নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • দ্বিতীয়নাম
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

শার’ঈ সম্পাদকের কথা ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ (৩য় পর্ব)



আগের পর্বটির সাথে এই ১১ আর ১২ নাম্বার পৃষ্ঠার শার’ঈ সম্পাদকের কথার আলোচনাটি শেষ করার কথা ছিলো কিন্তু লেখকের কথার পর্বটি একটু দীর্ঘ হয়ে যাবার কারনে শেখানে আর এই অংশটি যোগ করা হয়নি। এখানে বই “আরজ আলী সমীপের” শার’ঈ সম্পাদকের কথা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পুর্বেই জানিয়েছিলাম এই বইটির প্রকাশক তার কথার মধ্যে বলেছিলেন বইটিতে যেনো কোন প্রকারের ভুল ত্রুটি না থাকে তাই একজন আলেমের সাহায্যে তা যাচাই বাছাই করা হয়েছে। এখানে যেই অধ্যাপক ভদ্রলোক এই বইটির শার’ঈ সম্পাদনা করেছেন তার নাম হচ্ছে “ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া” তিনি অধ্যাপক, আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ, আইন ও শরী’আহ অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। “আরজ আলী সমীপে” বই এর লেখক ও প্রকাশক এই ভদ্রলোককে এই বইটির শার’ঈ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং তিনিই এই বইটির সম্পাদনা করেছেন বলে এখানে দাবি করেছেন। আমি জানিনা তিনি কি “আরজ আলী মাতুব্বর” এর কোন বই পড়েছেন কিনা বা তার সম্পর্কে কতটুকু জ্ঞান রেখে এই বইটির সম্পাদনা করেছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক সম্পর্কে আমার মনে এমন প্রশ্ন উদয় হবার কারণ তার এই কথাগুলি। তিনি তার কথার শেষভাগে বলেছেন “আমার বিশ্বাস রয়েছে যে, এ গ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী সবার হাতে থাকা দরকার, যাতে করে আর কোন আরজ আলী আমাদের সন্দেহের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ধোকা দিতে না পারে” তারমানে তিনি চাচ্ছে এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে কোন জ্ঞানের চর্চা হবে না। কেউ কোন প্রশ্ন করতে পারবে না। যেদিকেই তাকানো যাবে দেখা যাবে নারীরা বোরখা পরে মাথা ঝুকিয়ে কোরান পড়ছে আর ছেলেরা মাথায় টুপি দিয়ে মাথা ঝুকিয়ে কায়দা পড়ছে এরকম একটা অন্ধকার দেশ।

শুরুতেই এই অধ্যাপক সাহেবের মস্তিষ্ক সম্পর্কে আপনাদের একটি ধারনা দিতে চাই। যদিও একজন অধ্যাপক সম্পর্কে আমার এমন কিছু বলার ইচ্ছা ছিলোনা তারপরেও উনি যেহেতু এরকম একটি জঙ্গী ও সন্ত্রাসীমনা ধর্মীয় ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন বই এর সাথে নিজেকে জড়িয়ে জোর গলায় এখানে কিছু বলেছেন তাই জবাব এর খাতিরে এগুলো চলে আসবেই। “আরজ আলী সমীপে” গ্রন্থের প্রকাশক এবং লেখকের মস্তিষ্ক যে একটি নির্দিষ্ট প্রকারের বিশ্বাসের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত সেটার প্রমাণ নিশ্চয় আমরা আগেই পেয়েছে। পূর্বের দুই পর্বের লেখার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক আরিফ আজাদের গুনি ফলোয়ারদের মতামত দেখেও আমরা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছি তারাও কোন মানুষিকতার। এখন সেই বই এর শার’ঈ সম্পাদনা জিনি করবেন তার মস্তিষ্ক যে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকবে এটা কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করতে পারিনা তাই এখানে অপ্রত্যাশিত কিছুই ঘটেনি সেটা নিশ্চিত থাকবেন। এই অধ্যাপক সাহেব দাবি করেছেন যে আরজ আলী মাতুব্বরের মতো লোকের প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানের কলা কৌশল ও জ্ঞান নিয়ে তারপরে তার উওর দিতে হবে। কিন্তু শুরুতেই তিনি কোন বিজ্ঞানমনষ্কের পরিচয় দিয়েছেন আসুন একটু দেখি। তিনি বইটির ১২ নং পৃষ্ঠার শার’ঈ সম্পাদকের কথার শুরুতেই বলেছেন “মহান আল্লাহ আমাদের জ্বীন ও মানুষ দু-ধরনের শয়তান থেকে একান্তভাবে তার কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শয়তানরা পথভ্রস্ট করার জন্য দুইটি অস্ত্র ব্যাবহার করে থাকে” আর বাকিটা না হয় পরেই বলি।

এখানে আমাদের খেয়াল করে দেখার বিষয় হচ্ছে তিনি আমাদের এই লেখার মধ্যেই বলেছেন বিজ্ঞানমনষ্ক ও যথেষ্ট যুক্তি প্রামণ ছাড়া বর্তমানে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না। তাহলে এখানে তিনি যে চারটি কাল্পনিক চরিত্রের কথা বলেছেন তার যদি যৌক্তিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয় তাহলে তিনি কিভাবে প্রমাণ করে দেখাবেন আমার জানা নেই। আমরা ছোটবেলায় ঠাকুরমার ঝুলি গল্পের বই পড়েছি যেখানে বিভিন্ন ধরনের রাক্ষশ আর ক্ষোক্কোশ ও নানান কাল্পনিক চরিত্রের সন্ধান পেয়েছিলাম। এই অধ্যাপক ভদ্রলোক এখানে যে চারটি চরিত্রের কথা বলেছেন তার সবগুলোই কি সেই একই রকম চরিত্র নয় ? আর যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে আমি অনুরোধ করবো আমাকে একটু যৌক্তিক ও প্রমাণ সহ এই চারটি চরিত্রের ব্যাখ্যা তিনি দিবেন। এরপরের লাইনে তিনি সেই কাল্পনিক চরিত্রের কাজ সম্পর্কে বলেছেন তারা দুইভাবে মানে দুইটি অস্ত্র ব্যাবহার করে থাকে। আসলে যে চরিত্রের কোন অস্তিত্বই নেই যার অবস্থান শুধুই মানুষের মস্তিষ্কের অবচেতন মনের মধ্যে তার আবার কাজ কি ? আর কাজ করার অস্ত্রই বা কি ? কথা তো এখানেই শেষ হয়ে যাবার কথা। কিন্তু যেহেতু তারা বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত তাই তাদেরকে সেইভাবেই জবাব দিতে হবে বলে মনে করি, আর তাই নিচের বাড়তি কথা গুলো লেখা।

অধ্যাপক সাহেব তার পরেই বলেছেন (শয়তানের দুইটি অস্ত্র সম্পর্কে) “একটি হচ্ছে প্রবৃত্তির বাধাহীন চাহিদাপূরণের প্রতি উৎসাহপ্রদান, আরেকটি হচ্ছে মনের কন্দরে সন্দেহের বীজ বপন করা। আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবদের কর্মকান্ডে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টিই বেশি দেখা যায়। তারা আল্লাহ, তার রাসূল, আখেরাত, তাকদীর ইত্যাদি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে ঈমান ও আমল বিনষ্ট করতে সচেষ্ট থাকে। তারা নিজেরা তাদের সন্দেহের ঔষধ গ্রহন করে তা নিরাময় না করে অপরের দিকে সেই সন্দেহ পাচার করে শান্তি পায়। আর এটাই চিরাচরিত নিয়ম যে রোগীরা সাধারণত সুস্থ মানুষকে ঈর্ষা করে তারা যদি নিজেদের রোগ নিরাময় করতে পারতো তবে নিজেরা যেমন শান্তি পেতো অনুরূপভাবে অপর লোকদেরও শান্তি দিতো” তিনি বলেছেন “প্রবৃত্তির বাধাহীন চাহিদাপূরণের প্রতি উৎসাহপ্রদান” তাহলে এখানে একটি উদাহরন দিতেই হয়। মানব সভ্যতায় ধর্ম নামের প্রথাটি এসেছে অনেক পরে। সভ্যতার শুরুতে মানুষের জ্ঞান যেপর্যন্ত জানতে পেরেছিলো আর যেগুলো সম্পর্কে মানুষ জানতে পারেনি, সে সময়ের জ্ঞান যে পর্যন্ত পৌছেনি, সেগুলো সম্পর্কে মানুষ ধারনা করেছে, কল্পনা করেছে। অজ্ঞানতা, জানতে না পারার হতাশা, অজ্ঞতা একধরনে হীনমন্যতায় রুপ নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে অজ্ঞানতার অন্ধকার একপর্যায়ে ঈশ্বর নামক একটা কল্পনা দিয়ে তারা ভরাট করে দিয়েছে। শুনতে খুব কঠিন এবং খারাপ শুনালেও এটাই সত্য যে অজ্ঞানতার অন্ধকারের অপর নাম ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা যে মানুষকে সৃষ্টি করেনি বরং মানুষই সেই কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করেছে। আর যখন মানুষের মধ্যে এই ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার ধারনা এসেছে তখন তারা নিজেরাই মনেমনে তৈরি করেছে কিছু ধর্মীয় নিয়ম যাকে এই অধ্যাপক ভদ্রলোক “প্রবৃত্তি” বলছেন। আসলে মানুষের প্রবৃত্তি সেই শুরু থেকেই বাধাহীনভাবেই ছিলো মাঝে মানুষকে শাসন আর শোষন করার জন্য তৈরি হওয়া কিছু ধর্মীয় রীতিনীতি আজও টিকে আছে মানুষের মস্তিষ্কে।

এরপরেই তিনি কাল্পনিক চরিত্র শয়তানের দ্বিতীয় অস্ত্র হিসাবে যেটা উল্লেখ করেছেন সেটা হচ্ছে “মনের কন্দরে সন্দেহের বীজ বপন করা” এর মানে হচ্ছে হুজুর, কোন প্রশ্ন করা যাবেনা প্রশ্ন করলেই সন্দেহ ঢুকবে আর তাতে করে ঈমান নষ্ট হবে এমন একটা কিছু বোঝানো হচ্ছে। আমি সাধারন একজন পাঠক আমি চাই যতক্ষন পর্যন্ত না আমার জ্ঞানের ক্ষোরাক মিটছে ততক্ষন পর্যন্ত জানতে চাইবো যেমন, “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর” কবিতা পড়লে এখনও মনে হয় জ্ঞান পিপাসু তরুন সমাজের ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি পায়। তার কবিতা “মিলিত মৃত্যু” বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়।, বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে।, বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো।, অন্তত আর যাই করো, সমস্ত কথায় অনায়াসে সম্মতি দিও না। এই কবিতার সাথে কি এই ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভদ্রলোকের কথার কোন মিল আছে ? আমি আর কথা বাড়াবো না এরপরের কথায় চলে যাচ্ছি। তিনি এরপরে বলেছেন “অসুস্থ মানুষ নাকি সুস্থ মানুষদের ঈর্ষা করে” সেটা যিনি অসুস্থ তিনিই ভালো বলতে পারবেন তিনি সুস্থ মানুষদের ঈর্ষা করেন কিনা তবে যারা মুক্তমনা ও মুক্তভাবে চিন্তা করতে পছন্দ করে তারা কিন্তু বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষদের ভালোর জন্যই কথা বলে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ মানুষরা আসলে বুঝতে পারেনা তারা আসলে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। সম্প্রতি সিরিয়ার ঘটনা দেখুন। ইসরায়েলের প্রতি সৌদিয়ারবের আচরন দেখুন। সমস্ত পৃথিবীতে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী হামলা গুলো কাদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে তা একটু যাচাই করে দেখুন। আল-কায়েদা, বোকো হারাম, আইএস, তালেবান, এসব সংগঠনের সাথে কারা জড়িত তা একটু ক্ষতিয়ে দেখুন।

এখন কথা হচ্ছে একটি কোম্পানীর পন্য খেয়ে যদি নির্দিষ্ট কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে কিন্তু সবাই তাদের সুস্থতা কামনা করলেও তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাবে না যদি জানতে পারে এই লোক বা এই অসুস্থ মানুষগুলো যেনে বুঝেই এই কোম্পানীর পন্য খাচ্ছে। এখন যদি দেখা যায় যে সেই অসুস্থ মানুষগুলো যে শুধু নিজেরাই অসুস্থ হচ্ছে তা না তার পাশাপাশি তারা সুস্থ সবল মানুষদের কামড় দিয়ে তাদেরও অসুস্থ করে ফেলছে। যেমন আইএস দ্বারা সাধারন মানুষ হত্যা, বোকো হারাম দ্বারা সাধারন মানুষ হত্যা, আফগানিস্তানে তালেবানের হামলায় সাধারন মানুষ নিহত, আল-কায়েদার হামলায় সাধারন মানুষের মৃত্যু, গাড়িবোমা, আত্মঘাতি বোমা এসবই হচ্ছে অসুস্থ মানুষ দ্বারা সুস্থ মানুষের আক্রান্ত হবার জলজ্যান্ত প্রমাণ। আরো চাইলে অনেক তথ্যসুত্র দেওয়া যাবে। এসব বিচার বিশ্লেষন করলেই পরিষ্কার বোঝা যায় আসলে কারা অসুস্থ আর কারা সুস্থ। কাদের চিকিৎসার দরকার আছে আর কে কাকে ঈর্ষা করে। এখানে আমার মনে হয়েছে অধ্যাপক সাহেব মনে হয় সুস্থ আর অসুস্থ মানুষের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই বই এর পাঠকদের কাছে। আমি বলছি না তিনি লেখকের মতো মিথ্যাচার করেছেন।

এই সম্পাদনার কাজে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া অধ্যাপক সাহেব তার শেষ কথা যা বলেছেন তা হচ্ছে “আরজ আলী মাতুব্বরকে” তো তিনি অসুস্থ বলেছেনই সাথে বলেছেন “কিন্তু তারা বাকা পথটিই বেছে নিয়েছে। এদের এসব সন্দেহের উত্তরে সত্যিকারের দ্বীনী জ্ঞান থাকা যেমন জরুরি তেমনি দরকার আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি” এই ভদ্রলোক একবার বলছেন দীনী জ্ঞান দিয়ে এসব সন্দেহের উওর দিবেন আবার বলছেন “আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি” নাকি থাকতে হবে এর উত্তর দিতে হলে। তাহলে কথা হচ্ছে দীনী জ্ঞান মতে তাদের যে শিক্ষা দেয় সেটা হচ্ছে গাধার পিঠে মহাকাশ ভ্রমন করা যায় এমন ধারনা বা এই পৃথিবী থেকেই হাত দিয়ে চাঁদ ফাটিয়ে ফেলা যায় এমন ধারনা। যদিও এই লেখক দাবী করেছে এমন কিছুই নাকি কোথাও বলা নেই তবে আমার পরিচিত ৯৯% মুসলমান বন্ধুরা এটাই জেনে এসেছে তাদের ছোটবেলা থেকে কিন্তু এই বই এর লেখক দাবী করেছে এটা নাকি সঠিক ইসলাম না। যাক সে কথা মহাকাশ যাত্রা সম্পর্কে এরকম ধারনা যেটাকে আমরা দীনী জ্ঞান বলতে পারি আর তার সাথে আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন নাকি এই বই এর প্রচার এবং প্রসার স্বরুপ এমন একটা কথা বলে দিলে ভালো হবে এই বইটিকে একটু বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক বই বলে চালোনা যাবে তা বুঝতে পারলাম না।

এরপরের কথা হচ্ছে সেই আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি ও দীনী জ্ঞান এই “দুটির সমন্বয়ে তা হয়ে উঠবে সোনায় সোহাগা। আরজ আলী সমীপে গ্রন্থটির শার’ঈ দিকটি আমি দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে তাতে দুটি দিকই যথার্থভাবে স্থান পেয়েছে। যদি কোরান ও সুন্নাহর সত্যিকারের অনুসরনের মাধ্যমে কোন সন্দেহের উত্তর দেওয়া হয় তবে তা হয় যথার্থ। সুতরাং এ বইটির উত্তরসমূহ শার’ঈ ভিত্তির উপর নির্ভর করে প্রদত্ত হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমার বিশ্বাস রয়েছে যে, এ গ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী সবার হাতে থাকা দরকার, যাতে করে আর কোন আরজ আলী আমাদের সন্দেহের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ধোকা দিতে না পারে” এটা বলে ভদ্রলোক তার বক্তব্য শেষ করেছেন। তিনি বলেছে এই দুইটি বিষয় দিয়ে “আরজ আলী মাতুব্বরের” প্রশ্নের উত্তর দিলে তা হবে সোনায় সোহাগা কিন্তু আসলেই কি সেই বই এর ভেতরে তা আছে কোথাও ? সেটা নিয়ে পরের পর্বগুলিতে দেখা হবে নিশ্চয়। তবে এই বই এর শার’ঈ সম্পাদক এই অধ্যাপক ভদ্রলোক দাবি করেছে তিনি নাকি এটা দেখেছেন এবং তার কাছে মনে হয়েছে এই বইতে এই দুইটি দিকই ফলো করা হয়েছে। তিনি আসলে কি দেখে এই কথা বলেছেন আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। সম্পুর্ণ বইটি পড়ে আমি বিজ্ঞানের কিছু অপব্যাখ্যা ও মিথ্যাচার (যা ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন কিতাবের সাথে মিল রেখেই লেখা) ছাড়া আর কিছুই পেলাম না আপনারাও দেখবেন সেগুলা পরের পর্বগুলিতে।

অধ্যাপক ভদ্রলোকের সর্বশেষ কথা ছিলো “আমার বিশ্বাস রয়েছে যে, এ গ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী সবার হাতে থাকা দরকার, যাতে করে আর কোন আরজ আলী আমাদের সন্দেহের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ধোকা দিতে না পারে”। এই কথার মাধ্যমে তিনি যা দাবি করলেন তাতে কিন্তু একটি বিষয় এখানে আমাদের মতো সাধারন পাঠকদের মনে দাগ কেটে গেলো। আর সেটা হচ্ছে এই ধর্মটি আর ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলি কি মনুষ্য রচিত কোন গ্রন্থ কিনা। কারণ তাই যদি না হবে তাহলে সাধারন একটা মানুষ এই আরজ আলী মাতুব্বর কবে না কবে কিছু কথা বলে গিয়েছেন কয়েকটা প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন তাই দেখে নাকি মানুষ ধুম্রজালে আটকা পড়ে এ কেমন কথা ? এখানেও কিন্তু এই ভদ্রলোক আবার বলেছেন সেই বিশ্বাসের কথা কারণ তার মাথায় আছে বিশ্বাসের ভাইরাস। অভিজিৎ রায়ের লেখা সেই “ল্যাংসেট ফ্লুক নামের প্যারাসাইটের কথা আবার মনে পড়ে গেলো যেটা তিনি তার বিশ্বাসের ভাইরাসে লিখেছিলেন। “ল্যাংসেট ফ্লুক নামের প্যারাসাইটের কারণে পিপড়ের মস্তিস্ক আক্রান্ত হয়ে পড়ে, তখন পিপড়ে কেবল চোখ বন্ধ করে পাথরের গা বেয়ে উঠা নামা করে। যেমনটি ধর্ম বিশ্বাসে আক্রান্ত মানুষেরা করে থাকে। বারবার বিশ্বাস বিশ্বাস করে তারা হৈ চৈ করে। কিন্তু একটিবারও ভেবে দেখে না বিশ্বাস জিনিষটি আসলে কি। এখানে ফ্রুটার রেভুসের একটি বানী দিয়ে শেষ করছি, তিনি বলেছিলেন “বিশ্বাস তোমাকে উত্তর দেয়না বরং প্রশ্ন করা বন্ধ করে”।

বইটিতে শার’ঈ সম্পাদকের কথা যেভাবে আছে এখানে দেখুন।
পৃষ্ঠা ১২
পৃষ্ঠা ১৩

মৃত কালপুরুষ
২৮/০২/২০১৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 19 ঘন্টা 54 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর