নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

মায়ের ব্যাগ বহন করা প্রশংসনীয় এবং প্রেমিকার ব্যাগ বহন করা অপমানজনক


আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগে আমার এক বান্ধবীর ব্যাগ বহন করার কারণে আমার বন্ধু-বান্ধবীরা আমাকে নিয়ে অনেক হাসিতামাশা করেছিলো। বান্ধবীর ব্যাগ বহন করার ছবি তুলে সেই ছবি নিয়ে অনেক ঠাট্টা করেছিলো। একজন ছেলে হয়ে আমি কীভাবে একজন মেয়ের ব্যাগ বহন করলাম এটা তাদের চিন্তাজগতের বাইরে ছিল।

আমরা তখন সবাই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমাদের চিন্তারাজ্য গভীর ছিল না। কিন্তু আমাদের চিন্তারাজ্যে কীভাবে জানি অসংখ্য আবর্জনা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। আমার বন্ধুবান্ধবীরা আমাকে সমাজের নিয়মকানুনের ব্যাখ্যা দিয়েছিল। সমাজের আবর্জনাজনিত বিধিবিধান পালনে তারা অনেক সন্তুষ্ট ছিল। তাদের চিন্তাজগতে তখনো প্রশ্ন দেখা দেয় নি। আমাদের নষ্ট সমাজব্যবস্থা মস্তিস্কে ঢুকিয়ে দিয়েছে বান্ধবী বা প্রেমিকার ব্যাগ বহন করা পুরুষের জন্য অপমানজনক কিংবা নারীর পেছনে দাঁড়িয়ে পুরুষের রাস্তা পারাপার করা লজ্জাজনক, কিংবা খাবারের বিল ছেলেদের দেওয়া বাধ্যতামূলক কিংবা ছেলের ঘাড়ে মেয়ের হাত রাখা অভদ্রতা ইত্যাদি। এবং এইসব বিকৃত চিন্তাধারা নারী ও পুরুষ উভয়ই যথাযথভাবে পালনে মশগুল।

ছোটকাল থেকে দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে, পড়তে পড়তে সবার মস্তিস্কে এমন পচন ধরেছে যে কেউই স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক বিষয়গুলোর পার্থক্য করে পারে না। যখন একটা ছেলে হাফপ্যান্ট থেকে ফুলপ্যান্টে এবং একটা মেয়ে ফ্লক থেকে বড় পোশাকের জগতে প্রবেশ করে তখন তাদের মস্তিস্কে এই নষ্ট সমাজব্যবস্থার ঘোষিত-অঘোষিত জঘন্য নিয়মনীতি ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বিশাল আকারের পার্থক্য ও দূরত্ব সৃষ্টিতে নিম্নমানের ভূমিকা পালন করে থাকে। এবং সমাজের রীতিনীতি, নিয়মকানুন, প্রথা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের পরিবর্তে সকলেই ধরে নেয় যা চলছে তাই সঠিক। নারীর স্থান নিচে এবং পুরুষ সকলের ঊর্ধ্বে।

হঠাৎ একদিন লক্ষ্য করলাম, যে সকল বন্ধুরা আমাকে নিয়ে পরিহাস করেছিলো তারাও নারীর ব্যাগ বহন করে। কিন্তু, সেই নারীটি তাদের বান্ধবী নন, কিংবা প্রেমিকা নন। সেই নারীটি তাদের মা। এবং মায়ের ব্যাগ বহন করা অপমানজনক নয় বরং প্রশংসনীয়। এই বিষয়ে তাদের প্রশ্ন করলে তাদের জবাবটা এমন ছিল যে মা আর প্রেমিকা এক হল নাকি!

প্রেমিকাকে ছেড়ে দেয়া যায়। একটা গেলে আরও দশটা পাওয়া যায়। কিন্তু মাকে চাইলেও ছেড়ে দেওয়া যায় না। অধিকাংশ সময়ে মা একটাই হয়। মাকে ছাড়ার কোন উপায় নেই বলেই বাধ্য হয়ে মাকে রাখতে হয়। প্রেমিকাকে ছাড়ার অসংখ্য উপায় আছে বলেই ছেড়ে দেওয়া যায়।

কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করলাম, আমাকে নিয়ে হাসিতামাশা করা কয়েকজন বন্ধুবান্ধবীর বিয়ে হয়েছে। একজন বান্ধবীকে দেখলাম ছবি পোস্ট করে লিখেছে, ‘আমার জামাই কতো ভালো, আমার ব্যাগ ক্যারি করে’। অথচ কয়েক বছর আগে এই মানুষটি লজ্জাবোধ করতো পুরুষের হাতে নারীর ব্যাগ দেখতে। একজন বন্ধু তার স্ত্রীর সাথে ছবি পোস্ট করে লিখেছে, ‘বউয়ের ব্যাগ ক্যারি করা স্বামীর দায়িত্ব’। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের বানানো চিরচেনা সস্তা যুক্তিগুলো পরিস্থিতি নির্ভর। যে পরিস্থিতিতে যা বা যতোটুক সামাল দেওয়া যায়, ততোটুকই। যেমন তাদের ছবির ক্যাপশনও পুরুষতন্ত্রে আক্রান্ত।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অনন্য আজাদ
অনন্য আজাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 20 ঘন্টা 25 min ago
Joined: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর 4, 2015 - 10:56অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর