নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

এক যে ছিল অভিজিৎ:


২৬ শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ অভিজিৎ রায়কে বইমেলার গেটের কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে । টিভির স্ক্রিনে দেখাচ্ছে, অভিজিৎ রায় মারা গেছেন, আর তাঁর স্ত্রী বন্যা আহমেদ গুরুতর আহত । একাত্তর টিভিতে কোনো একজন উপস্থাপিকা একজন জনপ্রিয় অনলাইন ব্যক্তিত্বকে (ব্লগার, অ্যাক্টিভিস্ট) বারবার জিজ্ঞেস করছেন, আপনি কি অভিজিৎ রায়ের লেখা বই পড়েছেন, বইয়ে লেখা ছিল এমন কিছুর জন্যেই কি হত্যা করা হয়েছে তাঁকে ? অতিথি বারবার বলছেন,একজন লেখক বইয়ে কী লিখেছেন সেটা এখানে বিবেচ্য নয় বা হওয়া উচিত নয় । অতিথির মুখ থেকে সুবিধাজনক কথা বের করতে না পেরে যতদূর মনে পরে উপস্থাপিকা নিজেই বইটি খুলে বসলেন এবং সেখান থেকে কিছু কিছু অংশ পড়লেন। পড়ার পর আবার অতিথিকে প্রশ্ন করতে থাকলেন এ ধরনের কিছু লেখার জন্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে কি না ! একাত্তর টিভির উপস্থাপিকা বইয়ের ভেতরে মেরে ফেলার কারণ হিসেবে আপত্তিকর বাক্য খুঁজে কোট করার চেষ্টা করছেন................. ! আপত্তিকর লেখা খুঁজে বের করে খুনকে জাস্টিফাই করে ফেলা যায়? সেলিব্রেটি আব্দুন নূঢ় "তুষাঁড়" ‘আসল বাঘ আর সার্কাসের বাঘ’ -লেখায় লিখলেন : ‘মুক্তচিন্তা কতটুকু মুক্ত বা ধর্মচিন্তা কতটুকু সীমাবদ্ধ? এই জটিল প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে, আমি কেবল বলতে চাই, মানুষ ততটুকুই স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে, যতটুকুর সে উপযুক্ত হয়েছে। স্বাধীনচিন্তা বা মতপ্রকাশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটির প্রকাশভঙ্গি যদি এক পক্ষকে ক্ষেপিয়ে তোলে তবে সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা করার দরকার আছে।’ যুদ্ধাপরাধীর বিচার চেয়ে শাহবাগের মঞ্চে অবস্থানকারীদের এক সেলিব্রিটি মুখপাত্র তো বলেই বসলেন : 'মুক্তচিন্তার গন্তব্য এখন বিদেশ, একশ্রেণির ছেলেপেলে এখন এটাকে বিদেশ যাওয়ার উপায় হিসেবে নিচ্ছে ... ... এক শ্রেণির মধ্যে একটু উগ্র ভাব, যারা নিজেদের মুক্তমনা বলে দাবি করছে, মুক্তচিন্তা করে বলে দাবি করছে, দেখা যাচ্ছে এই উগ্র সাম্প্রদায়িকদের সাথে তাদের নূন্যতম তফাত নেই !' তার মানে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বিশ্বের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করা ড. অভিজিৎ রায় তাহলে বিদেশে যাবার জন্য লেখালেখি করতেন !

ব্যাপারটা এত সরল না । শাহবাগীদের এই অংশের স্ট্যান্ড হলো, ইসলাম ভালো কিন্তু রাজাকার অপরাধী, যদিও রাজাকাররা ইসলামের নামেই অপরাধ গুলো '৭১ এ করেছিল । পাঠক আপনারাই বলুন '৭১ এর রাজাকার আল-বদর তাদের কার্যকলাপ ইসলাম মেনে করেছিল না করেনি ? এখানেই বিপত্তি দেখা দিল। নাস্তিকরা এসে ব্যাগরা দিল!! তারা লেখায় তুলে ধরল যে গলদ ইসলামেই! রাজাকারদের '৭১ এর কার্যকলাপ ইসলাম বিরোধী নয় ! এই সুবিধেবাদী শাহবাগীদের চক্ষুশূল হয়ে উঠলো অভিজিৎ রায় রা । গণ জাগরণ মঞ্চে নাস্তিকদের উপস্থিতি আওয়ামী লীগকে চরম অস্বস্তিতে ঠেলে দিয়েছিল | নাস্তিকরা আওয়ামীলীগের পথের এক প্রধান কাঁটা হয়ে দাড়ালো | তাদের জন্যই আজ বিভক্ত ইসলামী গোষ্ঠিগুলো এক হয়েছে, যা কিনা সরকারের জন্য অশনিসংকেত ! পিয়াল গ্রূপ এক কদম এগিয়ে অভিযোগ করলো:' ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকরা জামাতের পেইড এজেন্ট!' আসলে আমরা এইসব মানুষদের উচ্চ আসনে বসিয়েছি। অভিজিৎ রায় এমন একজন মানুষ যিনি এই মধ্যচিত্তের বাইরে যেতে পেরেছিলেন। চিন্তার মুক্তি ঘটিয়েছিলেন। তিনি যা বিশ্বাস করেছিলেন আর যা বিশ্বাস করেন নি দুটোই ব্যাক্ত করতে পেরেছিলেন স্পষ্ট ভাষায়। অতঃপর শতকরা ৯০% মুসলমানের দেশে কট্টরপন্থীরা যে তার মৃত্যু চাইবে এটাই স্বাভাবিক, সাথে হত্যায় যদি নিরব সমর্থন মডারেটদের থাকে তাহলে তো অভিজিৎ রায় হত্যা একটা সফল পরিকল্পিত অভিযান হবেই হবে । কথাগুলো বেশ বুঝেশুনে বললাম কেননা অভিজিত রায় হত্যাকান্ডে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি, কিছু সন্দেহ দানা বেঁধেছে:

১.বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায় উল্লেখ করেছিলেন বুয়েট শিক্ষক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং তার গ্রুপ ‘জিরো টু ইনফিনিটি’ পত্রিকার উপদেষ্টা ত্রিভুজ আলমের কথা, যদিও তিনি মনে করেন নি যে ফারসীম, অভিজিৎ হত্যার সঙ্গে জড়িত। ক্ষেত্র প্রস্তুতকারক হতে পারেন। আরো উল্লেখ করেছিলেন: অভিজিৎকে হত্যার রাতে র‍্যাডিসন হোটেলে বিজ্ঞান পত্রিকার উপদেষ্টা ত্রিভুজ আলম ‘কোনো একটা সফলতা’ উদযাপন করেছিলেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি অজয় রায়ের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাবার কথা ছিল অভিজিতের, বইমেলায় যাবার কোনো পরিকল্পনা ছিল না । ২৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সকাল এগারোটায় ফারসীম মান্নান ফেসবুকে অভিজিৎ রায় সহ আরও ১২ জনকে যুক্ত করে ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছটায় বইমেলার ভেতরে বিজ্ঞান লেখকদের একটা আড্ডা করলে কেমন হয় জানতে চান। অভিজিৎ রায়ের উত্তর ছিল আইডিয়াটা ভালো কিন্তু শুরুতেই উপস্থিতি নিশ্চিত না করে ‘আইডিয়া ইজ ফাইন’ বলেছিলেন।

২.সন্ধ্যা ছয়টায় বিজ্ঞান আড্ডার ডাক দিয়ে ফারসীম মান্নান নিজেই সেখানে উপস্থিতি ছিলেন না। অভিজিৎরায় ও তার স্ত্রী কাউকে না পেয়ে চলে যান শুদ্ধস্বরের
সামনে । সাড়ে সাতটা পর্যন্ত শুদ্ধস্বরের সামনে ছিলেন। নামাজের জন্য বিজ্ঞান আড্ডায় আসার দেরি হলো কারণ দেখিয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে শুদ্ধস্বরের স্টলের সামনে লেখকদের আড্ডায় উপস্থিতি হন ফারসীম মান্নান। আটটা দশ নাগাদ আড্ডা শেষ। অভিজিৎ রাত আটটা তেইশ মিনিটে 'রায়হান আবীরকে এসএমএস দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘‘রায়হান, তুমি কই ? ওরা দুজন কিছুক্ষণের জন্য গিয়েছিলেন বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে গাড়ির উদ্দেশে হাঁটতে শুরু করেছিলেন। তাদের গাড়িটি রাখা ছিল চারুকলার বিপরীত দিকে। ফারসীম মান্নান পরের ষোলটি দিন 'সোনার কেল্লা'র ভ্যানিশ !! সদাসরব তার ফেসবুকও নীরব। ১৪ মার্চ ফারসীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ত্রিভুজ আলমের সঙ্গে তার গ্রুপের সংশ্লিষ্টটার প্রশ্নে পুরো দায়ভার ‘জিরো টু ইনফিনিটি’ পত্রিকার সম্পাদক আবদুল্লাহ মাহমুদের উপর চাপায় । অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রীর সাথে বেশ অনেকটা সময় কাটানোর পরেও ফারসীম মান্নান যে একবারের জন্যও নিহত অভিজিৎ, অসুস্থ বন্যাকে দেখতে আসেন নি ।

৩.কে এই ‘শরীফ ওরফে হাদি-১’– জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী যার নাম ‘মুকুল রানা’ ? মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন: “লেখক-ব্লগার হত্যার যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যেকটির বিষয়ে শরীফ জানত।” ২০১৬ সালের মে মাসে অভিজিৎ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হয়ে যায় শরীফ এবং শরীফের কথা আবার মিডিয়াতে আসে উনিশে জুন সকালে। ‘রাত দুটায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়’ বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অভিজিৎ রায়ের মামলার আসামি থাকার বিষয়টিসহ আনসার বাংলা সদস্য শরীফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাশরুকুর রহমান খালেদ। পুলিশের সরবরাহ করা সিসিটিভির ফুটেজে শরীফ ওরফে মুকুল রানা যে অভিজিৎ রায়দের অনুসরণ করছিল সেটা কিন্তু হত্যাকাণ্ডের দিনের ঘটনা নয়। কারণ মৃত্যুর দিন, মানে ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ লাল পাঞ্জাবি পরে এসেছিলেন।

৪. মানুষে যদি সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করে বলেন যে, বাংলাদেশের পুলিশ নাটক করছে, কারণ তারা একবার বলে তারা অভিজিৎ হত্যা ‘ক্লু-লেস’, একবার বলে, খুনিরা বিদেশে পালিয়েছে, তারপর মে মাসে জঙ্গির ছবি প্রকাশ করে পুরষ্কার ঘোষণা করে ! সরকার পুলিশ বাহিনী পরিচালনা করেন এবং উপরের মহলের নির্দেশ ছাড়া ক্রসফায়ার ঘটে না, তাই যদি বলি সরকারও দেশের ধর্মনিরপেক্ষ, নাস্তিক ব্লগার লেখক, প্রকাশক, সমকামী, ভিন্ন ধর্মালম্বীদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, খুব কি বাড়িয়ে বলা হবে ?

আর হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী সুজন সুশীল মডারেট সুধীগণ !

কৃতজ্ঞতা : রায়হান আবীর ।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজর্ষি ব্যনার্জী
রাজর্ষি ব্যনার্জী এর ছবি
Online
Last seen: 1 ঘন্টা 6 min ago
Joined: সোমবার, অক্টোবর 17, 2016 - 1:03অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর