নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বিষাক্ত রাজনীতি:- তৃতীয় পর্ব-


ইন্দিরা গান্ধীর আকস্মিক মৃত্যুর পর দেশে এক রাজনৈতিক শূন্যতার আবির্ভাব হয়, কে হবে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এই নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা যায়। অনেকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত অরুণ নেহেরুর মত কংগ্রেসি নেতাদের সমর্থনে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রাজীব গান্ধীকে মনোনীত করা হয়। রাজীব গান্ধী ওই দিনই (31শে অক্টোবর 1984) মাত্র 40 বছর বয়সে দেশের কনিষ্ঠতম ষষ্টপ্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। ভারতীয় রাজনীতিতে রাজীব গান্ধীর আবির্ভাব নায়োকচিত্ত ভাবে হয়। তিনি রাজনীতি সম্পর্কে অনাগ্রহী ছিলেন এবং রাজনীতি থেকে সমদূরত্ব বজায় রাখতেন কিন্তু ইন্দিরার আকস্মিক মৃত্যুর পর, হঠাৎ করে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে দেশের সর্বোচ্চ শাসক প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন।

অন্যদিকে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর ফলে গোটা দেশজুড়ে ভয়ংকর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দিল্লি, কানপুর, বোকারো সহ দেশের সর্বত্র কংগ্রেসিরা শিখদের উপর নির্মম আঘাত হানতে থাকে, তবে এর সর্বাপেক্ষা বিভৎস বর্হিপ্রকাশ দেখা যায় দিল্লিতে। 31 শে অক্টোবর রাত্রি থেকে প্রকৃতপক্ষে 1 লা নভেম্বর থেকে 3 রা নভেম্বর, 1984 অর্থাৎ ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যু ও রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীত্ব লাভের পর প্রায় তিন দিন পর্যন্ত এই বিভৎস শিখ বিরোধী দাঙ্গা চলতে থাকে। এই শিখ বিরোধী দাঙ্গায় প্রধান ভূমিকা নেন- জগদীশ টাইটলর, সজ্জন কুমার, এ এইচ কে ভগত প্রমুখ কংগ্রেসি নেতারা। শিখদের যেখানেই পাওয়া যায় সেখানেই তাদের হত্যা করা হয়। অনেক জায়গায় শিখদের টায়ারের সঙ্গে বেঁধে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, শিখদের বাড়িতে ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগানো হয়। তাদের মা বোনদের নির্মম ভাবে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় এই দাঙ্গায় 2732 জন মানুষ নিহত হন, অন্যদিকে বেসরকারি সূত্র মতে 8000 বা তারও অধিক মানুষ এই বিভৎস দাঙ্গার বলি হয়।(তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া)

দীর্ঘ তিন দিন দাঙ্গাকারীদের এই উদ্দাম নৃত্য চলে সারাদেশে তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহতা দেখা যায় দিল্লিতে। শিখদের এই রকম প্রকাশ্য নিধনের সময় তৎকালীন শিখ রাষ্ট্রপতি জ্ঞানী জৈল সিং কিছুই করে উঠতে পারেন নি। তিনি বারংবার রাজীব গান্ধীকে অনুরোধ করেন সেনা নামিয়ে দিতে কিন্তু রাজীব গান্ধী প্রত্যুত্তরে বলেন- "আগে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুক যদি না হয় সেনা নামিয়ে দেব"। জ্ঞানী জৈল সিং তার আত্তজীবনীতে বলেন- "হঠাৎ করে 1লা নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে আমার কাছে ফোন আসা বন্ধ হয়ে যায়, হয়ত সরকার ফোন লাইনের কিছু পরিবর্তন করে যার উদ্দেশ্য ছিল আমার কাছে দাঙ্গার সঠিক খবর না আসে"।

পরবর্তীকালে সেনা নামিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু সেনার গুলি চালানোর নির্দেশ ছিল না। অন্য দিকে পুলিশের প্রতি অভিযোগ ছিল তারা দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে থেকে তাদের সহযোগিতা করছিল। তাই দীর্ঘ তিন দিন এই নরহত্যা চলার পর হঠাৎ করে এই দাঙ্গা বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে এটিকে সুপরিকল্পিত জেনোসাইড বা গণহত্যা বলে মনে করেন। হিংসা থামার পরবর্তীকালে দিল্লির বোট ভবনে রাজীব গান্ধী এক ভাষণে শিখ দাঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন- "যখন বড় কোন গাছ ধূলিষ্যাৎ হয় তখন আশপাশের ভূমি কেঁপে ওঠে" নভেম্বর, 1984। অর্থাৎ ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পরবর্তী সময় উদ্ভূত শিখ বিরোধী দাঙ্গাকে রাজীব গান্ধী প্রচ্ছন্নে সমর্থন করেন। এই ধরণের মন্তব্যের জন্য গোটা দেশে রাজীব গান্ধীর তীব্র সমালোচনা হয়। কোনও প্রধানমন্ত্রীরই এই রকম মন্তব্য তার পদ মর্যাদার পক্ষে হানিকর।

সময় সর্বোচ্চ শক্তিশালী। সময় বড় বড় আঘাতের ক্ষত ও সারিয়ে তোলে এবং জীবন যন্ত্রণা থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়। সময়ের গতিতে জীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে চলতে থাকে এরই মধ্যে রাজনীতি ও তার অবাধ গতিতে চলতে থাকে। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা ও শিখ বিরোধী দাঙ্গার কয়েকমাস পর দেশে অষ্টম লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের 533 টি লোকসভা আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। (তৎকালীন সময় লোকসভায় 533 টি আসন ছিল। বর্তমানে সর্বাধিক 552 টি আসনের মধ্যে 543 টি তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং 2 টি আসন রাষ্ট্রপতি মনোনিত করেন। তাই বর্তমানে 543+2= 545 টি আসন নিয়ে লোকসভা গঠিত। বাকি 7 টি আসন পাকঅধিকৃত কাশ্মীর ও অন্যান্য কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না।) সংখ্যা গরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল 267 টি আসন কিন্তু এই নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পরবর্তীকালে সহানুভূতির জোরে কংগ্রেস একাই 404 টি আসন লাভ করে। কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পায় 4 টি আসন ও কংগ্রেস(জে) পায় 1 টি আসন। তাই মিলিতভাবে কংগ্রেস মোট 404+4+1=409 টি আসনে জয়লাভ করে।(তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া) এত বৃহৎ আকারে জয় এর আগে কংগ্রেস কখন ও পায়নি। ইন্দিরা গান্ধী বা জওহরলাল নেহরুর আমলেও এত বৃহৎ জয়ের মুখ কংগ্রেস কখনও দেখেনি। সংসদের দুই তৃতীয়াংশের অধিক আসন জয়লাভের ফলে রাজীব গান্ধীর কাছে এক সুবর্ণসুযোগ আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করার কিন্তু রাজীব গান্ধী সে সুযোগ কতটা কাজে লাগিয়ে ছিলেন তা ইতিহাসের এক অন্যতম বহুল চর্চিত বিষয়।

যাইহোক রাজীব গান্ধী ছিলেন তরুণ নেতা এবং বিদেশে পড়াশোনা করে এসেছিলেন। তাই তিনি দেশকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী ভারত বানাতে চেষ্টা করেছিলেন। শ্যাম পিত্রোদাকে দায়িত্ব দিয়ে তিনি দেশে টেলিকম বিপ্লব আনেন। তিনি দেশে ইন্টারনেট, কম্পিউটার প্রভৃতি আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবনের পিছনে জোর দেন। এছাড়া পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার রূপায়ণ, শিল্পের প্রতি জোর, পঞ্চায়েতি রাজ, অপারেশন ব্ল্যাক বোর্ড, নবোদয় বিদ্যালয় ইত্যাদির দ্বারা দেশের অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান সহ বর্হিবিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।

তিনি দুর্নীতি মুক্তির কথা বলতেন তাই তার এক স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে, তিনি মিষ্টার ক্লিন নামেও পরিচিত হন। রাজীব গান্ধী বয়সে নবীন ছিলেন ও নতুন ধরণের কথা বলতেন তাই তাকে যুব নেতা হিসাবে ভাবা হত এবং মনে করা হত তিনি নতুন ধরণের কিছু করবেন। রাজীব গান্ধী রাজনৈতিক দিক থেকে উন্নতির চরম উৎকর্ষে পৌঁছেছিলেন, ঠিক তেমন সময়ই আসে এক নতুন সমস্যা। এই সমস্যাটি শুধু রাজীব গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনই নয় ভারতের রাজনৈতিক, ও আর্থসামাজিক অবস্থার চিরস্থায়ী পরিবর্তন করে এবং এর প্রভাব কতটা শক্তিশালী ছিল তা আজও অনুভূত হয়। এটি রাজীব গান্ধীর জন্য এক কঠিন পরীক্ষা রূপে উপস্থিত হয় এবং সেই সঙ্গে এটি ছিল এক বড় পরীক্ষা রাজীব গান্ধী কি স্বতন্ত্র যুব নেতা না কি, আগের নেতাদের মত শুধুই রাজনীতিবিদ?

চলবে...

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

বাহ, চমৎকার লেখা। ভাল লাগলো খুব!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
 

ধন্যবাদ দাদা আপনার মূল্যবান মতামত থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি এবং নতুন করে লেখার অনুপ্রেরণা পাই। আশারাখি আপনাদের ভালোবাসায় আমি আপনাদের আরও সুন্দর লেখা উপহার দিতে পারব।

 
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
 

পোস্ট রিলেটেড একটা ছবি সাথে এড করে দিতে পারেন তাতে করে আপনার লেখার ভিউয়ার্স বাড়বে। এখানে ছবি এড করার নিয়মাবলী দেওয়া আছে।
https://www.istishon.com/?q=node/10

-------- মৃত কালপুরুষ

 
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
 

ধন্যবাদ দাদা। আমি এই বিষয়টি ঠিক পারি না। ছবি বা ভিডিও লিংক কি করে ব্যবহার করব ঠিক জানি না। এবিষয়ে এডমিন দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর