নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বিষাক্ত রাজনীতি:- প্রথম পর্ব-


বর্তমান ভারতবর্ষের রাজনীতি তীব্র উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং এই উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে নতুন নতুন সমীকরণ গড়ে উঠছে। আগামী দিনে দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে কারা তা নিয়ে চলছে চরম উত্তেজনা, চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে প্রতিটি নির্বাচনের। সদ্যসমাপ্ত তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে একটু নজর দিলেই দেখা যায় এইসব নির্বাচনে বিজেপি অসম্ভব ভালো ফল করেছে। আসন সংখ্যার নিরিখে দেখতে গেলে বলতে হয়, ত্রিপুরার মোট আসন সংখ্যা-59, বিজেপি-43, বাম-16 টি আসন লাভ করেছে। নাগাল্যান্ডে মোট আসন সংখ্যা- 60, এনপিএফ জোট-29, বিজেপি-এনডিপিপি জোট-29, ও অন্যান্য-2 টি আসন লাভ করেছে। মেঘালয়ে মোট আসন সংখ্যা-59, কংগ্রেস-21, এনপিসি-19, বিজেপি-2 ও অন্যান্য-17 টি আসন লাভ করেছে।

এখনও পর্যন্ত যা ফলাফল, ত্রিপুরায় দীর্ঘ 25 বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির অভাবনীয় জয়। তাই এই রাজ্যে বিজেপি নিজের একক শক্তিতেই সরকার গঠন করেছে। নাগাল্যান্ডে বিজেপি-এনডিপিপি জোট ও অন্যান্য শরিকদের নিয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে মেঘালয়ে কংগ্রেসের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে বিজেপিও আঞ্চলিক কিছু দলের সহযোগিতায় পি এ সাংমার পুত্র, কনরাড সাংমার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। তাই উত্তর পূর্বের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে তিনটি রাজ্যেই বিজেপি এবং তার শরিক দলের সরকার গঠিত হয়েছে। বিজেপির অশ্বমেধ যজ্ঞের রথের ঘোড়া 21 টি রাজ্যে ক্ষমতা লাভ করেছে। এই বিরল কৃতিত্ব ইন্দিরা গান্ধীর ও ছিল না। তাই বর্তমানে বিজেপির সুবর্ণ যুগ চলছে এটা বলাই যায়। তবে বিজেপি মনে করে যতদিন না- কর্ণাটক, বাংলা, ওড়িষ্যা, কেরল ইত্যাদি রাজ্যে শাসন ক্ষমতা লাভ করছে তত দিন বিজেপির সুবর্ণ যুগ আসবে না।

তবে আজ আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হল পশ্চিমবঙ্গে সদ্যসমাপ্ত উপনির্বাচন ও তার ফলাফল। গত 1লা ফেব্রুয়ারি রাজস্থান ও পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনের ফল বের হয়। রাজস্থানে আলওয়ার, আজমের লোকসভা ও মঙ্গলগড় বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটে দেখা যায় প্রতিটি জায়গায় শাসকদল পরাজিত হয় এবং কংগ্রেস জয়ী হয়। প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ গুলি হল- আলওয়ার লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস পায়-56.96%, বিজেপি-39‌‌‍.53% ভোট পায়। আজমের লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস-50.98%, বিজেপি-43.94% এবং মঙ্গলগড় বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস-39.50%, বিজেপি-32.19% ভোট পায়। (তথ্যসূত্র- এই সময়) কংগ্রেসের এই সাফল্য রাজস্থানে শাসকদল বিজেপিকে অবশ্যই চাপে রাখবে। এখন প্রশ্ন হল রাজস্থানে এই ফলাফলের কারণ কি?

এর উত্তরে বলা যায়, প্রথমত-রাজস্থান এমন একটি রাজ্য যেখানের ইতিহাস হল প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর শাসকদলের পরিবর্তন, যা শাসকদলের পক্ষে দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত-রাজস্থানে কংগ্রেসের তরফ থেকে দক্ষ তরুণ নেতা শচীন পাইলটের উপস্থিতি অবশ্যই কংগ্রেসকে বাড়তি অক্সিজেন যোগাবে। তৃতীয়ত-মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার ঘনিষ্ঠ ললিত মোদীর দুর্নীতিতে জড়ানো অবশ্যই তার ভাবমূর্তিতে কালিমালিপ্ত করেছে। চতুর্থত-বসুন্ধরা সরকার অনেক সময়ই স্বৈরতান্ত্রিক আইন প্রণয়নের চেষ্টা করেছেন যা জনগণ ভালো চোখে নেয় নি। পঞ্চমত-তীব্র বেকারত্ব, কৃষকদের শোচনীয় অবস্থা, গো রক্ষা রাজনীতির নামে নিরীহ মানুষদের হত্যা যা তার রাজ্যে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে এগুলি তার বিরুদ্ধে গেছে। এছাড়া ও আরও নানা কারণে বসুন্ধরা সরকারের উপর মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ দেখা যায়, যার প্রতিফলন ভোট বাক্সে পড়ে। মোদ্দা কথা হল রাজস্থানে বিজেপির অবস্থা খুব একটা ভালো নয় বরং শাসকদল বেশ চাপেই আছে। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শচীন পাইলটের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস যখন নির্বাচনে নামবে তখন তারা বেশ ভালো অবস্থা থেকেই শুরু করবে, এটা আশা করাই যায়।

এবার আসি পশ্চিমবঙ্গের কথায়। 2018 সালের উপনির্বাচন হয়েছিল উলুবেড়িয়া লোকসভা ও নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে। প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ বিচার করলে দেখা যায় উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল-61.57%, বিজেপি-23.50, সিপিআই(এম)-11.14% ও কংগ্রেস-1.85% ভোট পায়। অন্যদিকে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে দেখা যায় তৃণমূল-54.55%, বিজেপি-20.76%, সিপিআই(এম)-19.03% ও কংগ্রেস-5.64% ভোট পেয়েছে। (তথ্যসূত্র- এই সময়) নির্বাচনের ফলাফল দেখে বোঝায় যায় এখানে শাসকদল অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেছে। তাই তৃণমূল শিবিরে এখন আনন্দের সুবাতাস বইছে। তারা মনে করছে 'আমরাই আমরা' এবং বিরোধী দলদের ধর্তব্যের মধ্যেই আনছে না।

তবে এই নির্বাচনে শাসকদল জিতবে তা প্রায় সকলেই নিশ্চিত ছিল তাই এখানে নতুনত্ব কিছুই নেই। তবে যেটা সর্বাপেক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ তা হল বিজেপির উত্থান। রাজনৈতিক অঙ্কের দিক থেকে দেখলে এই নির্বাচনের আপাত কোন গুরুত্ব ছিল না কিন্তু রাজ্য রাজনীতির অভিমুখ আগামী দিনে কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে এই উপনির্বাচন ছিল সত্যিই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল জয়ী হয়েছে একথা সত্য কিন্তু তাদের এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণ কি? এর উত্তরে বলতে হয় কিছু বুদ্ধিজীবী পত্রপত্রিকায় লিখছেন তৃণমূলের নব্য বামপন্থী রাজনীতির ফলেই এই অভাবনীয় সাফল্য। এই ধরণের সুবিধাবাদী বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, অবশ্যই কন্যাশ্রী, যুবশ্রী ইত্যাদি প্রকল্পের ফলে গরীব মানুষের কিছু উপকার হয়েছে এবং ভোটবাক্সে তার প্রতিফলন ও দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু দিনের শেষে সবথেকে বড় প্রশ্ন রয়ে গেল এই অভূতপূর্ব জয় আসল কোথা থেকে?

এটা অবশ্যই সত্য যে বেশকিছু রাস্তাঘাট ও পরিকাঠামো উন্নয়ন দেখা যায়। তবে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজসাথী, ক্লাবে ক্লাবে অর্থ বিতরণ, দু টাকা কেজি চাল এই সমস্ত 'পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি' করে রাজনৈতিক দিক থেকে কিছুটা সফলতা অর্জন করেছে এটা নিশ্চিত। এক বৃহৎ সংখ্যক জনসাধারণের অভিমত হল- "আমাকে যে দেবে আমি তাকেই ভোট দেব", সেই অর্থে এই নীতির সুফল ভোট বাক্সে দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল অর্থনীতি কি এভাবে চলবে? মুদ্রার অন্য পিঠটি হল- পশ্চিমবঙ্গে শিল্প মৃত প্রায়, চাষের অবস্থা তথৈবচ, সাধারণ মানুষের হাতে কাজ নেই, সাধারণ চাকরি প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছে না, মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা বিকিয়ে গেছে, তাই পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা প্রকৃতপক্ষে ভয়াবহ।

এই অবস্থায় আবার ভর্তুকি রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গবাসীর দুরবস্থা আরও বৃদ্ধি করেছে। বর্তমান সরকার কথায় কথায় 34 বছরের বাম শাসনকে দায়ী করে বলেন বামশাসনের 2 লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা তাদের বইতে হচ্ছে যার ফলে উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পাচ্ছে না। কিন্তু নিন্দুকেরা বলেন এই সরকারের ছয় বছরের মধ্যেই যে লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বসে আছে তা মেটাবে কে? প্রতি বছর মাটি উৎসব, যুব উৎসব, খাদ্য উৎসব ইত্যাদির নামে বছরে যে একশোটির অধিক উৎসব করে কোটি কোটি টাকা পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে খরচ করা হয় তার অর্থ সংস্থান হবে কোথা থেকে? এগুলি থেকে লাভবান হয় কারা? নিন্দুকেরা বলেন শাসকদলের নেতা নেত্রী ও এদের অনুরাগী শিল্পী গোষ্ঠী এর ফলে উপকৃত হয়। রাজকোষের যা হাঁড়ির হাল আগামী দিনে যে সরকারই আসুক না কেন তাদের পক্ষে সরকার পরিচালনা ও সরকারি ব্যায় নির্বাহ করা মোটেই সহজ হবে না। তাই এই সমস্ত চমক ও ভর্তুকি রাজনীতি স্বল্প কালে সফলতা লাভ করলেও দীর্ঘকালে এই রাজনীতি অচল।

তবে মূল প্রশ্নটি ঘুরেফিরে আবার আসে এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণ কি? এই সাফল্যের আসল কারণটি তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গেলেও আমরা যারা গ্রামেগঞ্জে মাটির কাছাকাছি থাকি তারা এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি। তৃণমূল কংগ্রেস গ্রামেগঞ্জে বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে এই বলে প্রচার করছে যে- "মুসলিম ভাইয়েরা আপনারা আসুন আমাদের বিজেপিকে রুখতে হবে"। প্রকাশ্য সভায় এক বিশেষ ধর্মের অনুসারীদের তোষণ করা হচ্ছে যা থেকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষ বাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে। এটা অবশ্যই অবাক ব্যাপার যে একটা দল কোন উন্নয়নমূলক প্রশ্ন ছাড়াই শুধু ধর্মের ভিত্তিতে ভোট চাইছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রচার অনেকাংশেই সফল হচ্ছে। তৃণমূলের এইরকম প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক বামও বিরোধী মনোভাবাপন্ন মানুষরাও তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে।

আসলে তৃণমূল কংগ্রেস দলটি নির্লজ্জভাবে মোল্লা তোষণ করে। এই দল ইমাম, মোয়াজ্জেম দের ভাতা দেয়, তিন তালাকের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল মুসলিম সমাজ আন্দোলন করলে এরা তার বিরোধিতা করে, হজের ভর্তুকি বাদ দিলে এরা সর্বাগ্রে লাফিয়ে ওঠে। ভাবখানা এমন দেখায় যে তৃণমূলের চেয়ে মুসলিম দরদী দল আর ভূভারতে একটিও নেই। ঠিক এই জায়গাতেই যত সমস্যা। আসলে মুসলিমদের সহানুভূতি পাওয়ার লোভে এই দল তলে তলে ধর্মান্ধদের সমর্থন করছে। যার ভয়াবহ প্রভাব দেখা যায় খগড়াগড় কান্ডে, বহু জঙ্গি এই খাস কলকাতা থেকেই ধরা পড়েছে। তাই রাজ্যটি যে ধীরে ধীরে জেহাদিদের আখড়াই পরিণত হচ্ছে তা এক প্রকার নিশ্চিত। বাংলাদেশের বহু জেহাদি গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গকে তাদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত করছে যা দেশের ও রাজ্যের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকারক।

নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুসারে 'প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত মুখি প্রতিক্রিয়া আছে'।তাই তৃণমূল কংগ্রেসের এই নির্লজ্জ মোল্লা তোষণের ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের ও মনে হতে থাকে, আমাদের ও এবার একত্রিত হওয়ার প্রয়োজন আছে। এই বোধ থেকেই তারা দলে দলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ছাতার তলায় এসে দাঁড়াচ্ছে। আসলে লাগামহীন মোল্লা তোষণের ফলে মোল্লারা যা ইচ্ছা করে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন ওয়াজ, মেহফিলের নামে অন্য ধর্মের মানুষদের আপমান করা হচ্ছে, যা ইসলামের অন্যতম অঙ্গ। তাদের আর দোষ কোথায় কোরানের সূরা ব্যাইয়্যানাহের 6 নম্বর আয়াতে (98:6) বলা হয়েছে -"আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নমের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে তারাই সৃষ্টির অধম"। অর্থাৎ ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলিম মানেই কাফের এরা জাহান্নমের আগুনে জ্বলবে এবং এরা সৃষ্টির অধম, অনেক জায়গায় আবার এটাকে বলা হয়েছে তারা নিকৃষ্টতম প্রাণী। এখন প্রশ্ন হল আমরা নিকৃষ্টতম প্রাণী বা সৃষ্টির অধম কাদের বলি? গরু, ছাগল, কুকুর, শুকর এদের আমরা নিকৃষ্টতম প্রাণী বলি। ইসলামের দৃষ্টিতে অন্য ধর্মের মানুষরাও কুকুর, শুকরদের সমতূল্য নিকৃষ্টতম প্রাণী। তাই ইসলাম ঘৃণার শিক্ষা দেয় যা মোল্লারা পালন করে নবী মহম্মদের সুন্নত আদায় করছে।

তাই এর প্রভাব হিসাবে দেখা যায়-প্রবীণ যে সমস্ত মানুষ যারা সমন্নয়বাদী চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন তাদের প্রভাব সমাজ থেকে আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। কারণ তরুণ প্রজন্ম কোন ভাবেই ধর্ম পালনের অধিকারের নামে এই অসভ্যতামি মেনে নিতে রাজি নয়। তাদের মনে হয় আমাদের সংস্কৃতি আজ বিপন্ন এই বোধ থেকেই তারা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং প্রতিবাদের সঠিকপথ না পেয়ে তারা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দিকে দলে দলে ঝুঁকছে। যে বঙ্গে হিন্দুত্ববাদীদের কোন অস্তিত্বই ছিল না শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের নোংরা ধর্ম রাজনীতির ফলে তারা আজ এত শক্তিশালী। আসলে নোংরা ধর্মরাজনীতি দেশের ও সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে উপলব্ধি করে না। এই বিষাক্ত রাজনীতির ছোবল কতটা দুর্বিসহ তা জনসাধারণ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারে। অথচ রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের লাভের উদ্দেশ্যে সমস্ত নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দেয় যার চরম মূল্য এই সাধারণ মানুষদেরই দিতে হয়। আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে আমাদের নেতৃত্বরা ইতিহাস থেকে কিছুই শিক্ষা নেয় নি।

ধর্ম রাজনীতি যে কতটা ভয়াবহ ও বিষাক্ত তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল দেশভাগ। যে হিন্দু মুসলমানরা প্রায় 190 বছর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল তারা বিষাক্ত ধর্ম রাজনীতির কবলে পড়ে দেশভাগের হিংস্র খেলায় মেতে ওঠে। ভাই ভাইয়ের রক্তের পিপাসু হয়ে ওঠে। কত মানুষ যে রক্তাত্ব হল ও কত নারী ধর্ষিতা হল তার কোন হিসেব নেই। এই ধর্মের রক্ত পিপাসা এখন ও মেটেনি তাই মাঝে মাঝেই তার রক্ত পিপাসা মেটাতে নরসংহার দেখা যায়। স্বাধীনতা উত্তর ভারতবর্ষ ও ধর্মের এই বিষাক্ত ছোবল থেকে রেহাই পায় নি। ভারতীয় সমাজ সভ্যতা এই ধর্মের বিষের জ্বালায় বার বার ছটফট করেছে। যার সর্বপ্রথম বড় আঘাত আসে ভারতের উত্তর পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত ছোট্ট রাজ্য পাঞ্জাবে।

চলবে...

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর