নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

আপনার সমালোচনা এবং কুঞ্চিত ভ্রু নিজের পকেটেই পুরে রাখুন।



যতক্ষন না আপনি আপনার কুঞ্চিত ভ্রু এবং সমালোচকের বাঁকা দৃষ্টিকে সোজা করছেন, সমাজ ততক্ষন সত্যিই আপনার কাছ থেকে পজিটিভ কিছু আশা করতে পারবে না।
.
কদিন থেকেই ভাবছিলাম কিছু বিষয় নিয়ে দু'কলম লেখা উচিৎ, যা দেখলে সত্যিই ভীষন রাগ জন্মে আমার।আমরা নিজেরা নিজেদের কাজে যতোটা আবদ্ধ থাকতে ভালো না বাসি তারচেয়ে বেশী ভালোবাসি পরচর্চায় মত্ত থাকতে।যেমন - গুটি কয়েক মহিলা একত্রে বসে গল্প করা মানে প্রায়শই তা মুখরোচক পরচর্চা।আমার ভাই, নারী বলে কোন হ্যাডাক নেই।ভুল করেও নিজেকে নারী ভাবি না; মানুষ ভাবি।তাই পরচর্চা বা কুঞ্চিত ভ্রু ধারী উভয়ের বদ অভ্যাসকেই ধরিয়ে দিতে চাই।
.
লক্ষ্য করে দেখেছি, যখন বাইরে বেরুই যে মেয়েটা আপনাদের কথিত আটা, ময়দা,সুজি মেখেছেন আপনিই তার দিকে চেয়ে বড় বড় করে ঢোক গিলেন।ঢোকের সাথে আর কি কি গিলেন সে না হয় নাই বা বললাম।আবার এই আপনিই ওইসব মেয়ের ছবি দেখে দেধার্সে বলে যাচ্ছেন বাড়িতে কি আটা, ময়দা আর ছিলো না? আরে ভাই, একটা মেয়ে যদি নিজেকে সুন্দর করে সাজাতে ওইসব লাগায়, লাগিয়ে নিজে আত্মতৃপ্তি লাভ করে আপনার এতো মাথা ব্যথা কেনো? পরোক্ষভাবে সাধারণ বেনী পাঁকানো ফ্যাকাশে ঠোঁটের মেয়েটার দিকে আপনি ফিরেও তাকান না,উপরন্তু গেঁয়ো বলতেও দ্বিধা করেন না ; নারী কিংবা পুরুষ যে-ই হোন।
.
যে মেয়েটার হিউজ সাউজ বডি হয়তো সে চেষ্টা করেও তা কমাতে পারেনি অথবা জেনেটিক।আপনি তাকে দেখে টিটকারী মেরে খুশি খুশি চোখ নিয়ে বলে উঠলেন, কী মাল রে ভাই।জানি না, মাল মানে আপনারা কতো কি বোঝান।আড়ালেই আবার তার স্বাস্থ্যের সমালোচনা করছেন।একদিন রাস্তায় শুকনা একটা মেয়েকে দেখে এক ছেলেকে বলতে শুনলাম, সামনে কম হয়ে গেছে রে.....। আসলে আপনি পুরুষ হয়েও বিগ সাইজ, নাকি জিরো সাইজ পছন্দ করেন আপনি নিজেও জানেন না।আর আপনার পছন্দেই কেনো একটা মেয়েকে সব করতে হবে তার জবাবও আপনি জানেন না।
.
যে মেয়েটার অল্প বয়সে মানে টিন এইজে বিয়ে হয়ে গেছে তার সাংসারিক আচরণে আপনি নারী হয়েও বলছেন, কী পাঁকা মেয়েরে বাবা।আবার বেশী বয়সে সংসার করতে আসা মেয়েটার কাজের অদক্ষতা দেখেই মুখ হা করে বলে দিলেন,বুড়ো ধারী মেয়ে কিছুই পারে না ছোট থেকেই শিখে নিতে হয়।আসলে একটা মেয়ে কখন যে কি কাজে কতোটা দক্ষ হবে আপনার সমালোচনাকর দৃষ্টির কাছে সে উত্তরটুকুও হয়তো জানা নেই।
.
যে মেয়ে ঘরে বসে বাড়ির কাজ করে কেউ জিজ্ঞাসা করলো, বউ মা কি করে? আপনি মুখ বাঁকিয়ে বললেন,কিছুই করে না।অথচ সারাদিন গাঁধার মতো খেটে আপনার সংসারের পালন করা বিশ্বস্ত কেয়ার টেকারের দায়িত্বটি আপনার চোখেই পড়লো না।ওদিকে যে বউ রুপী মেয়েটা চাকরি করে দুটো পঁয়সা ঘরে এনে আপনার সংসারকে আরেকটু স্বচ্ছলতা দিচ্ছে, কিছু হলেই খোটা দিয়ে আপনি তাকে বললেন, অমন ব্যাগ দুলিয়ে সারাদিন বাইরে কাটিয়ে এলে ঘরে মন টিকবে কী করে? অথচ, রোজগারের জন্য সারাদিন বাইরে পরিশ্রম করেও ঘরের কাজের দায়িত্বটুকুও সে-ই তদারকী করে।
.
একটা মেয়ের যখন ঘর ভেঙ্গে যায় আপনি কুঞ্চিত ভ্রু নিয়ে তার দিকে তাকান।সে যখন চোখ মুছে উঠে দাঁড়ায়, নিজের মতো ভালো থাকার চেষ্টা করে,একটু হাসে সেখানে আপনি চোখ বন্ধ করেই মেয়েটাকে সন্দেহের চোখ নিয়ে কুলটা ভেবে বসেন।এতো ফূর্তি আসে কোথা থেকে।অথচ, যখন সে স্বামীর ঘরে নির্যাতিত হচ্ছিলো আপনি কিন্তু একবারও উপযাজক হয়ে তার সমস্যাগুলো সমাধান কল্পে সংসার জোড়া লাগাতে এগিয়ে যাননি।
.
সদ্য বিধবা হওয়া অল্প বয়সী মেয়েটা জানে তার জীবন কতটা অসহায় আর দূর্ভোগের।বেলা শেষের সূর্য হারালে রাতের আঁধারে তার জল কেউ গুনতে আসে না।নিজের চেষ্টায় নিজে একটু স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করলেই শুরু হয়ে যায় আপনার ভ্রু কুঁচকানো।ছি! অমন স্বামী মরা মেয়ে আবার রঙ্গিন কাপড় পরে? চোখে কাজল আঁকে? শব্দ করে হাসে?যতো রকমের বাজে সমালোচনা নারী হয়েও আপনি করেন,কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষও তা থেকে বাদ যান না।যদি মেয়েটা স্বামীর সাথে সহমরণে যেতো কিংবা বেঁচে থেকেও লাশের মতো দিন কাটাতো তবেই বোধ করি সবচেয়ে বেশী খুশি হতেন আপনি।
.
এতোগুলো কথার অর্থ তাহলে কি দাঁড়ালো?আপনি কি তবে নারীকে সমাজে স্বাভাবিক চোখে দেখতে রাজি নন? নিজে একজন নারী কিংবা পুরুষ হয়ে দিনের পর দিন নারীর প্রতি আপনার এই সমালোচনার দৃষ্টি আর কুঞ্চিত ভ্রু কোন মানসিকতার পরিচয় রাখে তা কিন্তু পরিস্কার।আপনি কি মনে করেন, সমাজ আপনার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারবে?
.
আপনার সমালচনা আর কুঞ্চিত ভ্রু নিজের পকেটেই পুরে রাখুন। নারীকে এগিয়ে দিতে না পারলে দয়া করে সমালোচনা দিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে দেবেন না।কারণ,আপনার মতো মঙ্গল গ্রহের প্রাণীর কাছে সত্যিই এ সমাজের চাইবার আসলে কিছু নেই।নারী এগিয়ে যাবে তার নিজ গতিতেই।মাঝ থেকে অযথাই আকাশে থু থু ছুঁড়ে নিজের মুখ নোংরা করা থেকে বিরত থেকে চোখ নামিয়ে নারীর এগিয়ে চলাটুকু দেখুন।

- ওয়াহিদা সুলতানা লাকি।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ওয়াহিদা সুলতানা
ওয়াহিদা সুলতানা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 months 3 weeks ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 14, 2017 - 1:19অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর