নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

জিহাদ ও সন্ত্রাস(জঙ্গিবাদ)



সম্প্রতি বিভিন্ন ওয়াজ ও ইসলামী আলোচনায় হুজুর বা আলেমরা প্রায়ই বলছে - জিহাদ মুসলমানদের জন্যে ফরজ, কিন্তু জিহাদের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই। তারা বলে , জিহাদ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ , আর সন্ত্রাস হলো নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমন করা। এত কথার মধ্যে তারা কিন্তু কখনই একথা পরিস্কার করে বলে না যে , যারা জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত , তারা সন্ত্রাসী নাকি জিহাদি। কেন তারা সেটা পরিস্কার করে না , এবার তার কারন বলা হবে।

তারা জিহাদের সংজ্ঞা দেয়- অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সুতরাং প্রথমেই জানতে হবে , ইসলামে অন্যায় বা অপরাধ কাকে বলে। সেটা জানতে গেলে কোরান ও হাদিস থেকে কিছু উদ্ধৃতি জানতে হবে ---

সুরা তাওবা-৯:৫:অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সুরা তাওবা-৯:২৯:তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

উপরের একটা আয়াতে বলছে নিষিদ্ধ মাস অতিক্রম করার পর মুশরিকদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে , অপর আয়াতে বলছে , যেসব ইহুদি ও খৃষ্টান ইসলাম কবুল করে নি , তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। তো দেখা যাক , মুশরিক , ইহুদি ও খৃষ্টানদেরকে কি অপরাধে হত্যা করতে হবে বা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, যদিও সেটা আয়াত থেকেই স্পষ্ট যে , ইসলাম গ্রহন না করাটাই হলো একটা অপরাধ, তারপরেও সেটা আমরা হাদিস থেকেই জেনে নেই ---

কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই - এ কথার সাক্ষ না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩৩
আবু গাসসান-আল মিসমাঈ মালিক ইবন আবদুল ওয়াহিদ (র)……আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় । যদি এগুলো করে তাহলে আমা থেকে তারা জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারন ছাড়া । আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

তার মানে, যে পর্যন্ত অমুসলিমরা বা মুশরিক, ইহুদি , খৃষ্টান ইত্যাদিরা ইসলাম গ্রহন না করবে , ততক্ষন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। সুতরাং বোঝা গেল , অমুসলিমরা যে ইসলাম গ্রহন করে নি , সেটাই হলো একটা অন্যায় বা অপরাধ এবং সেই অপরাদের জন্যেই তাদের ওপর আগ বাড়িয়ে আক্রমন করতে হবে ও তাদেরকে হত্যা করতে হবে। এবং সেটাই হলো ইসলামের জিহাদ।

এখন হুজুর বা আলেমরা বলছে , নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমন করে হত্যা করা হলো সন্ত্রাস। কিন্তু ইসলাম অনুযায়ী , অমুসলিমরা কি নিরীহ ? মোটেই না । কারন তারা না জেনেই একটা মহা অপরাধ করে ফেলেছে , আর সেটা হলো , তারা ইসলাম গ্রহন করে নি । বস্তুত: ইসলামে মুনাফিক বা মুর্তাদ এদেরকেও হত্যার আদেশ করা হয়েছে। যারা নামে মুসলমান কিন্তু ইসলামের বিধি বিধান মানে না , তারা হলো মুনাফিক এবং যারা মনে মনে ইসলাম ত্যাগ করে ফেলেছে , তারা হলো মুর্তাদ। মুর্তাদ বোঝার উপায় কি? যেসব লোকের নাম ইসলামী কিন্তু নানা কায়দা কৌশলে ইসলামের বা মুহাম্মদের নানা বিধান ও কাজের সমালোচনা করে , বুঝতে হবে , মনে মনে তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে , আর তারাই হলো মুর্তাদ। ইসলাম অনুযায়ী , মুনাফিক ও মুর্তাদ উভয়ই হলো কঠিন অপরাধী। আর তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হলো প্রতিটা মুসলমানের ইমানী দায়ীত্ব ও ফরজ কাজ। সুতরাং দেখা যাচ্ছে , ইসলামের বিধান অনুযায়ী শুধু অমুসলমানরাই নয় , বরং বহু নামধারী মুসলমানও কঠিন অপরাধী কারন তারা মুনাফিক বা মুর্তাদ এবং খাটি মুসলমানদের দায়ীত্ব তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে আক্রমন করে হত্যা করা।

দুনিয়া ব্যপী , যারা ইসলামী জঙ্গিবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট , তারা আসলে কি করছে ? তারা কিন্তু কোরান ও হাদিসের উক্ত বিধান অনুসরন করেই অমুসলিম ও মুসলিম নামধারী মুনাফিক ও মুর্তাদ হত্যা করছে যা ইসলাম অনুযায়ী খাটি জিহাদ। কোরান ও হাদিসের পাতায় পাতায় , মুসলমানদেরকে এই ধরনের জিহাদ চালানোর জন্যে বার বার জোর দেয়া হয়েছে , এবং বলা হয়েছে , এই জিহাদ যারা না করবে , তারা বেহেস্তে যেতে পারবে না।

ঠিক এই কারনেই , কোন হুজুর বা আলেম কখনই জঙ্গিবাদের সাথে যারা জড়িত , তাদেরকে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি বলে সরাসরি সমালোচনা করে না। তারা শুধু অস্পস্টভাবে বার বার বলে , ইসলামের সাথে বা জিহাদের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু কখনই পরিস্কার করে বলে না যে জঙ্গিরা সব সন্ত্রাসী। কারন তারা খুব ভাল করেই জানে , যারা কথিত জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত , তারা কেউই আসলে জঙ্গি নয় , তারাই হলো খাটি জিহাদী যারা ইসলামের জন্যে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিতে কুন্ঠিত নয়।

তাহলে বার বার ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই , হুজুররা এই কথাটা বলে কেন ? কারন একটাই , তারা জানে সাধারন মুসলমান এইসব সন্ত্রাস বা খুন খারাবি পছন্দ করে না , তাদের মন রক্ষা করতেই বা তাদের চোখে ধুলো দিতেই বার বার এই কথাগুলো বলে , আর তারা এটাও ভাল মতো জানে যে , সাধারন মানুষ উক্ত কথাগুলো শুনেই খুশি এবং গভীরভাবে আর খুজতে যাবে না , কিভাবে ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই।

সাধারন মানুষের মূর্খতা , অন্ধত্ব ও উন্মাদনাই মূলত: এখনও ইসলামকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 22 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর