নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

এক্সক্লুসিভঃ স্বাধীনতার নির্দেশ দানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সেই নির্দেশের একাধিক ঘোষণাপত্র পাঠকদের একজন জিয়াউর রহমান


লেখকঃ মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী

ফেসবুক লিংকঃ https://www.facebook.com/mushfiqueimtiaz

ভূমিকাঃ

প্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী, সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। আজ এই দিনে আমি প্রকাশ করছি একটি এক্সক্লুসিভ আর্টিকেল যার মাধ্যমে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে মিথ্যাচারে রত ব্যক্তিদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারেন যে বঙ্গবন্ধুরই স্বাধীনতার নির্দেশদানকারী এবং সেই নির্দেশের একাধিক ঘোষণাপত্রের পাঠকদের একজন জিয়াউর রহমান। আজকে সকল মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা পানির মত পরিষ্কার হয়ে যাবে। আসুন শুরু করা যাক।

স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাকি মেজর জিয়া – এই নিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটা অবান্তর তথা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক লেগেই রয়েছে। এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ১৯৯১ সাল থেকে যখন বিএনপি সাহাবুদ্দীন আহমেদ নামক এক ছদ্মবেশী জাদুকরের এক আশ্চর্য তেলেসমাতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ক্ষমতা এমন ভয়ঙ্কর একটা জিনিস যা দিয়ে অসৎ রাজনীতিবিদেরা অবলীলায় দিনকে রাত আর রাতকে দিন তথা মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যায় রূপান্তরিত করার দুঃসাহস করতে পারে। মজার ব্যাপার হল, ইতিহাস বিকৃতির এরকম দুঃসাহস জিয়াউর রহমানও কখনো করেননি, দাবী তো দূরের কথা। কিন্তু ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তার অনুগত চাটুকার রাজনীতিবিদেরা ইতিহাস বিকৃতির এক নির্লজ্জ খেলায় উন্মত্ত হয়ে ওঠেন। পেছন থেকে এই মিথ্যাচারকে হাওয়া দেয় –


ক) ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত না হতে পারার দুঃখে কাতর চীনপন্থী বামপন্থীরা এবং

খ) পাকিস্তানপন্থী হওয়ার কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ছিটকে পড়া নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলাম ইত্যাদি ডানপন্থী দলগুলো।

পচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে রাজনৈতিকভাবে উদ্বাস্তু বহু কীটপতঙ্গকে এদেশের রাজনীতিতে পুনরুজ্জীবিত এবং পুনর্বাসিত করার সুযোগ করে দেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে তথা আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্ষমতার স্বাদ নিতে না পারায় মনের ভেতরে জমে থাকা রাগ ও ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই রাজনীতিবিদগুলো দিনরাত জিয়াউর রহমানের সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের তুলনা করতে থাকেন। তাদের মধ্যে এমন ধারণা জন্ম নেয় যে - আওয়ামী লীগ ও তার প্রধান ব্যক্তিত্বের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করতে না পারলে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে এদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। ফলে তারা জোর জবরদস্তি করে মৌখিকভাবে এবং পাঠ্যপুস্তকে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্যত হন। এই বিক্ষিপ্ত উদ্যোগে কেউ কেউ ২৬শে মার্চ আবার কেউ কেউ ২৭শে মার্চের কথা বলে ব্যাপারটি গুবলেট করে ফেলেন। সচেতন মানসে ধরা পড়ে ২৬ ও ২৭ - এই দুই দিনের স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠের বিভ্রাট তথা তাদের মিথ্যাচার প্রসূত দ্বিচারী অবস্থান।

‘স্বাধীনতার ঘোষক’ টার্মটি লজিক্যালি সকলের জন্য প্রযোজ্য নয় কেননা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কাছে নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারেন, অন্য কেউ পারেন না। যদি উক্ত জনপ্রতিনিধির পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কোনো প্রচার মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পড়ে শোনান, তবে তাকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলা যায় না, তাকে বলা যায় ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পাঠক’। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে – কবিতা রচনা আর কবিতা আবৃত্তির কথা। আবৃত্তিকারের ভালো আবৃত্তির কারণে তাকে কবিতা পাঠের ক্ষেত্রে কিছুটা বাহবা দেওয়া যেতেই পারে কিন্তু কবিতার সার্থকতার মূল কৃতিত্ব একান্তই কবিতার লেখকের অর্থাৎ কবির, আবৃত্তিকারের নয়। একইভাবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পক্ষান্তরে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেওয়া সেই মহান কবির কবিতার কতিপয় আবৃত্তিকারীদের মধ্যে একজন।

ক্ষুদ্র বীজ থেকেই ভবিষ্যতে একদিন ফল হয়, দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় ছোট্ট চারাগাছ একদিন সুবিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির অব্যবহিত পরে শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত বাঙালির স্বাধিকারের দাবিকে যদি ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ’ হিসেবে গণ্য করি তবে ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে সেই বীজটিকে আমরা ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের ফল’ হিসেবে অভিহিত করতে পারি। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপর স্বাধিকারের দাবিকে যদি ‘ছোট্ট চারাগাছ’ হিসেবে গণ্য করি তবে ১৯৭১ সালে সেই চারাগাছটি হয়ে ওঠে ‘সুবিশাল বৃক্ষ’। স্বাধিকারের দাবির চারাগাছটিকে যিনি সুদীর্ঘ ২৩ বছর দেশপ্রেম, বাগ্মিতা, আত্মত্যাগ ও চরম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করার মাধ্যমে সুনিপুণ দক্ষতার সঙ্গে একটু একটু করে ১৯৭১ সালে ‘সুবিশাল বৃক্ষে’ পরিণত করেছেন, তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পক্ষান্তরে, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত জিয়াউর রহমান স্বাধিকার কিংবা স্বাধীনতার পক্ষে বাঙালির অজস্র মিছিল-মিটিং-আন্দোলন-অভ্যুত্থানের ১টিতেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।

স্বাধীনতার পাঠক/ঘোষক নিয়ে যে বিতর্ক বাংলাদেশে প্রচলিত আছে, আজকে যথাযথ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই বিতর্কে কার অবস্থান কোথায় – সেটি ক্লিয়ার করার চেষ্টা করবো। আসুন জিয়াউর রহমানের জীবনী সম্পর্কে তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির সাইট থেকে কিছু জানার চেষ্টা করি।

সূত্রঃ https://www.bnpbd.org/page/details/24

অবাক কাণ্ড ! বিএনপির সাইটে তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কোনই বায়োগ্রাফি বা জীবনী নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন নেই ? ব্যাপারটি অস্বাভাবিক নয় কী?

উত্তরঃ

বিএনপির সাইটের দায়িত্বপ্রাপ্তদের হাইকমান্ড থেকে এমনটাই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেননা, জিয়াউর রহমানের জীবনী পড়লে মানুষের চোখে সুস্পষ্ট হয়ে ধরা পড়বে যে জিয়াউর রহমানের মধ্যে বস্তুত কোন বাঙালিত্ব ছিল না, ছিল পাকিস্তানিত্ব।

আসুন বাংলাদেশ সরকারের সাইট, জিয়া পরিষদের আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক লিখিত জীবনী এবং উইকিপিডিয়া থেকে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কিছু জানার চেষ্টা করি -

সূত্রঃ

১) উইকিপিডিয়া ভিত্তিক জিয়াউর রহমানের জীবনীঃ https://goo.gl/XqVqxU

২) বাংলাদেশের সরকারের 'বঙ্গভবন' সাইটঃ https://goo.gl/N9DjLq

৩) জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক লিখিত জীবনীঃ https://goo.gl/e8eGai

জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মনসুর রহমান এবং মাতার নাম ছিল জাহানারা খাতুন ওরফে রানী। পাঁচ ভাইদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর পিতা কলকাতা শহরে এক সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর শৈশবের কিছুকাল বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা শহরে অতিবাহিত হয়। ভারতবর্ষ বিভাগের পর তাঁর পিতা পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি শহরে চলে যান। তখন জিয়া কলকাতার হেয়ার স্কুল ত্যাগ করেন এবং করাচি একাডেমী স্কুলে ভর্তি হন। ঐ স্কুল থেকে তিনি ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং তারপর ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডি.জে. কলেজে ভর্তি হন। একই বছর তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন।

এই বর্ণনা থেকে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। যেমনঃ

১) জিয়াউর রহমানের বাবা দেশপ্রেমিক বাঙালি ছিলেন না বলেই দেশবিভাগের পরে বাঙালির বাসভূমি পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে উর্দুভাষীদের বাসভূমি করাচী তথা পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন।

২) জিয়াউর রহমানের বাবার কাছে দেশপ্রেম নয় বরং অর্থবিত্তময় স্বাচ্ছন্দ্যকর জীবনযাপন ছিল একমাত্র লক্ষ্য যার কারণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের বগুড়া থেকে ২০০০ মাইল অতিক্রম করে পশ্চিম পাকিস্তানের করাচীতে মাইগ্রেশন করেন।

বায়োগ্রাফি থেকে দেখা যাচ্ছে, জিয়াউর রহমানের জন্মটাই হয়েছিলো শুধু বগুড়ায়, ১০ বছরের কিছুটা সময় কেটেছে কলকাতায় এবং কিছুটা বগুড়ায় কিন্তু কৈশোর ও যৌবনের পুরোটাই কেটেছে পশ্চিম পাকিস্তানে। ফলে এখান থেকে সুস্পষ্ট হয় যে -

১) যেই শিশু মাত্র ১১ বছর বয়সে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসে, সেই শিশুর মধ্যে কখনোই পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা কিংবা মায়ামমত্ব জাগা সম্ভব নয়। কারণ, বয়সটা অপরিণত বয়স, একটি শিশুর বোধশক্তি বা দেশপ্রেম ওই অপরিণত বয়সে তৈরি হয় না।

২) যেই ব্যক্তি তার জীবনের একটি বড় সময় ১৯৭০-১৯৪৭=২৩ বছর অতিবাহিত করেন পশ্চিম পাকিস্তানে, সেই ব্যক্তির হৃদয়ে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙালি নিয়ে গভীর আবেগ ও মায়া মমতা কখনোই জন্মানো সম্ভব নয়।

৩) পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের সাথে যেই ব্যক্তি কখনো ওঠাবসা করেননি বা মেশেননি সেই ব্যক্তি পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের মনের কথা যে বুঝবেন বা তাদের অন্তরের দাবির প্রতি যে তার শ্রদ্ধা জন্মাবে না – এটিই স্বাভাবিক।

৪) যেই ব্যক্তির শিক্ষাজীবন কেটেছে পশ্চিম পাকিস্তানে যেখানে তার শিক্ষকেরা ছিলেন অবাঙ্গালি উর্দুভাষী এবং পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদে দীক্ষিত, সেখানে তার হৃদয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি মায়া মমতা বা দরদের সৃষ্টি হওয়া মোটেও সম্ভব নয়।

৫) যেই ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষে জীবনে ১টি বারও রাজপথের কোন আন্দোলনে যোগদান করেননি বা নির্যাতন সহ্য করেননি, সেই ব্যক্তি কখনোই স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার জন্য যথাযথ বা যোগ্য ব্যক্তি নন।

৬) যেই ব্যক্তি চিরকাল পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন মিলিটারি ব্যারাকে পশ্চিম পাকিস্তানী পাঞ্জাবী-পাঠান-কাশ্মিরী সেনা-বন্ধুদের সাথে কাটিয়েছেন, সেই ব্যক্তির হৃদয়ে কখনোই তার কাছে সম্পূর্ণরূপে অপরিচিত পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের প্রতি বন্ধুত্ব ও ভাতৃত্বপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়।

বায়োগ্রাফি থেকে পাওয়া যায় –

১৯৫৩ সালে তিনি কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। সামরিক বাহিনীতে তিনি একজন সুদক্ষ প্যারাট্রুপার ও কমান্ডো হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন এবং স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। করাচীতে দুই বছর চাকুরি করার পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন।

সেক্ষেত্রে, ১৯৫৭ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ১ বছর বা তার কিছু বেশি সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তানে ছিলেন। এরপর আবার চলে যান পশ্চিম পাকিস্তানে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে।

তাই প্রশ্ন দাঁড়ায় -

৭) পূর্ব পাকিস্তানের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কাজ করার মাত্র ১ বছরের মাথায় আবার কেন তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গেলেন? উত্তরঃ খুব সম্ভবত, পূর্ব পাকিস্তানে বন্ধুবান্ধবহীন অপরিচিত পরিবেশে কাজকর্ম করা তার ভাল লাগছিল না।

৮) যে কোনো দেশের গোয়েন্দা বিভাগে তারাই দায়িত্ব পান যারা উক্ত দেশ বা সরকারের প্রতি সর্বোচ্চ মাত্রার অনুগত থাকেন। সেক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান বাঙালি হওয়ার পরেও বাঙালির বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট পশ্চিম পাকিস্তানী সরকারের গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্ব পেলেন – এ থেকে বোঝা যায়, তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি চরমভাবে অনুগত ছিলেন এবং বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পেছনে তার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

বায়োগ্রাফি থেকে পাওয়া যায় –

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। যুদ্ধে দুর্ধর্ষ সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যেসব কোম্পানি সর্বাধিক বীরত্বসূচক পুরস্কার লাভ করে, জিয়াউর রহমানের কোম্পানি ছিল এদের অন্যতম। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে।

৯) ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে অসীম বীরত্ব দেখানোর জন্য পাকিস্তানের ২য় সর্বোচ্চ খেতাবে ভূষিত হওয়া থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে জিয়াউর রহমানের পাকিস্তানের প্রতি ভালোবাসা বা আনুগত্য ছিলো অকৃত্রিম।

বায়োগ্রাফি থেকে পাওয়া যায় –

১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পেশাদার ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন। সে বছরই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়ে জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। এডভান্সড মিলিটারি এন্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান এবং কয়েক মাস বৃটিশ আর্মির সাথেও কাজ করেন । ১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন।

১০) যেসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধিকারের জন্য পাগল বাঙালির প্রাণের দাবি – ‘৬ দফা’ উত্থাপন করেন, সে সময়ে জিয়াউর রহমানের পশ্চিম পাকিস্তানে থাকা বা ৬ দফা আন্দোলনের সাথে কোনরূপ সম্পর্ক না থাকা থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার নিয়ে তার ন্যূনতম মাথাব্যথা ছিলো না বরং তিনি ছিলেন পাকিস্তানের অখণ্ডতায় বিশ্বাসী এবং অনুগত অফিসার হিসেবে চাকুরি বজায় রেখে যাওয়াই ছিলো তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান।

১১) ১৯৬৯ সালে যেখানে বাঙালিরা তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান শুরু করে, সেখানে জিয়াউর রহমান আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য নীরবে পশ্চিম জার্মানিতে চলে যান - এ থেকে প্রমাণিত হয় যে জিয়াউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তি এবং পাকিস্তানের প্রতি চরম আনুগত্যশীল।

এবার আসা যাক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ মোতাবেক লিখিত - স্বাধীনতার পক্ষে বেতারে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা প্রসঙ্গে। এই ইশতেহারে জিয়াউর রহমান বেতারে বলেন –

The Government of Sovereign State of Bangladesh on behalf of our great national leader, the Supreme Commander of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman, we hereby proclaim the Independence of Bangladesh.

সকলে ইউটিউব লিংকটি থেকে জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পঠনটি শুনুন এবং লক্ষ্য করুন –

সূত্রঃ https://www.youtube.com/watch?v=jW8swcw2Wr8

১) We hereby proclaim the Independence of Bangladesh – জিয়াউর রহমান We শব্দটি উচ্চারণ করেছেন, I - শব্দটি উচ্চারণ করেননি। We বহুবচনবোধক শব্দ, এটি একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ করে না। ফলে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ইশতেহার পাঠের মাধ্যমে নিজেই ক্লিয়ার করে দিয়ে গেছেন – উনি নিজে স্বাধীনতার ঘোষণা করছেন না।

২) On behalf of our great national leader, the Supreme Commander of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman – থেকে সুস্পষ্ট যে সুপ্রিম কমান্ডারের পক্ষে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হচ্ছে। ইশতেহার দেওয়ার অধিকার সুপ্রিম কমান্ডারেরই, যার তার নয়।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী ১ম ব্যক্তি নন, কেননা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জনাব হান্নান তার আগেই স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। এছাড়া জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে নিজের ইচ্ছায় সেধে এই ঘোষণা পাঠ করতে যাননি বরং তাকে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা বেলাল মোহাম্মদ এটি পাঠের জন্য ডেকে আনেন।

২০১০ সালে প্রথমা প্রকাশিত গবেষক গোলাম মুরশিদের‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ নামক গ্রন্থের পৃষ্ঠা নং ৬৭ থেকে জানা যায় –

“বস্তুত, ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি তিনি (বঙ্গবন্ধু) তাজউদ্দীন ও কামাল হোসেনকে দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার একটি খসড়া লিখিয়ে নেন।”

একই বইয়ের পৃষ্ঠা নং ৯২ থেকে জানা যায় –

“তিনিই ছিলেন সামরিক বাহিনীর সেই লোক যিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ঘোষণা ‘পাঠ’ করেছিলেন”

সিদ্ধান্তঃ

অতএব, সামগ্রিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি সুস্পষ্ট যে,

১) সংবাদ পাঠ যে কেউই করতে পারে, যেমন – একজন সংবাদ পাঠক রোজ বিভিন্ন খবর টেলিভিশন চ্যানেলে পাঠ করেন। খবরগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংবাদ পাঠক কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ নন কেননা এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের সাথে তার সক্রিয় কোন সম্পর্ক নেই। উদাহরণস্বরূপঃ নেপালে ইউএস বাংলার প্লেন ক্র্যাশ আমরা জেনেছি কোন টিভি চ্যানেলের সংবাদ পাঠক কিংবা অনলাইন সাইটের রিপোর্টারের মাধ্যমে। আমরা কী সেই সংবাদ পাঠক কিংবা রিপোর্টারের নাম মনে রেখেছি? – রাখিনি। কেউই রাখেনি। কেননা, তিনি শুধুই পাঠক, তিনি উক্ত ঘটনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পর্কিত নন। একইভাবে, বছরের পর বছর বাংলার স্বাধিকারের আন্দোলন করে আসা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা জিয়াউর রহমানকে দিয়ে পাঠ করানো হয়। এখানে জিয়াউর রহমানের অবস্থান ওই টিভি চ্যানেলের সংবাদ পাঠকের মতই। ঘোষণাকারীই নায়ক, ঘোষণা করার সংবাদ পাঠক নয়।

২) একজন সংবাদপাঠকের জায়গায় আরেকজন সংবাদপাঠককে এই দায়িত্ব দেওয়া হলে ২য় সংবাদপাঠকও সংবাদটি একইভাবে পাঠ করতে পারবেন, কোনই ভুল হবে না তাতে। অর্থাৎ, একজন সংবাদপাঠক কোনো আলাদা তাৎপর্য বা বিশেষ গুরুত্ব বহন করেন না।

এবার আসা যাক বিএনপির অফিশিয়াল সাইট অনুযায়ী জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার বক্তব্যে। এখানে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী জিয়াউর রহমান সবার প্রথমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এভাবে –


Dear fellow freedom fighters, I Major Ziaur Rahman Provisional President and Commander in Chief of Liberation Army do hereby proclaim independence of Bangladesh and appeal for joining our liberation struggle. Bangladesh is Independence. We have waged war for the liberation of Bangladesh. Everybody is requests to participate in the liberation war with whatever we have. We will have to fight and liberate the country from the occupation of Pakistani Army. Inshallah, victory is ours.

প্রিয় সহযোদ্ধারা, আমি মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও লিবারেশন আর্মির প্রধান হিশাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি। বাংলাদেশ স্বাধীন। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। আপনারা যে যা পারেন, সামর্থ্য অনুযায়ী অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। আমাদেরকে যুদ্ধ করতে হবে এবং পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীকে দেশ ছাড়া করতে হবে। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

সূত্রঃ https://www.bnpbd.org/page/details/66

মজার ব্যাপার হলো এখানে ২টি বাক্য ব্যাকরণগতভাবে ভুল –

ক) Bangladesh is Independence (সঠিক Independent)

খ) Everybody is requests to participate in the liberation war (সঠিক Requested)

বিএনপির অফিশিয়াল সাইটে এরকম ভুলভাল ইংরেজিতে লেখা মনগড়া ঘোষণা তাদের রাজনৈতিক দৈন্য ও মিথ্যাচারিতার মুখোশকে সকলের সামনে উন্মোচিত করে দেয়।

আবার, যেই ব্যক্তির ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধিকার সংগ্রামে বিন্দুমাত্র ভূমিকা নেই, সেই ব্যক্তি কিভাবে সামান্য মেজর হয়ে নিজেকে লিবারেশন আর্মির প্রধান হিশেবে ঘোষণা দিতে পারেন ? শুধু তাই নয়, পাকিস্তান সরকারের বেতনভোগী অনুগত এক সামরিক সদস্য হয়ে তিনি কিভাবে নিজেকে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিশেবেও ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে ঘোষণা দিতে পারেন?

জবাবঃ

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা মেজরিটি সমর্থনপুষ্ট নেতা ব্যতীত যে কেউই চাইলেই ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দিতে পারেন না বা দিলেও সেটা কোন গ্রহণযোগ্যতা পায় না। ধরুন, একটি রাজনৈতিক সভা চলছে। সেই জনসভায় জনগণের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত কেউ যদি মাইক নিয়ে হুট করে বলে বসেন যে “আমি বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি” – তাহলে উক্ত ব্যক্তির কোন ‘যোগ্যতা’ বা ‘অবদানের’ ভিত্তিতে জনগণ তাকে রাষ্ট্রপতি বা স্বাধীনতা ঘোষক হিশেবে স্বীকার করে নেবে ? – কেউই করবে না বরং উক্ত ব্যক্তিকে সকলে পাগল বলে মনে করবে। জিয়াউর রহমান ছিলেন মনেপ্রাণে চরম উচ্চাভিলাষী একজন ব্যক্তি যার কারণে তিনি নিজেকে একাধারে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও লিবারেশন আর্মির প্রধান হিশেবে সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন।

উপসংহারঃ

স্বাধীনতাকামী জনতার সুপ্রিম কমান্ডার বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান বাহিনী গ্রেফতার করার কারণে সেই মুহূর্তে তার প্রচারমাধ্যমে এসে নিজের কণ্ঠে ঘোষণা দেওয়ার কোন উপায় ছিল না। তাই স্বাধীনতার ঘোষক’ টার্মটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রযোজ্য নয়। তাই একদম সঠিকভাবে বলতে গেলে এভাবে বলতে হবে -

বাংলাদেশের স্বাধীনতার নির্দেশ দানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠকারীদের একজন জিয়াউর রহমান।

উল্লেখ্য, এখানে শুধুমাত্র 'স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষক/পাঠক' হিশেবে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের পারস্পরিক অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। অন্যদের কথা এই পোস্টে আলোচিত হয়নি। ৭ই মার্চের বিষয়টি ইচ্ছে করেই এখানে আনা হয়নি ইস্যুটির স্পেসিফিসিটি বা সুনির্দিষ্টতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য।

স্বাধীনতার ঘোষণা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ডকুমেন্ট দেখার জন্য নিম্নোক্ত ব্লগটি দেখতে পারেন।

সূত্রঃ https://www.amarblog.com/jatri/posts/145431

লেখাটি ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক দিন, বুকমার্ক করে রাখুন এবং শেয়ার করুন। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত একান্ত কাম্য। সকলকে ধন্যবাদ।

Comments

কাজি মাহীন এর ছবি
 

ইস্টিশনে স্বাগতম। ভাল লাগলো আপনার প্রথম পোস্ট। নিয়মিত থাকবেন

alomgir kobir kumkum

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুশফিক ইমতিয়াজ
মুশফিক ইমতিয়াজ এর ছবি
Offline
Last seen: 22 ঘন্টা 53 min ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 10:06পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর