নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

'মানবতার মা' হয়ে উঠেছে বিশ্বের নিকৃষ্ট স্বৈরশাসকের তালিকায় প্রথম ।


আজ থেকে ১৮ বছরের আগে কথা ,আমরা সবেমাত্র অষ্টম শ্রেণীতে পড়তাম। ক্লাসে একদিন আমাদের স্যার জিজ্ঞেস করলেন,কোন বিষয়ের স্যার ছিলেন মনে করতে পারছি না । স্যার জিজ্ঞেস করলেন আমাদের এক সহপাঠীকে - পৃথিবীতে একজন বিখ্যাত মানুষের নাম বলুন !
সহপাঠী চট করে বলে ফেললেন-স্যার , হিটলার।
স্যারের চোখ কপালে উঠে গিয়ে বললেন , আরে হিটলার ছিলেন পৃথিবীর কুখ্যাত মানুষ, আমি জিজ্ঞেস করেছি বিখ্যাত মানুষের নাম !
আমরা সবাই ক্লাসে হো হো করে হেসে উঠলাম ।

এখন কথা হচ্ছে আমার হুট করে হিটলারকে নিয়ে লেখার আগ্রহ জাগল কেন ?না ভাই, আমার হিটিলারকে নিয়ে লেখার কোনরকম আগ্রহ নেই , আমার এই লেখাটি মূলত আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী 'শেখ হাসিনা'কে নিয়ে।কিন্তু, কি আর করা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তিন-চার লাইন লেখা লিখতে গিয়ে হিটলারকেও টানতে হচ্ছে। ঐ যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিসের প্রতিযোগিতায় যেন হিটলারকে টপকে গিয়ে শীর্ষ পৌঁছে গেছে।
দাঁড়ান ভাই। সবুর করেন, একটু পরে আসছি।

দেখুন, বরাবরই ইতিহাস রচিত হয় বিজয়ীদের হাত ধরে। বিজয়ীদের নিয়ে ইতিহাস রচিত হয়,এবং চাঁপা পরে যায় বিজিতাদের ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা মার্কিন সাম্রজ্যবাদের উত্থানের দৃশ্য দেখে আসছি, এবং মার্কিনিরা এক ধাঁচে পৃথিবীটাকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করছে, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যদি হিটলারের নাৎসি বাহিনী বা অক্ষ শক্তির দেশগুলো বিজয়ী হত,তাহলে হয়ত হিটলারেরা অন্য ধাঁচে নিয়ন্ত্রণ করত পৃথিবীটাকে।
পৃথিবীর আনাচেকানাচে সবাই জানে হিটলার একজন কুখ্যাত মানুষ ছিলেন,বিশ্বজয়ের নেশায় এত মত্ত ছিলেন উনার জন্য মানবসভ্যতার ইতিহাসে এযাবৎকাল পর্যন্ত সংঘটিত সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল, এই ছয় বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সীমা ধরা হয়। তৎকালীন বিশ্বে সকল পরাশক্তি এবং বেশিরভাগ রাষ্ট্রই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং দুইটি বিপরীত সামরিক জোটের সৃষ্টি হয়; মিত্রশক্তি আর অক্ষশক্তি। এই মহাসমরকে ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত যুদ্ধ বলে ধরা হয়, যাতে ৩০টি দেশের সব মিলিয়ে ১০ কোটিরও বেশি সামরিক সদস্য অংশগ্রহণ করে।এযুদ্ধে ৫ কোটি থেকে সাড়ে ৮ কোটি মানুষের মৃত্য হয়।এছাড়াও বেসামরিক জনগণের উপর চালানো নির্বিচার গণহত্যা, হলোকস্ট।

" " The Holocaust( দ্য হলোকস্ট ), বাংলায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় "ইহুদী গণহত্যা",অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের উপর চালানো গণহত্যা। হিটলারের অধীনস্থ জার্মান নাৎসি সামরিক বাহিনী ইউরোপের তদানীন্তন ইহুদী জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি অংশকে এবং আরও কিছু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বন্দী শিবির ও শ্রম শিবিরে নির্বিচারে হত্যা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন হিটলারের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল সোসালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির পরিচালিত গণহত্যায় তখন আনুমানিক ষাট লক্ষ ইহুদি এবং আরও অনেক সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষ প্রাণ দিয়েছে।

হিটলারের বাহিনী ষাট লক্ষ ইহুদি ছাড়াও সোভিয়েত যুদ্ধবন্দী, কমিউনিস্ট, রোমানী ভাষাগোষ্ঠীর (যাযাবর) জনগণ, অন্যান্য স্লাবিক ভাষাভাষী জনগণ, প্রতিবন্ধী, সমকামী পুরুষ এবং ভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের মানুষদের ওপর এই অমানবিক গণহত্যা পরিচালনা করে। নাৎসিরা এর নাম দিয়েছিল 'ইহুদি প্রশ্নের চরম উপসংহার' বলে। নাৎসি অত্যাচারের সকল ঘটনা আমলে নিলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে নব্বই লক্ষ থেকে এক কোটি দশ লক্ষের মত।

অত্যাচার ও গণহত্যার এসব ঘটনা বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘটিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর অনেক আগেই নাগরিক সমাজ থেকে ইহুদিদের উৎখাতের জন্য জার্মানিতে আইন প্রণয়ন করা হয়। জনাকীর্ণ বন্দী শিবিরে রাজনৈতিক ও যুদ্ধবন্দীদেরকে ক্রীতদাসের মতো কাজে লাগাতো যারা পরে অবসন্ন হয়ে রোগভোগের পর মারা যেত। জার্মানিতে নাৎসীদের উত্থানকে থার্ড রাইখ বলা হয়। নাৎসী জার্মানি তখন পূর্ব ইউরোপের কিছু এলাকা দখল করেছে। তারা সেখানে বিরুদ্ধাচরণকারী ও ইহুদিদের গণহারে গুলি করে হত্যা করে। ইহুদি এবং রোমানি ভাষাগোষ্ঠীর লোকদের তারা ধরে নিয়ে গ্যাটোতে রাখে। গ্যাটো একধরনের বস্তি এলাকা যেখানে গাদাগাদি করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে এসব মানুষদেরকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হত। তারপর গ্যাটো থেকে তাদেরকে মালবাহী ট্রেনে করে শত শত মাইল দূরের বধ্যশিবিরগুলোতে নিয়ে যেত। মালবাহী ট্রেনের পরিবহনেই অধিকাংশ মারা পড়ত। যারা বেঁচে থাকত তাদেরকে গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে হত্যা করা হত। তখনকার জার্মানির আমলাতন্ত্রের সকল শাখা সর্বাত্মকভাবে গণহত্যায় জড়িত ছিল। একজন ইহুদী গণহত্যা বিশেষজ্ঞ বলেছেন তারা জার্মানিকে একটি 'নরঘাতক রাষ্ট্রে' পরিণত করেছিল।
তথ্যসুত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/ইহুদী_গণহত্যা ।

এছাড়াও বিশ্বে সাড়াজাগানো বই "আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরী" থেকেও জানা যায় ইহুদীদের ওপর কীরকম অমানবিক নির্যাতন চলত। ইহুদীদের ওপর চলাফেরার সীমাবদ্ধতা , পেশা গ্রহণের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করত হিটলারের রাজনৈতিক দল। তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে চাপিয়েও হিটলার হয়ে উঠেছেন সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি এবং স্বৈরচার।

এবার আছি, আমার মূল লেখায়। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখা হাসিনাকে নিয়ে। বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রের কথা উঠলে প্রথমে চলে আসে স্বৈরচার হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের নাম। যিনি বাংলাদেশের সাবেক সেনা প্রধান, এককালীন প্রধান সামরিক প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি,এবং সামরিক শাসন জারীর মাধ্যমে দেশ শাসন করেছে। পরে অবশ্যই ১৯৯০ সালে গণবিক্ষোভের চাপে এবং সেনাবাহিনীর সমর্থনের অভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও জনপ্রিয় জরিপভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘দি টপটেনস’ এ একটি দীর্ঘমেয়াদী জরিপের মাধ্যমে সেরা স্বৈরাশাসক নির্বাচিত হন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এতে পেছনে ফেলেছেন সারা পৃথিবীর ঘৃণিত ব্যক্তি অ্যাডলফ হিটলারকেও। আমরা যেই এরশাদকে একজন স্বৈরচার শাসক হিসেবে চিনিসেই এরশাদকেও অনেক পেছনে ঠেলে দিয়েছেন আমাদের "মাদার অব হিউম্যানিটি" বা মানবতার মা ! এই জরিপে তিনজন বাংলাদেশির নাম এসেছে । এক, শেখা হাসিনা (১ম স্থান) ,দুই,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমান (২৩তম) ,তিন, হুসেন মুহাম্মদ এরশাদ(৪৬ তম)।

এই জরিপে শেখ হাসিনার নামে মন্তব্যের মধ্যে সর্বাধিক লাইক পাওয়া মন্তব্যটিতে একজন বলেছেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে রাত ৩ টায় মাত্র ৪৫ মিনিটে অজ্ঞাতনামা প্রায় ২৫০০ নিরস্ত্র জনতাকে হত্যা করেন শেখ হাসিনা। তার দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি করে অসংখ্য নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ ও বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হয়েছে, যারা তার সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরে প্রতিবাদী হয়েছিলো।’

আরেকটি মন্তব্যে একজন লিখেছেন, ‘তিনি(শেখ হাসিনা) তার বাবার মত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে আছেন। যেমন তার বাবা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। এমনকি সুশীল সমাজের যারা তার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তিনি তাদেরকে পাগল বলে অভিহিত করছেন। শুধু তার কারণে আজ হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি সংবিধান পরিবর্তন করেছেন, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলে রাখার জন্য।’

অন্য একটি মন্তব্যে শেখ হাসিনার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একজন জুডিশিয়াল কিলার। তিনি বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছেন। চিন্তার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা সব আজ তার কব্জায়। এদেশে আজ একটি মানুষও নিরাপদ নয়।’
তথ্যসুত্রঃ http://monitorbd.news/2018/03/21/এবার-নিকৃষ্ট-স্বৈরশাসকের/

উপরের উল্লেখিত মন্তব্যগুলি ছাড়াও বর্তমান সরকার ধর্মীয় অনুভূতির রক্ষার নামে মানুষের বাক স্বাধীনতা স্তব্দ করে দেয়া,নাস্তিক ব্লগার হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হওয়া ,মুক্তমনাদের নিরপত্তা দিতে ব্যর্থ, সংখ্যালগুদের উপর নির্যাতন।দেশে বিচারহীনটার সংস্কৃতির রূপ দেওয়া,এবং ধর্মীয় মৌলবাদীদের তোষণ নীতিতে দেশটাকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে শুধুমাত্র নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য ।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসীদের সাথে প্রতারণা করেছে , ৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতারণা পাহাড়িদের সাথে।দীর্ঘ বিশ বছরেরও সেই চুক্তির বাস্তবায়ন হয়ে উঠেনি,উল্টো অতিরিক্ত সেনা মোতায়ন করে সেনা শাসন জারি পার্বত্য চট্টগ্রামে , যা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জনজীবন দুর্বিসহ করে তুলেছে।এই সেনারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদদ দিয়ে যাচ্ছে পাহাড়িদের ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতনের ঘটনাগুলোতে।বিশেষ বিশেষ জনগোষ্টীর ওপর সাম্প্রদায়িক এবং জাতিগত আগ্রাসন জিইয়ে রেখে স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছে এদেশের 'মানবতার মা'।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বিশ্ব চাকমা
বিশ্ব চাকমা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 1, 2017 - 6:24অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর