নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

বিজ্ঞান ও ধর্ম



বিজ্ঞান আর ধর্মের দ্বন্দ্ব বহু প্রাচীন। বিজ্ঞানের পথ দুর্গম। তাকে টিকে থাকতে হয় শ্বাপদসংকুল পরিবেশে। তাকে এগোতে হয় ধর্মের "দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার "।এভাবেই ধর্মের বাধা ডিঙিয়ে সে আজ এতদূর পর্যন্ত এসেছে । ধর্মের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি বিজ্ঞানের লক্ষ্য উদ্দেশ্য কোনটাই নয়। তবে ধর্ম এমনই নাজুক জিনিস যে সে কেবলি বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় নিজে আরো নাজুক হয়ে পড়ে। অনেককাল ধরে তাই ধর্ম নিজের অস্তিত্ব বিলুপ্তির হুমকি থেকে রক্ষা পাবার জন্য নিজেকে আরো রক্ষণশীল, আরো হিংস্র করে তুলেছে। বিজ্ঞানীদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা এরই একটি নমুনা। কিন্তুু হত্যার মাধ্যমে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা ঠেকাতে না পেরে ধর্ম এখন বিরুদ্ধতার পথ ছেড়ে আত্মরক্ষার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। সে এখন বিজ্ঞানকে এ্যাডাপ্ট করতে চাচ্ছে। বিজ্ঞানের জারক রসে ধর্ম ও সমাজ জারিত হচ্ছে একটু একটু করে। ইউরোপের দিকে তাকালে বিষয়টা স্পষ্ট বোঝা যায়।

ইউরোপের রেনেসাঁস এবং বৈজ্ঞানিক বিপ্লব, বিশেষ করে শতের শতকে কোপার্নিকাস,কেপলার, গ্যালিলিও প্রভৃতির সূর্যকেন্দ্রিক (heliocentric) সৌরজগতের মডেল এবং "ন্যাচারাল ফিলোসফির" জগতে মহাবিজ্ঞানী নিউটনের আবির্ভাব,পৃথিবী ও প্রকৃতিকে পদ্ধতিগতভাবে জানবার ক্ষমতাও যে আছে মানুষের সেই বিষয়কে স্পষ্ট করা তুললো।কোপার্নিকাসের তত্ত্বমতে একদিকে সৌরজগতের কেন্দ্রীয় স্থান দখল নিল পৃথিবীর পরিবর্তে সূর্য, অন্যদিকে মানুষের ভাবনার জগতে কেন্দ্রীয় স্থান নিতে শুরু করল মধ্যযুগীয় ঈশ্বরের পরিবর্তে স্বয়ং মানুষ। এই পরিবর্তিত কেন্দ্র নিয়ে ইউরোপে এসেছে এনলাইটেনমেন্ট, তার মধ্যেই আবার শিল্প বিপ্লব। ইউরোপ তখনো ক্রিশ্চিয়ানিটি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। যদিও পুরো ষোল শতক এবং সতের শতকের প্রথম কোয়ার্টার জুড়ে ইউরোপে ক্যাথলিক চার্চের সাথে দ্বন্দ্ব চলেছে "প্রোটেস্টেন্টদের"। ঈশ্বর প্রদত্ত কথিত ক্ষমতার বলে যারা রাজতন্ত্র চালাচ্ছিল তাদের সমালোচনা হয়েছে। রাষ্ট্র ও চার্চের ক্ষমতার বিভাজন ঘটিয়ে চার্চের ক্ষমতা ও আধিপত্যকে সংকুচিত করা হয়েছে। Reason এর উপর ভর করে যেসকল বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং মানুষকে ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে বসিয়ে এনলাইটেনমেন্ট যুগের চিন্তাবিদদের সমাজ ও রাজনীতি, মানুষের অধিকার ও রাষ্ট্রের সাথে তার সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ের উপর লেখা ও ভাবনা পৃথিবীকে পাল্টে দিয়েছে ব্যাপকভাবে।
(রেনেসাঁর সময়ে Age of Discovery অর্থাৎ এশিয়া,আফ্রিকা এবং সমগ্র আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে ইউরোপীয় কলোনি স্থাপনের বিষয়টা এই আলোচনায় বাদ রাখছি।)

আশা করছি অনতিদূরে বিজ্ঞান সমগ্র পৃথিবী থেকেই ধর্মীয় ভণ্ডামোকে বিতাড়ণ করতে সক্ষম হবে এবং ধর্মীয় কুসংস্কারমুক্ত পৃথিবী গড়ে উঠবে। কিন্তুু এই পোস্ট মডার্নিটিতে এসে ইউরোপীয় এনলাইটেনমেন্ট, বিজ্ঞান বা যুক্তি এবং প্রগতির ন্যারেটিভের উপর ভরসা রাখা যাচ্ছেনা। পৃথিবী এখন বড়ই অমানবিক, সভ্যতার প্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ। তবুও বিজ্ঞানের উপর আস্থা হারাচ্ছি না। বস্তুজগত এবং জীবজগতকে জানতে বিজ্ঞানের বিকল্প নেই। শুধু এই জায়গাতেই বিজ্ঞানের উপর ভরসা রাখতেই হবে। তবে বিজ্ঞানের জ্ঞান কোন কাজে লাগানো হবে সেই বিষয়টা আরো বেশী দার্শনিক চর্চার দাবী রাখে।

আমার ভাবনায় বিজ্ঞান দুই রকমের। Natural Science এবং Social Science এর কথা সবাই জানে। এটা নিয়ে বলছি না। যে দু রকমের কথা বলছি আমার কাছে তা হলো : Objective Science বা প্রকৃত বিজ্ঞান এবং Religious Science বা ধর্মীয় বিজ্ঞান (মতান্তরে ভণ্ডামো বিজ্ঞান )। প্রকৃত বিজ্ঞান বলতে বোঝাচ্ছি গবেষণালব্ধ জ্ঞান, অর্থাৎ সাধারণভাবে বিজ্ঞান বলতে যা বোঝায় সেটা। আর ধর্মীয় বিজ্ঞান হচ্ছে ধর্মকারক বিজ্ঞানীরা আমাদের যে ভুজুং ভাজুং বিজ্ঞান বোঝায় এবং যে বিজ্ঞানের উৎসস্থল কোন ল্যাবরেটরি নয়, কোন গবেষণা পত্র বা অভিসন্দর্ভও নয়, যার আদি ও অকৃত্রিম উৎস হচ্ছে আসমানি কেতাব। এই বিজ্ঞানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা সর্বদাই প্রকৃত বিজ্ঞানের অনুগামী। অর্থাৎ প্রকৃত বিজ্ঞান কোন তত্ত্ব বা জ্ঞান আবিষ্কার করার পরেই মাত্র ভণ্ডামো বিজ্ঞান সেই জ্ঞান সম্বন্ধে জানতে পারে। এবং সেই সাথে সাথে এই তত্ত্ব যে আসমানি কেতাবের মধ্যে অমুক পৃষ্ঠার তমুক শ্লোক বা আয়াতে বহুশত বছর আগেই লিখে রাখা হয়েছে সেটাও জানা যায়। এই বিষয়ে অভিজিৎ দার বেশ বড়সড় একটা লেখা আছে "সবই ব্যাদে আছে" শিরোনামে। কথাটা মেঘনাদ সাহা বলেছিলেন ব্যঙ্গ করে।

প্রকৃত বিজ্ঞান চর্চার যেমন অনেক ইনস্টিটিউট আছে, ধর্মীয় বিজ্ঞানের আছে এরকম প্রতিষ্ঠান। হিন্দুদের আছে ইসকন, মুসলমানদের আছে ইসলামি ফাউন্ডেশন, কোরান রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং সর্বোপরি জাকির নায়েক। এদের বিজ্ঞানচর্চা দেখলে শিহরণ জাগে। ইচ্ছা করে গলায় দড়ি দিয়ে মরে যায়। ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন ইসকন একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান(তার ভাষায় কৃষ্ণভাবনামৃত একটি বিজ্ঞান) । আরো বলছেন ভগবদ্গীতা বিজ্ঞানসম্মত গ্রন্থ । প্রমাণ হিসেব তিনি গীতারা একটা শ্লোক উদ্ধৃত করেন "অন্নাদ ভবন্তি ভূতানি "।অর্থাৎ যথেষ্ট খাদ্যশস্য ভোজনের মাধ্যমে জীবন বেচেঁ থাকে এবং বৃষ্টি হতে শস্য উৎপাদিত হয়। এই হলো গীতার বিজ্ঞানের নমুনা। প্রভুপাদ গীতার যে ভাষ্য লিখেছেন তাতে মানুষের মানে বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের ব্যাপারে চরম অবজ্ঞার ভাব পোষণ করেছে। তার মতে এগুলো কোনটা সত্য নয় ,সবই বিজ্ঞানীদের অজ্ঞতাপ্রসূত জল্পনা কল্পনা মাত্র। আসল সত্য জ্ঞান হচ্ছে গীতার জ্ঞান ,পরমেশ্বরকে যে জানে সেই আসল জ্ঞানী। বিজ্ঞান যে সমস্ত বিষয়ের এখনো কোন যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি ধর্মকারকরা সেই বিষয়গুলোকে বেশি হাইলাইট করে।এ দ্বারা বোঝাতে চায় বিজ্ঞানের পরিধি সীমিত। মানুষের স্থুল ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞানের দ্বারা আত্মাকে, অলৌকিতাকে ব্যাখ্যা করা যায় না। এই বলেই এরা ক্ষান্ত হয় । যে বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রকৃত বিজ্ঞান দিতে পারেনা ধর্মীয় বিজ্ঞানীরাও সেই বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা দেয়না । তবে যখনই বিজ্ঞান ওই বিষয়ের ব্যাখ্যা হাজির করে,এরাও তখন সোৎসাহে ঝাপিয়ে পড়ে কেমন করে জোড়াতালি দিয়ে কোন শ্লোকের মধ্যে রূপকার্থে এমন ব্যাখ্যার নিদর্শন দেখানো যায় সেই অপকর্মে। যাই হোক আসমানি শাস্ত্রগুলো যে জ্ঞানের আধার, কিন্তুু তা দিয়ে কি একটা হারিকেনের সমান আলো উৎপাদন করা গিয়েছে? গীতার সমস্ত শ্লোক আবৃতি করলেও কি এক ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে? মন্ত্রপাঠে পাঠারূপী মুনি ঋষীদের ক্ষুধা মিটতে পারে, মানুষের ক্ষুধা মেটে না।

মৌলিক আদর্শের বা দর্শনের দিক থেকে বিজ্ঞান আর ধর্ম পরস্পর বিপরীত। বিজ্ঞানের দর্শন হচ্ছে সন্দেহ ও জিজ্ঞাসা, অন্যদিকে ধর্মের দর্শন হচ্ছে চোখ বুজে,শর্তহীনভাবে বিশ্বাস করা। দুটো একসাথে চলতে পারেনা; এদের একটা সত্য হলে অন্যটা মিথ্যা। কোন পথের পথিক হবেন, কোন গুরুর মুরিদ হবেন এখনই বেছে নিন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 22 ঘন্টা 10 min ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর