নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

সংখ্যাগুরুর অাল্লাহ, ভগবান এবং ঈশ্বর


অাল্লাহর সাথে বনিবনা করার চেষ্টা করেছি অামি, পারিনি!
এরপর ভগবানের সাথে অাপোষ করার চেষ্টা করেছি, এখানেও ব্যর্থ!
ঈশ্বরের সাথে মিলতাল করার চেষ্টা করেছি, এটাও নিষ্কল!
অনেক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অাল্লাহ, ভগবান এবং ঈশ্বরের সাথে শেষপর্যন্ত অামার বনিবনা হয়নি, কারণ এরা সবসময় সংখ্যাগুরু, ধনী এবং ক্ষমতাবানের পক্ষে।
বাংলাদেশের অাল্লাহ মুসলিমের পক্ষে। ভারতের ভগবান হিন্দুর পক্ষে। পশ্চিম অাফ্রিকার ঈশ্বর খ্রিষ্টানের পক্ষে। বার্মার বুদ্ধদেব বৌদ্ধের পক্ষে।

অাল্লাহনামা :
অাল্লাহর বাংলাদেশে পাঁচ বছর বয়সী শিশু পূজাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, তার যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে বড় করে তারপর ধর্ষণ করা হয়েছে।
অাল্লাহর দলের লোকেরা কাজটা করেছে, তাই অাল্লাহ এখানে নিরব!

একাত্তরে দুই লক্ষ নারীকে যখন ধর্ষণ করা হয়েছিল অাল্লাহ তখন তামাশা-দ্রষ্টা হয়ে ছিল!
অাল্লাহর দলের লোকেরা যখন ভিন্নদলের কাউকে খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ করে অাল্লাহ তখন খুশিতে বগল বাজায়। কারণ অাল্লাহ শক্তিশালীর পক্ষে, নিজদলের পক্ষে!
অাল্লাহর দলের লোক যখন অাল্লাহর দলেরই অন্য কাউকে খুন, ধর্ষণ করে তখনো অাল্লাহ খুনি এবং ধর্ষণের পক্ষে থাকে। কারণ, খুনির ক্ষমতা বেশি, ধর্ষকের শক্তি বেশি! অাল্লাহ সবসময়ই শক্তিশালী এবং ক্ষমতাবানের পক্ষে!
ধর্ষিতা হওয়ার সময়ে তনু, রিসা, অাফসানা, খাদিজারা অাল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিল; কিন্তু অাল্লাহ সাহায্য করেনি! ধর্ষক এবং ধর্ষিতা উভয়েই ছিল অাল্লাহর দলের লোক, অথচ অাল্লাহ বাঁচালো না তার অনুসারিণীকে!
ধর্ষকও যেহেতু অাল্লাহর দলের লোক তাই অাল্লাহ এখানে ধর্ষকেরই পক্ষে!
সবচেয়ে বড় কথা, শক্তিশালীর পক্ষাবলম্বন করা অাল্লাহর সবসময়কার নেশা।
অাল্লাহর ক্ষমতা এবং সুবিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ধর্ষিতার পোশাকের উপর দোষ চাপিয়ে অাল্লাহ তার দায় সেরে নেয়!
ইয়াসমিনকে ধর্ষণ করে যখন হত্যা করা হয়েছিল, অাল্লাহ তখনও নিরব থেকেছিল!
তৃষাকে যখন হত্যা করা হয়েছে, অাল্লাহ তখন পান চিবুচ্ছিলো!

অাল্লাহর অারেকটি পছন্দের দেশ পাকিস্তানে মুখতারান বিবিকে যখন ধর্ষণ করা হয়েছিল অাল্লাহ তখন নিরব দর্শক ছিল! ছয় বছরের শিশু জয়নবকে যখন ধর্ষণ ও খুন করা হয় তখনো অাল্লাহ অসহায় দর্শক ছিল!
বেলুচিস্তানের শাজিয়া খালিদকে যখন ধর্ষণ করা হয় তখন অাল্লাহ গভীর ঘুমে অচেতন ছিল!
২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর করাচিতে একটি পোলিও-আক্রান্ত মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়, অাল্লাহ তখনও বেখবর ছিল!

অাল্লাহর ভাষায় কথা বলা মিশর অবশ্যই অাল্লাহর পছন্দের দেশ। এখানেও অাল্লাহ ধর্ষকের পক্ষে।
মিশরীয় নারী অধিকার কর্মী এঙ্গি ঘোজলানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় দুই লক্ষ নারী ধর্ষণের শিকার হন। মোনা অালতাহাভির মতে, ২০১১ সালের বিপ্লবের পর ধর্ষণের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিশরের অাল্লাহ ধর্ষক এবং তাহাররুশকারীদের পক্ষে, কারণ তারাই সেখানে শক্তিশালী!

অাল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় দেশ সৌদিআরব। সেখানে অাল্লাহর দেয়া সব পোশাকি শর্ত মেনেও নারীরা ধর্ষিতা হয়, গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করে বাপ-ছেলে-ভাই সবাই মিলে, অাল্লাহ এখানে নির্বিকার! বোরকা, হিজাব পরেও অাল্লাহর পেয়ারা বান্দাদের যৌনজিহাদ থেকে বাঁচতে পারেনা গৃহকর্মীরা!

অাল্লাহর দেয়া ড্রেসকোড নাকি নিরাপত্তা দান করে, তাহলে সবচেয়ে খোলামেলা ড্রেস পরা নায়িকারা কি নিত্যই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে?
মিয়া খলিফাকে ধর্ষণ করা হয়না, সানি লিওনকে ধর্ষণ করা হয়না, বিদ্যা বালানকে ধর্ষণ করা হয়না, অ্যান্জেলিনা জোলিকে ধর্ষণ করা হয়না, সেলেনা গোমেজকে ধর্ষণ করা হয়না।
ধর্ষণ করা হয় অবুঝ শিশুটাকে, ধর্ষণ করা হয় ওড়না পরে চলাফেরা করা যুবতী কিংবা কিশোরীকে।
তাহলে অাল্লাহ প্রদত্ত ড্রেসকোড কি নিরাপত্তার রক্ষক নাকি হন্তারক?

তনুকে কেন ধর্ষণ করলো অাল্লাহর লোকেরা?
তনু কি মিয়া খলিফার মত ড্রেস পরেছিল?
তনু কি সেলেনা গোমেজের মত ড্রেস পরেছিল?
তনু কি ক্যাটরিনা কাইফের মত ড্রেস পরেছিল?

বাড্ডায় যখন শিশু তানহাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল তখন কোথায় ছিল অাল্লাহ?
গাজীপুরে যখন অাটমাস বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে অাল্লাহ তখন কি করছিল?
যৌতুকের জন্য যখন গৃহবধূকে হত্যা করা হয় তখন অাল্লাহর ভূমিকা কেন বিতর্কিত হয়? প্রেম-প্রত্যাখ্যানের অপরাধে (?) যখন এসিড দিয়ে হিজাবী নারীর মুখ ঝলসে দেয়া হয় তখন অাল্লাহর ভূমিকা কি থাকে?
হিজাব পরেছে কিন্তু চেহারা খোলা ছিল, তাই অাল্লাহর পুংলিঙ্গ নাকি উত্থিত হয়েছে! অার এজন্যই ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ এবং খুন করা হয় অাল্লাহর বান্দিদেরকে!
অাল্লাহর হেফাজতকারীরা এমনটাই বলে হরহামেশা।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১২ সালে ৮৬ জন, ২০১৩ সালে ১৭৯ জন, ২০১৪ সালে ১৯৯ জন, ২০১৫ সালে ৫২১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। 

অাল্লাহর কথামতো বোরকা, হিজাব, স্কার্ফ পরা তো চরমভাবে বেড়েছে; এত বোরকাবৃদ্ধির পরও কি অাল্লাহর বান্দিদেরকে ধর্ষণ করা কমেছে?
বোরকার সাথে ধর্ষণও কেন সমানতালে বাড়ছে? তাহলে কি বোরকাই ধর্ষণের উস্কানিদাত?
তাহলে কি অাল্লাহই ধর্ষণের মূল অনুপ্রেরণা?

মানবাধিকার ও আইন সহায়তাকারী বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৭২৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬ বছরের কম বয়সী শিশু ৬২ জন, ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৭৮ জন এবং ১৩ থেকে আঠারো বছর বয়সীর সংখ্যা ২৫১ জন। অর্থাৎ ধর্ষণের শিকার হওয়া প্রায় সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক। আসক-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যাদের ২০ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ রকম বিভিন্ন সংস্থার হিসাবেও একথা স্পষ্ট যে ধর্ষণের মতো নির্মম ঘটনার শিকার হওয়াদের অধিকাংশই শিশু।

'বোরকা বাড়লে ধর্ষণ কমবে' - অাল্লাহ কি তার এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছে?
ছয়মাস, এক বছর, দুই বছর, চার বছর বয়সী শিশুরা কিভাবে অাল্লাহর দেয়া ড্রেসকোড মেনে চলবে?

কওমি মাদ্রাসা অাল্লাহর সবচেয়ে বেশি অাশেকদের প্রতিষ্ঠান। এখানে মেয়েলোকের প্রবেশ নিষেধ, কারণ অাল্লাহ মেয়েমানুষ পছন্দ করেনা, অাল্লাহর অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায় মেয়েলোক দেখলে!
যেহেতু মেয়েলোক নেই তাই এখানে অাল্লাহর বড় পুরুষ বান্দারা ছোট ছেলে বান্দাদেরকে ধর্ষণ করে! অাল্লাহর ছোট বান্দাদের জন্য অাল্লাহ কি ড্রেসকোড দিয়েছে?
অাল্লাহর ছোট বান্দাদের পায়ুপথ রক্ষার জন্য অাল্লাহ কোন ধরনের বোরকার ব্যবস্থা করেছে?
না করলে তা কি অাল্লাহর অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে না?

৩ জুন ২০১৩ আশুলিয়ার হাফিজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার ৮ বছরের শিশু শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বীকে বলাৎকারের পর হত্যা করে ওই মাদ্রাসারই শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মোশাররফ হোসেন। ছাত্র গোলাম রাব্বী নিশ্চয়ই তার খুনি শিক্ষকের হাত থেকে বাঁচতে অাল্লাহর সাহায্য চেয়েছিল।
গোলাম রাব্বীকে বাঁচাতে অাল্লাহ কি পদক্ষেপ নিয়েছিল?
দোষটা কি গোলাম রাব্বীর পোশাকের ছিল?

২০০৬ সালে সৈয়দপুর দারুল
উলুম মাদ্রাসার
শিক্ষক ও উক্ত মাদ্রাসার
মহাপরিচালক হারুন
রেয়াজীর ভাই মাওলানা ইসমাইল রেয়াজী উক্ত মাদ্রাসার এক ছাত্রকে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত করে।
অাল্লাহর খাস বান্দা ইসমাইল রেয়াজীর চরিত্র ঠিক রাখতে অাল্লাহ ব্যর্থ হলো কেন?
অাল্লাহর খুশি করতে মাদ্রাসায় দেয়া হয়েছিল অাল্লাহর ছোট্ট বান্দাকে। অাল্লাহ কি তার ছোট্ট বান্দার পায়ুপথ রক্ষা করতে পেরেছে?

বরিশাল জেলার নথুল্লাবাদ এলাকার নজরুল একাডেমিক মাদ্রাসার একটি ঘটনা :
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বলেন, টিফিন পিরিয়ডের সময় ষষ্ঠশ্রেণির অংক শিক্ষক মোজাম্মেল হক ও নবম শ্রেণির ইংরেজি শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ছাত্রদের টয়লেটে যান। তাদের দুইজনকে একসঙ্গে টয়লেটে ঢুকতে দেখে মাঠের আরেক প্রান্ত থেকে ধর্ম শিক্ষক খসরুও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ওই সময় এক ছাত্র পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পেয়ে টয়লেটের দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন। এ সময় ওই ছাত্র দেখেন, মাদ্রাসার দুই শিক্ষক মিলে আরেকজন শিক্ষককে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করছে। পুরো ঘটনাটি ওই ছাত্র ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
পরে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তিন শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক।
যে শিক্ষককে অপর দুই মাদ্রাসা শিক্ষক যৌন নিপীড়ন করছিল তার পোশাকের কি দোষ ছিল?
তার পায়ুপথ রক্ষায় কোন ধরনের বোরকা অাল্লাহ সাজেস্ট করেছে?

দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়......
সবাই ভুলে যায়, একদা একটি ছোট্ট শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল!
শিশুটির শৈশব, কৈশোরকে হত্যা করা হয়েছিল!
অাল্লাহর বান্দার পোশাকানুভূতির কারণে শিশুটির শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল!
অাল্লাহর ধর্মের হেফাজতকারীরা সব দোষ চাপিয়ে দেয় পোশাকের ওপরে, কারণ এটাই অাল্লাহর শিক্ষা।
নব্বই পারসেন্টের অনুভূতি রক্ষা করাই অাল্লাহর হেফাজতকারীদের কাজ। শক্তিশালীর পক্ষে দাঁড়ানোই অাল্লাহর হেফাজতকারীদের কাজ।
ক্ষমতাধরের স্বার্থ রক্ষা করাই অাল্লাহর হেফাজতকারীদের কাজ।

পূজা ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় অাল্লাহর মানা অাছে, কারণ সে নব্বই পারসেন্টের বাইরে। রামু, উখিয়া, নাসিরনগর, বাঁশখালী, রংপুর, পালপাড়া, দাসপাড়ায় হামলা করে অাল্লাহর হেফাজতকারীরা; অাল্লাহ এখানে নব্বই পারসেন্টের পক্ষে সরব। অনুভূতি-সংক্রমণ একটু বেশি হয়ে গেলে অাল্লাহ তখন চুপ থাকে, প্রতিবাদ করেনা, কারণ এটা অাল্লাহর নীতিবিরোধী।
কখনো অাল্লাহর দলের লোকদের সমালোচনা করা যাবেনা, সদা সমালোচনা করতে হবে ভিন্নদের, এটাই অাল্লাহর শিক্ষা।
বাংলাদেশে অাল্লাহর সব সুবিধা, সুযোগ, দায়মুক্তি অাল্লাহর বান্দাদের জন্য বরাদ্দকৃত।
অাল্লাহর সব সুবিধা, সুযোগ, দায়মুক্তি অাল্লাহর পুরুষদের জন্য বরাদ্দকৃত।
অাল্লাহর সব সুবিধা, সুযোগ, দায়মুক্তি অাল্লাহর ক্ষমতাবান বান্দাদের জন্য বরাদ্দকৃত।
বাংলাদেশের অাল্লাহ বার্মায় গিয়ে তার বান্দাদেরকে বাঁচাতে পারেনা, অাল্লাহর ক্ষমতা নাফ নদী পার হতে পারেনা!
বাংলাদেশের অাল্লাহ ভারতে গিয়ে তার বান্দাদেরকে গরুবাদীদের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনা, অাল্লাহর ক্ষমতা বেনাপোল পার হতে পারেনা!
বাংলাদেশের অাল্লাহ নব্বই পারসেন্টের উপর ভর করে বেঁচে থাকে, কিন্তু ভারতে ৭৯% হিন্দুর কাছে অাল্লাহ বড্ড অসহায়!

বাংলাদেশের অাল্লাহ নব্বই পারসেন্টের ওপর ভর করে বেঁচে থাকলেও বার্মার ৮৭% এর কাছে বড় অসহায়!

অাল্লাহ নাকি ভারতে, বার্মায়, ইরাকে তার অনুসারী তথা মুসলিমদের ঈমানী পরীক্ষা নেয়। অাল্লাহ শুধু সংখ্যালঘুর (যেখানে মুসলিম সংখ্যালঘু বা দুর্বল থাকে) ঈমানী পরীক্ষা নেয় কেন? সংখ্যাগরিষ্ঠের (মুসলিম অধ্যুষিত দেশে) ঈমানী পরীক্ষা নেয়ার কি দরকার নেই? অাল্লাহ শুধু দুর্বলের ঈমানের পরীক্ষা নেয় কেন? সবলের ঈমানের পরীক্ষার কি প্রয়োজন নেই?
অাল্লাহ শুধু ধর্ষিতার ঈমানের পরীক্ষা নেয় কেন? ধর্ষকের ঈমানের পরীক্ষা কি নিষ্প্রয়োজন?

ঈমানী পরীক্ষা নিয়ে কি অাল্লাহ কোনোদিন সন্তুষ্ট হয়েছে?
কোনোদিন কি কোন ধর্ষিতাকে অাল্লাহ বাঁচিয়েছে?
কোন ধর্ষিতা কি ঈমানী পরীক্ষায় কোনোদিন পাশ করে অাল্লাহর সাহায্য পেয়েছে?
কোন নিপীড়িতকে কি অাল্লাহ কোনোদিন সাহায্য করেছে?
ধর্ষিতা, নিপীড়িত, সংখ্যালঘু, দুর্বল মুসলিম কি শুধু ঈমানের পরীক্ষা দিতেই থাকবে? কোনোদিন কি পরীক্ষায় পাশ করবেনা? কোনোদিন কি অাল্লাহর মন পাবেনা?
অাল্লাহর জন্য এত লড়াই, রক্তপাত করছে অাল্লাহর জিহাদি বান্দারা, তারপরও কেন অাল্লাহর বান্দাদেরকে অাল্লাহ সাহায্য করছে না?
কেন অামেরিকা, রাশিয়া, ইসরাইল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর কাছে অাল্লাহ এত অসহায়?
অাল্লাহ নাকি পরকালে অাজলা ভরে তার বান্দাদেরকে দান করবে, কিন্তু দুনিয়াতে কেন কিছুই দান করেনা? অাল্লাহ তো দুনিয়াতেও সাহায্য এবং বিজয়ের ওয়াদা করেছে তার অনুসারীদের জন্য, কোথায় সে ওয়াদা?
সারা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির সামনে, বিজ্ঞানের সামনে, শক্তির সামনে অাল্লাহ এত অসহায় কেন?
পরকালের মহা ক্ষমতাশীল অাল্লাহ কি ইহকালে একেবারেই পাওয়ারলেস?

ভগবাননামা :
বাড়িতে গরুর মাংস রেখে খেয়েছে, এমন গুজবে ভারতে ৫০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে ভারতে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের দাদরি গ্রামে মোহাম্মদ আখলাক নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে আর পাথর ছুড়ে যখন হত্যা করা হয়েছিল ভগবান তখন নিরব ছিলেন, কারণ ভগবানের লোকেরা কাজটা করেছে!
বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে ভগবান বড় অসহায়, কিন্তু ভারতে বেশ শক্তিশালী। ভারতের ৩৩ কোটি ভগবান সারা ভারত পরিচালনা করে, কিন্তু বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে সে ভয়াবহ রকম অসহায়। ৩৩ কোটি ভগবান মিলে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মুসলিমকে শায়েস্তা করতে পারে না! বাংলাদেশে অানন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে বাঁচাতে ভারতের ভগবান ব্যর্থ হয়েছে। কোটি কোটি হিন্দুকে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়েছে এবং হচ্ছে, কিন্তু ভগবান তাদের রক্ষায় ব্যর্থ!
প্রতিমা ভাঙচুর, পুরোহিত হত্যা, হিন্দুদের বাড়িঘরে অাগুন দেয়া, হিন্দু নারী ধর্ষণ এ সবকিছু ভগবান শুধু অসহায়ের মত দেখে, কিছুই করতে পারেনা। বাংলাদেশের নব্বই পারসেন্ট মুসলিমের ক্ষমতার কাছে অাল্লাহ বড় অসহায়।
শ্রীলংকায় ৭০% বুদ্ধের কাছেও ভগবান অাত্মসমর্পণ করেছে।

ভারতে রামনবমীর অস্ত্র-মিছিলে ভগবান তার ক্ষমতা দেখায়, শিশুদের হাতে অস্ত্র দিয়ে ভগবান তার ক্ষমতা দেখায়। ভগবান ৭৯% হিন্দুর কাঁধে ভর করে ভারতে টিকে অাছে, কিন্তু বাংলাদেশের ৯০% এর কাছে অসম্ভব রকম অসহায়! পাকিস্তানের ৯৭% অাল্লাহর কাছে ভগবান নিতান্তই অসহায়।

বুদ্ধনামা :
বার্মার বৌদ্ধরা যখন রোহিঙ্গা শিশুদেরকে গলাকেটে হত্যা করেছিল, নারীদেরকে ধর্ষণ করে স্তন কেটে অাগুন দিয়ে পোড়াচ্ছিল গৌতম বুদ্ধ তখন নিরব ছিলেন, কারণ খুনি এবং ধর্ষকেরা গৌতমবুদ্ধের লোক!
বাংলাদেশের মহা পাওয়ারফুল অাল্লাহ পারলোনা নাফ নদীর ওপাড় যেতে! তবে অাল্লাহর বান্দারা রোহিঙ্গাদেরকে টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পেরেছে। রোহিঙ্গা নারীদেরকে দিয়ে দেহব্যবসা করাতে পেরেছে। কোরঅানের ভেতর দিয়ে ইয়াবা বহন করাতে পেরেছে।

ঈশ্বরনামা :
সেন্ট্রাল অাফ্রিকান রিপাবলিকে যখন খ্রিস্টানেরা মুসলিমদেরকে পুড়িয়ে মেরেছিল ঈশ্বর তখন নিদ্রামগ্ন ছিল, কারণ তারা ছিল ঈশ্বরের লোক!
মধ্যযুগে যখন চার্চ সমাজের উপর অত্যাচার করতো ঈশ্বর তখন অসহায় ছিল।
বিজ্ঞানীরা ঈশ্বরকে খাঁচায় (চার্চের গন্ডির ভেতরে) ঢুকানোর পর ঈশ্বর ঠান্ডা হয়ে গেল, ভদ্র হয়ে গেল!

মুসলিম এবং হিন্দুরা কবে অাল্লাহ এবং ভগবানকে খাঁচায় পুরবে?

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুফতি মাসুদ
মুফতি মাসুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 5 দিন ago
Joined: সোমবার, আগস্ট 14, 2017 - 6:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর