নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • দ্বিতীয়নাম
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ভূমিকার বিশ্লেষণ ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ (৫ম পর্ব)



৪র্থ পর্বে হিন্দু ধর্ম আর ইসলাম ধর্মের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক দ্বন্দের দিক গুলো নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা হয়েছিলো। আরজ আলী মাতুব্বরের যেই উক্তিটি নিয়ে কথা হয়েছিলো তার বাকী অংশে ছিলো “হিন্দুদের নিকট গোময় (গোবর) পবিত্র, অথচ অহিন্দু মানুষ মাত্রেই অপবিত্র। পক্ষান্তরে মুসলমানদের নিকট কবুতরের বিষ্ঠাও পাক, অথচ অমুসলমান মাত্রেই নাপাক” এই কথাটির পরিপ্রেক্ষিতে লেখক বলতে চেয়েছে এখানে আরজ আলী মাতুব্বর নাকি বলেছে মুসলমানদের কাছে অমুসলিম মানেই শারিরিক ভাবে নাপাক বা অপবিত্র। যেমন লেখক আরিফ আজাদ বলেছে “অমুসলমান ছুঁইলেই ইহা অপবিত্র হয়।” আসলে কিন্তু এমন কথা আরজ আলী মাতুব্বর তার বই এর কোথাও বলেনি। উপরের আরজ আলী মাতুব্বরের উক্তি আর আরিফ আজাদের উক্তিটি কিন্তু কোনভাবেই মিলেনা। তাহলে এটাও লেখকের মনগড়া কথা বলা যেতে পারে যার পক্ষে তিনি সূরা আত-তাওবা ০৯,২৮, তাফসীর মা’রেফুল কোরান, সূরা তাওবা ০৯,২৮, সূরা আল-আন আম ০৬,১৬৩, সূরা ইখলাস ১১২,৪, সূরা ফাতিহা ০১,০৪ এর বিভিন্ন রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে ইসলাম ধর্মে আসলে বেধর্মীদের সাথে খুবই বন্ধুত্বপুর্ণ আচরন করার কথা বলা আছে। তাদের শারিরিক হোক আর আত্মিক হোক (যদিও আত্মা বলে কিছুই নেই এটাও কাল্পনিক চরিত্র) অপবিত্র বলা হচ্ছে সেটা আসলে মূল কোন আলোচ্য বিষয় না।

মূল কথা হচ্ছে এখানে লেখক আরিফ আজাদ উপরোক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে কোরান ও হাদিসের ৬টি রেফারেন্স দিয়েছে যার সুত্রগুলা উপরে আছে যা দ্বারা প্রমাণ করার ব্যার্থ চেষ্টা করা হয়েছে ইসলামে বেধর্মী সম্পর্কে এমন কিছুই বলা নাই যেমন আরজ আলী মাতুব্বর বলেছেন। তাই আমিও এখানে মাত্র ৬টি উদাহরন দিলাম (১) আল কোরানের সূরা ইমরান আয়াত ৩:১১৮ এ বলা হচ্ছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে (বেধর্মীদের) অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না” (২) আল কোরানের সুরা ইমরান আয়াত ৩:২৮ এ বলা হচ্ছে, “হে মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফেরকে (বেধর্মীকে) বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না” (৩) আল কোরানের সুরা ইমরান আয়াত ৩:৫৬ এ বলা হচ্ছে,“অতএব যারা কাফের (বেধর্মী) হয়েছে, তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেবো দুনিয়াতে এবং আখেরাতে-তাদের কোন সাহায্যকারী নেই” (৪) আল কোরানের সুরা ইমরান আয়াত ৩:৮৭ এ বলা হচ্ছে, “এমন লোকের (বেধর্মীদের) শাস্তি হলো আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত” (৫) আল কোরানের সুরা নিসা আয়াত ৪:৬৩ এ বলা হচ্ছে, “এরা (বেধর্মীরা) হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও আল্লাহ তা'আলা অবগত। অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন” (৬) আল কোরানের সুরা নিসা আয়াত ৪:১৪০ এ বলা হচ্ছে, “আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ তা' আলার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন”।

এরপরেই লেখক আরিফ আজাদ আরেকটি উদাহরণ দিয়েছেন নবী মুহাম্মদ এর চাচা আবু তালিব কে নিয়ে। এই উদাহরনেও তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ইসলাম ধর্মে বেধর্মীদের সাথে খুব ভালো ব্যাবহার করার কথা বলা আছে। আসলে তিনি এখানে কোন হাদীস বা কোন অথেন্টিক সোর্স এর রেফারেন্স দেয়নি শুধুই বলেছেন এমনও দলিল পাওয়া যায়। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বেধর্মী চাচা আবু তালিব এর ঘটনাটা আসলে হবে ঠিক এরকম। আবু তালিব ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর আপন চাচা এবং খলিফা আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ) এর বাবা। আবু তালিব জন্মগ্রহন করেন ৫৪৯ খ্রিটাব্দে এবং মৃত্যবরণ করেন ৬২০ খ্রিস্টাব্দে। তিনি কুরাইশ বংশের বনি হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন গোত্রের একজন প্রবীণ ও সম্মানিত নেতা| নবী মুহাম্মদ(সাঃ) এর নবুয়াতকালীন সময়ে তিনি গোত্রীয়ভাবে তাঁর সর্বাত্নক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন| এই কুরাইশ বংশ ও বনি হাশিম বংশের সবাই প্যাগান ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং কাবা ঘরে রাখা ৩৬০টি মুর্তির পূজা করতেন। আমরা জানি যে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর নব্যুয়াত প্রাপ্তি হয়েছিলো তার বয়স যখন ৪০ বছর তখন। সাল হিসাবে দাঁড়ায় ৬১২ খ্রিস্টাব্দের দিকে যখন ইসলামের নাম কেউ মক্কাতে তখনও শোনেনি। আর তার চাচা আবু তালিবের মৃত্যু হয় ৬২০ খ্রিস্টাব্দে অর্থ্যাৎ মাঝখানে ব্যাবধান থাকে মাত্র ৮ বছরের আর ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি আর প্রচারের বয়সও তখন মাত্র ৮ বছর। এখন কথা হচ্ছে লেখক আরিফ আজাদ দাবি করেছেন আবু তালিব বেধর্মী হবার পরেও নবীকে যায়গা দিয়েছিলেন তার গৃহে এখানে তাহলে ইসলাম ধর্ম আসলো কোথা থেকে ? ইসলাম ধর্মের প্রচার এবং প্রসার শুরুই হয়েছিলো নবী মুহাম্মদের নব্যুয়াত লাভের পর থেকে যার পরে আর মাত্র ৮ বছর জীবিত ছিলো চাচা আবু তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব।

ইসলাম ধর্মে বেধর্মীদের সম্পর্কে এমন কোন আদেশ বা কোরানের আয়াত তখনও নাজিল হয়নি যেখানে বলা আছে বেধর্মীদের সাথে কেমন আচরন করা লাগবে। আর নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে যদি কেউ আশ্রয় দিয়ে থাকে তার দেখাশোনা করে থাকে তাহলে সেটা করেছে প্যাগান ধর্মের মূর্তি পূজারী তার চাচা এখানে ইসলামের কোন সম্পর্কই নেই। প্রাক ইসলামিক যুগের মক্কার ইতিহাস ও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনি পড়লে এই বিষয়ে স্বচ্ছ ধারনা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন হতে প্রকাশিত বই “সীরাত ইবনে হিশামের” মধ্যেও এই সম্পর্কে যথেষ্ট ভালো তথ্য আছে। তাই আমি বলবো আরজ আলী সমীপে বই এর লেখক আরিফ আজাদ এখানে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এবং চাচা আবু তালিব আব্দুল বিন মুত্তালিবের যে মানবিক গল্প বলে ইসলাম ধর্মকে মানবিক করার চেষ্টা করেছেন তা শুধুই আরজ আলী মাতুব্বরের কথা ভূল প্রমান করার জন্য তাছাড়া কিছুই নয়। এরপরে তিনি আরেকটি উদাহরণ দিয়েছেন ভেড়া কেনার হাদীস দিয়ে। বেধর্মীদের কাছ থেকে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ভেড়া কিনেছিলেন বলে তিনি বোঝাতে চাইলেন যে ইসলাম ধর্মে বেধর্মীদের সাথে ব্যবস্যা করার কথা বলা আছে তার মানে অমুসলিম মানেই সে খারাপ বা অপবিত্র তার সাথে ব্যাবসা বানিজ্য করা যাবে না এমন কথা ইসলামের কোথাও নেই। এখানে খুব বেশি কথা আমি বলতে চাইনা। বাংলাদেশের পাসপোর্টে পৃথিবীর কোন কোন দেশ ভ্রমন করা যাবে আর কোন কোন দেশ ভ্রমন করা যাবে না সেই সম্পর্কে একটি তথ্য দেওয়া আছে সেটা কেনো দেওয়া আছে তা একটু যাচাই বাছাই করলে আপনি উত্তর পেয়ে যাবেন ইসলাম ধর্মে অমুসলিমদের সাথে ব্যাবসার বর্তমান প্রেক্ষাপট।

লেখক আরিফ আজাদ তার বই এর ২০নং পৃষ্ঠার শেষভাগে আরজ আলী মাতুব্বরের এই প্রশ্নটির শেষ ব্যাখ্যা এইভাবে করেছেন “আরজ আলী সাহেব ‘অমুসলিম ব্যক্তিমাত্রই নাপাক, তাদের কাছ থেকে কিছু কেনাও যাবে না মর্মে ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দাঁড় করিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। বরং আমরা জানলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিজীবনে অমুসলিম পরিবারে বড় হয়েছেন, অমুসলিমদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন, চুক্তি করেছেন, ক্রয়-বিক্রয় করেছেন। এতৎসত্ত্বেও, ইসলামের বিরুদ্ধে এ রকম ভিত্তিহীন, বানোয়াট, মনগড়া অভিযোগ আনার হেতু কী তা কি আরজ আলী সাহেবের ভক্তকুল আমাদের জানিয়ে বাধিত করবেন?” এখানে পাঠক আপনারাই আরেকবার মিলিয়ে দেখুন আরিফ আজাদ তার ভাষ্যতে কি বলছেন আর আরজ আলী মাতুব্বর কি বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন মুসলমানদের এমন নিয়ম আছে যেখানে বলা আছে “অমুসলমান পর্ব উপলক্ষ্যে কলা, কচু, পাঠা বিক্রিও মহাপাপ” আর আরিফ আজাদ এখানে বলছেন “তাদের কাছ থেকে কিছু কেনাও যাবে না” মানে অমুসলমানদের কাছ থেকে বোঝাচ্ছেন। তিনি উল্টিয়ে দিয়েছেন কথাটা। তাহলে এখন আমরা এখানে কি মনে করতে পারি কার কথা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ? আরজ আলী মাতুব্বর নাকি আরিফ আজাদ ? লেখক আরিফ আজাদ আরো বলেছেন “ইসলামের বিরুদ্ধে এ রকম ভিত্তিহীন, বানোয়াট, মনগড়া অভিযোগ আনার হেতু কী” এখানে কি আরজ আলী মাতুব্বর ইসলামের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেছেন ? কেউ দেখাতে পারবেন ? তাহলে এই লেখক আরিফ আজাদ এখানে কোন ভিত্তিতে বলছে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ?

এরপরের প্রশ্ন হিসাবে লেখক “আরজ আলী মাতুব্বরের” যে উক্তিটি এখানে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন সেটা হচ্ছে “এই যে জ্ঞানের অগ্রগতিতে বাধা, মনের অদম্য স্পৃহায় আঘাত, আত্মার অতৃপ্তি, ইহারই প্রতিক্রিয়া মানুষের ধর্মকর্মে শৈথিল্য। এক কথায়—মন যাহা চায় ধর্মের কাছে তাহা পায় না। মানুষের মনের ক্ষুধা অতৃপ্তই থাকিয়া যায়। ক্ষুধার্ত বলদ যেমনি রশি ছিড়িয়া অন্যের ক্ষেতের ফসলে উদর পূর্তি করে, মানুষের মনও তেমন ধর্ম ক্ষেত্রের সীমা অতিক্রম করিয়া ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য ছুটিয়া যায় দর্শন আর বিজ্ঞানের কাছে”। আমি আবারও এখানে বলছি এরকম একটি যুক্তিযুক্ত কথা ভুল বা মিথ্যা বা অযৌক্তিক দাবি করা সম্ভব শুধু মাত্র একজন ধর্ম বিশ্বাসীর পক্ষেই। কারণ তারা জানেই না বিশ্বাসের ভিত্তিটি কি। কোন স্তম্ভের উপর ভর দিয়ে বিশ্বাস জিনিষটি টিকে আছে। উপরোক্ত উক্তিটির ভুলভাল ব্যাখ্যা দিয়ে এই বইটির লেখক আবারও একটি ব্যার্থ চেষ্টা এখানে করেছেন আসুন দেখি তা কিভাবে। তিনি বলেছেন “আরজ আলী সাহেবের এই কথাগুলো মোটাদাগে অন্য ধর্মের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ বলতে পারি না, কিন্তু ইসলামের সাথে এর ছিটেফোঁটা সম্পর্কও নেই” আসলে তা একদম মিথ্যা কথা। লেখক আরিফ আজাদ সাহেব যদি এখানে বলতো যে অল্পস্বল্প সম্পর্ক থাকলে থাকতে পারে তাহলে আমি এই কথাটি এড়িয়ে যেতাম কিন্তু তিনি যেহেতু বলছেন ইসলাম ধর্মে জ্ঞান আহরণে বাধা দেবার কথা ছিটেফোটাও নেই বলছেন তাহলে এই বিষয়ে দুইটা কথা এখানে যদি না বলি তাহলে এই লেখার কোন অর্থই থাকেনা।

জ্ঞান আহরন বলতে আমরা সাধারনত যেটা বুঝবো তা হচ্ছে সব বিষয়েই জানা এবং বোঝা। সেই জানাটা প্রতিটি মানুষের জন্য। এখানে নারী বেশি জানতে পারবে বা পুরুষ কম জানতে হবে এমন কোন কথা বা বাধা থাকার কথা না। নারীরা পড়বে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত আর বাড়িতে থেকে স্বামীর জন্য রান্না করবে এমন তো না তাই না। তবে ইসলামিক শরীয়া মোতাবেক এমন অনেক নিয়ম চালু আছে যা নারীদেরকে মেনে চলতে হয়। এটা কি জ্ঞান আহরনের পথে বাধা নয় ? বর্তমান যুগ হচ্ছে স্কাইমিডিয়ার যুগ। অনলাইন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, সহ সকল ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস হচ্ছে জ্ঞান আহরনের প্রধান মাধ্যম গুলোর তালিকা্র শুরুতে। শেখানে ৫০ বছর আগের টেলিভিশন দেখাটাও ইসলামে হারাম বা নাযায়েজ করা আছে এটা কি ইসলামের জ্ঞানের পথে বাধা দেওয়া নয় ? ইসলামে টিভি দেখা হারাম, ছবি দেখা হারাম, গান শোনা হারাম, সংস্কৃতি মনা হওয়া হারাম, মানুষকে তার রূপ দেখানো হারাম। গান- বাজনা হারাম। অভিনয় করা হারাম। এরকম অসংখ্য বিধি- নিষেধ ইসলামে রয়েছে। এখানে একটু খেয়াল করে দেখবেন, এগুলা ছাড়া মানুষ মোটেও বিজ্ঞান মনস্ক হতে পারবেনা। বিজ্ঞানের সকল উচ্চ পর্যায়, এবং একজন মানুষ কে সামাজিক, অর্থনৈতিক সকল পর্যায়ে সঠিক ধারনা নিতে,মানবতাবোধ জাগাতে এইসব কিছুর প্রয়োজন অপরিসীম যার সবটাই ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ এটা কি জ্ঞান আহরনের পথে বাধা নয় ?

এটা গেলো স্কাইমিডিয়া থেকে জ্ঞান আহরনের বাধার অধ্যায়। একটা সময় ছিলো যখন টিভিও খুব একটা সহজলভ্য বিষয় ছিলোনা যেটা থেকে মানুষ একটু জ্ঞান নিবে। তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা প্রিন্টমিডিয়া ও ছাপার উপরে নির্ভর করতো যেমন বই ও পত্রপত্রিকা। ৭০ এর দশকে আফগানিস্তান এ “তালেবান”নামক ইসলামিক জঙ্গীদের উথাপন শুরু হয়েছিলো। তখন আফগানিস্তানের গ্রামে গ্রামে এই বাহিনী গিয়ে প্রতিটি বাড়ি থেকে কোরান আর হাদীস বাদে যত বই আছে তা নিয়ে একত্রিত করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতো আর বলতো একমাত্র কোরান বাদে পৃথিবীতে যত বই আছে তা সবই শতায়তানী (কাল্পনিক চরিত্র) কিতাব আর এই কিতাব ঘরে রাখাও পাপ তাই এটা পুড়িয়ে দাও। এই মনোভাব থেকেই আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের প্রধান নবীর মৃত্যর পরে এই ইসলাম নামক সঙ্গগঠনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হযরত আলী (রাঃ) প্রাচ্যের জ্ঞান ভান্ডার “আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরী” আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছিলো এই বলে যে এসব শয়তানী কিতাব। কোরান বাদে কোন কিতাব বা বই থাকবে না। সেই প্রাচ্যের জ্ঞান ভান্ডার “আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরীর” ক্ষতিপূরণ আজও জ্ঞানী গুনিরা পুষিয়ে উঠতে পারেনি।

ইসলাম ধর্মে বই পড়া মানে জ্ঞান আহরনে বাধা সম্পর্কে আরো কিছু তথ্যভিত্তিক বিষয় হচ্ছে, ইসলামে গল্পের বই পড়া জায়েজ হবে কিনা তা নির্ভর করে এগুলোর বিষয়বস্তুর উপর । এগুলোতে যদি এমন কিছু থাকে যা বাস্তব ও ইসলামের নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক তবে তা পড়া জায়েয হবেনা।বলতে পারেন আমরা কেবল বিনোদনের জন্য, সময় কাটানোর জন্য এগুলো পড়ি । কিন্তু এমন বিনোদনের অনুমতি ইসলামে নেই যেটা হারাম। ইসলাম মতে একজন ঈমানদারের জন্য সময় অত্যন্ত মূল্যবান জিনিস কিন্তু সেটা বই পড়ে জ্ঞান আহরনের জন্য নয় । “আবু হুরাইরা (রা.) বলেন , রাসূল্লাহ ( সা.) বলেছেন , একজন ব্যক্তির ইসলামের পরিপূর্ণতার একটি লক্ষণ হল যে, তার জন্য জরুরী নয় এমন কাজ সে ত্যাগ করে। –জামে তিরমিজী ২২৩৯)” আর যদি আপনি সাইন্স ফিকশান, হিস্টোরিক্যাল, মিথলোজির কোন বই পড়েন তাহলে এগুলোতে অনেক সময় কুফরি (ইসলামিক পাপ কাজ) বিষয় নিয়েও লেখা থাকে যা ইসলামের সাথে সাঘর্ষিক ।অনেক ক্ষেত্রে তা ঈমান-আকিদা নষ্টের ‘কারণ’ হয় এবং নাস্তিকতার প্রতি ধাবিত করে।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,’’মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে যে অর্থহীন ও বেহুদা গল্প কাহিনী খরিদ করে, যাতে করে সে (মানুষদের নিতান্ত) অজ্ঞতার ভিত্তিতে আল্লাহ তাআলার পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে, সে একে হাসি, বিদ্রুপ, তামাশা হিসেবেই গ্রহণ করে; তাদের জন্য অপমানকর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।” আল কোরান–সূরা লোকমান আয়াত ০৬। এগুলা কি সবই জ্ঞান আহরনের পথে বাধা নয় ? তাহলে লেখক আরিফ আজাদ আমাদের কি বোঝাতে চাচ্ছেন ? আসুন দেখি সেই বাকি অংশ পরের পর্বে।

বইটিতে ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ পৃষ্ঠা যেভাবে আছে তা দেখতে লিংক গুলা দেখুন।

পৃষ্ঠা ১৭ http://i67.tinypic.com/rk1ldw.jpg
পৃষ্ঠা ১৮ http://i64.tinypic.com/28gtumo.jpg
পৃষ্ঠা ১৯ http://i67.tinypic.com/11rvkg8.jpg
পৃষ্ঠা ২০ http://i66.tinypic.com/eskswk.jpg

মৃত কালপুরুষ
০২/০৩/২০১৮

Comments

চাঁদসওদাগর এর ছবি
 

এখানে আরো অনেক রেফারেন্স ছিল।যেমন উমরকে একদিন বাইবেল পড়তে দেখে নবীর বাধা দেওয়া।কবিতাকে হারাম করা।আরিফ আজাদ আবু তালিবের উদাহরণ দিয়েছেন অথচ আবু তালিবের কাছে থাকা কালীন মুহাম্মদের তখন নিজের কোন শক্তি ছিল না।সেই মুহাম্মদ যখন মদিনায় গেলেন একে একে তিনি মদিনা থেকে সকল অমুসলীম গোত্রগুলোকে দাস এবং বিতারিত করতে থাকলেন।নবী মারা যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিলেন আরব থেকে ইহুদী খ্রীষ্টান বিতারনের।এগুলা স্পষ্টত প্রমাণ করে নবী অমুসলিমদের সাথে কি মনভাব বজায় রাখত।আপনাকে ধন্যবাদ লিখনী ধরার জন্য

chadsaowdagor

 
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
 

এই বই এর লেখক যে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের মস্তিষ্কে বিশ্বাসের ভাইরাস নামক কুসংস্কার ঢুকাতে তার কুযুক্তি দিয়ে প্রমাণ দাড়া করাতে চাইছে তার বিপক্ষে আরো কিছু শক্ত প্রামণ তুলে ধরার জন্য আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

-------- মৃত কালপুরুষ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 19 ঘন্টা 55 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর