নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ভূমিকার বিশ্লেষণ ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ (পর্ব ৮)



“পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে” এই মতবাদের প্রথম প্রবক্তা ও ঈশ্বর প্রদত্ত বাইবেল ভুল প্রমান করার কারনে নিকোলাস কোপার্নিকাসের সাথে কি করা হয়েছিলো তা পূর্বের ৭ম পর্বে আলোচনার পরে লেখক আরিফ আজাদ আরো যে দুইজন বিজ্ঞানীর নাম নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন তারাও নাকি ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তারা হলেন গ্যালিলিও এবং আইনস্টাইন। আমরা এই পর্বে তাদের সম্পর্কে একটু জানার চেষ্টা করবো এবং লেখকের পরবর্তি আলোচনায় চলে যাবো। প্রথমেই বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। গ্যালিলিও যার জন্ম ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৫৬৪ - মৃত্যু ৮ জানুয়ারি, ১৬৪২ যিনি ছিলেন একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ এবং দার্শনিক যিনি বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের সাথে বেশ নিগূড়ভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের উন্নতি সাধন যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, বিভিন্ন ধরণের অনেক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, নিউটনের গতির প্রথম এবং দ্বিতীয় সূত্র, এবং কোপার্নিকাসের মতবাদের পক্ষে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। কোপার্নিকাসের সেই মতবাদ পর্যবেক্ষনের কারণে সদ্য প্রয়াত বিজ্ঞানী “স্টিফেন হকিংয়” বলে গিয়েছেন “আধুনিক যুগে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এতো বিশাল অগ্রগতির পেছনে গ্যালিলিওর চেয়ে বেশি অবদান আর কেউ রাখতে পারেনি”। তাকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক এবং এমনকি আধুনিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এরিস্টটলীয় ধারণার অবসানে গ্যালিলিওর আবিষ্কারগুলোই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

উল্লেখ্য যে, বিজ্ঞানী গ্যালিলিও বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাসের মতবাদের পক্ষেই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষন করেছিলেন। এখন কথা হচ্ছে, আমরা আগের পর্বে কোপার্নিকাসের মতবাদ ঈশ্বর প্রদত্ত বাইবেলের বিপক্ষে যাচ্ছে তার একটা প্রমাণ পেয়েছিলাম। তার মতবাদটা আসলে ছিলো “পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে” যে মতবাদের প্রথম প্রবক্তা কোপার্নিকাস আর এটার সাথে বাইবেল ছিলো সাংঘর্ষিক যার কারনে রোমান ক্যাথলিক চার্চ আইন করেছিলো যে এই মতবাদের চর্চা বা ঈশ্বরে অবিশ্বাসী কোন চর্চা বা মতবাদের পুনঃচর্চা কেউ করে থাকলে তাকে সাজা ভোগ করতে হবে। যেমন গ্যালিলিওর সময়ে জিওর্দানো ব্রুনোকে রোমান ক্যাথলিক চার্চ আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো এই একই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করার জন্য। ১৪৬৬ সালের পরে যখন পোল্যান্ড সম্রাজ্য ক্রোয়েশিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায় তার প্রায় ১৫০ বছর পরে অর্থ্যাৎ ১৬১০ সালে রোমান ক্যাথলিক চার্চ বিজ্ঞানী গ্যালিলিও কেও কোর্টে বিচারের আওতায় নিয়ে আসে। তার উপরেও অভিযোগ আনা হয় গ্যালিলিও ঈশ্বর প্রদত্ত পবিত্র গ্রন্থের বিরোধিতা করছে। তাহলে লেখক আরিফ আজাদ কিভাবে দাবি করেন যে গ্যালিলিও ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন। বিচারে গ্যালিলিওকে ধর্মান্ধ বিচারকেরা তখন পরবর্তি জীবন কারাগারে থাকার আদেশ দেন। যখন গ্যালিলিওকে বিচার কাজ শেষ করে কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখনও বৃদ্ধ গ্যালিলিও বিড়বিড় করে বলছিলো “Yes it does move” অসুস্থ ও বৃদ্ধ বিজ্ঞানীকে জোর করে ফ্লোরেন্স থেকে রোমে নিয়ে যাওয়া হয়, হাটু ভেঙ্গে সবার সামনে জোড় হাতে ক্ষমা প্রার্থনা করিয়ে বলতে বাধ্য করা হয় এতদিন গ্যালিলিও যা প্রচার করেছিলেন তা ধর্মবিরোধী, ভুল ও মিথ্যা ছিলো। এবং এরপর তার সাজা একটু কমিয়ে তাকে বাকী জীবন কারাগারে না গৃহবন্দী করে রাখার নির্দেষ দেওয়া হয়।

গ্যালিলিওর পরে লেখক আরিফ আজাদ যে বিজ্ঞানীর নাম নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন ঈশ্বর বিশ্বাসী তিনি হচ্ছেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। আমার মনে হয়না বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন কে আর নতুন করে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজন আছে। যার জন্ম হয়েছিলো মার্চ ১৪, ১৮৭৯ এবং মৃত্যু এপ্রিল ১৮, ১৯৫৫ তিনি ছিলেন জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী একজন নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী। এই বিজ্ঞানী আইনিস্টাইন যে একজন নাস্তিক ছিলেন তার স্বপক্ষে অনেক অনেক প্রমাণ থাকার পরে এই লেখক আরিফ আজাদ কেনো তাকে আস্তিক বানাতে চাইলেন তা নিশ্চয় সবার অজানা নয়। যায় হোক তার একটি উক্তি দিয়ে আমরা সংখিপ্ত একটি আলোচনায় যাবো। এলবার্ট আইনিস্টাইন বলেছেন “ব্যাক্তিগত ঈশ্বর বিষয়ক উপলব্ধি একটি নৃতাত্ত্বিক ধারণামাত্র, যা আমি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহন করতে সক্ষম নই” এছাড়াও কয়েকদিন আগে আইনস্টাই্নের, তার মৃত্যুর এক বছর আগে জার্মান ভাষায় নিজের হাতে লেখা অপ্রকাশিত একটি চিঠি নিলাম করা হয় । এই ব্যক্তিগত চিঠিটি সর্ব মহলে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিলো, কারণ এই চিঠিতে আধুনিক বিজ্ঞানের এই মহারথী ঈশ্বর এবং ধর্ম সম্পর্কে তাঁর একান্ত নিজস্ব কিছু ধ্যান-ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন। ইহুদী ধর্মাবলম্বী দার্শনিক এরিখ গুটকিন্ড তাঁকে নিজের লেখা একটি বই পাঠিয়েছিলেন পড়বার জন্য। বইটির নাম ছিল “চুজ লাইফ: দ্য বাইবেল কল টু রিভোল্ট”। এই বইটি পড়ার পর আইনস্টাইন ১৯৫৪ সালে ৩ জানুয়ারি জার্মান ভাষায় এরিখ গুটকিন্ডের কাছে লেখা এই চিঠিতে ঈশ্বর এবং ধর্ম সম্পর্কে তার মতামত ব্যক্ত করেন। এ চিঠি সম্পর্কে যারা আগে থেকেই অবগত আছেন তাদের কাছে চিঠিটি ‘গড লেটার’ নামে পরিচিত। ঈশ্বর সম্পর্কে তার ধারণার পাশাপাশি এটি আরেকটি কারণে বেশ গুরুত্ব পেয়েছিলো, তা হলো ইহুদী জাতিগোষ্ঠীকে তিনি অন্য সব জাতিগোষ্ঠীর থেকে আলাদা কিছু মনে করেন না। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে তাঁর বিরুদ্ধে জায়নবাদের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থনের যে অভিযোগ আছে তা ভ্রান্ত। নিলামে চিঠিটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছিলো ৩ মিলিয়ন ডলার। চিঠিটির বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ ইংরেজিতে অনুবাদ করে ইবে’তে প্রকাশ করা হয়েছিলো। বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিলাম এবং চিঠির সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং সাথে চিঠি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে নিজস্ব মতামত দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য ডকিন্সের সেই মতামতটি এখানে দেওয়া হলো যাতে পরিষ্কার বোঝা যাবে বিজ্ঞানী আইন্সটাইন আসলে আস্তিক ছিলো নাকি নাস্তিক। আলোচনা দীর্ঘ হবার কারনে মূল চিঠিটা এখানে দেওয়া হচ্ছে না।

বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স তার এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন “এ্যালবার্ট আইনস্টাইনকে নিজেদের একজন ভাবার কারণে ধর্মীয় এপোলজিস্টদেরকে পুরোপুরি দোষ দেয়া যাবে না। উনি কিছুটা দায়িত্বহীন ভাবেই “ঈশ্বর” কে কাব্যিক রূপক হিসাবে উদ্ধৃত করতে পছন্দ করতেন। তবে আইনস্টাইনের প্রতি পক্ষপাতহীন হয়ে বলতে হয় যে আজকের দিনের এই অসৎ উদ্দেশ্যে উদ্ধৃতি-ব্যবহার করা সম্পর্কে অনুমান করা তার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব ছিল না। তাই তার মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে লেখা এই চিঠিটা দেখে ভাল লাগছে যা চিরদিনের জন্য আইনস্টাইন ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন এই কল্পকথাকে নিস্তার দেবে। অন্যান্য আরও সূত্রের সাথে এই চিঠিও শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে যে, পৃথিবীর যে কোন বাস্তব বোধের প্রেক্ষিতেই, আইনস্টাইন ছিলেন একজন নাস্তিক। যখন ২০০৮ সালে লন্ডনে চিঠিটা নিলামে ওঠে, আমি রিচার্ড ডকিন্স ফাউন্ডেশনকে উপহার হিসাবে দেয়ার উদ্দেশ্যে চিঠিটা কেনার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলাম। যে দামে চিঠিটা শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল তার খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ আমি প্রস্তাব করতে সমর্থ হয়েছিলাম। কিন্তু সেই বিক্রি দামটাও ছিল বর্তমানে ধার্য সর্বনিম্ন দাম ৩ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেকই কম। আমি আশা করব যে যিনিই এই নিলাম জিতুক না কেন তিনি এটি ইংরেজির সাথে সাথে অন্যান্য ভাষায় সম্পূর্ণ অনুবাদ সহকারে খুব স্পষ্টতার সাথে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন। — রিচার্ড ডকিন্স”

আসল কথা হচ্ছে শুধুই লেখক আরিফ আজাদ নয় এরকম যত লেখক আছে যারা অযৌক্তিক ও কুসংস্কারাচ্ছন বিভিন্ন বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে “আরজ আলী সমীপে” এর মতো বই লিখে থাকে তারা প্রত্যেকেই চাই বিখ্যাত বিখ্যাত সব বিজ্ঞানীদের নিজেদের কাতারে দাড়া করাতে। আর সেটা করতে পারলেই ধর্মান্ধরা তাদের পায়ের নিচে কিছুটা মাটি খুজে পায় যা আগেই বলেছিলাম। যাই হোক, লেখকের দাবি করা বিজ্ঞানীরা যে কেউ ঈশ্বর বিশ্বাসী ছিলোনা তা মনে হয় এখানেই প্রমাণিত তারপরেও এই লেখক যেসমস্ত বিজ্ঞানীদের নাম হয়তো ভুলে তার বই এর এই অধ্যায়ে উল্লেখ করেনি আমি একটু তাদের নাম উল্লেখ করছি যাতে করে আরেকটু জানা যাবে যে ধর্মের সাথে বিজ্ঞান সাংঘর্ষিক ছিলো নাকি না। শুধু যে গ্যালিলিও, নিকোলাস কোপার্নিকাস, জিওর্দানো ব্রুনোর উপরেই অত্যাচার হয়েছিলো তা নয়।

বিজ্ঞানী লুচিলিও ভানিনি, টমাস কিড, ফ্রান্সিস কেট, বাথৌলোমিউলিগেট এরা প্রত্যেকেই ধর্মান্ধদের নির্মম অন্ধ বিশ্বাসের শিকার। ঈশ্বরের ধর্মান্ধ সুপুত্ররা তাদের সকলকে হত্যা করেছিলো কাল্পনিক ঈশ্বরের শত্রু ভেবে। কিন্তু তারপরেও তারা সুর্যের চারিদিকে পৃথিবীর ঘোরা বন্ধ করতে পারেনি। আরেকটি ঘটনা দিয়ে লেখক আরিফ আজাদের এই "ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের দ্বন্দ নেই" দাবি করা আলোচনা শেষ করবো। বর্তমান ২০১৮ সাল থেকে ২৪৬৮ বছর আগে অর্থ্যাৎ খ্রিস্টপুর্বাব্দ ৪৫০ সালে এনাক্সোগোরাস বলেছিলেন চাঁদের নিজের কোন আলো নেই। সেই সাথে এনাক্সোগোরাস সঠিকভাবে অনুসন্ধান করেছিলেন চাঁদের হ্রাস বৃদ্ধি আর চন্দ্রগ্রহনের কারণ। এসব সত্য এবং এনাক্সোগোরাসের প্রতিটি আবিষ্কারই ছিলো ধর্মান্ধদের চোখে জঘন্য রকমের অসত্য। ঈশ্বরবিরোধী, ধর্ম বিরোধী আর অসত্য প্রচারের অপরাধে এই এনাক্সোগোরাসকে দীর্ঘ এবং চরম নিষ্ঠুর নির্যাতন শেষে নির্বাসিত করেছিলো এই ঈশ্বরের সুপুত্ররা। খুব বেশি দূরে নয় কাছাকাছি সময়ের মধ্যে গ্যালিলিও, কোপার্নিকাস, ব্রুনো, ও আইনিস্টাইনের সময়ের দিকে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে সুইজারল্যান্ডের বেসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর যার নাম ছিলো অধ্যাপক "ফিলিপাস প্যারসেলসাস" যিনি ছিলেন রসায়ন শাস্ত্র এবং ভেষজ বিদ্যার অধ্যাপক। যখন অধ্যাপক ফিলিপাস প্যারাসেলসাস ঘোষনা করলেন মানুষের অসুস্থতা কোন পাপের ফল বা অশুভ শক্তি নয়, রোগের কারণ হলো জীবানু। ঔষধ প্রয়োগে জীবানু নাশ করতে পারলেই রোগ ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে অধ্যাপক প্যারাসেলসাসের এই উক্তি শুনে সেই ঈশ্বরপুত্ররাই আবার মনে করলেন অধ্যাপক প্যারাসেলসাস সমাজের জন্য ক্ষতিকারক ধর্মবিরোধী মতবাদ প্রচার করছে তাই তাকে বিচারের আওতায় আনা উচিৎ। বিচারে নিয়ে গিয়ে ধর্মান্ধ বিচারকেরা সেদিন অধ্যাপক প্যারাসেলসাসকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেছিলো। শুধু তাই নয়, শুধু খ্রিস্টান ধর্মেই এই জাতীয় অত্যাচার আর নির্যাতন হয়েছিলো তা ভাবলে ভুল হবে। বর্তমানের সবচেয়ে ওয়েল রিকোগনাইজড ধর্ম ইসলাম ধর্মে এরকম হাজার হাজার রেকর্ড আছে যার কিছুই উল্লেখ করেনি এই বইতে লেখক আরিফ আজাদ। মুসলিমরা ইবনে খালিদ, জিরহাম, আল দিমিস্কি, ওমর খৈয়াম, ইবনে সিনা, ইবনে বাজা, আল কিন্দি, আল রাজি অথবা ইবনে রুশদের মতো দার্শনিকদের নিয়ে আজ বুক ফুলিয়ে গর্ব করে কিন্তু একটিবারও ভেবে দেখেনা এই সব দার্শনিকদের সবাই তাদের সময়ে বৈজ্ঞানিক সত্য কিংবা মুক্তমত প্রকাশের কারনে সেই সময়ের মৌলবাদী কাল শক্তির হাতে নিগৃহীত, নির্যাতিত আর নিহত হয়েছিলেন।

এখানে তেমন কিছুই উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি বলে আমার কাছে মনে হয়েছে কারণ, বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের যে দ্বন্দের কথা “আরজ আলী মাতুব্বর” তার বই “সত্যের সন্ধানে” তে বহুকাল পুর্বে বলে গিয়েছিলেন যার উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না কিন্তু কষ্ট লাগে তখন যখন দেখা যায় এই লেখক আরিফ আজাদের মতো লেখকরা সেই আরজ আলী মাতুব্বরের লেখা ভুল প্রমাণ করার জন্য অযৌক্তিক এবং কুসংস্কারাচ্ছন বই “আরজ আলী সমীপে” লিখে। যাই হোক এপর্যন্ত আমরা বইটির ২২ নং পৃষ্টাতেই ছিলাম। এবার ২২ নং পৃষ্ঠার শেষ প্যারেতে লেখক বলেছেন “আরজ আলী সাহেব লিখেছেন, “অধিকাংশ ধর্ম এবং ধর্মের অধিকাংশ তথ্য অন্ধবিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।” এবার অবশ্য আরজ আলী সাহেব ঠিক কথা বলেছেন। ধর্মের কিছু তথ্য অবশ্যই বিশ্বাসের ওপরে নির্ভর করে, যেমন : আল্লাহতে বিশ্বাস, জান্নাত-জাহান্নামে বিশ্বাস, আখেরাত, ফেরেশতা ইত্যাদিতে বিশ্বাস। একজন মুসলিম এ সবকিছু না দেখেই বিশ্বাস করে। পবিত্র কুরআনের শুরুতেই বলা হয়েছে, “যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে।” ঈমানের মূল হচ্ছে গায়েবে বিশ্বাস। এমন কিছুতে বিশ্বাস করা যা দেখা যাচ্ছে না, ধরা যাচ্ছে না, ছোঁয়া যাচ্ছে না। মানুষ চাইলেই পৃথিবীতে বসে আল্লাহকে দেখতে পাবে না। সে চাইলেই জান্নাত-জাহান্নাম অবলোকন করতে পারবে না। ফেরেশতাদের সাথে মতবিনিময় করতে পারবে না। সে পারবে না, কারণ–সে কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যে বন্দী। সেটা কী রকম?”

এখানে আরজ আলী মাতুব্বরের উক্তি হচ্ছে “অধিকাংশ ধর্ম এবং ধর্মের অধিকাংশ তথ্য অন্ধবিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।” এটা যে কতটা সঠিক একটি কথা তা বর্তমান যুগে কোন ব্যাক্তিকে মনে হয় চোখে আঙুল দিয়ে আর দেখিয়ে দিতে হয় না। কারণ ধর্মীয় কুসংস্কার সম্পর্কে এখন প্রতিটি ধর্মের অনুসারীরা কিছু না কিছু হলেও অবগত। এরপরেও যেহেতু লেখক আরিফ আজাদ এখানে সেই অন্ধবিশ্বাসকে বিশ্বাস নাম দিয়ে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করে আরজ আলী মাতুব্বরের মূল কথা থেকে সরে গিয়ে সীমাবদ্ধতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাই এখানে মূল কথা যে বিশ্বাস আর অন্ধবিশ্বাস তার ব্যাখ্যাটা আগে দেখি। বিশ্বাস বলতে সাধারণত আমরা জানি পারিপার্শ্বিক বিষয়-বস্তুরাজি ও জগৎ সম্পর্কে কোনো সত্ত্বার স্থায়ী-অস্থায়ী প্রত্যক্ষণকৃত ধারণাগত উপলব্ধি বা জ্ঞান এবং তার নিশ্চয়তার উপর আস্থা বোঝানো হয় । কিন্তু মনে রাখতে হবে এর কোনটাই লেখক আরিফ আজাদ এখানে বলেনি। সমাজবিজ্ঞান , মনোবিজ্ঞান , জ্ঞানতত্ত্ব ইত্যাদি বিভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্বাস শব্দটি বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে খানিকটা আলাদা অর্থ বহন করতে পারে , তাই জ্ঞান , সত্য , ইত্যাদির মত বিশ্বাসেরও কোনো একটি সর্বজনসম্মত সংজ্ঞা নেই বলে অনেকের ধারণা । এককথায় আমরা ধরে নিতে পারি বিশ্বাস এর আসলে কোন ভিত্তি নেই। যার কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই, যাকে কোন ভাবেই কেউ প্রামণ করে দেখাতে পারবে না, যা শুধু গল্পের মতো জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই না তাকেই আমরা বিশ্বাস বলে থাকি। একটা জিনিষ খেয়াল করে দেখবেন আমরা কখনও চাঁদ বা সূর্য যে আছে সেই কথাটা কিন্তু কাউকে বলিনা যে বিশ্বাস করেন চাঁদ আছে বা সূর্য আছে এমন কিছু। বিশ্বাস হতে পারে একজনের ব্যক্তিগত কষ্ট কল্পনা। যেমন সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা অনেক কিছু দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ দেখালে সেই বিশ্বাস আরো বদ্ধমূল হয়ে যেতে থাকে। এই ধরণের ভিত্তিহীন বা যুক্তির অতীত বদ্ধমূল অন্ধবিশ্বাসকে বলে ডিলিউসন (delusion)। আবার বিশ্বাস হতে পারে কোন জনতার সম্মিলিত জনমত। যেমন নানা ধরণের ধর্মবিশ্বাস। মক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায় যাকে বিশ্বাসের ভাইরাস বলেছিলো। যেমন এখানে আমরা লেখক আরিফ আজাদের লেখার ভেতরে পাচ্ছি। বিশ্বাসের সঙ্গে মূল্যবোধ ও ভালোমন্দ বিচারও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কোন কিছুকে ভালো বলে বিশ্বাস না হলে তাকে খারাপ বলেই সন্দেহ হবে। সন্দেহ (বিশ্বাস করার অনিচ্ছা) খুব জোরালো হলে এবং অন্যান্য চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে দিলে তাকে বলে প্যারানইয়া, যার বিশেষণ হল প্যারানয়েড। সিজোফ্রেনিয়ার চারটি প্রধান ধরণের মধ্যে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া একটি। বিশ্বাস বা Faith বলতে আমরা বুঝি (বিশ্বাস, ধর্মবিশ্বাস, বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই পরিপূর্ণ বিশ্বাস)। এরপর বাকী অংশ পরের পর্বে......

বইটির ২২ নং পৃষ্টাতে যেভাবে আছে সেটা এখানে দেখতে পারেন।

পৃষ্ঠা ২২

মৃত কালপুরুষ
০১/০৪/২০১৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 ঘন্টা 36 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর