নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ড: জাফর ইকবালের ওপর আক্রমন: ইহার সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নাই


৩রা মার্চ'১৮ তারিখে বাংলাদেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবি ও অধ্যাপক ড: জাফর ইকবালকে হত্যার জন্যে এক খাটি ইমানদার বান্দা আক্রমন করেছে। সেই বান্দাকে ঘটনা স্থলে ধরা হয়েছে , দেখলেই বোঝা যায় , সে একজন খাটি মুমিন যে কোনদিন তার দাড়ি কামায় নি। সবাই এটাকে জঙ্গি আক্রমন বলে চালিয়ে দিচ্ছে। ভাবখানা , এই যুবকটা জঙ্গল থেকে এসে জাফর ইকবালের মাথায় কোপ বসিয়েছে। তাই এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। অনেকে আগ বাড়িয়েই হয়ত বলতে পারে, কোরান হাদিসের কোথায় বলেছে যে সিলেটে ড: জাফর ইকবালকে আক্রমন করে হত্যা করতে হবে ?

সকল রকম মিডিয়াতে এই জঙ্গি হামলা নিয়ে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে , সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই এই ঘটনার বিচার করে জঙ্গিকে ফাঁসিতে ঝুলানোর দাবী জানাচ্ছে। কিন্তু অতি সতর্কভাবে সবাই যে বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছে, তা হলো , কেন এই যুবক কথা নেই বার্তা নেই , হঠাৎ করে ড: জাফর ইকবালকে আক্রমন করল , তার কারন খুঁজে দেখার জন্যে কেউ দাবী জানাচ্ছে না। ভাবখানা , আমার ঘরে আগুন লেগেছে , কিন্তু আমি চোখ বন্ধ করে বলছি - কই আমার ঘরে তো কোন আগুন লাগে নাই।

বিগত বেশ কিছু বছর ধরে , দেশের আলেম সমাজ মোল্লারা নানাভাবে প্রচার করছে , ড: জাফর ইকবাল একজন নাস্তিক, কারন তিনি মুক্তচিন্তার পক্ষে কথা বলেন।মুক্তচিন্তা মানেই ইসলাম বিরোধী কাজ। ইসলাম মুক্তচিন্তার বিরোধী। সুতরাং মুক্তচিন্তা যারা করে , তাদেরকে মুর্তাদ , কাফের , মুনাফিক ইত্যাদি বলা হয়। তার সাম্প্রতিক মহা অপরাধ হলো ' ভুতের বাচ্চা সোলায়মান" নামের একটা বই প্রকাশ করেছেন, আর মুমিনদের দাবী , সেই বই এ নবী সোলেমানকে অবমাননা করা হয়েছে। নবী রসুলকে অবমাননা করলে তার শাস্তি কি হবে , সেটা শুনুন নিচের হুজুরের মুখ থেকে --

এখনই কথিত মডারেটরা এসে বলবে , এই হুজুর ইসলাম জানে না। তাই জাফর ইকবালের ওপর আক্রমনের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। দেশের মোল্লারা আগেই ড: জাফর ইকবালকে কাফের , মুর্তাদ , মুনাফিক ইত্যাদি ঘোষনা করেছে। তো এদের শাস্তি কি , সেটা এবার কোরান হাদিস থেকে দেখা যাক --

সুরা নিসা - ৪: ৮৯: তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

এটা হলো মুনাফিকির শাস্তি। মুহাম্মদের সময় কিছু লোক মক্কা থেকে মদিনার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মুহাম্মদের কাছে গিয়ে ইসলাম কবুল করত , কিন্তু পরে মক্কা গিয়ে বলত , তারা ইসলাম মানে না। তাদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্যেই মুহাম্মদ উক্ত আয়াত নাজিল করে।

যারা কাফের মুশরিক , তাদেরকে কি শাস্তি দিতে হবে ? সেটা দেখা যাক ---

সুরা তাওবা - ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

যারা ইসলাম ত্যাগ করবে ,তাদের জন্যে কি শাস্তি আছে , সেটা দেখা যাক ---

সহিহ বুখারি : হাদিস নং-৬৪৫৪। আবূ নু’মান মুহাম্মদ ইবনু ফাযল (রহঃ) ... ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) এর নিকট একদল যিন্দীককে (নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহী) আনা হল। তিনি তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। এ ঘটনা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, আমি হলে কিন্তু তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলতাম না। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর শাস্তি দ্বারা শাস্তি দিও না। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ রয়েছে, যে কেউ তার দ্বীন বদলে ফেলে তাকে তোমরা হত্যা কর। ( ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রকাশিত)

যারা আল্লাহ ও মুহাম্মদকে সমালোচনা করবে , তাদের শাস্তি কি হবে সুন্দরভাবে কোরানেই আছে , যেমন ---
সুরা আহযাব-৩৩: ৫৭:যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।

আর সেই শাস্তিটা কি ? সেটাই বলা হচ্ছে নিচের আয়াতে---
সুরা আহযাব- ৩৩: ৬১: অভিশপ্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং প্রাণে বধ করা হবে।

একজন খাটি ইমানদার মুমিন কোরানের উক্ত বিধান অনুসরন করেই ড: জাফর ইকবালের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমন চালিয়েছে। এরপরেও কথিত মডারেটরা বলবে - ইহার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই। কারন কোরান হাদিসের কোথাও বলে নাই , বাংলাদেশের সিলেটে কোন নাস্তিককে হত্যা করতে হবে।

Comments

ফারুক এর ছবি
 

একজন খাটি ইমানদার মুমিন কোরানের উক্ত বিধান অনুসরন করেই ড: জাফর ইকবালের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমন চালিয়েছে। এরপরেও কথিত মডারেটরা বলবে - ইহার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই।

আমি মোটামুটি নিশ্চিত , এই খাটি ইমানদার মুমিন আপনার দেয়া কোরানের আয়াত ও হাদিস সম্পর্কে কিছুই জানে না। আমার তো মনে হয় বরং আপনিই একজন খাটি ইমানদার মুমিন , যে কোরানের আয়াত ও হাদিস সঠিক বুঝেছে।!! আর বাকি ১৬০ কোটি মুসলমান নাম ধারীরা কাফের। কারন আপনার বোধ অনুযায়ী এরা কোরান ও হাদিস অনুসরন করে "তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং প্রাণে বধ করা হবে" এই আদেশটি মানছে না। যদি মানত তাহলে হয় বিধর্মীরা থাকত , নয় খাটি ইমানদার মুমিন থাকত।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 9 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর