নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বাঙ্গালিকে মরিয়া প্রমাণ করিতে হয় - সে মরে নাই !


অাবহমান কাল ধরে বাঙ্গালি জাতি ঠাকুর, পুরুত, বৃক্ষ, দেবতার পূজা করে অাসছে।
প্রাণহীন মূর্তি, বাকশক্তিহীন বটগাছ এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাহীন কবর এসবই হচ্ছে বাঙ্গালির পূজ্য।
পূজারি ও ভক্তি-গদগদ বাঙ্গালি ব্রাক্ষ্মণ্যে অতিষ্ঠ হয়ে যখন ইসলামে বিবর্তিত হচ্ছিল তখনো তাই তারা ওহাবী ইসলাম কবুল না করে বরং সুফী ও ভক্তিবাদী ইসলাম কবুল করেছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের খান, চৌধুরী, শেখ বংশ হচ্ছে অাদিতে ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীদের থেকে বিবর্তিত প্রজাতি; যারা অাদিতে ছিল ব্যানার্জী, বন্দোপাধ্যায়, ঠাকুর ইত্যাদি।

ওদের জাতপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পাইকারি হারে নম, শূদ্র, ক্ষত্রিয়রা ইসলাম গ্রহণ করে। ইসলাম ধর্মে মুসলমান-মুসলমানে ভেদাভেদ নেই, অাছে নারী-পুরুষ ও কাফেরদের সাথে ভেদাভেদ।
নারী-পুরুষ বৈষম্য ঠাকুর-পুরোহিত শাসিত হিন্দু সমাজেও নেহাত কম ছিল না।

নম, শূদ্র, ক্ষত্রিয়রা ইসলাম গ্রহণ করে রহমান, হোসেন, ইসলাম, উদ্দীন, মোল্লা নাম গ্রহণ করে।
উঁচুজাতেরা এবার প্রমাদ গুণলো, তারাও ইসলাম গ্রহণ করে খান, চৌধুরী, শেখ, জোয়ার্দার, মজুমদার হয়ে পুনরায় শাসনের ছড়ি ঘোরাতে লাগলো ইসলামে বিবর্তিত জনসাধারণের উপর।

ব্রাক্ষ্মণেরা এবার স্বর্গের জায়গায় বেহেশত ভাড়া করলো, ভগবানের জায়গায় খোদা রিপ্লেস করলো, নরকের জায়গায় দোজখ রিজার্ভ করলো।
বটগাছের বদলে স্থাপিত হলো মাজার, মন্দির ভেঙে নির্মিত হলো মসজিদ, বৃন্দাবনের বদলে ঘরে শোভা মক্কার ছবি।

গরিবের জন্য থাকলো ভক্তি, অার ধনী খানসাহেবের জন্য বরাদ্দ রইলো সেবা।
গণতান্ত্রিক যুগে অনেক কিছুর উন্নতি হয়েছে, অনেক কিছু বদলেছে। বদলে গেছে মূল্য ও মূল্যায়ন। কঠোর সংগ্রাম করে নিচু থেকে উঁচুতে ওঠা জাতেরা তখন সহানুভূতি দেখাতে লাগলো তাদের পূর্বতন ও পূর্বোক্ত প্রজাতির প্রতি।
জীবিত থাকাকালে গরিব প্রতিভাবানকে মাথায় তুললে নিজের জাত যাওয়ার ভয় পায় সাবেক নিচু তথা বর্তমান সংগ্রামী উঁচু। সে ভাবে, তাকে যদি ছাড়িয়ে যায় এই দুরন্ত গতির নিচু? সে তখন ভিন্নভাবে চিন্তা করে, অথবা বলা যায় সেই শত শতবছর পূর্বের জাতপাতের সুপ্ত অঙ্কুর তার ভেতর একটু একটু করে বিকশিত হয়। সে দেখে, জীবিত ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করলে তার উঁচুত্বে ঘাটতি হতে পারে, কিন্তু মৃতকে মূল্যায়ন করলে তার উঁচুত্ব এবং চিত্ত সুস্থ থাকে, তার মহত্ত্বও পরিপুষ্ট হয়।
তাই সে তখন অপেক্ষা করে - কখন মরবে এই লোকটা? জীবনযুদ্ধে হোক কিংবা শক্রুঘাতে হোক, তার মরণ চাই-ই চাই।
হঠাৎ খবর অাসে - অতি প্রত্যাশিত বিষয়টা ঘটেছে, সংগ্রামী মেধাটার মৃত্যু হয়েছে!
নাটক-সিনেমা অামাদের শিখিয়েছে, কিভাবে বিষবৃক্ষের মাঝেও ফুল দেখাতে হয়, কিভাবে হৃদে খুশ নিয়েও অঝোরে বেদনার্ত হয়ে কাঁদতে হয়!

কান্না অাসে, শ্রাবণধারায়।
ডুকরে, কিংবা খিকরে।
কান্না অাসে, অবিরাম।
অাত্মা বেরোয় ঠিকরে।

এ কান্নার দাম অনেক, কারণ এটা সেলিব্রিটির কান্না। এ কান্নার মান অনেক, কারণ এটা মহামহিমের কান্না।
বক্তব্যে হয় ঝাঁজ, কপালে পড়ে ভাঁজ, মহামহিমের বাড়ে অারো একটু রাজ।

কাঙ্গালিনী অভাবে ধুঁকছে, কিন্তু মহামহিম হাজার ডলারের সিগারেট ফুঁকছে।
শিল্পী অকালে চলে যাচ্ছে, কিন্তু মহামহিমের অপূর্ণ রয়না কোন ইচ্ছে।

কে বলেছে বাঙ্গালি মূল্যায়ন করতে জানে না? জানে, অালবৎ জানে।
তবে অন্য জাতির চেয়ে একটু ভিন্ন।
বাঙ্গালি মৃতকে সম্মান দিতে জানে, তার কবরে ফুল দিতে জানে, তার জন্য অশ্রু বিসর্জন করতে জানে।
মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে গল্প, কাব্য, নাটক, স্মৃতিস্তম্ভ বানাতে জানে।
তিনি মূল্যায়িত হলে মানবতা, জ্ঞান, শিল্পের জন্য অনেক কিছু করতে পারতেন - এটুকু স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করেনা বাঙ্গালি।

তুমি অনাহারে রয়েছ, অাহা.... কি কষ্ট! এমন সহানুভূতি বাঙ্গালি ছাড়া অার কে-ই বা দেখাতে পারে?
তুমি বস্ত্রহীন অাছো, অাহা.....কি বেদনা! তোমার জন্য কিছু করতে পারছিনা বলে দুখিত, তবে জেনে রেখো - অামার গায়ের টিশার্টের দাম কিন্তু দুশো ডলার! এমন মধুর সহানুভূতি বিকিরণ করতে কে-ই বা পারে বাঙ্গালি ছাড়া?

বাঙ্গালি অমর হয়, তবে মৃত্যুর পর।
বাঙ্গালির মরিয়া প্রমাণ করিতে হয়, সে মরে নাই।
মরিয়া প্রমাণ করিতে হয় সে মেধাবি ও সৎ ছিল, মানবজাতির সম্পদ ছিল।

যতক্ষণ পর্যন্ত না মরবে ততক্ষণ তো অার নিশ্চিত হওয়া যায়না, লোকটা ভালো কিনা!
মরে গেলে তখন তার দোষগুলিও সন গুণবান হয়ে যায়, অার জীবিত থাকলে গুণসমূহও দোষযুক্ত হয়ে রয়!
রাজিব, অভিজিত, ওয়াশিকুর, নিলয়, অনন্তকে কিন্তু মরিয়াই প্রমাণ করিতে হইয়াছিল - উহারা মরে নাই!
এখন কত চোখেরজল তাদের জন্য বর্ষিত হয়, কত ক্রোধাগ্নি তাদের স্মরিয়া উদগীরিত হয়, কত কাব্য তাদের তরে রচিত হয়!

ধর্ষিতা যখন অার্তনাদ করে তখন বাঙ্গালি পুংলিঙ্গরা অাহ্লাদিত হয়, সুখানুভবী হয়। ধর্ষিতা যখন অাত্মহত্যা করে তখন তাকে কলঙ্কমোচনের সার্টিফিকেট বিতরণ করে সমাজ, সাংবাদিক, পুলিশ; সর্বোপরি অধিকাংশ পুংলিঙ্গ।
ধর্ষিতার মৃত্যুতে অাস্ফালনে, অার্তনাদে, ক্ষোভে ভারি হয়ে বারিপাত করে যেন অাকাশ!
ধর্ষিতা যতক্ষণ জীবিত থাকে ততক্ষণ সব দোষ থাকে তার পোশাকের উপর, যখনি মরে যায় তখনি সে অমর হয়ে যায়, পোশাকের দোষ মোচন হয়ে যায়!
কলঙ্কমোচিত মৃত ধর্ষিতার বিচারের জন্য গলায় অাগুন ঝরে, মিডিয়ায় ক্রোধ উগড়ে, লিখনিতে ঝাঁজ চলে।

অাবেগের উত্তাপের জন্য, অাত্মার প্রসাদের জন্য, বিত্তের বর্ধণের জন্য মৃত্যুই কি বড় মাধ্যম নয়? তবে সেটা নিজের নয়, অন্যের মৃত্যু হতে হবে।

সেটা হতে পারে লেখকের মৃত্যু, হতে পারে ধর্ষিতার মৃত্যু, হতে পারে নিপীড়িতের মৃত্যু, হতে পারে শিল্পীর মৃত্যু।
মৃত্যুর মাত্রা যত তীব্র হয় অাবেগের উত্তাপ তত ঝাঁজালো হয়।
ঘটনা যত মর্মান্তিক হয় চিত্তের নৃত্য তত খেমটা হয়।

সারাদিন উত্তপ্ত থেকে রাতে ঘরে ফিরে বরফ দিয়ে কোল্ট ড্রিংকস খেয়ে নিরুত্তপ্ত হন মহামহিম।
এরপর চলে নিরুত্তেজ ভাবনা - অামার বক্তব্যটা কি সুন্দর হয়েছে? মিডিয়ায় দেখাবে তো? কখন দেখাবে?
অাগামীকাল কি কর্মসূচি দেয়া যায়?
অামি ছাড়া কে-ই বা বুঝবে অার্তের মনোপীড়ন? নিহত ছিল কত অমূল্য ধন?
অামি ছাড়া কে-ই বা বুঝবে, অাত্মহত্যাকারী ধর্ষিতা ছিল অত্যন্ত মেধাবি ছাত্রী?
অামি ছাড়া কে-ই বা বুঝবে প্রেম প্রত্যাখ্যান করে এসিডদগ্ধ হওয়া নারীটি কত মহৎ ছিল ? যদিও সে অামার কাছে যখন সাহায্যের জন্য ফোন করেছিল তখন অামি ব্যস্ততার জন্যে কিছু করতে পারিনি!
অামি তো অার যেনতেন কেউ নই, অামি হচ্ছি এ জগতের মানবতার পরিত্রাতা।
ধর্ষিতা যখন বাঁচার জন্য অার্তনাদ করছিল তখন অামি জরুরি মিটিংয়ের ডাকে ব্যস্ত ছিলাম। অামি না হয় ব্যস্ত ছিলাম, কিন্তু অন্য পুরুষগুলি কি করছিল তখন?

তবে এখন অামার সময় অাছে - কারণ, ধর্ষিতা অাত্মহত্যা করেছে, লেখককে হত্যা করা হয়েছে, প্রেম-প্রত্যাখ্যানাকারী নারী এসিডদগ্ধ হয়েছে!
মানবতার পরিত্রাতা হিসেবে কি অামার কোন ভূমিকা থাকবেনা?
একাত্তরের যীশু হতে পারিনি, কারণ তখন অামার জন্ম হয়নি।
তখন যদি থাকতাম তাহলে বীরশ্রেষ্ঠের একটি মুকুট অামার মত বীর পুংলিঙ্গেরও একটা থাকতো!
এখন অামি ঝাঁজালো বক্তব্য দিয়ে, কেঁদেকেটে জারেজার হয়ে, লিখনিতে অনল ছড়িয়ে যদি 'বীরপুরুষ' কিংবা বীর পুংলিঙ্গ খেতাব পাই তাতে সমস্যা কোথায়?

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুফতি মাসুদ
মুফতি মাসুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 1 দিন ago
Joined: সোমবার, আগস্ট 14, 2017 - 6:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর