নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

ঠিক আজকের এই দিনে পৃথিবী অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে মানবিক


ধরেন, দুনিয়ার মানুষ অযথা সময় অপচয় নষ্ট করলো। ফুটবল, ক্রিকেট খেলা না দেখে মানুষ মশা মারা শুরু করলো। গ্রামের মানুষজন হাটবাজারে বেহুদা না আড্ডাইয়া আগাছা বাছা শুরু করলো, ইঁদুর দমন অভিযানে নামলো। তামাক চাবানো আর গেলা দুইটাই আইন ব্যতিরেকে নিজেদের ভালোর জন্য খাওয়া বাতিল করে দিলো। বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো সিগারেটের ব্যবসা বাদ দিয়ে শিশুখাদ্যের ব্যবসায় নেমে গেলো, নাম হইলো ব্রিটিশ আমেরিকান বেবী ফুডস। এইরকম আদর্শ উৎপাদনশীল, ইতিবাচক জীবনধারা পৃথিবীর মানুষকে খাদ্যের নিরাপত্তা দিবে, উন্নত ও দীর্ঘ জীবন দিবে। সমৃদ্ধির কারণে হানাহানি থাকবার কথা না। সুখ প্রাচুর্য্যে ভরে থাকবার কথা দুনিয়ার। কিন্তু পৃথিবী কখনো এমন হবে না, হওয়া সম্ভব না। মানবজাতি কেবল ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে, সমৃদ্ধির দিকে যাইতে পারে, সকলের কমবেশি মানসিক প্রগতি আসবে। প্রগতি মানে মেয়েদের যেমন ইচ্ছা তেমন পোষাক পরতে পারা আর পুরুষের নারীর বুকের দিকে অলক্ষ্যেও না তাকানো না, প্রগতি অন্য জিনিস, মানুষের ক্ষেত্রে প্রগতি আসলে মানসিক ব্যাপার। সামগ্রিক আচরণ আর চরিত্রগত ব্যাপারস্যাপার মিলে সিংগেল এনটিটি।

আজকের এই দিনে মানুষের জানা অজানা যাই বলেন না কেন, পৃথিবীটা সবচেয়ে মানবিক অবস্থানে আছে। ১০ বছর আগে, ১০০ বছর আগে পৃথিবীর অবস্থা সামগ্রিকভাবে আরও খারাপ ছিল। অনেকে গালি দেন, অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেন আমাদের সমাজ নষ্ট হয়ে গেছে, দেশ জাতি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। যত যাই বলেন, আজকের এই দিনে, এই মুহূর্তে উন্নতি, সমৃদ্ধি আর প্রগতির বিবেচনায় দেশ আর জাতি সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। যদিও ঠিক এই মুহূর্তে মানুষের হাতে পুরো পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ শ'খানেক বার ধ্বংস করবার মত বিস্ফোরক মজুদ আছে। পৃথিবীর সব কয়টা মানুষকে অন্তত ১০০ বার গুলি করে মারবার সমান সংখ্যক রাউন্ড বুলেট আছে। এত বিধ্বংসী ইন্তেজাম হাতে থাকবার পরেও আজকের পৃথিবীই সবচেয়ে বাসযোগ্য অন্য যে কোনো সময়ের সাপেক্ষে।

যারা সমাজ নষ্ট হয়ে গেছে বুলিতে বিশ্বাসী আর এই কারণে মনে আশা রাখাও ছেড়ে দিছেন, তারা মানুষের অতীত ইতিহাস জানেন না। মানুষের অতীতের ইতিহাস রক্তপাত, হিংসা, ঘৃণা, দাঙ্গা, জাতিগত বিদ্বেষ, অনাচার, অবিচার এসবের ইতিহাস। আজ থেকে মাত্র ১০০ বছর আগেও দুনিয়ার বুকে উন্নত সভ্যতার দেশে দাস কেনাবেচা হতো। আজ থেকে অল্প কয়েকদশক আগেও পৃথিবীর নানা দেশে রাজা বাদশাহদের হারেম ছিল (এখনো আছে, রয়ে সয়ে, অন্যভাবে), গত শতাব্দীতেই জার্মানরা ৬ মিলিয়ন ইহুদী মেরে ফেললো, জাপানীরা যেদিক দিয়ে গেছে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে গেছে, আমেরিকা হিরোশিমা নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা মারলো (আমার মতে এই বোমা ফেলাটা যৌক্তিক ছিল নানা দিক বিবেচনায়), বাংলাদেশে পাকিস্তানীরা লক্ষ লখ বাঙালি মারলো, কম্বোডীয়ায় নিজ জাতির খেমাররুজ বিদ্রোহীরা নিজের জাতির প্রায় ২০ লক্ষ লোক মেরে ফেললো, ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক বড় ঘটনা ঘটছিল। শুরু থেকে যদি খেয়াল করেন, সময় যত এগিয়ে গেছে, কোনো অনাচারের পর যারা অন্যায় করেছিল তাদের দেশে প্রতিবাদ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাইছে। আজকের জার্মানি কি নিজের দেশের একটা ইহুদী মারবার পর আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে পারবে? আজকের দিকে আফ্রিকার কোনো দেশে প্রকাশ্যেও কি আপনি মানুষ কেনাবেচা করতে পারবেন (গোপনে আমেরিকায়ও মানুষ কেনাবেচা হয়)?আজকের দিনে কি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইচ্ছা করলেই আণবিক হামলার নির্দেশ দিতে পারবেন? সবগুলা প্রশ্নের উত্তর আসবে, "না"। এসব তো সামগ্রিক অবস্থার উন্নতির কথাই বলে।

ঠিক আজকের দিনেও একক পেশা হিসেবে সৈনিক জীবন প্রথম দিকেই আছে। মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে দুই নাম্বার স্থানে থাকবার কথা। এক নাম্বার অবস্থানে কৃষিকাজ। অবাক করা ব্যাপার না? ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে অন্তত ৫০ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে উর্দিধারী, মানুষ হত্যার জন্য প্রশিক্ষিত। কিন্তু আজকের এই সমরপটু মানবজাতিও আগের দিনের মত আনুপাতিক হারে সৈন্য পয়দা করে না। আলেকজান্ডার সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ হাজার পঞ্চাশেক মেসিডোনিয়ান সৈন্য জোগাড় করতে পারছিলেন। সেই সময়ের জনসংখ্যার হিসেবে তা অনেক অনেক বেশি। আজকে উত্তর কোরিয়া যে অবস্থানে, ১৫০-২০০ বছর আগে পৃথিবীর সব অঞ্চলের অবস্থা ছিল তেমন।

পশ্চিমা দেশগুলোয় নারীরা ভোটাধিকার পাইলো কবে? খুব বেশিদিন কিন্তু হয় নাই। উন্নত সভ্যতার দেশগুলোতে শ'খানেক বছর আগে চালু হইছে। এখন সৌদিতেও ভোটাধিকার পাইছে নারীরা। ইভটিজিং আরও ২০ বছর আগেও ছিল, এখনও আছে। আগে অনেকে প্রকাশ করতে পারতো না ভয়ে, লজ্জায়। এখন অন্তত যেসব মেয়েরা শিক্ষিত, হাতে জানানোর উপায় আছে তারা সরাসরি বলে কারা করছে। লেঃ জেঃ জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম ক্যাংগারু কোর্টে বিচার করে হাজার হাজার অফিসার সেনা ঝুলায় দিছিলেন, আজকের এই দিনে আরও অনেক হ্যাডম অলা কোনো জেনারেলও তা পারবে না সামান্যতম প্রতিবাদ আর বাঁধা ছাড়া। রক্ষী বাহিনী ইনডেমনিটি পাইয়া কমকিছু করে নাই। সুপ্রীম কোর্টের সরাসরি নির্দেশও তারা মান্য করতে তেমন গা লাগায় নাই। আজকের দিনের র‍্যাব গোপনে প্রকৃত সন্ত্রাসী মারতে পারলেও যদি ভুল করে লিমনদের গুলি করে, তাইলে প্রতিক্রিয়া তো সামলাইতেই হবে।

আজকের দিনে বাংলাদেশে যৌতুক নেয়ার হার সবচেয়ে কম, যই দেনমোহরের অভিশাপটাও সাথে সাথে দূর হইতো। মধ্যযুগীর সব প্রথা দূর হওয়া দরকার এইদেশ থেকে। আশা করি আমার বেস্ট দুই ফ্রেন্ড যেমন ১০০১ টাকা নামকাওয়াস্তে দেনমোহরে বিয়ে করছে, সবাই প্রতীকি ঐতিহ্য ধরে রেখে বড় খারাপ দিকটা মিনিমাইজ করে ফেলবে।

আমি আজকের দিনটা নিয়ে যতটা খুশী, তারচেয়ে অনেক বেশি আশাবাদী আগামিটা নিয়ে। হয়ত আমি দেখে যাইতে পারবো না। তবে পৃথিবীতে আর কখনো এমন দিন আসবে না যখন খুনি হইলেও মহাবীর এই কারণে পুরা জাতি একজনকে দেবতা বানাইয়া রাখবে। যেমন চেঙ্গিস খান। বাগদাদে উনি মানুষের খুলি দিয়া পিরামিড বানাইছিলেন। একটা নিরপরাধ মানুষ হত্যাও অপরাধ, সেটা যেই আমলই হোক না কেন। বিএনএস বংগবন্ধুর নাম বদলে বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদ হইছিল। আমি খুশী যে আবার বংগবন্ধুই হইছে। এই খালিদ বিন ওয়ালিদ এক যুদ্ধে লায়লা নামে এক নারীকে তার স্বামীকে হত্যার দিনই বিয়ে করেন। মানে, আগে জামাইকে হত্যা, এরপর আদতে রেপ। কিন্তু ইসলাম কী বলে? কারো স্বামী মারা গেলে ইদ্দতপালন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে করা যাবে না। এখন যুদ্ধলব্ধ গনিমতের মাল হিসেবে যদি ভোগ করে থাকেন। আর যেই ধর্ম গনিমতের মাল, দাসপ্রথা ইত্যাদি সমর্থন করবে আমি ওই ধর্ম বা এমন কোনো অমানবিক ধর্মে বিশ্বাস রাখতে রাজী না। ৭১ সালে এইদেশেও অনেকে গনিমতের মাল থিওরী কপচাইছেন। আজকের দিনে বাংলাদেশে এই কথা বললে টিকতে পারবে না। মারমা নারী ধর্ষণ গনিমতের মাল থিওরীর কারণে হয় নাই, এইসব সরাসরি অপরাধ। লাখ লাখ বাঙালিও তো মুখে মুখে হইলেও প্রতিবাদ করতেছে। আরও পিছনের ইতিহাস যদি দেখি আমাদের পাহাড়ের, তাহলেও তো আমরা এরচেয়ে অনেক অনেক ভয়াবহ মাত্রায় হত্যা ধর্ষণের কথা জানতে পারি পার্বত্য অঞ্চলে। ওই দিনগুলোর চেয়ে আজকের দিনটা ভালো।

যাই হোক, অলসতা, নেশা, বাজে সময় কাটানো, নৃশংসতা, সবকিছু নিয়েই মানবজাতি। যারা নষ্ট সমাজ, এই দেশে এই সমাজে বাঁচতে চাই না টাইপ বুলিতে শান্তি পান, তারা অতীত জানেন না। মানবজাতির অতীত কিছু কিছু উজ্জ্বল দিক বাদ দিলে আসলে কলংকিত অতীত। সময় যত আগাইছে মানব্জাতির সামগ্রিক উন্নতি হইছে, যত সামনে তাকানো যায়, তত আলো দেখি আমি।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 38 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর