নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

কারোর জন্য বুক, কারোর জন্য পিঠ ; জাতীয় ক্রিকেট দলের বিমাতার আচরণ।


লেখাটার শুরুতেই বলে দিচ্ছি,যারা খেলার সাথে রাজনীতি মেশানো উচিত নয় মতাদর্শে আদর্শিত এই লেখাটি থেকে দূরে থাকুন, অনেক দূরে। আমি প্রতিটি খেলার মাঝে রাজনীতির গন্ধ পাই, তাই আপনাদের গভীরে গিয়ে পড়ার দরকার নেই এই লেখাটি। আমার এই লেখাটি রাজনীতি এবং খেলার মিশ্রিত একটি লেখা, ক্ষোভও ধরে নিতে পারেন, কারণ আমি এখনও ভুলিনি গতবছরের ১৫ই জুনের দিনটি, ভুলিনি আজও পাহাড়ে সেই জুন মাসের ভয়াভহ ভূমিধ্বসের হারিয়ে যাওয়া ১৫০ জনের অধিক তাজা প্রাণ।

নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় শোকাহত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সমবেদনা জানিয়েছেন নিহত ব্যক্তিদের পরিবার- পরিজনের প্রতি। মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছিলেন, নেপালের দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ দল আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে কালো ব্যাজ পরে নামবে। এও বলেছেন , কেবল কালো ব্যাজেই এই শোকের বহিঃপ্রকাশ সম্ভব নয়, ‘কাল যখন আমরা খবরটা শুনলাম, খুব মর্মাহত হয়েছি। শুনেছি, সেখানে ৩৫-৪০ জনের মতো বাংলাদেশি ছিল। খুবই মর্মান্তিক! তারা কারও না কারও খুব কাছের মানুষ। খুবই বেদনাদায়ক। তাঁদের পরিবার ও স্বজনকে সমবেদনা জানাই।”

মাহমুদউল্লাহর মতন নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় আমিও শোকাহত, শোকাহত হয়েছি একইদিনে মিরপুরের বস্তির হাজার ঘরবাড়ির পুড়ে যাওয়া খবর শুনেও। এতে কমপক্ষে হলেও ২০-২৫ হাজার মানুষ সয়-সম্বল হারিয়েছে। এই দ্রারিদ্রতার দেশে এর চেয়ে মহা বিপদ আর কি হতে পারে একজন গরীবের জন্য।

আমার মূল লেখার বিষয়বস্তু হচ্ছে -বাংলাদেশ দল আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে কালো ব্যাজ পরে নামবে। উইথ ড্যু রেস্পেক্ট ভিক্টিম এন্ড দেয়ার্স ফ্যামিলি, এই কালো ব্যাজের বিপরীতে আমার লেখাটি শুধুমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি।

সবাই জানেন যে,২০১৭ সালে জুন মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভয়াবহ ভুমিধ্বস হয়, এতে রাস্তাঘাট, পাহাড়, ঘরবাড়ি প্রচুর পরিমাণে ধ্বসে পরে। ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রচুর পরিমাণে, ১৫০ জনের অধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ এরকম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মরণকালে মুখোমুখি হয়নি। সেসময় প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় লাশগুলোর সংখ্যা বেড়ে চলছিল,৫০-৬০-৭০-১০০-১৩০ এভাবেই ১৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সে লাশের মধ্য ছিল আমার এক ১০-১২ বছরের মামাতো ভাইও। সেসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বৃটেনে গিয়েছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রপি খেলতে, কাকতালীয়ভাবে আগামীকালের মতন সেসময়ও ১৫ই জুন ছিল ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলাটি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন শোক জানিয়েছিলেন। যদিও এদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি বাক্যও খরচ করেন নি, সেসময় প্রধানমন্ত্রী দিব্যি ইউরোপ ঘুরে বেড়াচ্ছেন।দেশে এতো বড়ো ঘটনা ঘটার পর অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে নিশ্চয় দ্রুত দেশে ফিরে আসতেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াতেন। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রপির প্রতিযোগিতা চলার সময় লন্ডনে হামলা হয়, লন্ডনে হামলায় গভীর শোক জানিয়ে খেলতে নেমেছিল পরের ম্যাচে দুই দল। এই তো গতবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে কলকাতায় উড়ালসেতু ভেঙে পড়ায় কালো ফিতা বেধে খেলতে নেমেছিল ক্রিকাটারেরা। তাই সবাই ভেবেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট দলও সেদিন কালো ব্যাজ পরে মাঠে নামবে ভারতের বিপক্ষে এবং সমবেদনা জানাবে পার্বত্যবাসীদের প্রতি। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে বাংলাদেশের বীর ক্রিকেটাররা সেদিন কালো ব্যাজ পরে মাঠে নামেন নি এবং কেউ সমবেদনা পর্যন্ত জানায়নি।

রাগে,ক্ষোভে সেদিনই একটা স্ট্যাটস দিয়েছিলাম এভাবে- পাহাড়ে আর কয়টা লাশ হলে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন করা হবে, মৃতের সংখ্যা আর কতো হলে জাতীয় বীর মাশরাফিরা কালো ব্যাজ পরে মাঠে নেমে অন্তত এক মিনিট নীরবতা পালন করবে? ১ জন ১ জন করে প্রায় ১৫০ জন হয়ে গেলো লাশের সংখ্যা ,না জানি আর কতো লাশ মাটির নিচে চাঁপা পড়ে আছে ।

সেদিনই জেনেছি যে,এদেশে ক্রিকেটারেরও পাহাড়ি মানুষদের এদেশের নাগরিক হিসেবে দেখেনা, দেখে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ হিসেবে, যারা এদেশের অলিখিতভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণিত হয়। যদি পাহাড়িদের এদেশের মানুষ ভেবে থাকতো ,তাহলে অন্তত কালো ব্যাজ পরে মাঠে নামত সেদিন।

মাহমুদউল্লাহ, তামিমরা আগামীকাল কালো ব্যাজ পরে মাঠে নামবে। আমি অত্যন্ত খুশি, এর চেয়ে মহান আর কি হতে পারে শোকস্তব্দ পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানানোর। আমরা সবাই শোকাহত। কিন্তু ,আমার প্রশ্ন হচ্ছে পাহাড়িদের বেলায় কেন নয় ,পাহাড়িরাও তো এদেশের নাগরিক। তারাও এদেশটাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে। একজন বাঙালি যেমন এদেশটাকে ভালোবাসে,তেমনি একজন পাহাড়িও এদেশটাকে ভালোবাসে। সবাই এদেশটার মঙ্গল চায়।

ডিয়ার, তামিম,সৌম্য, মাহমুদউল্লাহ আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল, আপনারা যখন মাঠে নামেন, দেশের জন্য প্রতিনিধিত্ব করেন তখন এদেশের বাঙালি, পাহাড়ি ,সংখ্যাগুরু ,সংখ্যালঘু তথা সারাদেশের মানুষ তাকিয়ে থাকে, কারণ আপনারা শুধু বাঙালি জাতির জন্য খেলছেন না ,খেলছেন বাংলাদেশের জন্য। জানেন তো এদেশ শুধু বাঙালিদের না ,এদেশ বিভিন্ন জাতিসত্ত্বায় মেশানো দেশ । তাই কারোর জন্য বিমাতাসূলভ আচরণ করবেন না।

ভালো থাকবেন, আগামীকালের ম্যাচের জন্য পুরো দলের প্রতি অগ্রিম শুভকামনা থাকল।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বিশ্ব চাকমা
বিশ্ব চাকমা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 1, 2017 - 6:24অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর