নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

আমার ভাষা বিষয়ক চিন্তন প্রপঞ্চ # ৭



(বাঙলা ভাষার আধুনিকায়ন তথা সংস্কার বিয়ষক ১০-টি পোস্টের সিরিজ)

সময়ের সাথে সাথে মানুষ তার চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ, পোশাক-গহনা, ভাষা-সংস্কৃতি কতই না পরিবর্তন করে। এক সময় এদেশের মানুষরা ধূতি পড়তো, পান-হুক্কা টানতো, গরুর দৌঁড়-নৌকা বাইচ দেখতো, কু্ঁড়েঘরে বসবাস করতো, নৌকায় যাতায়াত করতো আরো কত কি? সময়ের পেন্ডুলামে এদেশের মানুষ এখন পশ্চিমা সার্ট-প্যান্ট পড়ে, চা-কফি খায়, স্যাটেলাইট-ইন্টারনেট-ল্যাপটপে ছবি দেখে, পাকা বাড়িতে সবাই না হলেও অন্তত টিনের ঘরে বসবাস করে, আর স্পীডবোট-বাসে যাতায়াত করে। চিঠিপত্রের স্থান এখন দখল করেছে ‘এসএমএস’। ‘নাপিত’ বা বাহক পাঠিয়ে সংবাদ প্রেরণের কাজ করে এখন ‘সেলফোন’। মানে চলনে-বলনে কথনে আমরা এখন কতই না আধুনিক! সামান্য সর্দি-কাশিতেও এখন অনেকে ডাক্তার দেখাতে যান ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর, কেউ কেউ যায় আবার ‘এয়ার এম্বুলেন্সে’! নানা কর্মকান্ডে আমরা এখন অনেকটা আধুনিক হলেও, ২০১৪ সনের ডিজিট্যাল এ যুগেও কি আমরা আমাদের ‘প্রিয় মাতৃভাষা’কে (যার জন্যে সম্ভবত আমরাই বিশ্বে প্রথম রক্ত দিয়েছিলাম!) আধুনিক ও যৌক্তিক করার চেষ্টা করবো না? আমাদের বর্তমান ব্যবহৃত বাংলা ভাষাটির মধ্যে আছে অনেক সেকেলে অযৌক্তিক চিন্তা-সূত্র, যা পরিহার করে আমাদের ভাষাকে আধুনিক করা আবশ্যক, যাতে ভাষাটি বিশ্ব উপযোগী, সময় উপযোগী, আধুনিক, যৌক্তিক এবং কম্পিউটার ব্যবহার উপযোগী হয়। আলোচনা করা যাক বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে।

ধরা যাক আমাদের সংখ্যার প্রতিকগুলোর কথা। আমাদের ‘১’ এবং ‘৯’ দূর থেকে দেখতে অনেকটা এক রকম, বিশেষ করে দূর থেকে গাড়ির নম্বর প্লেটে। তা ছাড়া অষ্পষ্ট ছাপা বা সাধারণ ফটোকপিতে ‘১’ এবং ‘৯’ এর পার্থক্য বের করা কষ্টসাধ্য বিধায়, যে কোন একটির প্রতীক বা চেহারা পাল্টানো দরকার। বাংলা ‘২’ এবং ইংরেজি ‘2’ অনেকটা একই চেহারার, বিশেষ করে হাতের লেখার সময়, এ ক্ষেত্রেও বাঙলা ‘২’ এর প্রতীক বদলানো দরকার। একই যুক্তিতে বাংলা ‘৪’ এবং ইংরেজী ‘৪’ একই চেহারার বিধায়, অনেক সময় চল্লিশ চলিস্নশ লেখা হয়েছে, না আশি লেখা হয়েছে বোঝা কষ্টকর বিধায় বাংলা ‘৪’-এর প্রতীক বদলানো দরকার। বাংলা ‘৫’ এবং ‘৬’ এর মধ্যে পার্থক্য খুব বেশী নয়, অনেক সময় অষ্পষ্টতার কারণে ‘৫’ ও ‘৬’ এর পার্থক্য করা কষ্টকার বিধায়, যে কোন একটির প্রতীক বা চেহারা পাল্টানো প্রয়োজন। বাংলা ‘৭’ এবং ইংরেজী ‘9’ প্রায় একই চেহারার, বিশেষ করে হাতের লেখার সময় দু’টোর পার্থক্য অনেক সময় করা যায়না বিধায়, বাংলা ৭-এর প্রতীক বদলানো দরকার। চেক লিখতে টাকার অংক, ব্যাংকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ সমস্যাটি মাঝে মধ্যে বেশ জটিলতর সমস্যা সৃষ্টি করে। তা ছাড়া আমরা আমাদের সংখ্যার প্রতীকগুলোকে সেলফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, কম্পিউটার ইত্যাদির সুবিধার জন্যে বর্তমান বাংলা প্রতীকের বদলে ইংরেজী-ল্যাটিন হরফেও (১২৩৪৫৬৭৮৯০ এর বদলে 1234567890) ব্যবহার করতে পারি এ সমস্যার সমাধানকল্পে, রাশিয়ান, থাই ও চীনারা তাদের ভাষায় সব প্রতীক ব্যবহার করলেও, ‘সংখ্যা প্রতীক’গুলো ইংরেজি-ল্যাটিন হরফে ব্যবহার করছে বর্ণিত সুবিধার জন্যে।

এবার আসা যাক আমাদের গণনা পদ্ধতির ত্রম্নটিগুলোয়। আমরা একের পর দেড়, আড়াই, আবার সাড়ে তিন এভাবে পড়ি। আধুনিক ও যৌক্তিক গণনা পদ্ধতির জন্যে এক, সাড়ে এক, সাড়ে দুই, সাড়ে তিন এভাবে আবার একত্রিশ, দুইত্রিশ, তিনত্রিশ, চারত্রিশ, পাঁচত্রিশ, একইভাবে একচল্লিশ, দুইচল্লিশ, তিনচল্লিশ, একপঞ্চাশ, দুইপঞ্চাশ, একনববই, দুইনববই, তিননববই ইত্যাদি একই যৌক্তিক পদ্ধতিতে গণনা করার আইন প্রণয়ন করে ভাষাকে আধুনিক ও আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে পারি। যাতে তা বিভ্রান্তিকর না হয়ে সর্বজনীন তথা যৌক্তিক হয়। মনে রাখতে হবে, এই গণনা পদ্ধতি যারা বের করেছিলেন, তাঁদের চিন্তা চেতনা আধুনিক কম্পিউটার যুগ ALU (Arathmetical Logical Unit) কেন্দ্রিক ছিলনা, তঁারা ছিলেন সের, গন্ডা, পোয়া, ছটাক, পন আমলের চিন্তাধারার ব্যক্তিত্ব। মন, সের, ছটাকের বর্তমান আধুনিকায়নের সঙ্গে প্রচলিত জোড়া, গন্ডা, পন (ইলিশ মাছ বা পান) বিড়া, চলিস্ন (পানের পরিমাপ একক) হালি (ডিম), ডজন (কমলা, কলা), কুড়ি (লিচু, তাল), পাখি, কানি (জমি), রিম (কাগজ), মাইল, গজ, ফুট ইত্যাদি সপ্তপদী পরিমাপের একক পরিহার করে, সবার কাছে সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য একক পদ্ধতি (যেমন প্রতি পিস) চালু করা আধুনিক একটি ভাষার জন্যেই অত্যাবশ্যক।

চলুন আমাদের বানান পদ্ধতি, ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু প্রতীকের ব্যবহার প্রসঙ্গে। বাংলায় ব্যবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে প্রায় ৯৫% এসেছে সংস্কৃত থেকে সরাসরি বা রূপান্তরের মাধ্যমে এবং ফারসি+আরবি+ইংরেজি থেকে প্রায় ৪.৫% শতাংশ। কিন্তু আমরা বাঙালিরা ভাষিক প্রপঞ্চে এতই ‘নিষ্ঠাবান’ যে, ‘সত্য-কঠিন’কে পরিত্যাগ করে ‘মিথ্যা-সহজ’কে প্রায়ই গ্রহণ করি বলে, ভাষার ক্ষেত্রেও এ কাজটি আমরা করেছি ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ (মানে বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলায়)। যেমন ‘ক্ষ’ ধ্বনি এবং ক্ষ-দিয়ে গঠিত শব্দগুলোর ক্ষেত্রে। পরীক্ষা, ইক্ষু, ক্ষীণ, ক্ষমতা, নক্ষত্র, অক্ষর ইত্যাদি শব্দগুলোর প্রকৃত উচ্চারণ হচ্ছে পরীক্ষা, ইক্ষু, কষীন, কষমতা, নকষত্রো, অকষর কিন্তু ‘দেবনাগরী’ তথা ‘হিন্দী ভাষিক জনগোষ্ঠী’ উপর্যুক্ত শব্দগুলোর উচ্চারণ সঠিক নিয়মে করলেও, বাংলা ভাষিক মানুষেরা তার উচ্চারণ ‘সহজীকরণ’ করে বিকৃতভাবে বানিয়েছে যথাক্রমে পরিখ্খা, ইখ্খু, খিনো, খমতা, নখ্খোত্রো, অখ্খর এভাবে। তা ছাড়া বাঙালিরা ণ, ঞ, ষ, শ, ঈ, ঊ,ঁ, ড়, ঢ়, ঋ, য ইত্যাদি ধ্বনির প্রকৃত উচ্চারণ করেনা কিংবা বর্তমানে বাংলা কথনে বা উচ্চারণে এর ব্যবহার খুব একটা নেই। কারণ একই, মানে ‘ন’ উচ্চারণ করতে হয় দাঁত আর জিভের সহযোগিতায়, যা মূর্ধা থেকে উচ্চারিত ‘ণ’ এর তুলনায় উচ্চারণ করা বেশ সহজসাধ্য। একই ভাবে ‘শ,ষ’-এর তুলনায় ‘স’ উচ্চারণ করা সহজতর, কারণ ‘শ’ উচ্চারণ করতে হয় তালু থেকে এবং ‘ষ’ করতে হয় মূর্ধা থেকে, আর ‘ঊ’ ও ‘ঈ’ উচ্চারণে টান বা স্বর দিতে হয় লম্বা করে, কিন্তু এতো ‘ধৈর্য’ ও ‘কষ্ট’ করার অভ্যেস বাঙালির কৈ?

তাই তারা কেবল কান্নাকাটি বা ‘আবেগের সময়’ কিংবা দূরে কোথাও শব্দ প্রেরণের কারণে (যেমন চরাঞ্চলে ডাকের সময়) লম্বা করে মাঝে মধ্যে টান দেয়, যদিও ঐ টানগুলো থাকে ই-কার যুক্ত শব্দে, যেমন ‘যা-ই’ কিংবা ‘কী-ই’। অর্থাৎ ঈ/ঊ-যুক্ত কোন শব্দ সাধারণত বাঙালিরা দীর্ঘস্বরে উচ্চারণ করেনা। তাই তারা শ, ষ ছেড়ে এখন শুধু ‘স’ এবং ‘ণ’ ছেড়ে কেবল ‘ন’ আর দীর্ঘস্বর ছেড়ে কেবল হ্রস্বস্বর ‘ই’ ও ‘উ’ উচ্চারণ করতেই অভ্যস্ত। আবার কোন শব্দে চন্দ্রবিন্দু (ঁ ) থাকলে ঐ শব্দটি উচ্চারণে বাতাস ‘নাক দিয়ে বের’ করতে হয়, মানে শব্দটি হবে নাসিক্য বা আনুনাসিক। কিন্তু ‘চাঁদ’ বা ‘আঁচল’ উচ্চারণ করা মৌখিক ধ্বনির চেয়ে কক্টকর বিধায় (নাক দিয়ে বাতাস বের করতে হয় বলে) আমরা সবাই চাদ বা আচল উচ্চারণ করি। আবার ‘রূঢ়’, ‘দৃঢ়’, ‘বাড়ি’-কে এদেশের প্রায় সকল বাঙালিই রুর, দৃর, বারি উচ্চারণ করে বিধায়, ‘ঢ়’ এবং ‘ড়’ রাখার কোন প্রয়োজন আছে কিনা চিন্তা করে দেখতে হবে। আসলে ‘ড+র’ হচ্ছে ‘ড়’ এবং ‘ঢ+ড়=ঢ়’, যা উচ্চারণ করা বাঙালির জন্যে নিতান্তই কষ্টকর কাজ! যেমন বাঙালিরা কষ্ট করে শিল্প পণ্য বা পাটজাত পণ্য উৎপাদনের চেয়ে নদী-সমুদ্রে প্রাপ্ত ‘বিনা মূল্যের’ তথা বিনা আয়াসের ‘ইলিশ’ ধরতে এবং রপ্তানীতে অধিক পারদর্শী। বর্ণিত যুক্তিতে এবং বর্তমান ব্যবহৃত মৌখিক বাংলা ভাষাকে লিখিত ভাষার সঙ্গে যৌক্তিক ও সামঞ্জস্য বিধানের জন্যে, তথা বর্তমান শিশু ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে সহজীকরণের জন্য অব্যবহৃত ধ্বনিগুলোকে পরিহার করে, বর্তমান ব্যবহৃত ভাষার সাথে মিল রেখে নানাবিধ সংস্কার তথা সংশোধন হতে পারে।

ভাষা বিষয়ে জানতে আগ্রহি? তো পড়ুন পর্ব # ৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 6 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর