নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী নয়, দায়ী মানুষের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি।


এ মাসে ১১ তারিখ থেকে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে 'জাগো বাংলাদেশ' নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচার হয়েছে। সপ্তাহে প্রতি রবিবারে সাড়ে আটটায় দেখানো হয় অনুষ্ঠানটি। এই অনুষ্ঠানটি ভারতের "সত্যমেভ জয়তু" থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশে প্রচারিত হচ্ছে।ভারতের 'সত্যমেভ জয়তে' অনুষ্ঠানে উপস্থাপক আমির খান, আর 'জাগো বাংলাদেশে' মোশারফ করিম।

'জাগো বাংলাদেশ' অনুষ্ঠানের প্রাথমিক পর্বগুলো নির্মিত হয়েছে বাল্যবিবাহ, সড়ক দুর্ঘটনা, অটিজম, যানজট, মেয়েদের ঋতুকালীন সমস্যা, শিশু ধর্ষণ, বৃহন্নলা ও পরিবেশদূষণ সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে।
এই অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উপস্থাপক মোশারফ করিম বলেন, ‘একটা মেয়ে তাঁর পছন্দমতো পোশাক পরবে না? আচ্ছা পোশাক পরলেই যদি প্রবলেম হয়, তাহলে সাত বছরের মেয়েটির ক্ষেত্রে কী যুক্তি দেব, যে বেরাকা পরেছিলেন তাঁর ক্ষেত্রে কী যুক্তি দেব? কোনো যুক্তি আছে?’

এই তিন -চার লাইনের কথাটি বলার পর মোশারফ করিম ইসলামের ধর্মীয় গোঁড়ামিদের তোপের মুখে পড়েছে , মোশারফ করিমকে ইহুদী নাসারদের দালাল, নাস্তিক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। হয়ত কয়েকদিন পরে মুরতাদও ঘোষণা করতে পারে !

আচ্ছা, মোসলমানরা দাবি করে তাঁদের ধর্ম আল্লাহর প্রদত্ত একমাত্র সত্য ধর্ম,এই দুনিয়ার সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হচ্ছে আল্লাহ , কিন্তু এতো দুর্বল কেন মোসলমানদের ঈমামদন্ড, কেন এত নড়েবড়ে তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতি। সামান্য কলমের খোঁচায় তাসের মত ভেঙে পড়ে ,কয়েকটি কথার আঘাতে চাঁপাটি হাতে নিতে হয়। তাহলে আল্লহকে কিভাবে এই দুনিয়ার নিয়ন্ত্রক ভাবা হয়, যদি নিয়ন্ত্রকও হয় সেক্ষেত্রে মোশারফ করিমের বা নাস্তিকদেরও কী বা দোষ । যা কিছু হচ্ছেতো আল্লাহর ইচ্ছা-অনিচ্ছাতে হচ্ছে।

এই অনুষ্ঠানে মোশারফ করিম বোঝাতে চেয়েছেন, নারীরা ধর্ষিতা ,নির্যাতিত হলে শুধু পোশাককে দোষ দেওয়া ঠিক না। এ ক্ষেত্রে দায়ী মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি। মানুষের মনকে আগে ঠিক করা প্রয়োজন।
মোশারফ করিম কি মন্দ বলেছেন ?

দেশে গত চার বছরে সরকারি হিসেবে নারী ও শিশু ধর্ষণ হয়েছে ১৭ হাজার ২৮৯টি। প্রত্যক ধর্ষণের ঘটনায় নারীর পোশাককে দায়ী করা হয়।নারীর পোশাকের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয়াটা নতুন নয়, শত শত ,হাজার হাজার বছর ধ'রে পোশাকের দায় দিয়ে নারীদের ধর্ষন করে যাচ্ছে ইসলাম ধর্মীয় সমাজের বীরপুরুষরা ।নারী কেন একা বার হবে, সে কেন রাত্রে ঘরে ফিরবে, সে কেন নাচগান শিখবে ইত্যাদি ইত্যাদি বিধিবিধান দিয়ে নারীদের বন্ধী রাখা হচ্ছে। এদেশে প্রতিটি ধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষিতা দোষী, ধর্ষক নয়,ধর্ষক বরং রাজ্য বিজয়ের ভূমিকায় নাম লেখায় । একটি নারীকে প্রথমে ধর্ষণ করে ধর্ষক,এর পরে মিডিয়া ,এরপরে সমাজ। মোটকথা, মোসলমানদের চোখে পোশাকই দায়ী প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনায়। এটা একধরনের পোশাকের দোহায় দিয়ে ধর্ষণকে জায়েজ করা।

পোশাকই যদি পুরুষদের কামাতুর করে, দুই উরুর ফাঁকে ঝুলন্ত দণ্ডকে জাগিয়ে তোলে,তাহলে এই যে বোরখা দিয়ে সারা শরীর ঢাকা,যার ছিটেফোঁটাও গায়ের চামড়া দেখা যায় না ,৭০-৮০ বছরের বৃদ্বারা তাড়া কেন ধর্ষিতা হচ্ছে! বাচ্চা শিশুরা যারা কাম,শরীর ,পোশাক বলতে কি জিনিস বোঝেনা ,তাঁরাও যে রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষকদের হাত থেকে ,তাঁদের বেলায় কি বলবে ? এই নয় কি ধর্ষনের জন্য পোশাক দায়ী নয়, দায়ী বিকৃত মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি!

আমি অন্য দেশের সাথে তুলনাতে যাচ্ছি না, এই বাংলাদেশের মধ্য অন্য সমাজের সাথে তুলনাতে যাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি ভূখণ্ড , সেখানকার জনগোষ্টীরাও বাংলাদেশী । মোসলমান সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে তারাও জ্ঞাত। পাহাড়িদের সমাজে নারীদের পোশাকের ওপর কোন বিধিবিধান নেই, বুকে শুধুমাত্র একটা খাদি(ওড়না) বেঁধেও সারা গ্রাম ঘুরতে পারে,মেয়েরা নিজের ইচ্ছাতেই পোশাক পরে, ঘরে কখন ফিরবে না ফিরবে সে নিয়ে পরিবার বা সমাজের মাথাব্যাথা নেই। পাহাড়ি মেয়েরা কখনো বোরখা,হিজাব পরে না। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন কোন এক পাহাড়ি মেয়ে পাহাড়ি ছেলে দ্বারা ধর্ষণ হয়েছে?

না, কখনো শুনে থাকবেন না।আর যদি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটেও পাহাড়ি সমাজ কিন্তু কখনো দায়ী করবে না ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী। এরকম অদ্ভুদ দাবী একমাত্র মোসলমান সমাজে সম্ভব।

মানুষের মনকে আগে ঠিক করা প্রয়োজন, মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। দেখবেন ,পোশাক কোন ধর্ষণের কারণ হয়ে উঠতে পারে না। মোসলমান সমাজ নারীর প্রতি দৃস্টভঙ্গিতে এখনও হাজার বছর পিছিয়ে,সমাজের এই ট্যাবু ভাঙ্গতে হবে। সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে 'জাগো বাংলাদেশে'র মতন অনুষ্ঠানের খুব প্রয়োজন এদেশে। মোল্লাদের কাছে পরাজিত হলে , এদেশটার পরাজিত হবে ,জাগো বাংলাদেশের পরাজয় হবে। তাঁদের ভয়ে আমদের কণ্ঠরোধ হতে পারে না।

এগিয়ে যাও 'জাগো বাংলাদেশ"।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বিশ্ব চাকমা
বিশ্ব চাকমা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 1, 2017 - 6:24অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর