নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট ট্র্যাজেডি: কে দায়ী?


শুরু করা যাক উইকিপিডিয়া দিয়ে:

” বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিতি রয়েছে কাঠমুন্ডুর ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের।

হিমালয় পর্বতমালার কারণে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি দেশ নেপাল। তাই প্রতিদিন প্রচুর যাত্রীও আসা-যাওয়া করেন এখানে। পর্বত ছাড়াও প্রায়ই ঘন কুয়াশা ঘিরে ফেলে ত্রিভুবন বিমানবন্দরকে। এ কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিপত্তিতে পড়তে হয় পাইলটদের। কিন্তু বিমান সংস্থাগুলো লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। চারপাশের উচুঁ পাহাড়-পর্বতে ঘেরা। এখানে উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে যেমন সতর্ক থাকতে হয়, তেমনি ওঠানোর সময় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হয়। ত্রিভুবনে অবতরণের সময় প্রধান বাধা একটি বিশাল পাহাড়, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। ত্রিভুবন বিমানবন্দরের নয় মাইল দূরে রয়েছে এই পাহাড়। এ জন্য এই রানওয়েতে কোনো উড়োজাহাজই সোজা অবতরণ করতে পারে না। ওই পাহাড় পেরোনোর পরপরই দ্রুত উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে হয়।

এখানে অটোমেটিক ল্যান্ডিং সিস্টেমও নেই। এ পদ্ধতি থাকলে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে রানওয়ের ৫০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় থাকা উড়োজাহাজকে নির্দেশনা দেওয়া যায়। অটোমেটিক ল্যান্ডিং সিস্টেম না থাকায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে ত্রিভুবনের রানওয়ের দিকে লক্ষ রাখতে হয় । তা ছাড়া এর রানওয়ের দুই পাশেই রয়েছে পাহাড়। কোনো কারণে উড়োজাহাজ ত্রিভুবন বিমানবন্দর এলাকা পেরিয়ে গেলে আবার নতুন হিসাব কষে অবতরণ করাতে হয়।

পর্বত-পাহাড়ের কারণে উড়োজাহাজ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আকাশের ওপর নিয়ে যেতে হয়। কারণ, ২৫ হাজার ফুট উচ্চতার অসংখ্য পর্বত রয়েছে। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সাড়ে ১১ হাজার ফুট ওপরে নিয়ে যাওয়ার পরই পাইলট ঠিক করেন কোন দিকে তাঁর উড়োজাহাজকে নিয়ে যেতে হবে।”

সুতরাং বোঝা গেল, ত্রিভুবন বিমানবন্দর কতটা বিপদজনক একটি এয়ারপোর্ট। কাজেই বাংলাদেশ থেকে কোন অবস্থাতেই এই এয়ারপোর্টে ভবিষ্যতে যেন কোন ফ্লাইট না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ফিরে আসি মূল ঘটনায়:

”ক্যাপ্টেন আবিদ, ইউ এস বাংলার চাকুরী থেকে রিজাইন দিয়েছিলেন ১১ তারিখ রাত নয়টায়। কারণ, ‘বেটার অপশন’ পেয়েছিলেন তিনি। ইউ.এস.বাংলা বিষয়টি ভালভাবে নেয় নি। পরদিন ক্যাপ্টেন আবিদকে সকাল ৭.৩০ এর ফ্লাইট এ চট্টগ্রামে পাঠানো হয়, সেখান থেকে ফিরতি ফ্লাইট নিয়ে তিনি ফিরে আসেন সকাল ৯.৩০ মিনিটে। তারপর আবার ১০.০০ টার ফ্লাইটে তাঁকে পাঠানো হয় চট্টগ্রামে এবং ফিরতি ফ্লাইট নিয়ে তিনি ফিরে আসেন ১২.০০ টায়। এত অল্প সময়ের বিরতিতে মোট চারবার ফ্লাইট পরিচালনা করানোর পরও যখন ইউ.এস.বাংলা কর্তৃপক্ষ ক্যাপ্টেন আবিদকে নেপালে ফ্লাই করতে বলে, তখন আবিদ প্রথমে তাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবুও চাকুরীর শেষ সময়ে কোম্পানীর যে কোন ধরণের বিড়ম্বনা এড়াতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি ফ্লাই করবেন।” এই কথাগুলি একেবারেই অভ্যন্তরীণ কথা। সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। অন্তত ক্যাপ্টেন আবিদের নতুন জব পাওয়া, ১১ তারিখের রিজাইন, সকালে চারবার ফ্লাই করা ইত্যাদি।

ল্যান্ড করার আগে কন্ট্রোল রুম থেকে যে কথোপকথন পাওয়া গিয়েছে ইউ টিউবে, তাতে বোঝা যায়, ক্যাপ্টেন আবিদ মাত্রাতিক্ত ভ্রমণজনিত কারণে কিছুটা অবসাদগ্রস্ত ছিলেন।

এবার আবার ফিরে আসা যাক, ত্রিভুবন বিমানবন্দরে:

একজন ভদ্রলোক অভিযোগ করেছেন যে,”ইউ.এস.বাংলার এই বিমানটি ১৭ বছরের পুরোনো একটি ছোট বিমান যা ২০১৫ সালে সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে আরো একবার স্কিডিং করেছিল রানওয়ে থেকে। সেসময় যাত্রী ছিল ৭১ জন এবং সাথে ছিল ভারী লাগেজ। যা হোক, ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে নামার সময় ক্যাপ্টেন আবিদ কন্ট্রোল টাওয়ারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কোন পয়েন্টে ল্যান্ড করবেন। এখানে রান ওয়ের দুটি দিক হচ্ছে ২০ (টু জিরো) পয়েন্ট এবং ০২(জিরো টু) পয়েন্ট।

কন্ট্রোল রুমে তখন দ্বিধা, কারণ কোন এক পয়েন্টে তখন ট্রাফিক আছে। তাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব বুঝতে পেরে ক্যাপ্টেন আবিদ বললেন, ঠিক আছে, আমরা এখনই নামছি না। আমরা অপেক্ষা করছি।

এর চল্লিশ সেকেণ্ড পর জানতে চাওয়া হয় ক্যাপ্টেন আবিদের কাছে, কোন দিক থেকে নামতে চান আপনি? পয়েন্ট ২০ নাকি ০২?

এবার ক্যাপ্টেন আবিদ জানালেন, ওকে আমরা ২০ দিয়ে নামতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে কোন এক ’বুড়ো’ বলে দিল ওকে আপনি ২০ দিয়েই ল্যান্ড করুন। কিন্তু ক্যাপ্টেন আবিদ ২০ (টু জিরো) দিক থেকে কিছু একটা ঝামেলা প্রত্যক্ষ করেন এবং সিদ্ধান্ত চেইঞ্জ করেন। তখন আবার জিজ্ঞেস করা হয়, আপনারা কি ২০ দিয়ে নামবেন? এবং ক্যাপ্টেন আবিদ জানান ”নেগেটিভ, স্যার”

এই অবস্থায় কন্ট্রোল রুম থেকে কেউ একজন বিষয়টা বুঝতে পেরে ক্যাপ্টেন আবিদকে ডান দিকে সরে যতে বলেন এবং আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্যে বলেন যে, নিশ্চয়ই আপনি এখন রানওয়ের পথে নন।

অবসন্ন ক্যাপ্টেন আবিদের মধ্যে বিরক্তি আসতে শুরু করেছিল। তিনি কথা না বাড়িয়ে বললেন, প্লিজ, রানওয়ে ক্লিয়ার করেন।

পাইলটের বিরক্তি টের পেয়েই কিনা কেউ একজন হুট করে বলে দিল, রানওয়ে ক্লিয়ার আছে এখন। কিন্তু এই ক্লিয়ারেন্সটা ছিল সম্ভবত পয়েন্ট ২০ (টু জিরো) এর দিক থেকে। কারণ, এইদিকটা দিয়েই পাইলট প্রথমে নামতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু শুরুর দিকে ঐদিকে কিছু একটা সমস্যা অনুভব করেছিলেন পাইলট, তাই জানালেন আমরা কিন্তু নামছি ০২ পয়েন্ট দিয়ে। সাত পাঁচ না দেখেই নেপালীরা বলে দিল ০২ পয়েন্টও ক্লিয়ার আছে, ল্যান্ড করুন। এই ক্লিয়ারেন্সটাই ডেকে আনল মহাবিপদ।

অবসন্ন ক্যাপ্টেন আবিদ আর অপেক্ষা করার মত মানসিক এবং শারীরিক অবস্থাতে নেই। অনুমতি পেয়েই ল্যান্ড করতে শুরু করলেন তিনি।

এর কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে আরেক নেপালী জানাল যে, ০২ পয়েন্টে ট্রাফিক আছে। আপনি কি হোল্ড করতে পারবেন? ল্যান্ডিং করার পথের এক অবসন্ন ক্যাপ্টেনকে বলা হচ্ছে হোল্ড করতে!! যেন, গলি রাস্তায় কোন ট্রাকচালক পার্কিং করতে যাচ্ছে, আর হেলপার বলছে থামতে!! ততক্ষণে ক্যাপ্টেন আবিদ জানিয়ে দিলেন, না তাঁর প্লেন আর ফিরে যাওয়ার অবস্থাতে নেই। ওরা যেন, রানওয়ে ক্লিয়ার রাখে। ল্যান্ডিং এর আরো কাছে চলে এলেন ক্যাপ্টেন আবিদ। তিনি আবারও অাহ্বান জানালেন, রানওয়ে ক্লিয়ার করুন প্লিজ!

নেপালীদের টনক নড়ে এবার। তারা এবার চিৎকার চেঁচামেঁচি করে জানায় ০২ ক্লিয়ার না...!!

এই অবস্থায় একজন ক্লান্ত বিধ্বস্ত ক্যাপ্টেন শেষ মুহূর্তে যাত্রী বাঁচাতে কী করতে চেয়েছিলেন, আমি জানি না। কিন্তু এতটুকু পরিষ্কার, ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে টাওয়ারের কর্মকর্তারা চূড়ান্ত হেয়ালী করেছিল এক অবসন্ন ক্যাপ্টেনের সাথে!

হয়তো কোন এক নেপালী অফিসার এই হেয়ালী সহ্য করতে পারেন নাই। তাই অডিও ক্লিপটি ছেড়ে দিয়েছেন ইউ.টিউবে। অভিযোগ ধেয়ে আসছে দেখে হয়তো ক্ষুব্ধ নেপালী সরকার সবকয়টাকে একযোগে বদলী করে দিয়েছে কথোপকথন (প্রমাণ) ফাঁস করে দেয়ার অপরাধে। কিন্তু সত্যি একটাও চাপা থাকবে না।

এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ এবং ইউ.এস.বাংলা উভয়পক্ষই চূড়ান্ত অপরাধ করছে ক্যাপ্টেন আবিদের সঙ্গে। আর জীবন দিয়ে তার মাশুল দিয়েছে অর্ধশতাধিক নিরীহ যাত্রী, সাথে আমাদের সম্পদ, আমাদের গর্ব ক্যাপ্টেন আবিদ আর সাহসী আত্মত্যাগী কো-পাইলট কণ্যা পৃথুলা রশীদ।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অনিন্দ্য বর্ষণ
অনিন্দ্য বর্ষণ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: সোমবার, এপ্রিল 10, 2017 - 2:32পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর