নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

কুরআন অনলি রেফারেন্স: (২০) মুহাম্মদ এর আল্লাহর বৈশিষ্ট্য - দুই


স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) তার জবানবন্দি কুরআনে বার বার ঘোষণা করেছেন যে তার আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে অনুগ্রহ করেন, যাকে ইচ্ছা তাকে করেন অনুগ্রহ-বঞ্চিত ও অভিশপ্ত! তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে বিশ্বাসী বানান, যাকে ইচ্ছা তাকে বানান অবিশ্বাসী। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে চালান সরল পথে, যাকে ইচ্ছা তাকে চালান বিপথে; যাকে ইচ্ছা তাকে করেন ক্ষমা, যাকে ইচ্ছা তাকে দেন শাস্তি! তিনি আরও দাবী করেছেন যে তার আল্লাহ ইচ্ছা করলেই সবাইকে বিশ্বাসী বানাতে পারতেন, কিন্তু সে ইচ্ছা তিনি করেন না। আর কী কারণে আল্লাহর সেই অনিচ্ছা, তাও মুহাম্মদের জবানবন্দিতে সুস্পষ্ট (৩২:১৩)।

মুহাম্মদের ভাষায়: [1] [2]

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সরল পথে চালান:

২:১৪২ (সূরা আল বাক্বারাহ) - "এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুন: পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্রই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।"

৪:৪৯ (সূরা আন নিসা) - "তুমি কি তাদেকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র বলে থাকে অথচ পবিত্র করেন আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা তাকেই? বস্তুত: তাদের উপর সুতা পরিমাণ অন্যায়ও হবে না।"

২২:১৬ সূরা হাজ্জ্ব) - "এমনিভাবে আমি সুস্পষ্ট আয়াত রূপে কোরআন নাযিল করেছি এবং আল্লাহই যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করেন।"

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে পথভ্রষ্ট করেন:

৬:৩৯ (সূরা আল আন-আম) - "যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে, তারা অন্ধকারের মধ্যে মূক ও বধির। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।"

১৪:৪ (সূরা ইব্রাহীম) - "আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন।"

৩৫:৮ (সূরা ফাতির) - "যাকে মন্দকর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়, সে তাকে উত্তম মনে করে, সে কি সমান যে মন্দকে মন্দ মনে করে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। ---"

অনুরূপ বাণী: ২:১০৫, ২: ২১৩, ২:২৭২, ৬:৮৮, ৬:১২৫, ৭:১৭৮, ১০:১০০, ১৬:৯৩, ১৭:৯৭, ১৮:১৭, ২৮:৫৬, ৩৯:২৩, ৩৯:৩৬-৩৭, ইত্যাদি।

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করেন ও শাস্তি দেন:

৫:৪০ (সূরা আল মায়েদাহ) - "তুমি কি জান না যে আল্লাহর নিমিত্তেই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ্ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।"

১৭:৫৪ (সূরা বনী ইসরাঈল) - "তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান, তোমাদের প্রতি রহমত করবেন কিংবা যদি চান, তোমাদের আযাব দিবেন। আমি আপনাকে ওদের সবার তত্ত্বাবধায়ক রূপে প্রেরণ করিনি।"

২৯:২১ (সূরা আশ-শো’আরা) - "তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা রহমত করেন। তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।"

অনুরূপ বাণী: ২:২৮৪, ৩:১২৮-১২৯, ৫:১৮, ইত্যাদি।

আল্লাহর "ইচ্ছা নয়" যে সবাই সুপথ প্রাপ্ত হোক:

৬:১০৭ (সূরা আল আন-আম) - "যদি আল্লাহ্ চাইতেন তবে তারা শেরক করত না। আমি আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং আপনি তাদের কার্যনির্বাহী নন।"

৬:১১২ - "এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না।"

১০:৯৯ (সূরা ইউনুস) - "আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?"

৭৪:৫৫-৫৬ (সূরা আল মুদ্দাসসির) - "অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক। তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি আল্লাহ চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।"

৩২:১৩ (সূরা সেজদাহ) - "আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।"

অনুরূপ বানী: ৬:৩৫, ৬:১৩৭, ১৬:৯ ইত্যাদি।

>>> কুরআনের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো, মুহাম্মদ দাবী করেছেন যে তার আল্লাহ শুধু যে যাকে ইচ্ছা তাকে বিপথগামী করেন তাইই নয়, তিনি এই বিপথগামী ও পথভ্রষ্টদের শাস্তিও দেন! আর তার আল্লাহর ইচ্ছা নয় যে সবাই সুপথ প্রাপ্ত হোক! কারণ, "কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব (৩২:১৩)।"

"অর্থাৎ, মুহাম্মদ তার উদ্দেশ্য সাধনের বাহন হিসাবে যে আল্লাহ-কে সৃষ্টি করেছেন, সেই আল্লাহ এক নীতিহীন, কুচক্রী, স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচারী শাসকের আদর্শ চরিত্র!

কুরআনের সমস্ত আয়াত দুই ভাগে বিভক্ত: মক্কায় অবতীর্ণ ও মদীনায় অবতীর্ণ। মক্কায় অবতীর্ণ সুরা ও আয়াতের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, "যাবতীয় কসম ও শপথ, পুরাকালের নবীদের গল্প-গাঁথা ও মোজেজার বর্ণনা, দোযখের বীভৎস বর্ণনার মাধ্যমে পরোক্ষ হুমকি ও ভীতি-প্রদর্শন, মাঝে মধ্যে সহনশীলতার উপদেশ ও আধ্যাত্মিক কথাবার্তা", তা সে কুরআনের যে অংশেই থাকুক না কেন। এ বাণীগুলো মুহাম্মদ প্রচার করেছেন মক্কায় (৬১০-৬২২ সাল), যখন তার বাহুবল ও জনবলের কোনটাই ছিল না তার নিজেরই আত্মীয়, পরিবার, পরিজন ও মক্কাবাসীদের সাথে যুদ্ধ করার।

আর মদিনায় অবতীর্ণ সুরা ও আয়াতের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, "অমুসলিমদের প্রতি কঠিন থেকে কঠিনতর আদেশ ও নির্দেশ, প্রত্যক্ষ হুমকি ও হত্যার নির্দেশ, অমুসলিমদের সাথে সম্পর্ক ছেদের নির্দেশ, আইন ও বাধ্যবাধকতা", তা সে কুরআনের যে অংশেই থাকুক না কেন। এ আয়াতগুলো মুহাম্মদের শক্তি-বৃদ্ধি মাপকাঠির ধারাবাহিক বর্ণনা। মুহাম্মদের সর্বশেষ নির্দেশ-যুক্ত সুরা হলো সুরা তওবাহ (কুরআনের ৯ নম্বর সুরা)।

যদি দুই বা ততোধিক আয়াত পরস্পরবিরোধী হয়, তবে যে আয়াতটি "পরে" নাজিল হয়েছে সেটাকেই বলবত ধরতে হবে। যার সরল অর্থ হল, সেরূপ ক্ষেত্রে মদীনার আয়াত (পরে নাজিলকৃত) মক্কার আয়াতগুলোকে (পূর্বে নাজিল-কৃত) বাতিল করে। তাই বিপরীতধর্মী কোনো বিশেষ আয়াতের কোনটি গ্রহণযোগ্য, তা জানতে সেই আয়াতের জন্মস্থান জানা অত্যন্ত জরুরী। তা না জানলে সুবিধাবাদী ইসলামিষ্ট ও তথাকথিত মোডারেট পণ্ডিতদের 'সুবিধাজনক’ যখন যেখানে যেমন দরকার তখন সেখানে তেমন বাছাই ও পছন্দকৃত (pick and choose) কুরান-উদ্ধৃতিতে বিভ্রান্ত হওয়া প্রায় সুনিশ্চিত।

“আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি” (৬:১০৭); -- তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য (১০:৯৯); -- যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক (৭৪:৫৫)”, ইত্যাদি আপাত সহনশীল বাণীগুলো মক্কায় “দুর্বল” মুহাম্মদের; যখন মুহাম্মদের কোনো শক্তিই ছিল না প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার।

মদিনায় “শক্তিমান” মুহাম্মদের আদেশ ও নির্দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। অবিশ্বাসীদের ওপর মুহাম্মদ তার সৃষ্ট আল্লাহর গজব দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার বানী, শিক্ষা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে!

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর