নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • দ্বিতীয়নাম
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ভূমিকার বিশ্লেষণ ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ (৪র্থ পর্ব)



শার’ঈ সম্পাদকের কথা শেষ হবার পরেই “আরজ আলী সমীপে” বইটির সূচিপত্র আছে ১৪ নং পৃষ্ঠায়। এই সূচিপত্রে সর্বোমোট ৯টি অধ্যায় স্থান পেয়েছে আর তা হচ্ছে প্রথম থেকে ভূমিকার বিশ্লেষণ, আত্মাবিষয়ক, ঈশ্বর সংক্রান্ত, পরকাল বিষয়ক, ধর্ম সংক্রান্ত, প্রকৃতি বিষয়ক, বিবিধ, শেষ কথা ও শেষে লেখক পরিচিতি। এরপরেই আমরা বইটির মূল লেখায় প্রবেশ করবো যেই অধ্যায়ের নাম “ভূমিকার বিশ্লেষন” এই অধ্যায়টি বইয়ের ১৫ নং পৃষ্ঠাতে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে ৩২ নাম্বার পৃষ্ঠাতে গিয়ে। এই ১৮ পৃষ্ঠার লেখার মধ্যে লেখক আরিফ আজাদ “আরজ আলী মাতুব্বরের” মাত্র ৯টি উক্তি উল্লেখ করে তা খন্ডন করার ব্যার্থ চেষ্টা করেছেন নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় মতবাদের মাধ্যমে। আসলে কিন্তু “আরজ আলী মাতুব্বরের” লেখা পড়ে আমার কখনই মনে হয়নি যে তিনি নির্দিষ্ট কোন একটি ধর্মকে উদ্দেশ্য করে তার প্রশ্ন করেছেন বা কোন নির্দিষ্ট একটি ধর্মকে তিনি ছোট করার চেষ্টা করেছেন যদিও এই বই এর লেখক তার মনগড়া মনোভাব থেকে ইতিপুর্বেই বলেছেন আরজ আলী মাতুব্বর নাকি বিশেষ একটি এঙ্গেলে শুধু ইসলাম ধর্মকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন আসলে কিন্তু তা একেবারেই না। বইটির শুরুর এই অধ্যায়টিতে আরজ আলী মাতুব্বরের যেই ৯টি যুক্তি তিনি তার ধর্মীয় মতবাদ দিয়ে বইটিতে বোঝাতে চেয়েছেন তাকে আমি কোনভাবেই আরজ আলী মাতুব্বরের করা প্রশ্নের উত্তর হিসাবে নিতে পারলাম না। যদি কেউ মনে করে থাকেন এখানে লেখক আরিফ আজাদ সঠিক ভাবে আরজ আলী মাতুব্বরের কথা গুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাহলে আমাকে জানাতে পারেন।

লেখক এই অধ্যায়টি যেভাবে শুরু করেছেন তা হচ্ছে “আরজ আলী মাতুব্বর উনার লেখা সত্যের সন্ধানে বইয়ের শুরুর দিকে বলেছেন, (জগতে এমন অনেক বিষয় আছে, যেসব বিষয়ে দর্শন, বিজ্ঞান ও ধর্ম এক কথা বলে না) প্রথমত, জগতের কোন কোন বিষয়ে দর্শন, বিজ্ঞান ও ধর্ম এক কথা বলে না তা আরজ আলী সাহেব উল্লেখ করেননি। দ্বিতীয়ত, জগতের কিছু কিছু বিষয়ে যে দর্শন, বিজ্ঞান আর ধর্ম এক কথা বলে না তা আসলে সত্য। সত্য এ কারণে যে, জগতের সকল বিষয়ে সমানভাবে দর্শন, বিজ্ঞান আর ধর্মকে কথা বলতে হয় না। আরজ আলী সাহেব যে ভুলটা শুরুতেই করে বসেছেন তা হলো, তিনি দর্শন, বিজ্ঞান আর ধর্মকে এক করে ফেলেছেন। অথচ, এ কথা স্বীকার্য যে, এই তিনটি বিষয়ের আলোচ্য বস্তু ভিন্ন ভিন্ন”। লেখকের প্রথম প্রশ্ন খন্ডনের চেহারা হচ্ছে এটা। এখানে বলতেই হয় আরজ আলী মাতুব্বর এই কথাটির আগে পরে বা “সত্যের সন্ধ্যানে” সম্পুর্ণ বইটিতে কোথাও বলেনি যে তিনি দর্শন, বিজ্ঞান আর ধর্মকে এক মনে করেছেন বা করেন। এটা লেখক নিজে নিজেই মনে করেছেন যে আরজ আলী মাতুব্বর এই তিনটি বিষয় এক করে ফেলেছেন এবং এই কথা বলেছেন। এরপরে লেখক বলেছে “পদার্থ কী কী দিয়ে গঠিত তা বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। ধর্মে পদার্থের গঠনের সরাসরি কোনো পাঠ নেই” এখন প্রশ্ন হচ্ছে ধর্মে যদি সরাসরি পদার্থের কোন পাঠ নাই থাকবে তাহলে কিভাবে একটি ধর্ম বিজ্ঞানময় হয় ? বা কিভাবে ধার্মীকেরা দাবি করে ধর্ম হচ্ছে পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান যদি সামান্য পদার্থের ব্যাখ্যাই তার মধ্যে না থাকবে ?

এরপরেই আবার তিনি বলেছেন “আবার, ব্যভিচার করলে কেন শাস্তি পাওয়া উচিত সে পাঠ ধর্মের, কোনো কোনো দর্শনে কিছু বলা থাকলেও, বিজ্ঞানে তার উত্তর নেই” যেটা ছিলো একটি ভুল কথা। আসলে বিজ্ঞানে এই ব্যাভিচারের শাস্তি দেবার জন্য তৈরি হয়েছে অপরাধা বিজ্ঞান। যার মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানীরা জেলখানায় আটক অপরাধীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা করে থাকে। তারা এটা খুজে বের করার চেষ্টা করে এই অপরাধী কেন এই অপরাধটা করেছে এবং কি করলে সে বা নতুন করে আরো অন্য কোন ব্যাক্তি এই অপরাধটা আর করবে না। তাকে যদি শাস্তি দেওয়া হয় তাহলে কি আগামীতে এই অপরাধের মাত্রা কমবে না আরো বাড়বে এধরনের নানান গবেষণা চলে। এরপরে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পূনরায় তা যাচাই বাছাই করা হয় এবং সর্বোশেষ দাঁড়া করানো হয় নির্দিষ্ট কোন অপরাধ যেমন ব্যাভিচার প্রতিরোধ সম্পর্কে একটি থিউরী। সেটা শাস্তিও হতে পারে। আবার বিজ্ঞান এই কথা দিয়েই শেষ করে দেয়না বা সমাধান করে দেয়না। বিভিন্ন ধর্মীয় কিতাবের মতো যে, এটায় ফাইনাল কথা। তারা বলে যতক্ষন পর্যন্ত নতুন কোন থিউরী কেউ তৈরি করে এটা ভুল না প্রমান করতে পারছে ততক্ষন পর্যন্ত বিজ্ঞান এই শাস্তি দেওয়ার কথা বলছে তার বেশিনা। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে এখানে লেখক কিভাবে বলে যে ধর্মে ব্যাভিচারের শাস্তি আছে দর্শনে অল্পস্বল্প থাকলেও বিজ্ঞানে কিছুই নেই ? আমার মনে হয় সেটা বোঝার জন্য বিজ্ঞানটাকে একটু ভালোভাবে বুঝতে হবে।

এই লেখক আসলে এখানে ব্যাপারটি এরকম করে ফেলেছে যে সেই পানি তিনি খাবেন কিন্তু একটু ঘোলা করে খেলেন। যেমন আরজ আলী মাতুব্বরের কথাটা ছিলো “জগতে এমন অনেক বিষয় আছে, যেসব বিষয়ে দর্শন, বিজ্ঞান ও ধর্ম এক কথা বলে না” এরপর লেখক তার লেখার মধ্যে বলেছেন “জগতের কিছু কিছু বিষয়ে যে দর্শন, বিজ্ঞান আর ধর্ম এক কথা বলে না তা আসলে সত্য” অর্থ্যাৎ তিনি এখানেই কথাটা স্বীকার করে নিচ্ছেন ঠিক আছে কিন্তু একটু বাড়তি কথা বলতে গিয়েই স্ববিরোধী ভাবটা তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন এখানে যা ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। তাদের যে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় তার মধ্যেই এধরনের স্ববিরোধীতা আছে তাই এদের মস্তিষ্কের গঠন এভাবেই হয়ে থাকে। এরপরেই এই অধ্যায়টিতে আরজ আলী মাতুব্বরের যে দ্বিতীয় প্রশ্নটি লেখক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবারও গুলিয়ে ফেলেছেন তা হচ্ছে “সাধারণত আমরা যাহাকে ধর্ম বলি তাহা হইলো মানুষের কল্পিত ধর্ম , যুগে মহাজ্ঞানীগণ এই বিশ্বসংসারের স্রষ্টা ঈশ্বরের প্রতি মানুষের কর্তব্য কী তাহা নির্ধারণ করিবার প্রয়াস পাইয়াছেন। স্রষ্টার প্রতি মানুষের কী কোন কর্তব্য নাই, নিশ্চয়ই আছে’–এইরূপ চিন্তা করিয়া তাহারা ঈশ্বরের প্রতি মানুষের কর্তব্য তাহা নির্ধারণ করিয়া দিলেন। অধিকন্তু, মানুষের সমাজ ও কর্মজীবনের গতিপথও দেখাইয়া দিলেন সেই মহাজ্ঞানীগণ। এইরূপে হইলো কল্পিত ধর্মের আবির্ভাব”। আরজ আলী মাতুব্বর মানব সভ্যতায় এই ধর্ম নামক বস্তুটি কিভাবে এসেছে তা খুব সহজ এবং সাবলীল ভাষায় এখানে ব্যাক্ত করেছেন এবার দেখুন এই কথাটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরজ আলী সমীপে বই এর লেখক আরিফ আজাদ সাহেব কি বলছেন।

তিনি বলেছেন “আরজ আলী সাহেব উনার পু্রো বইটি জুড়ে দর্শন, বিজ্ঞান আর যুক্তিবোধের জয়গান গাইলেও, বইয়ের শুরুতে কোনরকম তথ্য, উপাত্ত, পরীক্ষালব্ধ প্রমাণাদি ছাড়াই দাবি করে বসলেন যে, ধর্মগু্লো কথিত ধর্মগুরুদের বানানো। মূল আলাচোনায় যাওয়ার পূর্বেই যিনি নিজ বিশ্বাসের ওপর রায় দিয়ে ফলাফল জানিয়ে বসেন, তিনি আমাদের ঠিক কতটুকু “সত্যের সন্ধান দিতে পারেন? ব্যাপারটা অনেকটা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের মতো, যে প্রশাসন, মিডিয়া সবকিছু নিজের আয়ত্তে রেখে জনগণের উদ্দেশে ঘাষোণা দেয়—“আসসা, আজ আমি তামাদের শেখাব সুষ্ঠু নির্বাচন কাকে বলে।” আরজ আলী সাহেবের অবস্থাও ঠিক দুর্নীতিগ্রস্ত সেই সরকারের মতো নয় কি?” অর্থ্যাৎ আরজ আলী মাতুব্বরকে তিনি দুর্নীতি গ্রস্থ সরকার বানালেন এখানে আর আগের উক্তি খন্ডন করতে গিয়ে বানিয়েছেন বোকা। এখানে মূল কথা হচ্ছে তিনি চাইছেন একটি প্রমাণ যেখানে বলা হচ্ছে প্রচলিত ধর্মগুলি সবই কথিত ধর্মগুরুদের বানানো। এখানে প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে এই ধর্মটি লেখক তার নিজ ধর্ম হিসাবে কোথায় পেয়েছে ? নিশ্চয় তার পৈত্রিক সম্পত্তির মতো পিতামহের কাছ থেকে পাওয়া একটি মতবাদ তিনি ধর্ম বলে বুকে ধারন করে প্রমাণ চাচ্ছেন যে কে এটা বানালো। আসলে তিনি বর্তমানে যে ধর্মের পরিবারের জন্মগ্রহন করে আজকে সেই ধর্মের পরিচয় দিচ্ছেন আজ অন্য ধর্মের কোন পরিবারে তার জন্ম হলে তিনি কি এই বর্তমান ধর্মের পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করতেন কিনা সেটা আসলে জানা দরকার।

যাইহোক ধর্ম হচ্ছে পূর্বপুরুষ হতে প্রাপ্ত ঐতিহ্য , জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা , রীতি-নী‌তি ও প্রথা কে মানা এবং সে অনুসা‌রে মানবজীবন প‌রিচালনাকে বলা হয় ধর্ম। আর এই সাধারণ বিষয়গুলোই প্রমাণ করে যে বর্তমান পৃথিবীতে প্রচলিত সবকয়টি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মই আসলে মনুষ্য সৃষ্ট যার পেছনে আছেন সব কথিত ধর্মগুরা যেই কথাটি খুব সহজ ভাষায় আরজ আলী মাতুব্বর আমাদের অনেক আগেই বলে গিয়েছিলেন। এরপরে লেখক আরজ আলী মাতুব্বরের যে তিন নাম্বার উক্তিটি খন্ডন করতে গিয়েছেন তা হচ্ছে “মাতুব্বর সাহেব বলেছেন, “হিন্দুদের নিকট গোময় (গোবর) পবিত্র, অথচ অহিন্দু মানুষ মাত্রেই অপবিত্র। পক্ষান্তরে মুসলমানদের নিকট কবুতরের বিষ্ঠাও পাক, অথচ অমুসলমান মাত্রেই নাপাক। পুকুরে সাপ, ব্যাঙ মরিয়া পচিলেও উহার জল নষ্ট হয় না, কিন্তু বিধর্মী মানুষ ছুইলেই উহা হয় অপবিত্র। কেহ কেহ একথা বলেন যে, অমুসলমান পর্ব উপলক্ষ্যে কলা, কচু, পাঠা বিক্রিও মহাপাপ। এমনকি মুসলমানের দোকান থাকিতে হিন্দুর দোকানে কোনকিছু ক্রয় করাও পাপ। এই কী মানুষের ধর্ম? না ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতা?” আমার মনে হয়না এই প্রশ্নের উত্তর দেবার মতো ক্ষমতা কোন বিশ্বাসী ধার্মীক ব্যাক্তির আছে। তারপরেও যেহেতু ফাকা মাঠে গোল দেবার উদ্দেশ্যে লেখক আরিফ আজাদ আমাদের তাও ব্যাখ্যা করে দেখাচ্ছেন তাহলেতো আমাদের একটু দেখতেই হয় তিনি কি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তিনি এই প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কিছু কালো অধ্যায় এখানে তুলেছেন এভাবে “আরজ আলী সাহেব শুরুতেই হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি টেনেছেন তা কতটুকু সত্য আমি জানি না। তবে হিন্দুধর্মের বর্ণপ্রথা সম্পর্কে কিছু ধারণা আছে বৈকি। সে মতে উচ্চবর্ণের কোনো হিন্দু নিম্নবর্ণের কোনো হিন্দুর পাশ কাটিয়ে যাওয়াটাকেও পাপ মনে করে। এমনকি একটা সময়ে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পড়া দূরে থাক, ছোঁয়াটাও নিষিদ্ধ ছিল পুরোহিত কর্তৃক। পুরোহিততন্ত্রের এই বিধান এখনো হিন্দুধর্মে বলবৎ আছে কি না জানি না, তবে ভারতের অনেক জায়গায় এই রীতির এখনো চর্চা হতে পারে” এখনে তিনি প্রথমেই বলেছেন হিন্ধু ধর্মের এই বিষয়গুলির সত্যতা তার জানা নেই। এরপর বলেছেন তার যা জানা আছে তা হচ্ছে হিন্দু ধর্মের বর্ণবাদ প্রথা। কিন্তু আরিফ আজাদ এখানে হিন্দু ধর্মের বর্ণবাদ প্রথার যে ধারণা দিয়েছেন আসলে হিন্ধু ধর্মের বর্ণবাদ প্রথা ছিলো এর থেকে ভয়াবহ যেমন, আরিফ আজাদ বলেছেন “উচ্চবর্ণের কোনো হিন্দু নিম্নবর্ণের কোনো হিন্দুর পাশ কাটিয়ে যাওয়াটাকেও পাপ মনে করে” আসলে শুধু তাই না উচ্চবর্ণের কোনো হিন্দু নিম্নবর্ণের কোনো হিন্দুর পাশ কাটানো বা না কাটানো তো অনেক পরের কথা যদি কোন উচ্চবর্ণের হিন্দুর ছায়া কোন নিম্নবর্ণের হিন্দু ভুল করে মাড়িয়েছে তাহলেও তাকে হত্যার নির্দেষ ছিলো।

আসল কথা সেটা না তিনি কেন এখানে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের কথার মধ্যে আরেকটি ধর্মের খারাপ দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তা হয়তো পাঠকদের বুঝতে বাকি থাকার কথানা। এখানে লেখক আরিফ আজাদ চাচ্ছে অন্য ধর্মটিকে একটু বেশি খারাপভাবে উপস্থপন করতে পারলে আলোচিত ধর্মটিকে একটু মানবিক করে তোলা যাবে কিন্তু আসলে কি সেই আলোচিত ধর্মটি মানবিক ? বা অসাম্রদায়িক ? না একেবারেই তা নয়। এই ইসলাম ধর্মের মধ্যে যে পরিমানের সাম্প্রদায়িকতা বিদ্যমান তা অন্যান্য ধর্ম গুলি থেকে কোন অংশেই কম নয়। বর্তমানে চলমান সিরিয়ার অবস্থা এখানে না তুলে পারলাম না। এরপরেও ইসলামের ইতিহাস পড়লে আমরা দেখতে পায় নিজ ধর্মের মধ্যেই তাদের সাম্রদায়িকতার তান্ডব। নবী মুহাম্মদের জন্মের পূর্বে ইয়েমেনের এক রাজা কাবা ধ্বংস করে কাবার অর্থনৈতিক স্রোত ইয়েমেনের দিকে নিতে চেয়েছিলেন। যেই ক্ষোভ থেকে বর্তমানের সৌদি রাজপরিবার ইয়েমেনের সাথে এখন কেমন আচরন করছে তাও একটু মিলিয়ে নিতে হবে। যদিও সেই রাজা তখন ব্যর্থ হোন।

কাবাকে কেন্দ্র করে মক্কায় নগরায়ন ঘটেছে, মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এসেছে। ফলে মুহাম্মদ যখন হানিফদের মতন এক ঈশ্বরবাদ প্রচারে নামলেন প্রথমে কিছু না বললেও পরবর্তীতে কুরাইশরা এর বিরোধিতা করলেন। এর মূল কারণ ছিল কাবার অর্থনৈতিক সেক্টরের পতনের আশঙ্কা। প্রতিবছর আরবের আশ-পাশ থেকে হাজারো মানুষ কাবা প্রদক্ষিণ করতে আসতেন। ফলে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালিত হতো। আর এই কারনে যত যুদ্ধ তখন হয়েছিলো তার সবটায় মুসলমান মুসলমানের মধ্যে হয়েছিলো। তাছাড়াও কিরতাসের ঘটনা, ক্ষমতার লড়াই, ইসলামের প্রথম উগ্রবাদী দল খারিজি, কারবালার হত্যাকাণ্ড, সৌদি ওহাবীবাদের উত্থান, কাবা ধ্বংসের ইতিহাস, প্রথম মক্কা অবরোধ (৬৮৩) ও কাবায় আগুন, দ্বিতীয় মক্কা অবরোধ ৬৯২ ও কাবা ক্ষতিগ্রস্ত, কারামাতিয়দের হামলা (৯৩০), ১৬২৯ সালের মক্কা শহরের ক্ষতিসাধন, ১৯৭৯ সালে মসজিদ আল-হারাম অবরোধ, ১৯৮৭ সালের সংঘর্ষ যার সবই সংগঠিত হয়েছিলো এই মুসলমান দারা এখানে অন্য কোন ধর্মের মানুষ ছিলোনা। যাই হোক এই পর্বটি অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবার কারনে এখানেই শেষ করলাম পরের পর্বটিতে বাকি অংশ থাকবে।

বইটিতে সূচিপত্র ও ভূমিকার বিশ্লেষণ যেভাবে আছে এখানে দেখুন।

পৃষ্ঠা ১৪ ১৪
পৃষ্ঠা ১৫ ১৫
পৃষ্ঠা ১৬ ১৬

মৃত কালপুরুষ
০১/০৩/২০১৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 19 ঘন্টা 55 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর