নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা
  • মারুফুর রহমান খান
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ফিরে দেখা: দ্বিজাতিতত্ত্ব, দাঙ্গা আর দেশভাগ ২:


লাহোর প্রস্তাবে কিন্তু পাকিস্তানের কোনো নাম গন্ধ ছিল না, আর সেই কারণে ব্যাপারটা তুলে ধরতে, ইংরেজদের ইন্ধনে আম্বেদকার তড়িঘড়ি লিখে বসলো 'Thoughts on Pakistan' | অবশ্য এমনি এমনি লেখেন নি, ইংরেজদের বদান্যতায় শ্রমমন্ত্রী হয়েছিলেন বিনিময়ে । 'কুইট ইন্ডিয়া' আন্দোলনে যাতে তফশিলিরা সমর্থন না জানায়, সেজন্য আম্বেদকার তার নবগঠিত ফেডারেশন নিয়ে ব্যাপক বিরুদ্ধ প্রচার চালায় । এদিকে পাক্কা রাজনীতিবীদ জিন্নাহর অঙ্গুলি চালনায় যোগেন মন্ডল ফেডারেশনকে সঙ্গে নিয়ে, ব্রাহ্মণবাদী হিন্দুদের বিপক্ষে ও পাকিস্তানের স্বপক্ষে প্রচারে ময়দানে নামলেন । সিলেট যাতে পাকিস্তানের ভাগে পরে, সেইজন্য যোগেন মন্ডলের সাথে গলা মিলিয়েছিল নীরদ রায়, সন্তোষ মল্লিক, কেশব রায়, খগেন বিশ্বাস সহ বহু ছোটবড় নেতা । ফলস্বরূপ, কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে সিলেট পাকিস্তানের ভাগে যায় । সুভাষচন্দ্র বসুর অনুচর হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা যোগেন মন্ডল প্রবল ব্রিটিশ বিরোধী ছিলেন আর সেটা ধূর্ত রাজনৈতিক জিন্নাহর চোখ এড়িয়ে যায়নি, আর তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় আইনমন্ত্রীর পদ পেতে তাকে খুব একটা বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়নি ! সুরাবর্দি খুব প্রচ্ছন্নভাবে যোগেনবাবুকে এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে নমঃশুদ্র সমাজ বিরোধিতা করলে, পাকিস্তান কায়েম খুব একটা সহজ হবেনা । যোগেন মন্ডল বার্তাটি কানে নিয়েছিলেন আর খুলনা, যশোর, বরিশাল,ফরিদপুর, ঢাকার জনসভায় তাই তার কন্ঠে ঝরে পরলো : ' মুসলমান সমাজ ও তফশিলি সমাজের অর্থ-সামাজিক অবস্থা এক । এই দুইয়ের সাথে হিন্দু সমাজের কোনো মিল নেই । বর্ধিষ্ণু হিন্দুরা তফশিলি ও মুসলমানদের দাবিয়ে রেখেছে আর আজ তাই আজ এই অবস্থা !' এর থেকে মুক্তি একমাত্র যৌথভাবে পাকিস্তানের সমর্থন করা ।'

যোগেন মন্ডল যখন তার এই প্রচারে ব্যস্ত তখন কংগ্রেস 'হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই' হাওয়া তোলার ফিকিরে ব্যস্ত ! গান্ধীজির মুখে তখন:'ঈশ্বর আল্লাহ তেরে নাম, সবকো.....' আর মুসলিম লীগের ন্যাশেনাল গার্ডদের মুখে :'নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবর' ! লোভী আর দুর্বল নেহরুকে সহজেই দেশভাগে রাজি করিয়েছিল মাউন্টবাটেন আর কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিও ফলস্বরূপ মেনে নিল । গান্ধী যথারীতি ন্রিপুন্গ্সকের ভূমিকায় রইলো । 'আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে দেশভাগ হবে'-গান্ধীর ফাঁকা বুলি টিঁকলো না । ১৯৪৭ এর ১৪/১৫ই অগাস্ট মধ্যরাতে মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ হলো, বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নিল 'পাকিস্তান' । সাথে সাথেই ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদের কেন্দ্র আরবের নিয়ন্ত্রনাধীন হয়ে পরলো বিভক্ত ভৌগলিক ভুখন্ড পূর্ব-পাকিস্তানের আপামর বাঙালি , কিন্তু বাঙালি মুসলমান মানসের অগোচরেই রয়ে গেল সত্য, তারা তখন তাদের ধর্মীয় পরিচয়ে পাওয়া ভুখন্ড পেয়ে আনন্দে মাতোয়ারা ! খন্ডিত ভুখন্ডের একাংশ হলো মুসলমানের পাকিস্তান আর বাকি অংশ হলো সেকুলার ইন্ডিয়া, নাকি সেকুলাঙ্গারদের ইন্ডিয়া ? এই সেকুলারিসম কেমন সেকুলারিসিম ? যেখানে ভোটের লোভে মুসলমানের সব আবদার মেনে নিতে হয় আর বাকি ধর্মালম্বী, প্রধানত হিন্দুদের অনেক ন্যাজ্য় দাবী নাকচ হয়ে যায় ? দেশের স্বাধীনতার কান্ডারী নেতাজিকেও অন্তর্ধানে যেতে হয় আর লম্পট নেহেরু, ন্রিপুন্গ্শক গান্ধী পাদপ্রদীপের আলোয় থাকে ? পূর্ব-বঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুরা তখন পাকিস্তানি, ইসলামিক গন্ডিতে আবদ্ধ, ভারত তখন তাদের শত্রু আর আরব দুনিয়া মিত্র !

পূর্ব-পাকিস্তানের অখন্ড ভারতের স্বাধীনতাকামী মানুষ তখন নিজভূমে পরবাসী, রাষ্ট্রদ্রোহী । হিন্দু হয়ে পরলো দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক, বাক স্বাধীনতা খর্ব তো হলোই, সাথে বোনাস জীবন নাশের আশংকা ! 'ডাইরেক্ট একশন ডে' র পরিপ্রেক্ষিতে যোগেন মন্ডল বলেছিলেন: ওটা বর্ধিষ্ণু হিন্দুর উপর আক্রমন, সেই একই কথা কপ্চেচিলেন নোয়াখালীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর কিন্তু খুলনার চিতলমারিতে দাঁড়িয়ে একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে গিয়ে বাধা পেলেন শিক্ষক কিরণ ব্রহ্মের কাছে । কিরণ ব্রহ্ম স্পস্ট বিরোধিতা করে বললেন: ' নোয়াখালীর নমঃশুদ্র গ্রামগুলো সব মুসলমানেরা জ্বালিয়ে দিয়েছে, খুন করেছে শয়ে শয়ে নমঃশুদ্রকে, ধর্ষণ করেছে অগুনতি নমঃশুদ্র মহিলাকে ।' এগুলো কিরণ ব্রহ্ম নিজের চোখেই দেখেছেন ! ভাষণের মঞ্চে দাঁড়িয়েই যোগেন মন্ডল হইচই জুড়ে দিলেন: কিরণ ব্রহ্মরা নাকি দেশলাইয়ের কাঠির মত! বেকার আগুন জ্বালান !! যোগেন মন্ডল পুলিশকে অবিলম্বে কিরণ ব্রহ্মকে গ্রেফতার করার আদেশ দিলেন ! সাধে কি আর তখন 'আনন্দবাজার', ;যুগান্তর' যোগেন মন্ডলকে 'যোগেন আলী মোল্লা' আখ্যা দিয়েছিল ? মন্ত্রীত্ব রাখতে যোগেন মন্ডল কাউকেই রেয়াত করেনি, সে বর্ণ-হিন্দু হোক বা নমঃশুদ্রই হোক । অথচ সময়ের কি পরিহাস ! একদা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যোগেন মন্ডলকে প্রাণ হাতে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে পালিয়ে কলকাতায় চলে আসতে হয়েছিল ! কলকাতায় বসে কি তাহলে বুঝেছিলেন কোরানের সারমর্ম? ইসলামী ভুখন্ডে বিধর্মীর অস্তিত্ব সকল সময়েই সংশয়ে ? পাকিস্তান চলবে কোরান মেনেই ?

যে যোগেন মন্ডল নিজের পাকিস্তানি মন্ত্রীত্ব রাখতে বর্ণ-হিন্দু থেকে নমঃশুদ্র কাউকেই রেয়াত করেন নি, তাকেও পূর্ব-পাকিস্তানে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে কলকাতায় চলে আসতে হলো । পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারী দিয়ে পদত্যাগ করলেন :'হিন্দুরা চিরকাল অত্যাচার সহ্য করবেনা, প্রত্যাঘাত তারা করবেই, এবং চরম প্রত্যাঘাত শুধু সময়ের অপেক্ষা ।' খানিকটা যেন মৃত্যুমুখী খুনির শেষ স্বীকারোক্তি ! দেশভাগের সাথে সাথেই আরবের মত পাকিস্তানের মুসলিম নেত্রীত্ব দেশকে কাফের মুক্ত করার প্রয়াসে নেমে পরলো । মুসলমানের উল্লাস আর অপরদিকে হিন্দুদের মুখে নেমে এলো অন্ধকারের কালো ছায়া । দেশভাগের আগে পূর্ব-পাকিস্তানের নমঃশুদ্র সমাজ প্রকৃত অর্থেই হিন্দুদের পিছিয়ে পরা এক অংশ ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তার থেকেও বড় সত্যি হলো পূর্ব-পাকিস্তানের মুসলমান সমাজ নমঃশুদ্রদের থেকেও পিছিয়ে ছিল । না না পাঠক আঁতকে উঠবেন না ! এটা কোনো সাম্প্রদায়িক মন্তব্য না, নিপাট সত্য, হ্যা মানতে কঠিন হলেও কঠিন সত্য । আপনাদের জ্ঞাতার্থে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরি, তার থেকে নিজেরাই সত্য-সন্ধান করে নেবেন আর তথ্যে ভুল থাকলে অতি অবশ্যই তা সামনে আনবেন । পরিসংখ্যান বলছে:

১.সেই সময়ে পূর্ব-পাকিস্তানে একজন মুসলমান পি এইচ ডি ছিল না, এখানে বলা বাহুল্য যে কলকাতা থেকে ঢাকায় সে সময়ে স্থান পরিবর্তন করে গেছিলেন ডাঃ শহীদুল্লাহ এবং কুদরত-ই-খুদা । অবশ্য খুঁজে পাওয়া যায় নীলিমা ইব্রাহিমকে যিনি জন্ম সুত্রে ছিলেন হিন্দু, অথচ সেই সময়ে পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববঙ্গে নমঃশুদ্র পি এইচ ডি ছিলেন ফরিদপুরের ওরাকান্দী গ্রামের ভগবতী ঠাকুর ।
২.সেই সময়ের পূর্ববঙ্গে কোনো মুসলমান এম আর সি পি বা এফ আর সি এস ডাক্তার ছিলনা, অথচ পূর্ববঙ্গের নমঃশুদ্র সমাজে সেই সময়ের এম আর সি পি ডাক্তার ছিলেন খুলনার জ্ঞান মন্ডল ।
৩.ছিল না কোনো মুসলমান আই সি এস অফিসার । একমাত্র নমিনেটেড এই সি এস ছিলেন নূরনবী চৌধুরী যিনি যুদ্ধের সময় সামরিক অফিসার থাকার দৌলতে নমিনেটেড হয়েছিলেন কিন্তু পুরোদমে এই সি এস অফিসার ছিলেন নমঃশুদ্র খুলনার সুকুমার মল্লিক । ঠিক তেমনি মুসলমান সমাজের কোনো এই এফ এস অফিসার ছিলনা পূর্ববঙ্গে অথচ নমঃশুদ্র আই এফ এস ছিলেন ফরিদপুরের লক্ষীনারায়ন রায় ।
৪.তখনের পূর্ববঙ্গে কোনো মুসলিম ব্যারিস্টার ছিল না, ভাবলে অবাক হতে হয় ! স্বাধীনতা সংগ্রামের কোনো আইনি লড়াইতে তাহলে এদের অবদান কতটুকু ছিল ? অথচ নমঃশুদ্র ব্যারিস্টার ছিলেন ফরিদপুরের পি আর ঠাকুর, খুলনার শশিভূষণ মন্ডল, বরিশালের ভুবন মন্ডল ।

তাহলে কি দাঁড়ালো পাঠক ? দাঁড়ালো এই যে পূর্ববঙ্গের মুসলমান সমাজ সবদিক থেকেই প্রায় পিছিয়ে ছিল, কেবল ঈমানী জোশের জায়গা ছাড়া !

সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববঙ্গে হিন্দু ছিল ৩০% কিন্তু সম্পদের ৮০% ছিল তাদের হাতে, এবং সেটা গা জোয়ারি করে পাওয়া নয় । ডাক্তারি, ওকালতি, শিক্ষকতা এ সকল পেশায় সকলেই প্রায় হিন্দু ছিলেন, এছাড়া ৯ টা কাপড় কল, চারটে দেশলাই ফ্যাক্টরি, ২ টা চিনির কল, ২ টা গ্লাস ফ্যাক্টরি,চা বাগান, চাল ও সর্ষের তেলের মিল অনেকগুলোই সকলি হিন্দুদের ছিল । পাকিস্তান হওয়ার সাথে সাথে হিন্দু কর্মচারিদেরপ্ষণ দেওয়া হলো ভারতে ট্রান্সফার নেওয়ার, আর বর্ধিষ্ণু হিন্দুরা জানমালের হুমকিতে আসতে আসতে ভূমি ত্যাগ শুরু করলো । দেশত্যাগী হিন্দুদের সমূহ সম্পত্তি, বানিজ্য মুসলমানরা দখল করলো । লুঠতরাজ আর সন্ত্রাস বাড়ালো মুসলমানরা, আর সংখ্যায় কম হিন্দুরা প্রতিরোধ না করে দলে দলে দেশত্যাগী হলো । কমতে কমতে হিন্দুরা প্রায় জনসংখ্যার ১৫% হয়ে দাঁড়ালো আর মুসলমানরা সকল কিছুর দখল নিতে শুরু করলো । এতে অবশ্য পূর্ববঙ্গের মুসলমান মানসে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা অনুতাপ হয়নি, কেননা হিন্দুশুন্য দেশই তাদের কাম্য ছিল, যেখানে দখলিকৃত সম্পত্তি জমিজমা আর ব্যবসায়, নিজেদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করা যায় !

১৯৫০ এ পূর্ব-পাকিস্তানের কালশিরাতে ভয়াবহ হিন্দু নিধন হয় । আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারে হাজারে মুসলমান কয়েকডজন পুলিশের সহায়তায় কালশিরার উপর ঝাঁপিয়ে পরে । গ্রাম জুড়ে চলল জ্বালাও পোড়াও, লুটতরাজ, আর অবাধে নারী ধর্ষণ ! এই আক্রমন প্রতিহত করতে গিয়ে মারা গেল অসংখ্য হিন্দু । এরই মাঝে বিখ্যাত ইসলামী তাকিয়ার ছলে গুজব রটানো হলো যে কলকাতায় ফজলুল হককে হত্যা করা হয়েছে । এর জেরে পূর্ব-পাকিস্তানে হিন্দু নিধন আরো জোরদার হলো ! হাজারে হাজারে উদ্বাস্তু শিয়ালদাহ স্টেশনে প্রতিদিন উপচে পরতে লাগলো । বর্ধিষ্ণু, মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত, কোনো হিন্দু বাদ নেই ! হিংসার ব্যাপকতার কথা এদের মুখে শুনে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পরলো । ট্রেন আসছে, আর ট্রেন ভর্তি জবাই করা লাশ প্রচুর পরিমানে আসছে ! লাশগুলো অপেক্ষমান সত্কার সমিতির গাড়িতে তুলে দেওয়া হচ্ছে । কি ভয়ানক নির্মম দিনরাত্রি, ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয় । শিয়ালদাহ স্টেশনে গড়ে উঠলো অনেকগুলো ট্রানসিট ক্যাম্প । পূর্ব-পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু মুসলমানের দৃষ্টিতে যেন প্রতি হিন্দুর জন্য মূর্তিপুজারী, বধযোগ্য ঘৃনা !

এই দাঙ্গা যখন পূর্ব-পাকিস্তানে চলছে, সেই সময় ছিল নেহেরু-লিয়াকতের চুক্তির সময়কাল । যোগেন মন্ডল করাচি থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে কলকাতায় ট্রানজিটের সময়টা কাটাচ্ছেন । কলকাতায় বসেই মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন । এদিকে নিধন যজ্ঞ থিতিয়ে এলেও, শরণার্থীর ঢল থামল না । পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায় বললেন:'মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার যা করার করব এবং দিল্লীকেও বলব ।' অপরদিকে বিরোধী নেতা পূর্ব-পাকিস্তান থেকে খেঁদা খাওয়া জ্যোতি বসু ওরফে জুতো বোস বললেন:'আমাদের হাতে তো ক্ষমতা নেই, যা করার বিধান রায়ের সরকারকেই করতে হবে !' এরই মধ্যে নেতা হেমন্ত বসুর লোকজনেরা একদিন পূর্ব-পাকিস্তানগামী ট্রেন অবরোধ করলো । শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি প্রমথ রঞ্জন ঠাকুরকে শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করে দিলেন যার নাম হলো 'ঠাকুরনগর' । সেই জায়গায় গড়ে উঠলো 'The Exile " নামক ভবন ।

ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের মূল ভিত্তি ছিল দ্বিজাতিতত্ত্ব, অর্থ্যাৎ হিন্দু-মুসলমানের পৃথক বাসস্থান । কিন্তু জিন্নাহ পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বলেছিল যে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের কোনো ভুমিকা থাকবেনা, যা শুনে মোল্লারা ভয়ানক চটেছিল ! কোরান বলেছে মুসলমান প্রধান দেশকে ইসলামী আইন মাফিক চালাতে হবে । জিন্নাহ পটল তুলল ১৯৪৮ সালে ১১ই সেপ্টেম্বর । সঙ্গে সঙ্গে লিয়াকত আলী পাকিস্তানকে ইসলামী শাসনের আওতায় আনতে পায়তাঁড়া শুরু করে দিল ! এক্ষেত্রে হিন্দুদের প্রতিবাদ হাওয়ায় উড়ে গেল । লিয়াকতের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হলো পাঞ্জাবের ঝানু ব্যুরোক্রাট গোলাম মহম্মদ । তার আমলেই শুরু হলো পাকিস্তানের সকল ক্ষমতা পাঞ্জাবিদের হাতে কুক্ষিগত করার প্রক্রিয়া । বাস্তবে আসতে আসতে পাঞ্জাবিদের হাতেই চলে গেল পুরো পাকিস্তানের মূল ক্ষমতা । বাঙালি মুসলমান তখন দুধে চুষে নেওয়া আমের আঁটি !

পাকিস্তানের জন্য বাঙালি হিন্দুর রক্তে হাত রাঙানো সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক বাঙালি মুসলমানকে অবশেষে সায়ত্বশাসনের আন্দোলনে নামতে হয়েছিল । পাঞ্জাবি ফর্সা দীর্ঘদেহী মুসলমানরা তখন কি বলেছিল: 'মিসকিনের বাচ্চারা, দেখ কেমন লাগে !' -----জানতে বড় ইচ্ছে করে !!

(চলবে..............................)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজর্ষি ব্যনার্জী
রাজর্ষি ব্যনার্জী এর ছবি
Online
Last seen: 1 ঘন্টা 57 min ago
Joined: সোমবার, অক্টোবর 17, 2016 - 1:03অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর