নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

তাফসীর ইবনে ড. জাফর ইকবাল


১. ধর্ম ও বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ প্রকৃয়া:
গোঁজামিলের উপরেই সব ধর্মকে টিকে থাকতে হয়। ইসলামকেও। কুরআনের একটা আয়াত নিয়ে বিভিন্ন ভাষার, বিভিন্ন তাফসীরকারকের ব্যাখ্যার ভিতরে বিশাল বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য তাফসীরকারকদের পড়াশুনা, জীবন যাপন এবং ব্যক্তিগত চিন্তার মিশ্রনের পার্থক্যের কারনে হয়ে থাকে। সুন্নীরা যে চারটি ঈমামকে মেনে চলেন বা আহলে হাদীসের লোকজন যে এদের সবাইকে নাকচ করে দিয়ে থাকেন, বা শিয়া-সুন্নী-কাদিয়ানিদের ভিতরকার তফাত: এসব সব ঘটে এই মিশ্রনের পার্থক্যের কারনেই।

কারন: যুক্তি হচ্ছে অভিজ্ঞতা ও পারিপার্শিকতার যৌথ বিজ্ঞান। আর মানুষ যুক্তিমুখী প্রানী। ধর্ম বা বিজ্ঞানকেও টিকে থাকতে গেলে যুক্তি দিয়ে প্রমানিত হতে হয়। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোও গাণিতিক যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে হয়। প্রমাণ করতে গিয়ে যদি পার্থক্য আসে তাহলে ভুল বা সীমাবদ্ধতা প্রমাণিত হয়। এখানে গণিতের ভাষা এবং যুক্তিটি সার্বজনীন বলে গণিতের উপর ভর করেই যুক্তিগুলো এগিয়ে যায়। ২+২ যে কোন ভাষায়, যে কারো ব্যাখ্যায় ফলাফল ৪। আর তাই আপেক্ষিক তত্ব আইনিস্টাইন ব্যাখ্যা করলেও যা, জাফর ইকবাল স্যার ব্যাখ্যা করলেও তা। আর যদি তা না হয়, তাহলে তৃতীয় একজন এসে আইনিস্টাইন এবং জাফর ইকবাল স্যারের ব্যাখ্যার ভুল বা সীমাবদ্ধতা ধরিয়ে দিয়ে নতুন একটা আপেক্ষিকতার সূত্র দিতে পারেন। পরমানুর গঠন নিয়ে এরকম তিন চারটে মতবাদ আজও ছেলেমেয়েরা শেখে। জ্বিনের গঠন নিয়ে বায়োলজিতেও এরকম মতবাদ পড়ানো হয়। বিজ্ঞান ভুল তত্বগুলোকে ব্যবহার না করে সযত্নে বাবা-মায়ের সম্মান দিয়ে রেখে দেয়।

পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলোর ব্যাখ্যায়ও গোঁজামিল দিতে হতে পারে। তখন বিভিন্ন কনস্টান্ট বা এরর টার্মস গুঁজে দিয়ে সূত্রটিকে যুক্তিগ্রাহ্য করে তোলা হয়। এসব একেকটা কন্সট্যান্ট বা এরর টার্মস এর চরিত্র নিয়েও চুলচেরা ডজন ডজন উচ্চতর গবেষণা হয়। এবং এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে বিতর্কগুলো আমলে নিতে হয়, পুরনো তত্ত্বগুলোর আসারতা প্রমান করে তারপর নতুনটি উপস্থাপন করতে হয়। এর দ্বারা এটাই বিজ্ঞান দাবী করে যে সে মানুষের অগ্রযাত্রার বাঁধা নয়। আরও সুক্ষ্ম যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে পারলে আজকের সূত্র শ্রদ্ধার সাথে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। নতুনকে বাহবা দেবে।

ঠিক এখানেই ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের বিরোধ। ধর্মের কথাগুলো নিজেকে চিরন্তন ও সার্বজনীন দাবী করে। এই দাবী করতে গিয়ে যুক্তির অবলম্বন ছুঁড়ে ফেলতে চায়। আর এখানেই ধর্মান্ধতার জন্ম। অন্দকার মস্তিষ্কটি তখন কুটযুক্তি, অযুক্তি, ভয়, ঘৃণা খেয়ে খেয়ে ধর্মান্ধতাকে বড় করে তোলে। পরিনত বয়সে এরা একেকটা হয় শফি হুজুর, দেলওয়ার হোসেন সাইদী, জাকির নায়েক। বিজ্ঞান অনাশ্রিত মানুষগুলোর একমাত্র আশ্রয়স্থল এরা। ফয়জুরের মতো নিজেদের মুক্তির দিশারী হয় এই সব পাপ-ঘৃণা-কূটযুক্তি ছড়ানো ওস্তাদ দানবেরা। এদের বিপরীতে যুক্তিকে আলিঙ্গন করে যাঁরা এগিয়ে যেতে চায়, তাঁদেরকে ডাকা হয় মুক্তমনা। এই দুই প্রান্তের মাঝখানে থাকে উদারপন্থী এবং সংসয়বাদীরা। উদারপন্থীরা ধর্মান্ধতার দিকে ঝুঁকে থাকেন। ‘যদি থাকে’ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেন না। সংসয়বাদীরা মুক্তমনাদের দিকে ঝুঁকে থাকেন। সামাজিক মান সম্মান, বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এসব বিভিন্ন অযুহাতে মুক্তচিন্তাকে আলিঙ্গন করতে চেয়েও পারেন না।

এই চার গোত্রের প্রত্যেকেই ধর্ম এবং বিজ্ঞান উভয় নিয়েই ভেবে সময় ব্যয় করেন। নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দাঁড় করান। নিজেদের মতো করে পাপ-পূণ্য-ব্যর্থতা-সফালতা-ভালো-মন্দের সংজ্ঞা দাঁড় করান। কুরআনের একটা বাক্যের ব্যাখ্যাও তাই অনন্ত রকমফের হয়ে থাকে। সমস্যাটা দাঁড়ায় যখন এরা শুধুমাত্র নিজের ব্যাখ্যাটিকেই সঠিক দাবী করে এবং বিভিন্ন অযুক্তি বা কূযুক্তি দিয়ে বাকি সব ব্যাখ্যাকে নাকচ করে দেয়। অথবা অত চিন্তায় না গিয়ে প্রথমেই দুই ঘা বসিয়ে দেয়। ক্রোধের স্থান ছয়টি রিপুর সব থেকে উপরে বোধহয়। ফয়জুরের মত লাখো লাখো যুবক জঙ্গী হয়ে ওঠার চিন্তাগত রাস্তাটি এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

২. বিজ্ঞানীর চোখে ধর্ম, বা ধর্মান্ধের চোখে বিজ্ঞান:

ফয়জুরের আঘাত জাফর ইকবাল স্যারকে শারিরীরভাবে খুন করতে না পারলেও, ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর এতকালের দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের ভিত্তিতে চিড় ধরাতে পেরেছে। তার প্রমান হচ্ছে, ঢাকার হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পাসে ফিরে তিনি নিজেকে উদারপন্থীদের একজন হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছেন। কুরআন থেকে উধৃতি দিয়েছেন (যদিও উধৃতিটি ভুল ছিল)। সূরা মাইদার ৩২ নম্বর বাক্যটি তিনি অবিকল না মিলতে পারে এমন অবস্থান থেকে কোট করেছেন “If you kill a man, you kill a mankind’’. বাংলা অনুবাদ করতে গিয়ে বলেছেন ‘’তুমি যদি একটা মানুষকে মারো, তুমি যেন সমস্ত মানব জাতিকে হত্যা করো।‘’ তাফসীর করার যোগ্যতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে: তিনি কুরআন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনযোগ সহকারে পড়েছেন বলে দাবী করেছেন। তিনি নিজেকে উদারবাদীদের দলে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করে নিতে চাইছেন। তিনি কখনো নিজেকে সংসয়বাদী বা মুক্তমনা দাবী করেন নি। যদিও বিজ্ঞানের সাথে সাধারণ মানুযের যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অবদান স্বীকার করতে হয়। তিনি ধর্মান্ধ বলেও নিজেকে দাবী করেন নি। ধর্মান্ধ থেকেও বিজ্ঞানের প্রসারে কাজ করা যেতে পারে। সৌদি আরবের বাদশাদের বিভিন্ন এডুকেশনাল ট্রাস্ট, ইউরোপের চার্চভিত্তিক গবেষণাগারগুলোর উদাহরণ জাফর ইকবাল স্যারের জানা থাকার কথা।

ফয়জুরের কোপ খাওয়ার পরও জাফর ইকবাল স্যার দুটো ব্যাপার এখনো স্পষ্ট জানেন না। এক. ফয়জুর বা তাঁর বন্ধুরা স্যারের উধৃত আয়াতের ভুল তক্ষুণি ধরে ফেলতে পারে। এটা ওদের কাছে ডাল-ভাত। তবে স্যার যদি কাল টুপি যুব্বা পরে কুরআনে চুমু খাওয়া অবস্থায়, কাবা শরীফ তাওয়াফ করা অবস্থায় সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন তাহলে ফয়জুরের বন্ধুদেরকে আশস্বস্ত করা সম্ভব হতে পারে। ইয়াসমিন ম্যাডাম নিশ্চয় স্যারকে হজ্জ্বে যাবার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। এখনো টাকা জমা দেয়ার সময় আছে। রিটায়ার্ড হবার আগে হজ্জ করে আসলে বাকী জীবনটা আল্লার পথে চালানো সহজ হবে স্যার। হরহামেশাই করছে সবাই। দুই. স্যার পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলোর গাণিতিক ব্যাখ্যা কি ক্লাসে এভাবেই দেন? আমি তাঁর ক্লাস করিনি। তবে এখন আমার সন্দেহ হয় তিনি সূরা মাইদার আয়াতের মতো করে পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোর ব্যাখ্যা দেন কি না। এটার প্রমান পেলেই আপনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ অফিসারদেরকে আমি চাঁন্দা তুলে আরও ভালো মোবাইল উপহার দেবো।

পুনশ্চ ১: সূরা মাইদার ৩২ নম্বর আয়াতে আসলে কী আছে, তা হাসিনা বিনতে বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক পরিচালিত ওয়েব সাইট থেকে জেনে নিই: ‘এ কারণেই বনী ইসরাঈলের প্রতি বিধান দিলাম যে, নরহত্যা অথবা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করা হেতু ব্যতীত কেহ কাহাকেও হত্যা করিলে সে যেন দুনিয়ার সকল মানুষকেই হত্যা করিল। তাহাদের নিকট তো আমার রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণ আনিয়াছিল, কিন্তু ইহার পরও তাহাদের অনেকে দুনিয়ায় সীমালংঘন-কারীই রহিয়া গেল’। গুগলে সার্চ করলে ডজন খানেক বাংলা তাফসির পাবেন। প্রত্যেকটির অনুবাদ আলাদা, ব্যাখ্যা দূরে থাক।

এই আয়াতের একটি অংশ তিনি তাফসীর (বিশ্লেষণ) করতে চেয়েছেন। কিন্তু তিনি খেয়াল করেন নি যে আয়াতটির ভেতেরেই তাঁকে খুন করার বৈধতা দেয়া আছে। আয়াতের প্রথমে দুটো শর্ত আছে। এক. নরহত্যাকারী এই বিধানের বাইরে থাকবে। ২. ধ্বংসাত্মক কাজের সাথে জড়িত এমন যে কেউ এই বিধানের বাইরে থাকবে। জাফর ইকবাল স্যার দুই নম্বর শর্তের ভিতরে পড়েন। তিনি বিজ্ঞান সচেতনামূলক লেখা লিখে ধ্বংসাত্মক কাজের সাথে নিজেকে জড়ান। ভুতের নাম সোলাইমান নাটকটি ইউটিউবে দেখা যায়। একজন শয়তান প্রকৃতির মুর্খ মানুষের নাম নবী সোলাইমান (সাঃ) এর নামে রাখা হয়েছে, নবীকে ছোট করার জন্য। খুব সহজেই ফয়জুররা কিন্তু ধরে ফেলেছে স্যার আপনার ‘শয়তানি’। তাছাড়া শয়তানি সব কাজে (গান বাজনার অনুষ্ঠান) আপনার উপস্থিতি ফয়জুরদের নজর এড়ায় না। ওয়াক্তে নামাজ দূরে থাক, জুম্মার দিনেও মসজীদে ওদের চোখ আপনাকে খোঁজে। না পেলে ঠিক-ই ধরে নেয় আপনার এই এমাথা ওমাথা কুরআন পড়া, মাইকে তাফসীর করা শুধু শয়তানের শক্তিকে বৃদ্ধি করার জন্যই।

পুনশ্চ ২: মাইদার আগে পিছের আয়াতগুলো নিয়ে যেসব উদারবাদী বা ধর্মান্ধ কুতর্কের দোকান দিতে চান, তাঁদেরকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি।

বিভাগ: 

Comments

Mithun এর ছবি
 

অতি নিচু মনমানসিকতার নিয়ে একটা লেখা|ড: জাফর ইকবারের নামে ফালতু যুক্তিহীন সমালোচনা করলে আপনার অন্ধ-সমর্থক ছাড়া বিবেকবান মানুষ বাকি সবাই সেটার সমালোচনা করবেই|তিনি কখনো নিজেকে সংসয়বাদী বা মুক্তমনা দাবী করেন নি, ওনার ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য, ফেসবুকে লাইক বাড়ানোর জন্য বক্তব্য দেন না | উনি নিজের ব্যক্তি অনুভতিতে যেটা বিশ্বাস করেন সেটাই সরল মনে ব্যক্ত করেন | ঠিকই , উনি সবসয় অসাম্প্রদায়িক ছিলেন , বিজ্ঞানবাদী ছিলেন | উনি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সাথেসাথেই : প্রথম কথা ছিল " আমি ঠিক আছি , তোমার শান্ত হাউ , তার পরেই বলেছিলেন : তাকে যে আঘাত করেছিলেন সে ঠিক আছে নাকি?" , এগুলো কি ছিচকে বগ্গারদের মাথায় কখনো ঢুকবে? তারা শুধু জানে কেমনে মানুষকে ছোট করবে , নিজের জ্ঞান জাহির করবে , ধর্মকে বেঙ্গ করবে..... ড. জাফর ইকবাল তাদের দলে নেই |

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম রব্বানী
গোলাম রব্বানী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 1 week ago
Joined: মঙ্গলবার, জুলাই 7, 2015 - 7:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর