নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

অভিজিৎ হত্যার ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের স্বপ্ন


অভিজিৎ রায়, ড.অভিজিৎ রায়, আমাদের অভিজিৎ দা, কারো কারো কাছে অভিদা, অজয় স্যারের গুল্লু, বন্যা আপার অভি-শুধু একজন ব্যক্তিমাত্র নয়,অভিজিৎ রায় এখন আমাদের কাছে একটা আদর্শের নাম, প্রেরণার অশেষ উৎস, মননশীলতার বেঞ্চমার্ক,মুক্তচিন্তার স্ট্যান্ডার্ড, বাংলা ভাষায় পপুলার সায়েন্স লেখার এপিটোম।আর সব মানুষের মতো একটাই মস্তক নিয়ে জন্মেছিলেন তিনি। কি যে ছিলো সেই মস্তিষ্কে আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি।কত বিচিত্র বিষয়ে সাবলীলভাবে লিখেছেন বিজ্ঞানভিত্তিক লেখা। অভিজিৎ রায়ের যা দেওয়ার ছিলো পৃথিবীকে, তার খুব সামান্যই দিয়ে যেতে পারলেন।তাঁর অনবদ্য মগজ রাস্তার ধুলায় গড়ালো!আমরা নিস্পৃহভাবে দেখছি রক্ত, মগজ ও অভিজিতের ধুলোয় গড়াগড়ি। তাতে অভিজিৎ রায়ের দৈহিক মৃত্যু হলো, সেই সাথে নতুন কিছু দেওয়ার সম্ভাবনাও চিরতরে শেষ হয়ে গেল।

কিন্তু আসলেই কি শেষ হয়? শাহবাগের ধুলোয় লুটোপুটি খাওয়া অভিজিতের মগজ যে রক্তবীজের মত।এই রক্তবীজ আসুরিক নয়, বরং অসুরের বিরুদ্ধেই তার যুদ্ধ। সে নিজেকেই ক্লোন করে বারবার। ছড়িয়ে পড়ে আরো আরো মানুষের মাঝে। এভাবেই সভ্য সমাজের ভিত রচিত হয়। সৎ আদর্শবান ব্যক্তিত্ব মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে ওঠে।

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পর বারবার আমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে গঠনমূলক সমালোচনা লিখতে।অভিজিৎ রায় গঠনমূলক সমালোচনাই তো লিখতেন। তবু তাঁকে মরতে হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকার তাঁর মৃত্যুতে শোক করেনি,বরং হত্যাকারীদের উৎসাহ দিয়েছে। তাঁর অনুসারীদের তথা স্বাধীন লেখকদের সংযত হতে উপদেশ দিয়েছে, তাদের মৃত্যুর দায়ভার নিবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে, তাদেরকে পর্ণ রাইটার বলে উল্লেখ করেছে এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে মৃত ব্যক্তির লেখাগুলোকেই দায়ী করেছে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার প্রজন্মই অভিজিৎ রায় কে খুন করেছে, তাঁকে পথের কাঁটা ভেবে উপড়ে ফেলেছে।আমিও সেই কলঙ্কের দায়ভার বহন করে বেড়াচ্ছি। সান্ত্বনা একটাই।অভিজিৎ রায়দেরকে সমূলে উপড়ানো যায় না। এঁরা প্রবলভাবে ফিরে ফিরে আসে।দেখা যাবে আমার উত্তর প্রজন্ম, হয়তো আমারই কন্যা, কোন এক একুশে বইমেলার সকালে আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরী থেকে বেদ, গীতা, মনুসংহিতা আর উপনিষদগুলো বস্তায় ভরে নিয়ে ঠোঙা বানানোর দোকানে কেজি দরে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে (আশা রাখি তখন বাংলা একাডেমির স্টলেই বিক্রি হবে অভিজিৎ রায়ের বই আর পোস্টার) অভিজিৎ রায়ের দুইখান কালার পোস্টার কিনে বাসায় ফিরবে। একখান আমার কন্যার পড়ার ঘরে আর অন্যটা আমার বেডরুমের দরজার ওপরে সেটে দিবে। ওই ছবির দিকে আঙুল নির্দেশ করে আমাকে বলবে "এই আমাদের মুক্তচিন্তার, বিজ্ঞানমনস্কতার অগ্রনায়ক, যাকে তোমরা হত্যা করেছিলে,করে উৎসবে মেতেছিলে।" আরো হয়তো বলবে " ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অভিজিৎ রায়ের ছবিটার দিকে তাকিয়ে মাথাটা নীচু করে বের হবে।" আমি অাত্মপক্ষ সমর্থনের সুরে মিনমিনে গলায় বলবো "আমি ফেসবুকে প্রতিবাদ করেছিলাম, শোক প্রকাশ করে প্রোফাইল পিকচার কালো করেছিলাম, বিচারও চেয়েছিলাম দু এক বার।"আমার আদরের মেয়ে আমাকে বলবে "গড ড্যাম ইওর শোক প্রকাশ, গো টু হেল। তোমার শোক কি আর একটা অভিজিৎ রায় কে এনে দিতে পেরেছে?" আমি নিরুত্তর থাকবো। হয়তো বাইরে বের হয়ে এসে নির্জন কোন জয়গাতে গিয়ে চিৎকার করো কাঁদবো। সুখের কান্না, বিজয়ের কান্না। জানবো, যে স্ফুলিংগটুকু এতকাল জ্বালিয়ে রেখেছিলাম কোনমতে, সেই স্ফুলিংগ আজ দাবানলে পরিণত হয়েছে। আমি অঝোরে কাঁদবো। সেই কান্নাজড়িত ভবিষ্যতের জন্য আমি বাঁচতে চাই।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 3 weeks ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর