ইরাকে বহু ইয়াজিদি নারীকে ধর্ষন করেছে , দাসী হিসাবে বাজারে বিক্রি করেছে। আর সেটা করেছে কোরান ও হাদিসের দেখানো পথেই। সুযোগ পেলে দুনিয়ার সব মুসলমানই এটা করতে চায়। কারন মুহাম্মদের সুন্নত ও কোরানের আদেশ বলে কথা।

আমি বার বার বার বার তৌরাতের কথাই বলেছি। তো ইহুদিদের কাছে মুহাম্মদ যে তৌরাত কিতাব আনতে বলত , সেই কিতাবে যে ইব্রাহিম , মুসা ইত্যাদি নবীর নাম ছিল , তার সাথে মুহাম্মদের ইব্রাহিম মুসা নবীর কি সম্পর্ক ছিল , তা কিন্তু বলেন নাই। যখন আসল বিষয় আসে সুকৌশলে এড়িয়ে যান, এই হলো আপনার তর্কের কৌশল।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

কোরআনের কোন সূরার কত নম্বর আয়াতে নবীর ধর্ষণের কথা উল্লেখ আছে?
না দেখাতে পারলে আপনার মা, বোন ও বৌকে পাঠায়ে দিয়েন, আমি ধর্ষণ করে দিব।
কোরআনের কোথায় আছে যে ইয়াহুদিদেরকে মোহাম্মদ তাওরাত আনতে বলেছে?

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

আচ্ছা। কোরানের কোথাও ধর্ষণ শব্দটা নেই , সুতরাং ধর্ষনের কথাও নেই । তাই না ? শোনেন কোরানের কোথাও নামাজ শব্দটা নেই , তাই নামাজও নেই। কোরানের কোথাও বেহেস্ত বা দোজখ শব্দটাও নেই , তাই বেহেস্ত দোজখও নেই। কি বলেন ?

গোড়া থেকে এই শব্দের খেলা খেলে যাচ্ছেন। এত বুদ্ধি আপনার মাথায় !

যা্ইহোক, সুরা ৪:২৪ আয়াতটা হলো বন্দিনী নারীদের সাথে যৌন সঙ্গম ও মুতা বিয়ের আয়াত। তো যে নারীকে আপনি আজকে বন্দি করলেন তার স্বামী পিতা ভাইকে হত্যা করে , আপনি যদি তার সাথে যৌন সঙ্গম করতে যান , সে কি স্বেচ্ছায় রাজী হবে ? যদি রাজী না হয় , তাহলে জোর করে তার সাথে সেক্স করবেন। জোর করে সেক্স করাকে কি বলে ? কোরানে তো ধর্ষন শব্দটা বলে নাই , সুতরাং আপনার সংজ্ঞা অনুযায়ী উক্ত সেক্স কোনভাবেই ধর্ষন হবে না , তাই না ?

মুহাম্মদ খায়বার আক্রমন করে , যেদিন সাফিয়ার স্বামীকে হত্যা করেছিল , সেদিন রাতেই মুহাম্মদ সাফিয়াকে নিয়ে রাত কাটায় , তো সেই রাতে বা তার পরেও বহু রাত পর্যন্ত সাফিয়া কি আনন্দের সাথে মুহাম্মদের সাথে সেক্স করেছিল ? নাকি তার সাথে জোর করে সেক্স করতে হয়েছিল ? জোর করে সেক্স করাকে কি বলে ? প্রেমলীলা নাকি ধর্ষন ? ওহ হো , ভুলে গেছি , হাদিসে তো ধর্ষন শব্দ নেই , তাই সেটা ধর্ষন হবে না।

আপনার মাথায় এত বুদ্ধি নিয়ে ঘুমান কি করে ?

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

কোরআনে নামায শব্দ নাই, কারণ কোরআন আরবি ভাষায় লিখিত, আর নামায ফারসি শব্দ তাই নামায শব্দ কোরআনে নাই। কিন্তু ফারসি নামায শব্দের আরবি সালাত শব্দটি কোরআনে আছে। এখন আপনি বলুন বাংলা ধর্ষণের বিপরীতে আরবি কোন শব্দটি ব্যবহার হয়েছে?
আযগুবি কথা না বলে বলুন- কোরআনের কোন সূরার কত নম্বর আয়াতে নবীর ধর্ষণ করার কথা আছে?
ধানায় পানায় ছেড়ে আপনি যা বলেছেন তাঁর রেফারেন্স দেন।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

হুম তেমনি খৃষ্টানরা তাদের কিতাবকে বাইবেল বলে। তারা সেই বাইবেলকে তাদের মত করে , পুরাতন নিয়ম ও নুতন নিয়ম বলে। এখন এই শব্দের খেলা তো বহুক্ষন চালালেন। আপনারা যেমন আরবী ছেড়ে ফার্সি শব্দ ব্যবহার করেন , তারাও তেমনি হিব্রু বা আরামাইক ছেড়ে ল্যাটিন বা ইংরেজী ব্যবহার করে। কিন্তু আপনি তো সেই থেকে শব্দের খেলা খেলে যাচ্ছেন। ভেবেছিলেন , কিছু না জেনে না বুঝে , এসব লেখা লেখি করি ?

কোরান বা হাদিসের কোথাও ধর্ষন শব্দটা নেই। যা আছে তা হলো - কিভাবে ধর্ষন করতে হবে সেটা। কোরানের কোথাও সোজা ভাবে বলে নি পৃথিবী সমতল ভূখন্ড। কিন্তু কোরান একটা সমতল ভূখন্ড বিশিস্ট ভূমির সুন্দর বর্ননা বার বার করেছে পৃথিবীর আকার বলতে গিয়ে। সুতরাং , আপনাদের সেই শব্দের খেলা , কোরান কোথায় বলেছে সমতল ?

সুরা নিসা -৪:২৪ আয়াতে বলেছে বন্দিনী নারী বা দাসীর সাথে সেক্স করা যাবে। তো বন্দিনী নারী কি আপনার সাথে মহানন্দে সেক্স করতে যাবে যার স্বামী ভাই পিতাকে আপনি আজকে বা গতকাল নির্মমভাবে হত্যা করেছেন ? কিন্তু সেই শব্দের খেলা। কোরান কোথায় ধর্ষন করতে হবে বলেছে ? অথবা আপনাদের কাছে মনে হয় ধর্ষনের সংজ্ঞাটাই ভিন্ন। জোর করে , কোন নারীর সাথে যৌন কাজ করলে তাকে আপনারা ধর্ষন বলেন না।

শব্দের খেলা বাদ দেন। এসব ধানাই পানাই করে লাভ নেই আমার সাথে।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আচ্ছা, আপনার কি মাথায় সমস্যা আছে? যে- একেক বার একেক বিষয় নিয়ে দৌড়াদৌড়ী করে বেড়াচ্ছেন? এতেই প্রমাণ হয় যে আপনি, মিথ্যা তথ্য উপুস্থাপনের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছেন। তাই একটা বিষয় মিথ্যা প্রমাণ হলেই ছুটে অন্য বিষয়ে চলে যাচ্ছেন। আসলে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে, কোরআনে কোন অযৌক্তিক বিষয় আছে, তাহলে সেই বিষয়টি তথ্য সহকারে আলোচনায় আসুন। আসলেই যদি কোরআনে কোন অসামঞ্জস্য বিষয় থাকে, তাহলে আমি কোরআন মানা ছেড়ে দেব। আর যদি আপনি কোন অসামঞ্জস্য বিষয় দেখাতে না পারেন, তাহলে অহেতুক এই রকম মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করবেন না অঙ্গিকার করে, আলোচনা শুরু করতে পারেন। তবে যে কোন একটি বিষয় দিয়ে শুরু করুন, সেটা শেষ হলে আরেকটি উপস্থাপন করুন। শিশুর মতো সকল বিষয় একসাথে গুলায়েন না।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

কোরআনের কোথায় আছে যে ইয়াহুদিদেরকে মোহাম্মদ তাওরাত আনতে বলেছে?

মুহাম্মদের সময় ইহুদিদের কাছে কোন কিতাব ছিল ? যে কিতাব ছিল তাকে ইহুদিরা কি বলত ? তাদের কিতাবের নাম হলো Tanakh, এই Tanakh এর তিনটা খন্ড - Torah, Nevim ও Ketvim। এর মধ্যে এই Torah টাতেই ইব্রাহিম , মুসা এদের কাহিনী লেখা। মুহাম্মদ যেহেতু বার বার এদের কথা বলেছে কোরানে , তাই আমি বার বার এই তৌরাতের কথা বলছি। মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুসার কথা বার বার বলার কারনেই সে বার বার ইহুদিদের কাছে এই তোরাত কিতাবটাই আনতে বলত।

আশা করি , এবার আপনার কিঞ্চিত জ্ঞান হলো।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আমি প্রশ্ন করি, আর আপনি জবাব করেন কি? আমার প্রশ্ন ছিল- আপনি বলেছেন কোরআনে মোহাম্মদ ইয়াহুদিদেরকে তাওরাত আনতে বলেছে, সেটা কোন সূরার কত নম্বর আয়াতে?

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

সুরা আল ইমরান - ৩: ৯৩:তওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে ইয়াকুব যেগুলো নিজেদের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন, সেগুলো ব্যতীত সমস্ত আহার্য বস্তুই বনী-ইসরায়ীলদের জন্য হালাল ছিল। তুমি বলে দাও, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক। তাহলে তওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ কর।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

সুরা ইমরান-৩:৯৩: كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلًّا لِّبَنِي إِسْرَائِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَىٰ نَفْسِهِ مِن قَبْلِ أَن تُنَزَّلَ التَّوْرَاةُ قُلْ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ Kullu alttaAAami kana hillan libanee isra-eela illa ma harrama isra-eelu AAala nafsihi min qabli an tunazzala alttawratu qul fa/too bialttawrati faotlooha in kuntum sadiqeena zoom
Literal
(Word by Word) All [the] food was lawful for (the) Children of Israel except what Israel made unlawful upon himself before [that] (was) revealed the Taurat. Say, "So bring the Taurat and recite it if you are truthful."

এখানে দেখুন পরিস্কার করে বলছে তৌরাত --bialttawrati

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আমি জিজ্ঞাসা করি কি, আর আপনি জবাব করেন কি? আমার জিজ্ঞাসা ছিল- ইহুদী সম্প্রদায়কে তাওরাত আনতে বলেছে কোথায়?
মুলতঃ আগেও বলেছি যে, ইয়াহুদি শব্দের বাংলা অর্থ- পথ নির্দেশ খোঁজকারী। আর বনী ইস্রাইল শব্দের বাংলা অর্থ- আল্লাহ্‌র সহিত যুদ্ধকারী যুবক। তাঁর মানে কোরআন যাহা কিছু বলেছে তাহা নবী, রাসুল ও তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলের কথা। কোরআনে আপনাদের কোন ধর্মপ্রবর্তক ও ধর্মগ্রন্থকে নিয়ে আলোচনা করেনি।
কোরআনের পরিভাষা জানতে হলে- এই লিংকে গিয়ে গুরুজির সাথে আলোচনা করতে পারেন

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

তো উক্ত আয়াতে কোরান কাদেরকে তাওরাত কিতাব আনতে বলেছে ? তাওরাত কিতাব কাদের ওপর নাজিল হয়েছিল ? কিন্তু তার আগে বলুন তো , আপনার আসল বক্তব্যটা কি ? ইয়াহুদি অর্থ কি , বনী ইসরাইল অর্থ কি , এসবের চাইতে , ইহুদি কারা , বনী ইসরাইল কারা সেটাই কি গুরুত্বপূর্ন না ? আপনি কি আসলে কোরানের ভিন্ন কোন অর্থ বের করে ফেলেছেন ?

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

মহাবিশ্বে যারা আল্লাহর দেওয়া পথনির্দেশ খোঁজ করে তারাই ইয়াহুদি। আর মহাবিশ্বের যে যুবকেরা আল্লাহ্‌র সাথে যুদ্ধ করিতেছে, তারাই বনী ইসরাইল। আমি কোরআনের কোন ভিন্ন অর্থ বের করি নি। বরং আমাদের গুরুজি কোরআনের সঠিক অর্থ করেছেন। যা জানতে এই লিঙ্কে গিয়ে গুরুজির সাথে আলোচনা করতে পারেন।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 22 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর