নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বন্ধুটি হঠাত বলে বসলো, তুমি যে ট্রান্সসেক্সচুয়েল সেটা কিন্তু বোঝার উপায় নেই।


অনেকদিন হয়ে যাচ্ছে ইউরোপে এসেছি তবে ভালোবাসা বিষয়টা ঠিক এখনও বুঝে উঠতে পারছি না, কখন যে আসে আবার কখন যে পালিয়ে যায় বোঝাই মুশকিল। ঠাউর করার আগেই হুশ করে হাতের তালু থেকে উড়াল দেয়। আমি তো আমার মত চিন্তা করে ভালোবাসার একটা প্রকৃত দৃশ্য রচনা করেই চলেছি কিন্তু সমাজের যে হালচাল তাতে মনে হয় আমার ভালোবাসাটা ঠিক এদের মাঝে প্রাইজ পাবার মত কোন একটা বিষয় নয়। দিনের বেশীর ভাগ সময় কেটে যাচ্ছে ঐ একটা ভাল বাসা খোঁজাখুঁজিতেই সেখানে ভালোবাসা কে অন্তর দিয়ে অনুধাবন করার সময় কোথায়।

কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার শেষ পংতি গুলো বেশ মনে পড়ে:-
ভালবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি
দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেধেছি লাল কাপড়
বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮ টি নীল পদ্ম
তবুও কথা রাখেনি বরুনা, এখন তার বুকে শুধু মাংসের গন্ধ
এখনও সে যে কোন নারী,
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখে না ।

কিন্তু এখানে এসে বুঝতে পারছি আসলে ইউরোপে কেউই মনে হয় কথা রাখেনা শুধু মাত্র ১০৮টা কেন বিশ্বের সব নীল পদ্ম তুলে আনলেও স্বর্ণকেশী রমণীরা কথা রাখবে না। যাক সেসব কথা এখন বরং ভাল একটি বাসা খোজাতেই মনোনিবেশ করি, যতই দিন যাচ্ছে ততই একটা স্থায়ী বাসার ব্যবস্থা করতে না পারলে ভীষণ বিপদেই পরে যাবো, অনেকদিন হয়ে গেল আশা আছে এবারের গ্রীষ্মের ছুটিতে একবার দেশে গিয়ে মা বাবাকে দেখে আসব। বন্ধুকে সাথে নিয়ে শনিবার ছুটির সন্ধ্যায় ডিস্কোতে পা ফেলতেই অসংখ্য রমণীদের ভিড়েও একটা বারও বাসার চিন্তাটা মাথা থেকে দূর করতে পারছি না, কিছুটা দুরে বয় কাট একজন রমণী আমার দিকে ঘুরে ফিরে বার বার দেখছে, কয়েকবার নিজেও রমণীর আসপাশ দিয়ে নিজেও ঘুরে এলাম একবার সুযোগ বুঝে পাশের চেয়ারটায় বসার অনুমতি নিয়ে বসে গেলাম, কিন্তু রমণীর কথা বার্তায় তেমন একটা উত্সাহ খুঁজে পাচ্ছিনা, বেশ কিছুক্ষণ অনেকটা যেচে পরেই গল্প করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কথার ফাঁকে বেশ চিন্তিত একটা ভাব এনে জিজ্ঞাস করলাম- “তুমি কি আমাকে একটা ভাল বাসার সন্ধান দিতে পার”, এবার রমণী বেশ কৌতূহলী হয়ে যেচে পরেই গল্প সুরু করলেন, কেমন বাসা হলে ভালো হওয়ায় কতদিন বাসা খুঁজছি এসব নানাবিধ প্রশ্ন। এত মানুষের ভিড়ে বন্ধুটিকেও ঠিক খুঁজে পাচ্ছিলাম না, রমণী জিজ্ঞাস করলেন আমার যদি আপত্তি না থাকে তবে যতদিন বাসা খুঁজে না পাই তার নিজের বাসায় থাকতে আমার কোন আপত্তি আছে কি না ? আমার অনেকটা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাবার মত অবস্থা, হাতের কাছে চাঁদ পেয়ে আমি বেশ আগ্রহের সাথেই বললাম- তা হলে তো বেশ ভালই হয়। প্রশান্তির একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আপাতত একটা বিশাল ভাবনা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পেরে শরীর তা বেশ চাঙ্গা চাঙ্গা লাগছে হাতের কাছে আর এক গেলাস পানীয় হলে মন্দ হয়না ভেবে বারের দিকে উঠে গেলাম, বারের কাছে আসতেই বন্ধুটির সাথে দেখা হতেই এই সুখবরটা জানাতেই বন্ধু আমার বেশ অবাক হয়ে বলে বসলো ডিস্কোতে এসে বাড়ি খুঁজতে বাড়ি ওয়ালী খুঁজে পাওয়াটা তো চরম ভাগ্যের ব্যাপার, দু গ্লাস বিয়ারের দাম চুকিয়ে বন্ধুকে সাথে নিয়ে রমণীর পাশে এসে বসে বন্ধুকেও তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম, বেশ কিছুক্ষণ গল্প গুজব করে যতই আমি বাসার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে চাইছি বন্ধু বার বার কথা অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই কেটে যাচ্ছে কিছুটা সময় হঠাত্ বন্ধুটির দিকে চোখ পরতেই সে একটু মুচকি হাসি দিল যদিও এ হাসির কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না তাই এক রকম রাগ হয়েই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে বললাম আমি একটু ও দিকটাই যাচ্ছি তবে আবার আসব তোমার বসে গল্প চালিয়ে যাও, এবার বন্ধুটি সুযোগ বুঝেই আমার পেছনে পেছনে হেটে এসে খানিক দুরে গিয়ে একটু অবাক সুরেই বলে বসলো তুমি যে ট্রান্সসেক্সচুয়েল সেটা কিন্তু বোঝার উপায় নেই, আমি যেন আকাশ থেকেই চোখের পলকে মাটিতে পরে একটা প্রকাণ্ড ঝাঁকি খেলাম, চোখে মুখে রাগ সম্বরণ করে খুবই শান্ত ভাবেই উত্তর দিলাম- তা কেন ? এবার বন্ধুটি যা বললো তাতে নিজেকে একটি উৎকৃষ্ট শ্রেণীর গর্দভ বৈ অন্য কিছুই মনে হচ্ছে না, যে রমণীর সাথে এতক্ষণ বসে গল্প করে তার বাসায় উঠে পরবো মনে করে সব ঠিকঠাক করে ফেলেছি, আসলে কোন ভাবেই বোঝার উপায় নেই যে সে একজন ট্রান্সসেক্সচুয়েল। তিন গ্লাস বিয়ারের একটু নেশা নেশা ভাব যাও ছিল নিমিষেই সব নেশা উবে গেল। ডিস্কোটেকে বাড়ি খুঁজতে এসে সে যাত্রায় সাক্ষাত বাড়িওয়ালী হাত ছাড়া হয়ে গেলও অন্তত বন্ধুটির কাছে প্রমাণ করতে পেরেছিলাম আমি ট্রান্সসেক্সচুয়েল বা সমকামী কেউ নই।

ট্রান্সসেক্সচুয়েল ও সমকামী মানুষদের সাধারণ সামাজিক পরিবেশে অতি সাধারণ মানুষদের মত চলাফেরাটা যে এই সমাজে অতি স্বাভাবিক ব্যাপার সেটা বুঝতে আমার অনেকদিন সময় লেগেছে। এ সমাজে মানুষের অধিকার যে সবার জন্যে এক সমান তা আমার মত সদ্য আগত কুসংস্কারপূর্ণ বাঙালি গর্দভ বুঝবে কেমন করে।
--মাহবুব আরিফ কিন্তু।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কিন্তু
কিন্তু এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 10 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 5:41অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর