নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ভিনগ্রহের ডুয়েল ও ডি-টুয়েন্টি (বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী: প্রথম অংশ)


'এ কোন অপরাহ্ন, এটা পৃথিবীর অন্য ধারান্তর নাকি মনের কোন এক কোনে বিস্ময়ের ভয়? এটা দিন নাকি রাত দোটানায় পরখ করাও কষ্টকর, একবার জানালায় কখনোবা উপরে সদৃশ কাঁচে তাকিয়ে চেষ্টা অনবরত চলছে। তবুও বুঝতে পারছি না। জানালার প্রান্তে গেলে মনে হয় গোধুলি লগ্ন আবার উপরে তাকালে রাত এবং গোধূলি একই সাথে বিরাজমান?' সাত-পাঁচ ভাবতে লাগলো সজল।
.
.
হঠাৎ ঘরটির এক কোন আলগা হলে,কেউ ভেতরে প্রবেশ করলো বলে মনে হল;কিন্তু সাদা এবং আবছা কুয়াশা ঘরটির মতো তারাও একই রকম হওয়ায় ছায়াগুলোকে দেখা গেল না। কি যেন কথা বলছে? তাদের ভাষাগুলো বোঝার অবকাশ নেই,এমন ভাষা সজল আগে কখনো শুনেছে বলে বোধ হয় না। কিছুক্ষণ পর তাকে একি রকম অন্য একটি ঘরে নিয়ে এলো তবে এই ঘরটি আগের চেয়ে একটু বেশি শীতল।
.
.
একটি বেডে শয়ন করানো হল,কি ঘটবে তার সাথে,কে এই মানুষগুলো,তারা কি আদৌ মানুষ? এসবের উত্তর খুঁজতে লাগল সজল ভাবতে লাগল,এ কোন রবোমানুষের আবাসস্থল ? কিছুক্ষণ পর সজল বুঝতে পারল তার সাথে খারাপ কিছু একটা ঘটবে? সামনে কতগুলো ছায়া;গনা চার থেকে পাঁচটি যন্ত্র তার সামনে,যন্ত্রগুলোর সাথেও সে পরিচিত নয়,অনেক উন্নত যন্ত্রাংশ দিয়ে এগুলো তৈরী তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এমন যন্ত্র পৃথিবীতে আছে বলে মনে হয় না।
.
.
কিছু বুঝে উঠার আগেই তার মাথায় একটি যন্ত্রাংশ জুড়ে দিল। প্রচুর যন্ত্রনায় ছটফট করতে লাগলো সজল কিন্তু নিরাপত্তার জন্য হয়তো তারা আপাদমস্তক শক্ত কিছু দিয়ে বেধে রেখেছে তাই হয়তো এত যন্ত্রনার মাঝেও নড়াচড়া করার শক্তি পেলনা। তার মনে হচ্ছে সে এখনি শেষ হয়ে যাবে,ভাবতে লাগলো তার প্রিয়জনদের কথা;ক্ষানিক বাদে সজল অনুভব করছে কেউ একজন তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে!
.
.
"ডি-টুয়েন্টি';আমার কথা শুনতে পারছ?"
.
সজল উত্তর দিল,"হ্যাঁ,তোমরা কারা এবং কি চাও,আমি এখানে কি করে?"
.
"ডি-টুয়েন্টি, আমরা 'টার্সবাসীর' 'আর্কী';এখানে তোমাকে আমাদের আর্কশিপে করে এনেছি কাজের জন্য?"
.
"কি কাজ, ডি-টুয়েন্টি কি?" সজলের প্রশ্ন
.
"ডি-টুয়েন্টি তোমার নাম,আমরা বিপদে পরেছি যা থেকে বাঁচাতে সক্ষম বলে ধারনা একমাত্র তুমি; আমাদের শেষ উপায় হিসেবে তোমাকে আনা হয়েছে,তুমি নীলরঙা গ্রহের একজন বুদ্ধিমান প্রাণী, তুমিই পার আমাদের কে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।"
.
"শুধু আমি কেন,অন্য মানুষরাও ছিল তাদের আনতে পারতে"
.
"হ্যাঁ, আমরা তোমার মতো পূর্বেও আরো ঊনিশটি মানুষকে এনেছি তারা সমাধান দিতে ব্যর্থ, তাই তোমাকে এনেছি।"
এতক্ষনে সজল বুঝেছে কেন তার নাম ডি-টুয়েন্টি রাখা হয়েছে।
.
"কি বিপদ?" সজল প্রশ্ন করে
.
"আমদের টার্স গ্রহটির পাশে দুই হাজার আলোক বর্ষ দূরে 'থিনাস' গ্রহের অবস্থান,থিনাস থেকে প্রায় কাছে পাঁচশত আলোক বর্ষ দূরে এবং তোমাদের গ্রহ হতে তিন হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরে রাইপ-অ্যারিস্কা (দক্ষিণ-পূর্ব) দিকে 'রিকাস' গ্রহ যেখানে আমাদের প্রধান কে আটক করে রাখা হয়েছে এবং তার অনুপস্থিতির জন্য আমাদের বিপদ মাত্রা বেড়ে গিয়েছে।”
.
"তোমাদের প্রধান কে আটক করা হয়েছে জন্যই কি আসল বিপদ?"
.
"না। পরের অন্যতম কারণ হল; থিনাস এবং রিকাস গ্রহবাসীরা চায় আমাদের গ্রহকে দখল করতে। তিনশ প্র-এথেন্স পূর্বে থিনাসরা আমাদের গ্রহটিতে প্রথম আক্রমণ করে,তোমার অজানা যে আমাদের গ্রহটি ঠিক আলো-অন্ধকারে নিমজ্জিত কারণ তোমাদের সৌরের মত আমাদের 'ফিউরিস' আছে;তা থেকে এই গ্রহটি ২শত হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকায় এখানে মাত্র একরকম আলো আসে আর তাই গ্রহটি আলো-অন্ধকারে। আবার আমরা যেখানে আছি তাতে আলো-অন্ধকার একই সময়ে বর্তমান(সজল ভাবছে;হয়তো এই কারণে জানালা এবং উপরে এমন প্রতিফলন দেখেছিল)। আমদের প্রধান থাকতেন সেই অন্ধকারাচ্ছনে যেখানে খুব কম যোগাযোগ থাকে, সেখানেই আক্রমণ করে থিনাসের আর্কীরা আটক করে, তার ঠিক একশ প্র-এথেন্স পর রিকাসরা; কিন্তু প্রধানের এমন ঘটনার পর আমরা তৎপর হওয়ায় রিকাসদের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাবে যুদ্ধ হয়,ফলে রিকাসদের অনেক আর্কী বন্দী হয়। এই ঘটনা থিনাসরা জানতে পেরে যায় ফলস্বরূপ তারা এবং রিকাসরা সম্মিলিতভাবে কয়েকদিন পর আঘাত হানে, যেহেতু দুইপক্ষ তাই আমাদের হারটাই ছিল মূখ্য। এরপর আমাদের কে তারা শাসন করতে লাগলো,কিন্তু যেভাবে শাসন করছে তাতে প্রতিদিন আমাদের কম বেশি আর্কী মারা যাচ্ছে, এমন করে চললে মনে হয় আমদের গ্রহটি হারিয়ে যাবে। তুমি নীলরঙাগ্রহের বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী মস্তিষ্কধারী একজন মানুষ তাই আমাদের ধারনা তুমি সাহায্য করতে সক্ষম।"
.
.
সজল ভাবছে,কি করে এত বড় বিপদ কে পাড়ি দিবে;আবার তাকে যে নিয়ে আসা হয়েছে তা রিক-থিনারা জানেনা?
.
"তোমরা আমাকে নিয়ে এসেছ এটা রিক-থিনারা জানেনা?"
.
"না। প্রতি ১ এন্থেসে একবার তাদের গ্রহে ঘুরতে যায় তাই আজকেও গিয়েছে এবং তিন থেকে চার ইন্থস পর ফিরে আসবে, এই সুযোগে আমাদের আর্কী সেনাপ্রধান তোমাকে আনার জন্য অর্ডার করেছেন।”
.
.
সজল বিপদে পড়েছে,সে বুঝতে পারছে হয়ত এটাই তার ভাগ্যের জীবন ইতির একটি অধ্যায়।
.
"কি ভাবছ? তারা কেউ জানতে পারবে না তুমি এখানে কারণ এই সম্পর্কে তাদের ধারনা নেই,এটা আমাদের গ্রহের গুপ্ত গবেষণাগার, এখানে আর্কী সেনারা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেনা।"
.
"সঠিক তা ভাবছি না,তোমাদের কি ভাবে উদ্ধার করা যায় সেটা ভাবছি,সঙ্গে সঙ্গে অন্যআর্কীগুলো পরস্পরের মাঝে কথা বলতে লাগল অনেকটা প্রায় উম্মাদের মতো করে হয়তো এটা তাদের আনন্দক্ষণ।
.
"এখন তোমাকে অন্য ঘরে ট্রান্সফার করা হবে,আমরা এই কথাটা জানাতে সেনা প্রধানের কাছে যাচ্ছি।
.
.
সজল একাকীত্ব বোধ করে,ভাবতে থাকে;এমন মহাবিপদ কে কি ভাবে অতিক্রম করবে যদি নাই পারে তাহলে কেনই বা সম্মত হলো?
.
.
কেউ যেন শিশমহলে প্রেবেশ করলো ,সজল দেখতে পারছেনা কারণ তাদের রঙ আর ধোঁয়া একই!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মো. হাসানুল হক ...
মো. হাসানুল হক বান্না এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 3 weeks ago
Joined: বৃহস্পতিবার, আগস্ট 24, 2017 - 10:17পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর