নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

ধর্ষণ ও পোশাক বিতর্ক



যা লিখতে যাচ্ছি তার জন্য অনেক গালমন্দ শুনতে হবে হয়তো। তবুও লিখছি।পূর্বকথনে এটাও বলে রাখছি যে এই লেখা কোন মহান আদর্শবাদী লেখা নয়।এটা বর্তমানের স্যোসাল ফিনোমেনার একটা নির্দিষ্ট বিষয়কে বস্তুবাদী দৃষ্টি দিয়ে দেখা ও অল্পবিস্তর বিশ্লেষণের প্রয়াস।

"ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী"এই কথাটা যেমন সত্য নয়, তেমনি "ধর্ষণের জন্য পোষাক দায়ী নয়"এই কথাটাও মিথ্যা নয়।তবুও যেহেতু বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ধর্ষণের ডিসকোর্সে পোশাকের বিষয়টা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে,তাই আসুন বিষয়টা একটু ভেবে দেখা যাক।

ইউরোপে ছোট পোশাক পরিহিতা নারীরা ধর্ষিত হয়না কারণ ইউরোপের বাস্তবতা বা সংস্কৃতি বা কনটেক্সট আলাদা।তাদের ব্যক্তিমানুষের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার ধারণা, তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থা আমাদের চেয়ে ভিন্নতর এবং উন্নততর।আমি আমাদের সমাজে বিরাজমান বাস্তবতার কনটেক্সটে বিষয়টা আলোচনা করবো। দুনিয়াতে সেক্স, সেক্সুয়ালিটি, সেক্স অবজেক্ট ইত্যাকার বিষয়গুলোর এখনো যেহেতু অস্তিত্ব আছে, এবং আমরা যেহেতু এখন ভিক্টোরিয়ান মোরালিটির যুগে বাস করছি না তাই একটু সাহস করেই বিষয়গুলোর খোলামেলা আলোচনা করাই বাঞ্চনীয়।

বহু ধর্ষক এবং ধর্ষোন্মুখ পুরুষ বলছে যে নারীদের ছোট পোষাক তাদের যৌনতাড়নাকে উদ্দীপিত করেছে এবং তারই ফলে তারা ধর্ষণ করেছে বা করতে উদ্যত হয়েছে।অর্থাৎ ধর্ষণের সাথে পোশাকের কোথাও একটা সম্পর্ক আছে এরকম একটা মত তারা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।উল্টো দিকে আমরা অনেকেই বলছি যে "বোরকা বা হিজাব পরিহিতা নারীও ধর্ষিত হয়"।এটা বলে আমরা প্রমাণ করতে চাচ্ছি যে ধর্ষক আসলে পোশাকনিরপেক্ষ অর্থাৎ নারীর শরীরে পোশাক যত বেশী বা কম যাই থাক, ধর্ষক তার কাজ করবেই।কিন্তুু যেখানে স্বয়ং ধর্ষকসহ বহুমানুষেই (নারী পুরুষ উভয়ই) বলছে নারী শরীরে পোশাকের সল্পতাই তাদের ধর্ষণেচ্ছা জাগাচ্ছে,তখন পোশাকের সাথে ধর্ষণের তথাকথিত সম্পর্কের বিষয়টা আরেকটু ভেবে দেখতে দোষ কী?

জঙ্গিরা যখন বলে যে অমুক সুরা পড়ে বা তমুকের বক্তৃতা শুনে উদ্দীপ্ত হয়ে সে জিহাদ করতে নেমেছে, আমরা কিন্তুু তখন সেই জঙ্গির কথা বিশ্বাস করি। তাহলে কোন ধর্ষক যখন বলে যে নারীর সল্প পোশাক তার মধ্যে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করায় সে ধর্ষণ করেছে, এই কথা আমরা কেন বিশ্বাস করবো না?একজন তো নয়, বহু মানুষেই বলছে এই কথা। এমনকী নারীরাও ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী মনে করছে। বহুমানুষে বললেই কোন কথা সত্য হয়ে যায় না। কিন্তুু যখন একই কথা বহুলোকে বলে তখন সেটাকে হেঁসে খেলে উড়িয়েও দেওয়া যায় না।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে যে পোশাক ধর্ষকামী পুরুষের উত্তেজনা সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। হিজাব বা বোরকা পরিহিতা নারীও ধর্ষিতা হয়। এতে কিন্তুু প্রমাণ হয়না যে কোন পার্টিকুলার ধর্ষণের ঘটনাতে পোশাক কোন ভূমিকা রাখতে পারেনা।আমি বলতে চাচ্ছি কোন কোন ধর্ষণের ঘটনায় পোশাকের ব্যাপারটা জড়িত অর্থাৎ ধর্ষণের সাথে পোশাকের একটা ক্ষীণ সম্পর্ক থাকতে পারে।তবে সেই সম্পর্কটা নিশ্চিতভাবেই কজেশন নয়,হতে পারে কোরিলেশন।এটা কারো কারো ক্ষেত্রে। অন্য অনেকের ক্ষেত্রে পোশাক একটা অযুহাত। নিজের অপরাধকে ছোট করে দেখানোর পায়তারা।

এই যে পোশাকের সাথে ধর্ষণের একটা ক্ষীণ সম্পর্ক, সেই সম্পর্কটা আসলে কি রকম?সম্পর্কটা এরকম হতে পারে : নারীর পোশাক (পোশাক যত কম, শরীর তত বেশী অনাবৃত।এই অনাবৃত শরীরকেই আসলে ধর্ষকেরা দায়ী করতে চায়। মুখে বলে পোশাক।) ধর্ষকামী পুরুষের যৌন উদ্দীপনাকে বাড়িয়ে তুলছে এবং সেই ধর্ষকামী পুরুষ তার যৌন তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণ না করে ধর্ষণের মাধ্যমে যৌন আকাঙ্ক্ষাকে পরিতৃপ্ত করতে চাচ্ছে।অর্থাৎ নারীর পোশাকের সাথে সরাসরি ধর্ষণের নয়,পুরুষের যৌনতাড়নার সম্পর্ক আছে।

এখন নারীর সল্প পোশাক যদি নারীকে যৌন আবেদনময়ী করে তোলে,এবং কোন পুরুষ যদি সেই নারীতে আকৃষ্ট হয়,তাতে নারী বা পুরুষ কারোরই কোন দোষ দেখিনা আমি।এটা নিতান্তই মানবীয় ব্যাপার। নারীর সৌন্দর্য বা তার যৌন আবেদন পুরুষকে উদ্দীপ্ত করে একথা অস্বীকার করার উপায় আছে?না হলে এতো রং ফর্সা করা ক্রীম, এতো সুন্দরী প্রতিযোগিতা,হলিউড বলিউডের শরীরসর্বস্ব নায়িকা আর মুভি, জিরো ফিগারের চাহিদা, ট্যাবলয়েড পত্রিকা, ফ্যাশন ম্যাগাজিন,এমনকি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি টিকে আছে কিসের জোরে?নারীর পোশাকও তার যৌন আবেদন বাড়ানোর ওয়ান অব দ্যা টুলস মাত্র। আচ্ছা, আমরা কী বিশ্ববিদ্যালয়ে, শপিংমলে বা রাস্তার দোকানে যখন দাড়িয়ে থাকি তখন কী দেখিনি যে কোন কোন ছেলে কোন কোন নারীর দিকে খুব কামার্তভাবে তাকিয়ে থাকছে এবং অশ্লীল মন্তব্য করছে।এখানে ওই ছেলেগুলো তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির দারিদ্র্যের কারণেই এমনটা করছে।অবদমিত ও অপরিশোধিত কামনা বাসনার স্ফূরণেই তারা এমনটা করে থাকে।এই বিশেষ ঘটনায় ছেলেগুলোই এ্যক্টিভ এজেন্ট।প্যাসিভ এজেন্ট নারীর পোশাক।এখন প্রশ্ন হচ্ছে নারীর তার যৌন আবেদনময়ী শরীর বা সল্প বসনা হয়ে বাইরে বের হওয়ার স্বাধীনতা আছে কিনা? অবশ্যই আছে। এইটাতো মানুষ হিসেবে আমার বা যেকোন মানুষের যেসকল অবিচ্ছেদ্য অধিকার (জন লকের ভাষায় inalienable rights অর্থাৎ Iife, liberty ও property) রয়েছে যা আমাদের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত তার মধ্যেই পড়ে।পুরুষের কামউত্তেজনা বাড়বে বলে নারীদেরকে তো আমরা একগাদা পোশাক পরতে বাধ্য করতে পারিনা।নারীর স্বাধীনতা নারী কিভাবে উপভোগ করবে সেই সিদ্ধান্ত নারীই নেবে।

তাহলে সমস্যাটা কোথায়?সমস্যা হচ্ছে অনেকেই হয়তো সল্প বসনা নারী দেখে কামনায় উদ্দীপ্ত হয়।কিন্তুু তারা কিছু বিষয় মেনে চলে।আর কেউ কেউ এতটা উদ্দীপ্ত হয় যে সে কিছুই মেনে চলতে পারেনা।সে মানতে পারেনা ওই নারীর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব,নারীর রুচি, নারীর স্বাধীনতা,আইন বা নৈতিকতা।সে তখন ধর্ষোন্মুখ হয়।অর্থাৎ নারীর পোশাকের সল্পতা ওই ধর্ষক পুরুষকে উত্তেজিত করে। উত্তেজিত আসলে অনেককেই করে। কিন্তুু সবাই ধর্ষণ করেনা। তারাই ধর্ষণ করে যাদের ভেতর আরো কিছু বিষয়ের উপস্থিতি আছে।সেটা হতে পারে তার মানসিক গঠনের ত্রুটি, তার টাকা বা পেশী শক্তি বা রাজনৈতিক ক্ষমতার জোর ইত্যাদি।যে লোকগুলোর একইসাথে যৌন উত্তেজনা, উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে অনীহা এবং অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ক্ষমতা বা মানসিক ত্রুটি থাকে তারাই সাধারণত ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়।অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে পোশাকের সাথে ধর্ষণের সম্পর্কটা প্রত্যক্ষ নয়।প্রত্যক্ষ দায়টা হচ্ছে ধর্ষকের অনিয়ন্ত্রিত যৌন তাড়না বা যৌন তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার অক্ষমতা বা অনিচ্ছা, পোশাকের নয় কিছুতেই ।অথচ মানুষ হিসেবে সকল উত্তেজনায় সাড়া দেওয়া আমাদের কাজ নয়।নারীর পোশাক এবং ধর্ষণের মধ্যে দাড়িয়ে আছে একজন মানুষ।সেই মানুষের কাছে যদি সভ্যতার দাম না থাকে, সংস্কৃতির মূল্য না থাকে, অন্যের স্বাধীনতার স্বীকৃতি না থাকে,আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকে তাহলেই কেবল ধর্ষণ সম্ভব।আমরাতো প্রতিদিন কত কিছুতেই আকৃষ্ট হই। বইয়ের দোকানে ভালো বই, শপিং মলের চোখ ঝলসানো আলোতে বাহারী জামাকাপড়, কতরকমের খাদ্যখাবার কতকিছুই না আমরা পেতে ইচ্ছা করি। কিন্তুু সামর্থ্যে না থাকলে কী আমরা সেগুলো চুরি বা ডাকাতি করে নিয়ে আসি?তাও এগুলোতো সব জড়বস্তুর কথা বললাম।আর আমরা কিনা একটা জলজ্যান্ত প্রাণবন্ত নারীর উপর ঝাপিয়ে পড়ি স্রেফ তার ছোট পোশাকের দোহাই দিয়ে,কামনার উত্তেজনায়।সামর্থ্য না থাকার দরুণ আমি যেমন দামী মোবাইল কেনার ইচ্ছাটা নিয়ন্ত্রণে রাখি, তেমনি আমার কামের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বও আমার নিজের, সে আমি যত সল্পবসনা নারীকে যত কাছ থেকে দেখে যতই উত্তেজনা অনুভব করিনা কেন। একটা নারীকে আমি আমার কামনার বেদীতে বলি দিতে পারিনা। আমি বলতে পারিনা নারীর পোশাক আমাকে ধর্ষণ করতে উৎসাহিত করেছে। আমরাতো পশু নয়। আমার পশু প্রবৃত্তি আমি নিয়ন্ত্রণে রাখবে এই বিশ্বাসেই তো আমাকে মানুষের সমাজে স্থান দেওয়া হয়েছে।

ভিক্টিম নারী এবং ধর্ষক পুরুষ দুজনই সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র দুটো সত্তা। তাদের আলাদা আলাদা সীমানা ও স্বাধীন ইচ্ছা আছে। পুরুষ সেই নারীর প্রতি যত তীব্র আকর্ষণই অনুভব করুক না কেন, সবার আগে পুরুষকে মনে রাখতে হবে ওই নারী স্বতন্ত্র স্বাধীন মানুষ।সেই নারীর নিজস্ব ইচ্ছা অনিচ্ছা, রুচি, কামনা বাসনার আলাদা জগৎ আছে। সুতরাং পুরুষ চাইলেই সেই নারীর নিজস্ব স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে উপেক্ষা করে তার জগতে হানা দিতে পারেনা।পুরুষের যেকোন প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করার স্বাধীনতাও ওই নারীর আছে। নারী সল্পবসনা হয়ে রাস্তায় বের হয়েছে সেটা তার নিজস্ব রুচির ও ভালোলাগার ব্যাপার। পুরুষ যদি তার প্রতি আকৃষ্ট হয় তবে সেই আকর্ষণকে নিজের আয়ত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দায়িত্ব সেই পুরুষেরই,নারীর নয়। পুরুষ কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার জন্য সে নিজস্ব পোশাকের ঢঙে বাইরে বের হয়নি, পোশাক পরেছে সে তার নিজের ভালোলাগা অনুযায়ী। তার পোশাক দেখে যদি তোমার ইমানদন্ড উত্তেজিত হয়, তাহলে তা সামলে রাখার দায়িত্ব তোমার। উত্তেজনার বশে তুমি তোমার ইমানদন্ড নিয়ে অন্যের উপর ঝাপিয়ে পড়তে পারোনা। কারণ তাতে ওই নারীর স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়।যেকোন ধর্ষণের ঘটনায় প্রথম যে অপরাধ হয় সেটা হলো অন্যের (এক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট নারীর)স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। সুতরাং একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে কাউকে ধর্ষণ করার কোন অধিকার কারো নেই।জঙ্গলের হিসাব আলাদা।মানুষের রাষ্ট্রের মধ্যে বাস করেও, যে জঙ্গলের পশুর মতো কাজ করলো, যে তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলো সে তো জংলী।

সুতরাং পোশাকের দোষ যারা দিচ্ছে তারা আদতে জংলী। নিজের অপরাধকে ছোট করে দেখানোর জন্য, এবং এই সমাজে যেহেতু "ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী" এই মতবাদে বিশ্বাসী লোকও আছে প্রচুর, এই লোকগুলোর কাছ থেকে সমর্থন ও সহানুভূতি পাবার জন্যই ধর্ষকেরা নারীর পোশাককে দায়ী করে।আর ওয়াজ মাহফিলে হুজুরদের বক্তব্য শুনে কিছু লোকতো নারীর শরীরে পোশাকের সল্পতা দেখলেই জিহাদী জোশ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে চায়। শারীরিকভাবে না পারলেও মানসিকভাবে এই কাজটা করে। ধর্ষণের জন্য পোশাককে দায়ী করলে মানুষের (এক্ষেত্রে ধর্ষকের) বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ তার চিন্তা করা ও সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাকেই যে অস্বীকার করা হয়,অন্যদিকে নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা হয় এইটাই বোঝে না।

এই ব্যাপক অশিক্ষা কুশিক্ষার দেশে,স্বাধীনতা, অধিকার এবং কর্তব্য বিষয়ে অজ্ঞতার দেশে, অন্যের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সম্মান করতে না পারার দেশে, হুজুর আর মোল্লার দেশে,বিচারহীনতা আর কুশাসনের দেশের বিরাজমান সামাজিক বাস্তবতায় ধর্ষণের জন্য পোশাককে দায়ী করা হতেই থাকবে যতদিন পর্যন্ত না সামাজিক অবস্থার গুণগত বদল হবে। যতদিন পর্যন্ত আমরা অন্যের স্বাধীনতাকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য নিজের স্বাধীনতার উপর সীমা আরোপ করতে শিখবো না, যতদিন নিজের যৌন কামনার নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবো না, ততদিন পর্যন্ত আমরা নারীর পোশাককেই দায়ী করে যাবো। যে নিয়ন্ত্রণআরোপ করার কথা ছিলো আমার নিজের উপর, আমি তা না করে, নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছি নারীর স্বাধীনতাকে,এমনকী তার ইচ্ছেখুশি পোশাক পরার স্বাধীনতাকে। কিন্তুু দোষটা তো পোশাকের নয়,দোষটা হচ্ছে ধর্ষকের চিন্তায়। ওই চিন্তাটাকে সৎ পথে আনতে হলে দরকার শিক্ষা। নিজের স্বাধীনতার সীমা এবং অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান করতে শেখার শিক্ষা। এবং সেই শিক্ষাটাকে নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করা। এইরকম একটা কাঙ্ক্ষিত সংস্কৃতি নির্মাণ খুব জরুরী।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 16 min ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর