নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বাংলাদেশ সেনারা জাতিসংঘ মিশনে দেবতা! বাংলাদেশ সেনারা পাহাড়ে ধর্ষক আর হত্যাকারী?



লেখাটি বড় বিধায় ৬-পর্বে বিভক্ত : পর্ব-২
:
ইতি চাকমার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জানেন কি? ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ রাতে খাগড়াছড়ি শহরের আরামবাগ এলাকার বাসায় সরকারি কলেজের ছাত্রী ইতি চাকমার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় দুলাভাই অটল চাকমা। হত্যাকান্ডের অব্যবহিত পরেই শুরু হয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন, কালো ব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন, আলোচনা সভা, প্রতিবাদ মিছিল ইত্যাদি, যা শুধু খাগড়াছড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ছড়িয়ে পড়েছিল ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঙালিদের দায়ী করে প্রচুর পোস্ট ছড়িয়ে পরে। একদম শুরু থেকেই কোনো রকমের বাছবিছার না করেই এ হত্যাকান্ডের জন্য বাঙালিদের দায়ী করে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া শুরু হয়। এমন দাবিও করা হয় যে, ইতি চাকমাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং এই হত্যাকান্ডের জন্য ‘বাঙালী মুসলিম স্যাটেলার’রা দায়ী। বাঙালিদের কপাল ভালো যে, পরবর্তীতে খুনি তুষার চাকমাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং সে স্বীকারও করেছে যে, কোনো বাঙালি নয় বরং পাঁচ চাকমা যুবক এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
:
খাগড়াছড়ির পানছড়ির বালাতি ত্রিপুরাকে খুনের দায়ে তিন বাঙালিকে দোষারোপ করে শুরু হয় বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা। পরে জানা যায়, কোনো বাঙালি এই খুনের সঙ্গে জড়িত নয়; বরং এই খুনের মূল নায়ক কার্বারী সাধন ত্রিপুরা নামের এক পাহাড়ি।
:
বিশাখা চাকমার নাম হয়তো অনেকে ভুলে গিয়ে থাকতে পারেন। রাঙ্গামাটির এক শোরুমের বিক্রয় কর্মী। কাজ শেষে বাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় এবং পরবর্তী সময়ে কাপ্তাই হ্রদে তার বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া যায়। যথারীতি শুরু হয় বাঙালিদের দায়ী করে প্রচারণা-সমাবেশ-মানববন্ধন, যার সমাপ্তি ঘটে তখনই, যখন প্রমাণিত হয়, তার স্বামীর উপস্থিতিতে অন্য পাহাড়ি দুষ্কৃতকারীরাই তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।
:
বান্দরবানের রোয়াংছড়ির বাঙালি কাঠুরিয়া মুসলিম উদ্দিনকে পাহাড়িরা পিটিয়ে মেরেই ফেলে। কারণ মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সে প্রমাণ করতে পারেনি যে, ব্র্যাক এনজিও’র আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা উ প্রু মারমাকে সে ধর্ষণ করেনি, হত্যা করা তো দূরের কথা। অথচ পরবর্তী সময়ে "বিজয় তঞ্চঙ্গ্যা" নামের একজনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তদন্তে।
:
সবিতা চাকমার কথা মনে আছে? খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে নিজ বাড়ির পাশের খেতে তার লাশ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর যথারীতি শুরু হয় বাঙালিবিদ্বেষী প্রচারণা। বাঙালি ট্রাক ড্রাইভার আর হেলপার কর্তৃক গণধর্ষিত হয়ে সে মারা গেছে, এমন দাবি তুলে পাহাড়িরা ব্যাপক প্রচারণা, প্রতিবাদ, মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। লংগদুর ঘটনায়ও বরিশালের ও টঙ্গীর অগ্নিকান্ডের ছবি এবং গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লির ছবি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে দেশে এমনকি বিদেশ পর্যন্ত। এ ধরনের ভিন্ন উপস্থাপনায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন, এখনও হচ্ছেন।
:
নির্মম সত্যটা হলো, প্রকৃত সত্য বের করে দেশবাসী বা বিশ্ববাসীকে তা জানানোর আগেই পাহাড়িরা এসব উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদকে ভাইরাল করবে ওয়েবসাইটের কল্যাণে, এর প্রতিবাদে ইতি চাকমা, বালাতি ত্রিপুরা, বিশাখা চাকমা, উ প্রু মারমা বা সবিতা চাকমার ঘটনার মতো করেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন, কালোব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন, আলোচনা সভা, প্রতিবাদ মিছিল, স্মারকলিপি প্রদান ইত্যাদি চলতে থাকবে, যা ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি দেশের বাইরেও। এর সঙ্গে আমাদের সমাজের অনেক সম্মানীয় ব্যক্তিও দুই-চারটা বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে দিতে পারেন, ওনাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য।
:
গত বছরের জানুয়ারিতে রাংগামাটিতে রীতিমত সংবাদ সম্মেলন করে, এক নির্যাতিতা জানিয়েছিলো তার উপর চালানো অন্যাচারের লোমহর্ষক ঘটনাবলী। ‘গলায় শেকল দিয়ে বেঁধে টানা প্রায় দুই মাস ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি মেয়ে জোসনা চাকমার ওপর’। কারা করেছিল জানেন? আমাদের ইউপিডিএফ এর স্থানীয় যুব সমিতির কর্মীরা। ঘটনাস্থল তো এই রাঙ্গামাটিই ছিলো। তখন না ছিল কোন ভলান্টিয়ার তার পাশে, না অন্য কেউ!
:
লংগদুর কথা ভেবে দেখুন। ফেসবুকের কল্যাণে ঘটনাটি অতি দ্রুত লংগদুর বাইরে ছড়িয়ে দেয়া হয়, দেশে এবং বিদেশে; তবে একটু ভিন্ন ভাবে। জ্ঞাতসারেই হোক আর অজ্ঞাতসারেই হোক, এই ভয়াবহ সংবাদটি কয়েকটি দেশি এবং বিদেশী পত্রিকাতেও খানিকটা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। যে তিনটি ছবিকে লংগদুর অগিকান্ডের ছবি বলে চালানো হলো, দেশবাসি এবং বিশ্ববাসীর সমবেদনা প্রাপ্তি এবং বাঙ্গালীদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির লক্ষ্যে, সেগুলো আসলে এদেশেই ঘটে যাওয়া টঙ্গীতে বয়লার বিস্ফোরণ (১০/৯/১৬), গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লি (৭/২/১৭) এবং বরিশালে বিস্কুটের গোডাউন (৪/২/১৭) এর আগুনের ছবি। এটি শুধু একটি নিকৃষ্টতম নিচু মানসিকতাপ্রসুত ঘৃন্য মিথ্যেই নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং দলমত নির্বিশেষে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিরুদ্ধে এক সুদুরপ্রসারি ষড়যন্ত্রের প্রয়াসের অংশবিশেষ।
:
পাহাড়িদের সরলতা নিশ্চয় গুটিকয়েকজনের ক্রীড়নক নয়। পাহাড়িরা সরল বলেই আমি জানি। কিন্তু, তারা কি এতই বোকা যে, রাজনৈতিক ফায়দা নিতে আসা ঘৃণ্য কয়েকজণের চিরাচরিত ব্যক্তিস্বার্থের সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত মিথ্যে মেনে নিবে?
:
খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার ক্ষেত্রলাল ত্রিপুরার মেয়ে দীপা ত্রিপুরা ভালবেসেছিলো এক বাঙ্গালিকে। পাহাড়ে এর ফলাফল কি হতে পারে সেটা জানতো বলেই যখন সে তার ভালোবাসার মানুষটির সাথে পালাচ্ছিলো, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কিছু কর্মী তাদেরকে অপহরণ করে। পরের ঘটনাবলি পার্বত্য অঞ্চলে সংগঠিত এমন অন্যান্য ঘটনাগুলোর মতোই। ছেলেটিকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। আর মেয়েটিকে শিকার হতে হয় একাধিকবার গণধর্ষণের, এমন কি তা মোবাইলে রেকর্ডও করা হয়। ঘটনাটি বেশি দিন আগের নয়, ২০১৫ সালের জুন মাসের।
:
বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ১১ পাহাড়ী মারমা কিশোরীর মিয়ানমারে পাচারের ঘটনায় কয়জন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলো, মনে পড়ে না। সোশ্যাল মিডিয়াতে এ নিয়ে আদৌ কোন প্রতিবাদ বা পোস্ট ছিলো কিনা, সেটি নিয়েই আমার সন্দেহ আছে। অথচ, একজন বা দু’জন নয়, ১১ জন ‘শিশু কন্যাকে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা’ করতে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ৫ সদস্যের মেডিকেল টিম কাজ করেছিলো। ভয়াবহ বিষয় হলো, “উদ্ধারকৃত পাচার হওয়া ১১ মারমা কিশোরী পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, প্রতিদিন বৌদ্ধ ভিক্ষু উসিরি তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো।” তাদের মধ্যে কমপক্ষে দুজনকে দুপাশে নিয়ে বিছানায় যেতো।
:
এবার বাঙালি ধর্ষণের একটা উদাহরণ! ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো এক বাঙ্গালী দিন মজুরের মেয়ে। খাগড়াছড়ির গামারীঢালার মেয়েটি ২০১৫ সালের জানুয়ারির এক শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে গরু আনতে গেলে, এক পাহাড়ি যুবক তাকে ধর্ষণের চেষ্টার মধ্যেই মেয়েটির চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন চলে আসে এবং আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা ঢাকা, রাঙামাটি বা বিদেশে কাউকে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে শুনিনি; কোন নারীবাদী সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা তো দুরের কথা। তো ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়! উপজাতি তথা চাকমাদের এসব বিষয় কি সাজানো নয়?
:
আল জাজিরায় একটা ভিডিও দেখেছিলাম গত ১৩ ফেব্রুয়ারি। যেখানে দেখানো হয়, অত্যন্ত সহজ ৪ টি স্টেপে, যে কারো পক্ষেই ফেসবুকে ফেইক নিউজ তৈরি করা যায় এবং অতি দ্রুত তা ছড়িয়ে দেয়া যায়। আধা ঘন্টার মধ্যে একটা ফেইক নিউজ প্রায় ৫০০০ লোকের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে একজনকে মাত্র ৫৪ ডলার খরচ করতে হয়েছে। অর্থাৎ, আপনি মাত্র এক টাকায় একজনের কাছে একটি মিথ্যে সংবাদ পৌঁছে দিতে পারেন, ফেসবুকের কল্যাণে!
:
[এর পর দেখুন এ লেখার ৩য় পর্ব]

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 18 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর