নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

আওয়ামীলীগের উন্নয়নের ফিরিস্তি


নিন্দুকেরা আওয়ামীলীগের উন্নয়নকে অস্বীকার করতে চায়। তাঁরা আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দেখে না। আওয়ামীলীগের টানা ৯ বছরে প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। বিগত সরকারগুলোর আমলেও ব্যাংকের টাকা লুট হয়েছিলো, আওয়ামীলীগ এই ক্ষেত্রে এতো উন্নয়ন করেছে যে, আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সেই উন্নয়নকে টেক্কা দেয়া শুধু কষ্টকর নয়, বরঞ্চ সেটা অসম্ভব! শেয়ার বাজারের টাকা হরিলুট করা আওয়ামীলীগের জন্য নতুন নয়। ’৯৬ সেশনেও তাঁরা শেয়ার লুট করে দেখিয়েছিলো। আওয়ামীলীগের এই মেয়াদের উন্নয়ন আগের শেয়ার বাজারের লুটপাটকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিএনপি’র ভারপাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক জিয়াকে বলা হয় ‘বাংলার দূর্নীতির বরপুত্র’। অনেকেই তাকে ‘মিস্টার ১০%’ বলেও সম্ভোধন করেন। এই সরকারের আমলে ১০%-এর ও উন্নয়ন হয়েছে। আগে ছিলো এক তারেক, এক হাওয়া ভবন। উন্নয়নের জোয়ারে এখন হাজারো তারেক আর পুরো দেশই যেন হাওয়া ভবনে পরিণত হয়েছে।

তারেককে নিন্দুকেরা খাম্বা জিয়া বলে। কারেন্টের খাম্বার ৪০০ কোটি তারেক আর তাঁর ব্যবসায়ীক বন্ধু মামুন পকেটে ভরেছিল। এই সরকারের উন্নয়ন শুধু ৪০০ কোটিতে নয়, লাখ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। বহুল আলোচিত মেগা প্রকল্প, ‘ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়ক’ কিংবা ‘মগবাজার – মালিবাগ ফ্লাইওভার’ থেকে কত কোটি কার কার পকেটে গেছে সেটা ‘ওপেন সিক্রেট’!

উন্নয়ন শুধু দূর্নীতিতে হয়নি, খুন – ধর্ষণেও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রায়শ বিএনপি – জামাত সরকারের ধর্ষণ নিয়ে বলতে গিয়ে সীমা – পূর্ণিমাদের কথা উল্লেখ্য করেন। এই সরকারের আমলে সোনার ছেলরা এই খাতে চরমতম উন্নয়ন ঘটিয়েছে। এখন বাংলার ঘরে ঘরে হাজার হাজার ধর্ষিতা পূর্নিমা বাস করে। অনেকে বলেন, ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদযাপন করা ‘সেঞ্চুরি মানিক’ যাদের নেতা, তারা তো ধর্ষণের উন্নয়ন ঘটাবেই। ধর্ষণের সাথে পাল্লা দিয়ে খুন – গুমের উন্নয়নের সূচকও ছিলো উর্দ্ধমুখী। সাধারণ মানুষ বাধই দিলাম, ক্ষমতাসীনদের স্থানীয় নেতা – কর্মী – সমর্থকরা যে পরিমান খুন হয়েছে, সেটা অতীতে কোন সরকারের সময়েই হয়নি। তাও বেশিরভাগ খুনই হয়েছে, দলীয় অন্তকোন্দল কিংবা এলাকায় প্রভাববিস্তারকে কেন্দ্র করে।

শিক্ষার তেরোটা বাজাতে এই সরকারের উন্নয়ন ঈর্ষনীয়। শিক্ষা বিস্তারে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। যেটা সব মহলে প্রশংসিত হয়েছিলো। কিন্তু সমস্যাটা শুরু হলো যখন এই বই ভুলেভরা, মৌলবাদীদের প্রেসক্রিপশনে এবং দলীয় প্রচার মাধ্যম হিসেবে প্রণীত হয়। প্রশ্নফাঁসে যে উন্নয়ন এই আমলে হয়েছে, সেটা কেউ কখনও আর অতিক্রম করতে চাইবে না! এছাড়া এই সরকারের আমলেই শিক্ষার্থীরা গিনিপিগে পরিণত হয়েছে। একের পর এক নিয়ম/পদ্ধতি চালু হয়েছে আর গিনিপিগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেটা প্রয়োগ করা হয়েছে। গাইড বই বন্ধে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। পরে দেখা গেলো সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধানের গাইড বাজারে এসেছে। তিন ঘন্টায় ৫টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে যেখানে শিক্ষার্থীরা হিমশীম খেত, সেখানে ৭টি সৃজনশীল প্রশ্ন দেয়া শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই প্রশ্নের সংখ্যা বেড়ে ভবিষ্যতে ১০টি করা হবে। এই সবই শিক্ষার মানউন্নয়নে করা হচ্ছে এতে সন্দেহ নেই। এতো কঠিন পদ্ধতিতেও দিন দিন জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী যেটাকে উন্নয়ন বলছেন। আসলে কথা হচ্ছে, পরীক্ষার আগে যদি কঠিন প্রশ্নও ফাঁস হয়ে হাতে চলে আসে, তাহলে জিপিএ ৫ পাওয়াদের উন্নয়ন তো হবেই। বাংলাদেশে আগে কমিউনিস্টরা গরিবের পক্ষে শ্লোগান দিত, ‘কেউ খাবে তো কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না।’ এখন ফাঁস হওয়া প্রশ্ন না পাওয়া শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দেয়, ‘কেউ পাবে তো কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না!’ এমন অবস্থার মধ্যেই আমাদের দেশের শিক্ষাখাতের উন্নয়ন নিহিত।

এসবের পাশাপাশি এই সরকারের মন্ত্রী – এমপি থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতারা পর্যন্ত কথার উন্নয়ন সাধন করেছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কথা বার্তায় এমন উন্নয়ন ঘটিয়েছেন যা অতীতে এই বাংলাদেশে কেউ কখনও দেখেনি। কথার দিকদিয়ে অর্থমন্ত্রীর উন্নয়ন সবার শীর্ষে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের ‘পটকাবাজ’ বলে তিনি এই উন্নয়ন যাত্রার সূচনা করেছিলেন। রাবিশ, ভোগাস, শিক্ষায় ভ্যাট বসিয়ে ১০০০ টাকার ৭.৫% ৭৫০০ টাকা বলে সেই উন্নয়নকে টেনে নিয়ে গেছেন। অতীতে কোন মন্ত্রীই মন্ত্রনালয়ের দূর্নীতি স্বীকার করেননি। কিন্তু এবারের অর্থমন্ত্রী সেটা করেছেন। তিনি ‘ঘুষ’ শব্দের নতুন প্রতিশব্দের প্রবর্তন করেছেন, যাহা ‘স্পিড মানি’ বলে পরিচিত হয়েছে। কাজের জন্য স্পিড মানি গ্রহণ অপরাধ নয় বলেও অর্থমন্ত্রী মত দিয়েছেন। সব ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হচ্ছে সেটাও অর্থমন্ত্রীর কথাতে জাতি নিশ্চিত হয়েছিলো। এই সরকারের মন্ত্রীই ৫০০০ কোটি টাকা কে কোন টাকা-ই নয় বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। অর্থমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্র, খাদ্য, শিক্ষা, তথ্য, ডাক, সমাজকল্যানের মন্ত্রীরা কথার বিপুল উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। কথার উন্নয়নের কারণে জনগন তথ্যমন্ত্রীকে ‘খালেদার সমালোচনা বিষয়ক মন্ত্রী’ আর সাবেক বনমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদকে ‘বিএনপি বিষয়ক সম্পাদক’ বলে থাকে। সাংবাদিক সাগর – রুনি হত্যার পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেরা খাতুন ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের ধরার ঘোষনা দিয়ে সরকারের উন্নয়নের নমুনা দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য সাগর – রুনি হত্যার ৬ বছর পার হলেও ২৪ ঘন্টা এখনও শেষ হয়নি। সাবেক আরেকজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর রানা প্লাজা ধসের সময় নাড়াছাড়া তত্ত্ব দিয়ে এই সরকারের উন্নয়নের চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। এই সরকারের সময় মানুষের শক্তির এতো উন্নয়ন ঘটেছে যে, মানুষজন নাড়া দিয়ে ১০ তলা ভবন ফেলে দিয়েছিলো! বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও কথার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন। ‘জঙ্গিরা সবাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে, সরকার বললেই তাঁরা থেমে যায়’ - এমন কথা বলে জঙ্গিদের সাথে সরকারের অন্তরঙ্গতার উন্নয়নের প্রকাশ ঘটিয়েছেন মাননীয় মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এমন কথার উন্নয়ন দেখে জাতি তাদের নামের আগে একটি ইতর জাতিয় শব্দ বসিয়ে দিয়েছে। সেই শব্দটা আর এই এখানে উল্লেখ্য করতে চাই না।

আওয়ামীলীগের উন্নয়ন চলেছে বন এবং গাছকাটার মধ্যেও। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে সুন্দরবনে সরকার উন্নয়ন চালাচ্ছে। এতে বন ধ্বংস হলেও সেটা তো উন্নয়ন। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বন দখলে নেয়াটা কি কম কৃতিত্বের। এছাড়া মহাসড়ক সমূহের দুই পাশে লাগানো লাখ লাখ গাছ নির্বিচারে কাটা হচ্ছে। তার বিনিময়ে ৫ ফুটের মতো রাস্তা প্রসস্থ হচ্ছে, এটা কি উন্নয়ন নয়? বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বাড়ানোতে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। লুটপাটের লোভে পড়ে আইন ভুলে গিয়ে একই বছর দুইবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরে যদিও হাইকোর্টের নির্দেশে বর্ধিতমূল্য স্থগিত হয়েছে। আইনে কি আছে সেটা জানার দরকার নেই, দাম বাড়লেই তো আমলা – কামলা – মন্ত্রীদের পকেট ভরবে! উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারেও। চাল – পেঁয়াজের দাম সর্বকালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। কাঁচা মরিচ কেনার আগেই দামের ঝালে মানুষ হাপিত্যেশ করেছে। তবুও মানুষ প্রতিবাদ করেনি। এই প্রতিবাদ না করাটাই বলে, দেশে উন্নয়ন হয়েছে! ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

ঢাকা সড়কের যানজটেরও উন্নয়ন হয়েছে, আগে নিচে জ্যাম বাঁধতো, এখন রাস্তার উপরে, তারও উপরে জ্যাম বাঁধে। জলাবদ্ধতার উন্নয়ন দেখে মানুষ তো বলতে শুরু করেছে, নৌকা ছাড়া গতি নাই, ভরসা রাখুন নৌকায়! এই বিষয়ে সবচেয়ে সুন্দর শোগ্লানটি হচ্ছে, ‘উন্নয়নের নমুনা, বৃষ্টি হলেই যমুনা!’

আওয়ামীলীগের উন্নয়নের ফিরিস্তি লিখতে লিখতে রাত শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু সেই লেখা শেষ হবে না। তাদের উন্নয়ন লিপিবদ্ধ করলে মহাভারতের সমান দুই – চারটি উন্নয়ন গ্রন্থ তৈরি হবে। এসবের পরেও নিন্দুকেরা নিন্দুকেরা আওয়ামীলীগের উন্নয়নকে অস্বীকার করে! এই লেখা পড়ার পর নিন্দুকের দল, তোমরা আওয়ামীলীগের অবদানকে কি করে অস্বীকার করবে?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 4 দিন ago
Joined: রবিবার, মে 8, 2016 - 11:31পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর