নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নগরবালক
  • সলিম সাহা
  • বেহুলার ভেলা
  • লালসালু

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

জান্নাতের হুর পরীর বর্ণনা শুইনা মাথা ঘুইরা যাইবো !



(৩০১৮ সনের ঐতিহাসিক যেভাবে লিখবে ২০১৮ সনের ইতিহাস)
******************************************************************
২০১৮ সনের মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল যে, মৃত্যুর পর কবরে আল্লাহর তরফ থেকে ২-জন দেবদূত (যাকে তারা ফেরেস্তা বলতো) এসে প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির হিসেব চাইবে ও নানাবিধ প্রশ্ন করবে। যারা ঐসব প্রশ্নের সঠিক জবাব ও হিসেব ঠিকভাবে দিতে পারবে না, তাদের ‘কবর’ থেকেই তাৎক্ষণিক কঠিন শাস্তি দেয়া শুরু হবে, আর যারা সঠিক জবাব দিতে পারবে, তারা কবরে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকবে ‘ফাইনাল জাজমেন্ট’ হওয়ার আগ পর্যন্ত। মুসলমানরা কেবল তাদের ধর্মকেই ‘নিখুঁত’ মনে করতো, ঐ সময়ের প্রচলিত বাকি ধর্মগুলো মুসলমানদের বিবেচনায় ভেজালে পূর্ণ ছিল। কোরানে বিশ্বাসী ইসলামপন্থীদের মতে - তাওরাত, যবুর ও ইঞ্চিল আল্লাহ প্রদত্ত আসমানী কিতাব হলেও, তা ইহুদী ও খ্রীস্টানদের হাতে নানাভাবে ‘বিকৃত’ হয়েছিল বিধায়, সর্বশেষ আসমানী কিতাব কোরান সম্পূর্ণ ‘নিখুঁত’ ছিল। তা ছাড়া ইসলাম পৃথিবীতে প্রেরণের কারণে পূর্ববর্তী সকল ধর্ম ‘বাতিল’ হয়ে গিয়েছিল। আসমানী কিতাব অনুসারী ধর্ম (ইহুদী, খ্রীষ্টান) ছাড়া অন্য ধর্মগুলোর রীতিনীতি মুসলমানদের কাছে নিতান্তই তুচ্ছ ও ‘হাস্যকর’ ছিল। মুসলমানদের বিশ্বাস মতে ‘‘মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্ম অনুসারী কোন মানুষই স্বর্গ বা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না’’।
:
এ ধর্ম মতে মৃত্যুর পর জান্নাত হবে ৮টি স্তরের। জান্নাতীদের উচ্চতা হবে ষাট হাত লম্বা এবং তাদের ঘাম থেকে মিশকের গন্ধ বের হবে। প্রত্যেককে ২-জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। জান্নাতে স্বর্ণখচিত আসন; উন্নত যৌবনা অপ্সরা; পবিত্র মদ; রেশমের আস্তর বিশিষ্ট ফরাস; কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ; সম্প্রসারিত ছায়া; স্বচ্ছ শীতল পানি; দুধ ও মধুর স্রোতধারা; মাছের কলজে; পাখির মাংস; আংগুর-জয়তুন-ডুমুর জাতীয় ফল; স্বর্ণের চিরুণী; সুগন্ধময় ধূপদানী; উরুর হাড় মাংসের ভেতর দিয়ে দেখা যায় এমন ট্রান্সপারেন্ট স্ত্রী; ফাঁপা মুক্তার তৈরী ৬০-মাইল উচ্চতা বিশিষ্ট তাবু যার প্রত্যেক কোনে থাকবে আয়তলোচনা (হুর) অপ্সরীরা অপেক্ষমান; উচ্চতর বৃক্ষ, যা ১০০ বছরেও একটি দ্রুতগামী ঘোড়া দৌঁড়ে অতিক্রমে অক্ষম; শুক্রবারে বিশেষ বেহেস্তী বাজারের আয়োজন; অমর অধিবাসী; চিরকালীন সুস্থ্যতা; চিরযৌবনময়তা; চির সুখসময় ভোগের সামগ্রী ইত্যাদি। জান্নাতের তাবু হবে মোতির গাঁথুনি দেয়া, বাসিন্দাদের আংটি আগরবাতির ন্যায় জ্বলজ্বল করবে, দরজা হবে ৮-টি, এর ভবনের ইট হবে মোতি নির্মিত ও মাটি হবে মেশক-এর (বুখারী-৩০০৩-৫,১৪,৮১,৯৫)। আদন বেহেস্তের ঝরণায় ডুব দিলে কুৎসিত ব্যক্তিরও সুশ্রী মানুষে রূপান্তর ঘটবে (বুখারী-৪৩১৩)। সকল পাত্র ও জিনিস স্বর্ণ-রৌপ্য নির্মিত হবে (বুখারী-৪৫১২)। হাউজে কাওসার নামক নহরের তীরে ফাঁপা মোতির তৈরী তাবু পাতা থাকবে (বুখারী-৪৫৯৫)। ‘বালাম’ ও ‘নুন’ (ষাঁড় ও মাছের কলজের অতিরিক্ত অংশ) হবে জান্নাতীদের তরকারী (বুখারী-৬০৭০)। হাউসে কাউসারের পানি হবে দুধের মত সাদা, ঘ্রাণ হবে মৃগনাভীর চেয়ে অধিক, পান-পাত্র নক্ষত্রের ন্যায় উজ্জ্বল হবে (বুখারী-৬১২২)। হাউসের দূরত্ব/দৈর্ঘ হবে মদীনা থেকে সানা’র দূরত্বের সমান (বুখারী-৬১৩২)। জান্নাতের সুগন্ধ ৪০-বছরের দূর থেকেও পাওয়া যাবে (বুখারী-৬৪৩৪)। ২-টি জান্নাতের পানপাত্রসহ সব কিছুই হবে সোনার, আবার ২-টি জান্নাতের পানপাত্রসহ সব কিছুই হবে রূপার (বুখারী-৬৯২৬)।
:
ইসলামের নবীকন্যা ফাতিমা জান্নাতী নারীদের নেত্রী হবেন (বুখারী-৩৩৫৪)। জান্নাতের প্রতিটি গাছের ডালপালা স্বর্ণের তৈরী, কক্ষগুলো হবে ট্রান্সপারেন্ট, একশত স্তর বিশিষ্ট, ৭০-জোড়া কাপড়ের ভেতর থেকে জান্নাতী নারীর পায়ের গোছার উজ্জ্বলতা দেখা যাবে, প্রত্যেক পুরুষকে ১০০-জনের সমান যৌনশক্তি দেয়া হবে, জিনিসপত্র সূর্যের চেয়ে বেশি আলোকজ্জ্বল, অধিবাসীর দেহে লোম, দাঁড়ি-গোফ থাকবেনা, চোখে সুরমা লাগানো থাকবে, কাপড় পুরণো হবেনা, আসমান-যমীনের সমান সুউচ্চ বিছানা থাকবে, গাছের ফল হবে মটকার মতো, পতঙ্গগুলো হবে সোনার, পাখিগুলোর ঘাড় উটের ঘাড়ের মতো উঁচু হবে, ডানাওয়ালা মনিমুক্তার উড়ন্ত ঘোড়া থাকবে, অধিবাসী যুবকদের বয়স হবে সকলের ৩০-৩৩ বছর, প্রবেশদ্বার হবে দ্রুতগামী ঘোড়ার ৩-দিনের পথ।
:
সাধারণ জান্নাতীও ৮০-হাজার খাদেম ও ৭২-জন হুর পাবে, জান্নাতবাসীরা মেশক, কস্ত্তরী ও কর্পুরের স্ত্তপের উপর আসন পাবে, আল্লাহকে তারা সামনা সামনি দেখবে, কথা বলবে ও আল্লাহ তাদেরকে ‘অমুকের পুত্র অমুক’ বলে ডাক দেবে। মেঘ ছায়া দেবে ও সুগন্ধীযুক্ত বৃষ্টি বর্ষাবে, বেহেস্তী বাজার থেকে ফিরে এসে নিজ নিজ স্ত্রীদের সাক্ষাত মিলবে, জান্নাতী বাজারে শুধু নারী-পুরুষের প্রতিকৃতি বিক্রয় হবে, সাধারণ জান্নাতীর জিনিসপত্র দেখতে চাইলেও তা হাজার বছরের দূরত্বের রাস্তার সমান হবে, বাইরে কষ্ট মুছিবতের জিনিস দ্বারা বেহেস্ত পরিবেষ্টিত থাকবে, যমরুদ ও ইয়াকুতের তাবু থাকবে, মাথায় মুক্তাখচিত মুকুট পড়ানো হবে; পানি, মধু, দুধ ও শরাবের সাগর থাকবে, হুর-রা সমবেত হয়ে গান গাইবে, জান্নাতে মুসলমানদের থাকবে ৮০টি কাতার ও অন্য সকল নবীদের থাকবে ৪০টি কাতার (তিরমিযী-২৪৬২-২৫১০)। হাওযে কাওসারের পানপাত্রের সংখ্যা হবে গ্রহ ও তারকারাজির সংখ্যার চাইতেও বেশি, বিস্মৃতি হবে কুফা থেকে হাজরে আসওয়াত পর্যন্ত (তিরমিযী-২৩৮৭), জান্নাতের সুবাস ৭০-বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায় (তিরমিযী-১৩৪৩)।
:
হাদীসে আছে, একজন সাধারণ বেহেশ্তী যে স্হান লাভ করবে , তা সমগ্র দুনিয়া ও দুনিয়ার দশগুন স্হানের সমান হবে । -মুসলিম, মেশকাত । উল্লেখ আছে, জান্নাতে সর্বপ্রথম প্রবেশকারী দলের সুরত হবে চৈাদ্দ তারিখের চাদের উজ্জ্বলতার মত, তাদের প্রত্যেককে একশত মানুষের শক্তি প্রদান করা হবে । খানা-পিনা, নাক-মুখের ময়লা, ঘুম ও থু থু এবং পেশাব পায়খানাসহ মানবিক কোন প্রয়োজন সৃষ্টি হবে না। জান্নাতি হুররা দেখতে ইয়াকুত ও মারজানের মত হবে । তাদের চেহারার উজ্জ্বলতা দৃষ্টি শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারবেনা । তারা পোশাকে আয়না অপেক্ষা অধিক স্বচ্ছ ও পরিস্কার হবে । মামুলী একজনের গায়ের উজ্জ্বলতা মাশরিক ও মাগরেবকে আলোকিত করে তুলবে । প্রত্যেক হুরই সত্তর তা কাপড়ের পোশাকে সজ্জিত থাকবে , যার সূক্ষতার দরুণ তাদের রৈাপ্য সদৃশ পায়ের গোছা পর্যন্ত দৃষ্টি গোচর হবে । জান্নাতে প্রত্যেক মুমিন-ই হযরত আদম (আ.) এর মত লম্বা-চওড়া হবে ,ইউসুফ (আ.) এর মত সুন্দর যুবক হবে । কখনও বৃদ্ধ হবে না । কন্ঠ হযরত দাউদ (আ.) এর মত সুন্দর হবে। জান্নাতী হুরদেরকে আল্লাহ তায়ালা মিশক, জাফরান দ্বারা পয়দা করেছেন, আবে-হায়াত দ্বারা খামির তৈরী করেছেন। তাদের সৈান্দর্য্যের দরুণ হাড্ডির সিরা-উপসিরা পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর হবে। বেহেশ্তী পুরুষের জন্য আয়নার দরকার হবে না। হুরের সর্ব শরীর, বুক, মুখ ও চেহারার নুরানী আলোতেই তাদের আয়নার কাজ হবে । আকাশের বড় উজ্জ্বল তারার চেয়ে হুরদের মাথার চুল বেশি উজ্জ্বল ও পরিস্কার হবে। তাদের সমস্ত শরীর মেশক জাফরানের সুবাস ভরা ও কস্তরী মাখা । তাদের এক এক হাতে দশ গোছা করে সুন্দর মণি মুক্তার চূড়ি থাকবে । হাদীসে আছে, একদিন ফেরেশ্তা জিব্রাঈল (আ.) এক হুরের রূপ দেখে বেহুশ হয়ে পড়েছিলেন। হাদীসে আছে, গভীর অন্ধকার রাতে যদি কোন হুর তার কনিষ্ঠ আঙ্গুলকে দুনিয়ায় প্রকাশ করেন তাহলে তার দ্বারা পৃথিবী আলোকিত হয়ে যাবে, মুখের এক ফোটা লালা সমুদ্রে নিক্ষেপ করলে, সমুদ্রের পানি মিষ্টি হয়ে যাবে । এতদসত্বেও তারা পৃথিবীর নারীকূলের সেবিকা হয়ে থাকবে। এক একজন পুরুষ বেহেশ্তের মধ্যে ৭০/৭২ জন করে হুর পাবেন।
:
বেহেশ্তেী পুরুষ হুরগণের সাথে যতই সঙ্গম করুক, তবু তাদের শরীর কখনো দুর্বল হবেনা । বরং যতই সঙ্গম করবে, ততই তাদের শরীরে কান্তি ফু্টে উঠবে, রূপ বাড়বে, শক্তি বৃদ্ধি পাবে । আর দুনিয়ার সঙ্গমের চেয়ে ৭০-গুণ বেশি সঙ্গম-স্বাদ পাওয়া যাবে। এখন স্বামী সঙ্গমে মেয়েদের রূপ নষ্ট হয়ে যায়, শরীর ভেঙ্গে পড়ে । তখন এমন হবে না । মেয়েদের শরীর সব সময় কুমারী মেয়েদের অনুরূপ থাকবে । দুনিয়াতে মানুষ বুড়ো হয়, রোগ-শোকে শরীর ক্ষীণ হয় কিন্তু সেখানে তা হবে না । বরং দিন দিন শরীর আরো ভালো হবে। বেহ্শ্তেী নারী-পুরুষ চিরদিন এভাবে, এমন সুখেই কাটবে । জান্নাতী ফলের পার্থক্য হলো তার কোন দানা, কাটা এবং খোসা থাকবেনা । পরিস্কার অথবা ছিলানোর কোন প্রয়োজন হবে না, সরাসরি ভক্ষণ করা যাবে । মুমিন তার ইচ্ছমত ভক্ষণ করতে পারবে । দাড়িয়ে, বসে বা শুয়ে সর্বাবস্হায় বিনা কষ্টে ইচ্ছা করলেই সরাসরি মুখে এসে পড়বে । জান্নাতে চারটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হবে। একটি দুধের, দ্বিতীয়টি মধুর, তৃতীয়টি শরাবের এবং চতুর্থটি পানির । একটি অপরটির সাথে সংমিশ্রণ হবে না। অন্য হাদিসে আছে, জান্নাতের শরাবে কর্ফুরের সুঘ্রাণ থাকবে , দুনিয়ার শরাবের মত টক ও মত্ততা হবে না । এতে সঙ্গাহীনতার অবকাশ নেই, নেই বমি হওয়ার সুযোগ । টগবগ করবেনা, থাকবেনা কোন দুর্গন্ধ- এমনই হবে জান্নাতি শরাব । নবী করিম (সা.) বলেছেন, সেই হবে নিম্নতম বেহেশ্তী, যার আশি হাজার খাদেম ও বাহাত্তর স্ত্রী থাকবে । তার জন্য মোতি এবং জবরজদ ও ইয়াকুত পাথরে নির্মিত এমন এক অট্রালিকা থাকবে, যা দৈর্ঘ্যে প্রস্হে জবীয়া হতে সানা পর্যন্ত পথের সমান বিস্তৃত । - তিরমিযি

(সূত্র : http://supqp.blogspot.com/2015/03/blog-post_71.html)

Comments

 

এখন প্রশ্ন হল কারা যাবে ওখানে ? ফয়জুলরা, যারা ইসলামের প্রায় সকল নিয়ম মেনে চলেন নাকি তারা যারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করেন কিন্তু কোরান হাদিস অনুযায়ী জীবন যাপন করেন না বা করতে লজ্জা বোধ করেন এবং ফয়জুলদেরকে জঙ্গি বলেন ।

Mita

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 14 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর