নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

একটি বিখ্যাত চিঠি


প্রিয় ইসাবেল,
গতবার আমি বলেছিলাম মনে সুখ থাকলে কবিতা লেখা যায় না।আজ রাতে আমার মন ভীষন রকম অন্ধকার লক্ষ করছি,কালো গোলাপের মতোই।শেষবার বিদায় বলার সময় আমার ভীষন কষ্ট হচ্ছিল-মনে হতো হৃদয়টা ছিঁড়ে খাচ্ছে কাক আর শকুন।যাহোক,কাল শুনছি প্রধাণমন্ত্রী আমাদের শহর সফরে আসবেন,তাই শহরটা আজকে অনেক সুরক্ষিত-সবাই নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে;শুধু আমারই কেবল ঘুমাবার কোনো যুক্তিযুক্ত কারন খুঁজে পাচ্ছি না।সফরের কথায় মনে পড়ল-এবার হেমন্তে আমাদের ফিলিস্তিন ভ্রমণ হচ্ছে না,তোমার হাজবেন্ট শীতে তোমাকে নিয়ে কাশ্মীর সফরে যাচ্ছেন শুনলাম।পিচ্চিটার দিকে নজর দিও –এ বছর কাশ্মীরে শুনলাম অনেক ঠান্ডা পড়বে।আমার জন্য চিন্তা কোরো না আমি জানালায় দাঁড়িয়ে রাস্তায় বরফ পড়া দেখে দেখে শীতটা কাটিয়ে দেবো।তুমি হয়ত দেখোনি, আমি হ্যামিল্টন বিচের একটা কফি মেকার কিনেছি-বেশি খারাপ লাগলে নিজের জন্য এক কাপ কফি কোরে নেব।বাসার কাজের ছেলেটা,(ফিলিপস) গ্রামে চলে গেছে,ফিরবে না বলেছে।এই শীতে আর লোক পাওয়া যাবে না ঠিক।কিন্তু তাই বলে, দুশ্চিন্তা কোরো না আমি না খেয়ে থাকব না।ফুডপিওন আছে না!ওহ!মনে পড়ে গেলো ,সেই ফুলদানীটা;যেটা তুমি প্রথম ডেটে আমাকে গিফট করেছিলে ওটা গত সপ্তাহে ফিলিপসের হাত থেকে পড়ে ভেঙে গ্যাছে।টুকরোগুলো ডাস্টবিনে ফেলিনি,রেখে দিয়েছি আমার আলমারির গরম কাপড়ের মধ্যে।তোমার কুকুরটা(হারবার্ট) ক্যামন আছে?এখনো হুটহাট মাঝরাতে ডাকে?তোমার হাজব্যান্ট শেষমেষ ওকে মেনে নিয়েছে শুনে খুব ভালো লেগেছিল।মনে আছে,ওর গলার লকেটে তুমি আমাকে চিঠি দিতে আমাকে?আর ওই হিজবার্ট,কোকরা চুলের ফিরিঙি লোকটা,একবার হারবার্টকে আটকে রাখতে চেয়েছিল,আর হারবার্ট ওর পাজামাটা টেনে ছিঁড়ে দিয়েছিল।হা,হা,হা!পুরনো স্মৃতিগুলো অনেক হাসায়,আবার কাঁদায় ও।তোমার মনে আছে?আমাদের প্রেমের দিনগুলোতে আমি দিনলিপি লিখতাম(এখন যদিও আর লিখি না);গত সপ্তাহে পুরনো বুকসেলফ পরিষ্কার করতে গিয়ে তার একটা ডায়েরি পেয়েছিলাম।হাত দিয়ে ঘষা দিতেই বেরিয়ে এলো “ওয়াটারস্টোনস ১৯৯৫”।ভেবেছিলাম পড়ব, তাই আলমারির পাশের সেলফটাতে রেখেছিলাম।বাইরে থেকে এসে শুনলাম ফিলিপস ওটাকে কাগজওয়ালার কাছে দিয়ে দিয়েছে।আমি ফিলিপসকে কিছু বলি নি।হয়ত ঈশ্বর এমনটাই চেয়েছেন,হয়ত সময় এমনটাই চেয়েছে।সময়ই তো ঈশ্বর।আমি কাফকার প্রেমপত্র বইটা পড়ে শেষ করেছি(বেশ সরেস প্রেমিক ছিলেন লোকটা বটেই),যে বইটা আমার প্রতিবেশী বিধবা মহিলা আমাকে দিয়েছিলেন-তোমাকে লিখেছিলাম তো এ ব্যাপারে।চিঠির ওপাড়ে আমি তোমার বিষাক্ত রাগী মুখটা দেখতে পাচ্ছিলাম আর মনে মনে কৌতুকবোধ করছিলাম।আমি জানি,তুমি এখনো আমার পাশে কোনো মেয়েকে দেখতে পারো না।তাইতো এখনো আমি—
প্রিয়তমা ফ্রাউলিন(এই নামেই ডাকতাম তোমায়),আজকাল এক উর্দু কবির অনুরাগী হয়ে পড়েছি-আহমেদ বিলাল।এইমুহুর্তে তোমাকে লিখছি আর গ্রামোফোনে ওনার কবিতা শুনছি।ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের করুন ভায়োলিনের সুরটা আমার হৃদপিন্ডে খোঁচা দিচ্ছে,মনে হচ্ছে হৃদপিন্ড এফোড়-ওফোড় করে আছে একটা গ্রামোফোন পিন।তোমার মনে আছে স্কুলের দিনগুলোতে তোমায় কবিতা লিখতাম,আর তুমি বানান ভুল ধরতে চিঠিতে।গোলগোল লাল দাগ দিয়ে চিঠিগুলো ফেরত দিতে আমার কাছে।আমি আবার চিঠি লিখতাম,এবারো অনেকগুলো বানান ভুল থাকতো।আসলে মানুষ হিসেবে নিজেদের ভুলগুলো খুব সহজে আমাদের চোখে পড়ে না,যখন পড়ে তখন শুধরোবার সময় থাকে না।একবার একটা চিঠি তোমার মায়ের হাতে পড়েছিল,তোমার মা কি বড়বড় চোখ করে তাকিয়েছিলেন আমার দিকে,আমার মায়ের কাছেও নালিশ করেছিলেন।তবে আমার কবিতা লেখার উৎসাহ দমেনি,বানানের ভুলগুলোও কিঞ্চিৎ কমেনি।ইসাবেল,এবার শীতকালে শুনলাম খুব ঠান্ডা পড়বে,বরফ ও পড়বে খুব।ঠিক যেমন পড়েছিল ওই বছর যেবছর তুমি আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে।মনে আছে সেই সেদিন ফায়ার প্লেসের সামনে বসে আমি কাপছিলাম ঠাণ্ডায়।রাত ১২ টা বাজতে না বাজতেই গা কাপিয়ে জ্বর এলো।সেই জ্বর সারল টানা একুশ দিন হাসপাতালের নির্জন কেবিনে দিন গুনে।ততোদিনে তুমি চলে গেছো তোমার শ্বশুরবাড়ি।শুনলাম তোমার হাজব্যান্ট বিরাট বড় আর্কিটেক্ট ও বিজনেজম্যান,ছয়ফুট লম্বা,কটা চোখ,কোকড়া চুল,গায়ের রঙ কাঁচাসোনার মত,কেমব্রিজের ছাত্র;ব্রেইন উইদ বিউটি যাকে বলে।ইসাবেল,ওইদিনগুলোতে আমার মনে হতো,ছুটে যাই তোমার কাছে,ধরে নিয়ে আসি,সব শৃঙ্খল মেকি মনে হতো।এখন আর হয় না।আচ্ছা,ব্রায়ান সাহেব(তোমার স্বামী) কি তোমাকে ঠিকমত সময় দিতে পারেন,শুনেছি লাখোপতিদের সময় অনেক মূল্যবান।মিনিটে মিনিটে টাকা প্রসব করে।আচ্ছা,ব্রায়ান সাহেব যখন দেশের বাইরে থাকেন তোমায় চিঠি লেখেন?আর তুমি চিঠিগুলো ন্যাপথ্যালিন আর পালকের সাথে বাক্সে ভরে রাখো,তোমার চিঠির বাক্সে?যেমনটা আগে করতে?কি করে জানলাম?তুমি যাবার পড়ে তোমার মা,একটা বাক্স দিয়ে গেছিলেন আমাদের বাড়িতে,ঠিকই ভেবেছো তোমার চিঠির বাক্স।বাক্সটা এখনো আমার কাছে আছে।আমি মাঝেমাঝে খুলি ন্যাপথ্যালিন এর গন্ধ পাই,তার চেয়েও বেশী পাই পুরনো কাগজ আর পুরনো স্মৃতির গন্ধ।ওহ!গত চিঠিতে তুমি আমার শরীরের কথা জিজ্ঞেস করেছিলে।আমার কাশিটা বেড়েছে কিনা,জানতে চেয়েছো?কাশি অনেকটাই কমেছে ,কাশির সাথে রক্তটা আর আসছে না।ডাক্তারসাহেব,যক্ষার সম্ভাবনা নাকোচ করেছেন।ইদানীং ঘরকন্নার কাজে অনেক ব্যস্ত থাকো মনে হচ্ছে,বহুদিন তোমার চিঠি পাই না।শেষ চিঠি পেয়েছিলাম আট মাস আগে।যদিও এর মধ্যে আমার অনেকগুলো চিঠি চলে গেছে তোমার ডাকবাক্স বরাবর।তুমি তোও জানোই,আমি কাফকার মতোই একজন অস্থিরচিত্তের পত্রলেখক।তোমার শরীরের দিকে খেয়াল রেখো,বৃষ্টি দেখলেই ভেজার অভ্যাসটা তোমার কি এখনো আছে?বাদ দেবার চেষ্টা কোরো।মনে আছে ,স্কুল ছুটির পর বৃষ্টিতে সাইকেল নিয়ে ছুটতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে তোমার হাটুর একটু উপরে ছড়ে গেছিল?সেই প্রথম তোমার হাঁটু দেখেছি,তুমি কিশোরী বয়সের লজ্জায় মুখ ঢেকেছিলে দু হাতের দশাঙ্গুলে।টিংচার আয়োডিন লাগানোর সময় জড়িয়ে ধরেছিলে আমাকে,টেনে ছিঁড়ে ফেলেছিলে আমার যুবা বয়সী বুকের কয়েকগাছা সদ্যোওঠা লোম।বয়স তো কম হলো না,আমার তো চুল পেকে গ্যাছে।তোমার পেকেছে কি না,জানতে ইচ্ছে করে কত বছর দেখিনা তোমায়।শেষবার তোমায় দেখেছিলাম তোমাদের বাড়ির জানালায় একপলকের জন্যে,মেরি ক্রিসমাস উপলক্ষে বাপের বাড়িতে এসেছিলে তুমি।তখনো তোমার সন্তান হয়নি।শ্বশুরবাড়ির ভালো পরিবেশে মুখটা আরো কতক গোলগাল হয়েছিল,রংটা আরো জ্বলজ্বল করছিল,যেন পুরনো সোনায় সোনা্রের নতুন টান লেগে চকচক করে উঠেছে।তারপর তোমার দুদুটো ছেলে হলো-জন ও জিসবার্ট।তারপরে আর হয়ত ব্যস্ততায় বাপের বাড়ি আসা হয় নি তোমার,দেখাও হয়নি তোমাকে বাড়ির জানালায়।ইসাবেল,ইসাবেল শব্দের অর্থ জানো নিশ্চয়-“ঈশ্বরের প্রিয়পাত্রী।“তাই হয়ত ঈশ্বর তোমাকে এতো ভালোবাসে।আমি নাস্তিক,কাফের তাই হয়ত তার আনুকুল্যবঞ্চিত।তবে কামনা করছি সুখে থাকো স্বামী স্ংসার নিয়ে।শীতে কাশ্মীর ভ্রমণ সেরে এসে একটা চিঠি দিও,নিশ্চয়ই সময় পেলে।জানিয়ো শীতে কাশ্মীরের গাছগুলো কিভাবে দিন কাটায়,গরম কাপড় ছাড়াই।ভালো থেকো।
ইতি,

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কৌশিক মজুমদার শুভ
কৌশিক মজুমদার শুভ এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 42 min ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 7:31অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর