নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • সরকার আশেক মাহমুদ
  • সজল-আহমেদ
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বাঙালীর বাংলা প্রীতি


"আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি"

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরচিত আমাদের জাতীয় সঙ্গীতটি একদিকে যেমন অনেকের মনে শিহরণ জাগায় আবার অন্যদিকে অনেকের গায়ে চুলকানি ধরিয়ে দেয়। চুলকানির সবচেয়ে বড় কারন হল রবীন্দ্রনাথ একজন হিন্দু লেখক। বাঙালীর জীবনধারা ও বাংলা সাহিত্যের অনেকটা অংশ জুড়েই রয়েছে হিন্দুয়ানী রীতি। তাই দ্বিতীয় শ্রেণীর কাছে বাংলাকে ভালবাসাটাও যেন পাপ।

বাংলা সাহিত্যের কবি লেখকগণ বারবার এই বাংলাকে, বাংলার মানুষকে, বাংলা ভাষাকে ভালবাসার কথা জানিয়েছেন ও বাংলার রূপবৈচিত্রে মুগ্ধ হয়ে বাংলার প্রকৃতির প্রশংসা করেছেন।

আর বাঙালী জাতির আন্তরিকতা, সে তো পৃথিবীর বুকেই বিরল। তবে বর্তমান সময়ে এসে আমরা যেন দিনদিন আমাদের বাঙালীত্ব হারিয়ে ফেলছি। বাঙালী ও বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দিনকে দিন বাঙালীর জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। একটি জাতির যে নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, যা দিয়ে মানুষ জাতিটিকে চিনতে পারে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি। বাঙালীরও রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি।

বাঙালীর ভাষা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। বাঙালীর ভাষাকে কেন্দ্র করেই সার বিশ্বে পালিত হয় মাতৃভাষা দিবস। এই ভাষাকে বাঙালীর মুখে ফিরিয়ে দিতে রক্ত দিতে হয়েছে অসংখ্য ভাইবোনের। রক্ত দিয়ে কেনা এই ভাষা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি পেলেও আমাদের বাঙালীর কাছে এর মূল্য নেহাতই কম। বর্তমানে বাঙালী সমাজ মূলত দুইটি ভাগে বিভক্ত। একটি পাশ্চাত্য দর্শন আর অন্যটি ধর্মীয় দর্শন।

উচ্চবিত্ত শ্রেণীর লোকেরা পাশ্চাত্য ধারায় জীবন ধারন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই তাদের ছেলেমেয়েদেরও প্রচলিত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করে অত্যাধুনিক শিক্ষায় মানে শুরু থেকেই ইংরাজি পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কলেজের দিকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। তাদের সন্তানেরাও ছোটকাল থেকে যে শিক্ষা পায় সে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে জীবন ধারনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাংলা পড়ে থাকে হেলায়। আর অন্যদিকে ধর্মীয় দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে আরবি শিক্ষা দিয়ে ছেলেমেয়েদের হাফেজ, মাওলানা ইত্যাদি বানানোর কাজে ব্যস্ত সমাজের আরেকটি বিরাট গোষ্ঠী। প্রচলিত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে ছেলেমেয়েদের ধর্মের প্রতি টান থাকবেনা, এমন একটি মনোভাব নিয়ে ছোটকাল থেকেই ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় পাঠানো শুরু করে তারা। যেখানে মূল ভাষা হচ্ছে আরবি, তার পাশাপাশি অন্য গুলো পড়ানো হয়। আর সম্প্রতি কালে বাঙালীর দেশে মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষার অগ্রগতিও চোখে পড়ার মত। তাদের মতে আল্লাহ্'র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম আর সেইহেতু ভাষা হচ্ছে আরবি। তাই সে শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়টা খুব বেশি জরুরী। বাংলা এখানেও নিগৃহীত।

এই দুই শ্রেণী ব্যতীত যে কজন এখনো বাংলাকে ছাড়তে পাড়েনি মানে বাংলা এখনো যাদের মাঝে বেঁচে আছে তাদের মাঝেও বাংলার তেমন কোন চর্চা নেই। যা সুন্দর ভাবে উপলব্ধি করা যায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে। একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে গিয়ে শব্দের বানান ভুলতো আছেই, অনেক সময় বাক্যটি দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে তাই বোধগম্য হয়না। তারা যেন বাংলা নয়, নতুন কোন ভাষা আবিষ্কার ও তার চর্চা করছে।

বলার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। উদীয়মান শিক্ষার্থীগণ বাংলা ইংরেজি মিক্সার(মিশ্রিত নয়) করে এমন একটা ভাষা ক্রিয়েট(তৈরি নয়) করে যার কোন তুলনা হয়না। নিজেদের মাতৃভাষাকে এভাবেই বাঙালী জাতির প্রতিটি শ্রেণী অপমান করে চলেছে তাদের স্ব স্ব রাস্তায়। কেউ অত্যাধুনিক, কেউবা ধার্মিক আর কেউবা মিশ্রিত আধুনিক হতে ব্যস্ত। সবগুলো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে থাকে বাংলা।

বাঙালীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রূপও অনেকটা ভাষার মতই। বর্তমানে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ বাঙালীর কাছে অতি পরিচিত একটি দিন। ভালবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে আসলে বিশেষ করে শহর গুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। তাছাড়া গ্রামেও এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে বাঙালীর ছয় ঋতুর মাঝে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনও হয় প্রায় একই সময়ে। বসন্তের আগমন কিংবা ১লা ফাল্গুন বাঙালীর সংস্কৃতি হওয়া সত্ত্বেও জনমনে এর তেমন কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায় না। সবাই ভ্যালেন্টাইন ডে পালনেই বেশি আগ্রহী।

বাঙালীর ঐতিহ্যগত পোশাক-আশাক বাঙালীর দৈনন্দিন জীবন থেকে বিলুপ্তির পথে। ভাষার মতই অভিজাত শ্রেণী টপ-জিন্সে নিজেদের ভিনদেশীতে পরিণত করছে আর অন্যদিকে আরেকদল নিজেদের বস্তাবন্দী করে বাঙালীর চিরচেনা রূপকে করছে অপমান। বাঙালীর মূল পোশাক শাড়ী এখন তাই তেমন একটা চোখে পড়েনা। এ তো গেলো মেয়েদের ব্যাপার, ছেলেদের ক্ষেত্রেও প্রায় একই অবস্থা। কেউবা পাশ্চাত্যাভিমুখী আবার কেউবা ধর্মীয় ধ্যান-ধারনায় মগ্ন। সব মিলিয়ে বাংলার চিরচেনা রূপ বই-পুস্তক আর কিছু পুরানো সিনেমা, গান ব্যতীত কোথাও নেই। আধুনিকতার অভ্যন্তরে বাংলা নির্বাসিত।

একুশে ফেব্রুয়ারি "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" এই দিনটিতেও ফেইসবুকে "Today International Mother Language Day" হিসেবে অভিহিত করেই অসংখ্য স্ট্যাটাস ঝাড়া হয়।
বাংলার দামাল ছেলেরা যে স্বপ্ন, যে আশা নিয়ে তাদের মায়ের ভাষা রক্তের বিনিময়ে মায়েদের মুখে ফিরিয়ে দিয়েছিল, আজ তাদের স্বপ্ন পূরন করতে পারে একমাত্র তরুণ প্রজন্ম।
বাঙালীর বাঙালীত্ব পহেলা বৈশাখ কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারির মত নির্দিষ্ট দিনের মাঝে আবদ্ধ না হয়ে তা যেন হয় বছরের প্রতিটি দিন।

চিরদিন তোমার আকাশ
তোমার বাতাস
আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।

এমনি করে সবার মনে প্রাণে চিরদিন যেন বাংলা বেঁচে থাকে।

আমরা বাঙালী, বাংলা আমার মা, বাংলা আমার অহংকার।
বাংলা'ই হোক মরনের সঙ্গী।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মোঃ যীশুকৃষ্ণ
মোঃ যীশুকৃষ্ণ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 3 দিন ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 29, 2017 - 10:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর