নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

সার্বভৌমত্ব, কোটা, মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ।


এদেশের আপমর জনগন পাকিস্তানি সরকার দ্বারা সবরকমের বৈষ্যমের শিকার হয়েই বাধ্য হয়েছিলো,মুক্তিজন্য, স্বাধিকারের জন্য, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে। একেকজন নিরিহ মানুষ তাদের সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে ফিরে পাবার জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলো।কিন্তু যুদ্ধের সময় দেশটা স্বাধীন হবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা কি তারা পেয়েছিলো? তারা কি জানতো যুদ্ধটা করলে দেশটা স্বাধীন হবেই? তারা এতো কিছু ভাবে নি, স্বাধিকারের দাবী প্রতিষ্ঠার জন্য তারা যুদ্ধ করেছে। এবং স্বাধীন বাংলাদেশ এসেছে। কিন্তু যেই বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তিপাবার জন্য সংগ্রাম করেছিলো, সেই বৈষম্য কি গেছে? বৈষম্য কিন্তু তার জায়গায়ই আছে, শুধু বৈষম্যের বেনেফিশিয়ারির শ্রেনীটা পরিবর্তন হয়েছে। ভারতীয় একটা ছবিতে দেখেছিলাম, ও মাই গড নামের, অনেকের মনে থাকবে হয়তো, একলোক এইসব মন্দির,মাজার পূঁজা বন্ধ করলেন অনেক কাহিনি করে, যাতে ধর্মীয় ব্যবসা বন্ধ হয়, দেখা গেলো, একটা পর্যায়ে তাকে ঘিরেই ব্যবসা শুরু হয়ে গেলো। ব্যবসা কিন্তু ঠিকাছে মাধ্যমটা শুধু পরিবর্তন হয়েছে।

০১.
আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে উচ্চকন্ঠে উচ্চারণ করলেন আবার যে মুক্তিযোদ্ধা, তাদের নাতি,পুতি ( তারপরের প্রজন্মরে কি বলে জানি না) তাদের জন্য ৩০ ভাগ কোটার নিয়ম অব্যহত থাকবে। ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এ কথাটা ভুললে চলবে না। কাজেই তাঁদেরকে আমাদের সম্মান দিতেই হবে। তাঁদের ছেলে, মেয়ে, নাতি, পুতি পর্যন্ত যাতে চাকরি পায়, সে জন্য কোটার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

আমরা তো ভুলে যাইনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পরবর্তী সময় ২২ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার ইতিহাস। আমরা ভুলিনি যশোরে চাঁদার জন্য ছাত্রলীগের ক্যাডারা কি ভাবে একজন প্রঢ়ৌ মুক্তিযোদ্ধাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে ছিলো। মুক্তিযোদ্ধ কল্যান ট্রাষ্ট নাম ও ওই ট্রাষ্ট কি উপকার করছে মুক্তিযোদ্ধাদের, আমরা ভুলে যাইনি মাননীয় প্রধামন্ত্রী মাত্র ২বছর আগে একজন মুক্তিযোদ্ধার লাশ সমিহত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টের কাছে আবেদন জানালো হলে জটিলতার কারনে তার লাশ পঁচতে বসেছিলো, পরে সাধারন মানুষের চাঁদার টাকায় ওই লাশ সমিহিত করা হয়েছে। আপনার সরকারের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যান কি খালি চাকুরি দিয়েই করতে চান?

মানে যারা পড়াশোনা আবুল বারাকাতের মতো ব্যাংক চোর হতে পেরেছে, তাদের জন্য আপনাদের সব আয়োজন? আর দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আপনার কোনো দায় নেই? শুধু মাত্র লোক দেখানো কিছু কাজ করা ছাড়া?

০২.
জনযুদ্ধের গনযুদ্ধ, বাংলাদেশকে আজকের এখন অব্দি দ্বিধান্বিত করে রেখেছে, শুধু মাত্র আমাদের জারজ মানসিকতার রাজনৈতিক নেতাদের ব্যার্থতার কারনে। আজকেও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতা শিলাদিত্য দেব দাবী করেছেন “বাংলাদেশের অভ্যুদয়ই ছিল একটা বড় ভুল। কিন্তু বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গীভূত করার মধ্য দিয়ে এই ভুল শোধরানো সম্ভব ছিল।” এগুলো আমাদের জন্য নতুন কিছু না, সময় সুযোগ পেলে ভারত সবসময়ই ওই যুদ্ধকে তাদের ব্যক্তিগত বিজয় বলে দাবী করে চালিয়ে দেয়, এবং তা তারা তাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি দ্বারা আস্তে আস্তে নিরবে প্রতিষ্ঠিতও করে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, কিন্তু এইসব প্রশ্নে আমাদের সরকার বারবরই রহস্যজনক ভাবে নিশ্চুপ, আজ অব্দি দেখলাম না আনুষ্ঠানিক ভাবে এসবের কোনো প্রতিবাদ করতে। তাহলে হাসিনা বিন্তে বঙ্গবন্ধু কি শুধু চাকরীর জন্য মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেখাবেন? বাকি অংশে ফাঁকা?

০৩.
একটা রাষ্ট্রের চারটা অঙ্গ আছে যেমনটা জানেন সবাই ভূখন্ড, নাগরিক, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। এগুলো সব গুলো শর্ত পূরণ না করলে নাকি তা রাষ্ট্র হয়না। আমি এই মতবাদের সাথে তীব্র দ্বিমত পোষন করি। চলুন কারনটা ব্যাখ্যা করি। ছেচল্লিশ হাজার বর্গমাইলে ভূখন্ড আছে মানে একটা শর্ত পূরণ করলাম। ১৭ কোটির (+,-) জনসংখ্যা আছে মানে নাগরিক আছে, দ্বিতীয় শর্তও সম্পন্ন। তৃতীয় শর্তটা ৭১-এ পরিপূর্ণ হয়েছে এবং স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৪৬ বছর পরেও আমরা সেই যুদ্ধ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ( এর চেয়ে লজ্জা আর কি হতে পারে আমার জানা নেই)। বাকি থাকে সার্বভৌমত্ব যেটা বাংলাদেশের নেই। তাই বলে কি বাংলাদেশ রাষ্ট্র নয়? আলবাৎ রাষ্ট্র কেউকি বলতে চায় আমরা কোনো অঙ্গরাজ্য? আমরা তো রাষ্ট্রই। ও, না না চেতনা ব্যবসায়ী আপত্তি উঠবে “সার্বভৌমত্ব” নেই কথাটি নিয়ে। তাইলে চলুন দেখি সার্বভৌমত্ব জিনিস টা আসলে কি?

উকিপিডিয়া বলছে “সার্বভৌমত্ব বলতে কোন দেশ বা রাষ্ট্রের নিজের অভ্যন্তরীন এবং অন্যান্যরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব কোনো পরিচালনা পর্ষদের বাইরের কোনো উৎস বা সংগঠনের হস্তক্ষেপ ছাড়া কাজ করার পূর্ণ অধিকার ও ক্ষমতা। রাজনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী, সার্বভৌমত্ব কোনো একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার উপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা নির্দেশকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা। এটি রাষ্ট্রগঠনের সার্বভৌমত্বকেন্দ্রিক মতবাদের একটি মূলনীতি”

আমাদের সর্বভৌমত্ব নাই কথাটা নিয়ে যদি কারো কোনো আপত্তি থাকে, তাহলে কষ্ট করে একটু স্মৃতি হাতড়ে ২০১৩ সালে শেষ সময় যান, ভারতের তৎকালীন পরাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং-এর কথা মনে পড়ে? মনে পড়ের পল্টি বন্ধু এরশাদের গলফক্লাব আর সিএমএইচএ ভর্তির নাটিকার কথা? মনে কি পড়ে প্রণব মুখার্জির সাথে খালেদার হরতালের বাহানায় দেখা করতে না যাওয়ার স্মৃতি? যার জন্য মোদি সাহেব ও বাংলাদেশে এসে খালেদা জিয়ার কাছে কৌফিয়ত তলব করেছে? মনে কি আছে ক দিন আগে হাসিনা বিন্তে বঙ্গবন্ধুকে মারার পরিকল্পনার একটা কথা ভারতে নিউজ পোর্টাল গুলো প্রকাশ করেছিলো? মনে কি পড়ে না সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরে পড়িমরি করে খালেদার হোটেল যাত্রার কথা? মনে কি পড়ে? বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ইস্যু নিয়ে সুষমা স্বরাজের টুটই বার্তা গুলোর কথা? পড়ে মনে?

০৪.
স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে কমতো ব্যবসা করলেন না আমাদের বর্তমান সরকারী দল, এই স্বাধীনতার চেতনা যখন যেখলেন মোটামুটি ম্রিয়মান, এটা দিয়ে এখন আর ভোট ব্যাংক বানানো সম্ভব নয়, তখন সেই চেতনার সাথে জুড়ে দিলেন মদিনার চেতনা। শিষ্যত্ব গ্রহন করলেন শফী হুজুরের। মানে মাথা হ্যাঙ্গ হয়ে যায় কিছু লিখতে বসলে, এতো টা হিপোক্রেট এতোটা নিলর্জ্জ কি করে হতে পারে মানুষ! শুধু মাত্র ভোটের আশায়, ক্ষমতার আশায় এতো এতো অত্যাচার অবিচার!আমরা শালার সাধারণ মানুষজন খালি ভেলকি দেখে যাচ্ছি।

যে রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব বলে কিছু নাই, যে রাষ্ট্রে একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যাংক লুটেরাদের তালিকায় আসে, আবার অন্যপ্রান্তের আরকে মুক্তিযোদ্ধা রিক্সাচালিয়ে জিবিকা নির্বাহ করে, যে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হরহামেশা টুটই করে জানান দেয়া হয় “দাদারা তত্ত্ববধান করছে দেশ” সেই দেশে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে।

সত্যিতো এটাই যে আপনার দলের নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সময় সব অভয়আরণ্যে ছিলো, দেশে স্বাধীনের যুদ্ধ করেছে আমজনতা, তারা বাঁচতে চেয়েছিলো, নিশ্চিত করতে চেয়েছিলো অনাগত ভবিষ্যৎ এর বাংলাদেশকে। কিন্তু আপনারা রাজনৈতিক নেতারা আপনাদের রক্তের দোষ ছাড়তে পারেননি। আগে ছিলো বিজাতীয় জোঁক আর একন স্বজাতীয় জোঁক, জোঁক কিন্তু পরিবর্তণ হয়নি, শোষিত হচ্ছে জাতি প্রতিদিন এই আমজনতা। অথচ এই আমজনতাই স্বাধীনতা যুদ্ধের ভিত রচনা করেছিলো, তারা করলো, সইলো, কিন্তু বললতে পারলো না।

০৫.
কোটা'র ইস্যুতে লিখার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিলো না। কিন্তু আজকের প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের পরে আর না লিখে পারলাম না। ভার্সিটির একজন জুনিয়র সম্ভবত কিছুদিন আগে বলেছিলো লিখতে, আমি বলে ছিলাম দেখি। এই ৫৬ ভাগ কোটার সংস্কৃতি শুধু মাত্র ভোটের রাজনীতিকে, সন্ত্র্রাসের রাজনীতিকে, উগ্রবাদের রাজনীতিকে জিয়ে রাখার একটা প্রক্রিয়া মাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এইটুকু বোঝার মতো আক্কেল জ্ঞান অন্তত আমাদের আছে। কোটার দোহাই দিয়ে মেধাধারী প্রতি ১০০ জনের মধ্যে যে ৫৬জনকে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে তারা কিন্তু জানে, এবং বোঝে আপনার এই ধাপ্পাবাজির বক্তব্যের সারর্মম, তাই এই ক্ষ্যান্ত দেন। নির্বাচন আপনি আপনার মতো করবেন আমরা জানি এবং মানি। দ্যাশটা আপনার বাপের এটাও আমরা মানি। এখানে যদি আপনি ৪০% ছাত্রলীগ কোটা ও চালু করেন নপুংশক এই জাতির সাহস নাই আপনারে কিছু বলার। সর্বোচ্চ এটা করতে পারি যে সবাই মিলে দলে দলে ছাত্রলীগে যোগ দিতে পারি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আইডিয়াটা কিন্তু খারাপ না এটা কিন্তু করা যায়, ৪০% ছাত্রলীগ কোটা, তাদের ও তো বাংলাদেশের জন্য গত ১০বছরে অনেক অবদান আছে তারা কি এইটুকু পেতে পারে না?এ্টা করলে কিন্তু আপনিও লাভবান হবেন, দেখবেন দেশের ১৭ কোটির মাঝে ২০ কোটিই আওয়ামী লীগ করবে। তাইলে আপনি কিন্তু ওই মদিনার চেতনা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে একসাথে গুলে বেশি জব্বর একটা ককটেইল সরকার ব্যবস্তায় আমৃত্যু ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন। ভেবে দেখবেন প্রস্তাবটা।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Offline
Last seen: 14 ঘন্টা 34 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর