নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

হৃদয়পুর ভুবনপুর


হৃদয়পুর আর ভূবনপুরের দূরত্ব অনেক বেশি যা কখনোই ঘোঁচার নয়! ওর ব্যাপারে আমার এটাই উপলব্ধি!

লাইব্রেইরি-ক্যাফে 'হৃদয়পুরে' ওকে প্রথম দেখি! আমরা কয়েকজন মিলে সেখানকার তেলে ভাজা পাকুড়া সাবাড় করছিলাম। ও দাঁড়িয়ে ছিল ডেস্কের ওপারে, কোনো একটা ফুড আইতেম সার্ভ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মেয়েটা ওখানকার লাইব্রেরিয়ান কাম কুকার। ওকে দেখে তো যাকে বলে আমি পুরাই ক্রাশ খেয়ে গেলাম, অত্যন্ত সুন্দর, মিষ্টি আর আকর্ষণীয় মুখশ্রী। হাইটটাও যথেষ্ট ভালো।
আমি আমার সাথের পোলাপানরে বললাম, 'হায় রে হায়! এই বয়সে আইসাও যদি ক্রাশ খাইতে হয়, তাইলে কেমনে হবে?'
ওরাও ব্যাপারটা বুঝতে পেরে একটু হাসল। ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে এসে ক্রাশ খাওয়া বলে কথা! আমি খেয়াল করলাম, আমার কথাগুলো মেয়েটার কানেও গেছে। ও বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল, যেমনটা আমিও তাকাচ্ছিলাম ওর দিকে।

এর পরে আরো একদিন হৃদয়পুরে মেয়েটার সাথে দেখা হলো। আমি ওখানকার সোফায় বসে আরাম করে পেপার পড়ছিলাম। ওখানকার একজন মহিলা কর্মী ওর নাম ধরে ডাক দিল; বুঝলাম, মেয়েটার নাম **। খুব সুন্দর একটা নাম! আমি ফেসবুকে যেকোনো মেয়েকে খুঁজে বের করায় উস্তাদ। একটু চেষ্টা করেই ওকে খুঁজে পেলাম। দেখলাম, সে মেয়েটা আমার পরিচিত বেশ কয়েকজনের আবার পরিচিত। আর বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ও বিপ্লবী ধারার বাম রাজনীতি করে। Biggrin খুব মজা পেয়েছিলাম ব্যাপারটায়। এতো সুন্দর একটা মিষ্টি মেয়ে করে বিপ্লবী ধারার রাজনীতি!
যাই হোক, আমি সেখান থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম ও ডেস্কে দাঁড়িয়ে খাবার পরিবেশন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি যেতে যেতে ওর দিকে বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকালাম; দেখলাম, সে-ও আমাকে তাকিয়ে দেখছে। যে দৃষ্টির মধ্যে ছিল, ইতিবাচক সাড়ার অভিপ্রায়। অর্থাৎ আমি ক্রাশ খেয়ে বা দুষ্টুমি করে ওর সাথে একটু টাংকি মারলেও ও বিরক্ত হয়নি।বরং, তার প্রতিক্রিয়ায় ওর রেসপন্স ছিল নম্র, ভদ্র ও ইতিবাচক।

যাই হোক, ক্যাফে থেকে বের হয়ে আসার পর আমি ব্যাপারটা ভুলেই গিয়েছিলাম; কিন্তু কয়েকদিন পর সন্ধ্যায় আমি যখন কনকর্ড বইয়ের মার্কেট থেকে হেঁটে নীলক্ষেতের দিকে এগুচ্ছিলাম, তখন কাঁটাবন ঢালের ওখানে ওকে আবার দেখলাম। ওর পরনে ছিল ক্রীম কালারের চমৎকার একটা শাড়ি, আর সেটাতে ওকে লাগছিল আরো চমৎকার। আমি স্বভাবগতভাবেই অর দিকে তাকালাম বেশ কয়েকবার পাশ দিয়ে যেতে যেতে। অবাক হয়ে দেখলাম, ও আমাকে কি জানি বলল। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি;
মনে মনে ভাবলাম, ও বিরক্ত হয়ে কিছু বললল নাকি আমাকে ওইভাবে তাকাতে দেখে! তাই আমি কয়েককদম হেঁটে ওর সামনে গেলাম। ও বলল,
'ভালো আছেন?'
আমি বললাম, 'হ্যা'।
-আপনি হৃদয়পুরে মাঝে মাঝে আসেন না?'
-হ্যা, আসি। আপনি ** না?'
-'হ্যা।'
-আমি আপনাকে ফেসবুকে রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছি। আপনি যদি একসেপ্ট করেন, তাহলে খুব ভালো লাগবে।'
-ঠিক আছে।'
আমি তখন সেখান থেকে কোনোমতে বিদায় নিলাম।
সত্যি কথা বলতে যেকোনো ছেলেকে দুর্বল করে ফেলার মতো সৌন্দর্য ওই মেয়ের আছে। আমিও মাথা নাড়তে নাড়তে বাসায় ফিরলাম এটা ভেবে যে, মেয়েটা নিজে থেকেই ডেকে আমার সাথে কথা বলল...!

সেইরাতে মেয়েটার কথা আমার অনেক করে মনে হচ্ছিল। আমি নিশ্চিত, আমার বয়সটা যদি ২৪-২৫ও হতো, আমি পাগলের মতো আমার ভালোবাসার সবগুলো অর্ঘ্য ওর হাতে তুলে দিতাম! সবটুকু প্রচেষ্টা ব্যয় করতাম, ওর কাঙ্খিত প্রেমিক হওয়ার জন্য। কিন্তু, এখন আর আমার সেই বয়স নেই! প্রথম যৌবনে কয়েকটা রিলেশনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে, আমি আর যাতে কোনো ব্যর্থ না হতে হয়, সেজন্য রাখীকে প্রাণপণে আঁকড়ে ধরেছি অনেকদিন হলো। তাই, নতুন করে কোনো রিলেশনের চেষ্টা করার দিকে আমি আর ঝুঁকতে পারি না। এটাই আমার বাস্তবতা! আর ক্রাশ খেয়ে দুর্বল হয়ে কোনো মেয়েকে নিয়ে দিবানিশি ভাবার বয়সও আমি পার করে এসেছি। সাময়িকভাবে ক্রাশ খেলেও, আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও অনেক বেশি। আমার হৃদয় সাময়িকভাবে দুর্বল হলেও হৃদয়পুরের থেকে ভুবনপুরেই থাকতে আমি পছন্দ করব।

তবে, মেয়েটাকে আমি অন্তর থেকে অভিবাদন জানাই, আমার প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য। ২০১৬ থেকে যে মেয়েগুলো আমার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে বা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, তার মধ্যে ও-ই সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে! (মজার ব্যাপার হলো আমার বয়স যখন ২৪-২৫ ছিল, যখন আমি দেখতে এখনকার চেয়ে অনেক ভালো ছিলাম, ভার্সিটির অন্যতম সেরা একটা ডিপার্টমেন্টে পড়তাম, তখন কোনো সুন্দরি মেয়েই আমার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। হায়, কেমন আমার নিয়তি!) অত্যন্ত খুশি হবো, যদি মেয়েটার একজন বন্ধু কাম বড়ভাই হিসেবে যদি থাকতে পারি! Smile

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

শেহজাদ আমান
শেহজাদ আমান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 2 দিন ago
Joined: শনিবার, জানুয়ারী 4, 2014 - 4:15অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর