নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

একজন সৎ মানুষের কিসসা কাহিনি



অনেকদিন আগে একবার রোজার মাসে রোজা রেখে (এর কদিন আগে মার সাথে জাস্ট হজ্জ করে এসেছিলাম মক্কা থেকে) বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলাম আমাদের শহরের দলিলকৃত বাড়ির পুরণো দলিল ফেরত আনতে। অফিসের বয়স্ক, দাড়িওয়ালা, লম্বা পাঞ্জাবি গায়ের টুপিওয়ালা ভদ্রলোক বললেন, "২২৭ টাকা দাও"। আমি বললাম, "কেন? দলিল করার সময় টাকা দিয়েছি না"? উনি বললেন, "জরিমানা হয়েছে ২২৭ টাকা"। আমি বললাম, "তাহলে ২২৭ টাকার পাকা সরকারি রশিদ দিন চাচা"! শেষে বললেন, "রশিদ দেবনা। এটা আমাদের অফিসের নিয়ম, দলিল ফেরত নিতে ২২৭ টাকা দিতে হবে"। আমি বললাম, "ঘুষ"? উনি বললেন, "তুমি যা মনে করো"। তখন দৃঢ় কঠোরতায় আমি বললাম, "চাচা রোজার মাস, নিশ্চয়ই রোজা রেখেছেন? নামাজও পড়েন নিশ্চয়ই? ঘুষ খেলে আপনার রোজা যাবে। আপনি কি জাহান্নামে যেতে চান ২২৭ টাকা খেয়ে? তার চেয়ে দলিলটা দিয়ে দিন, যদি ভাল চান"! মনে আছে এখনো আমার!, উনি মুখটা আষাঢ়ী মেঘের মত কালো করে, টাকা ছাড়াই দলিলটা দিয়েছিল আমাকে সেদিন!
:
কথাটা আজ প্রায় ২০/২৫ বছর পর মনে পড়লো, তথ্য মন্ত্রণালয়ের "প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার" অফিসে গিয়ে আজ। আমরা সবাই কমবেশি জানি, ঘুষ আর দুর্নীতি মারাত্মক সংক্রামক রোগের মত ছেয়ে গেছে সমাজের সর্বত্র। টাকাপয়সা ছাড়া সরকারি দপ্তরে বলতে গেলে কোন কাজই করা যায়না সহজে এখন আর। সরাসরি টাকা না দিলে আপনাকে একটা দফতর এতো ঘুরাবে আর নাজেহাল করবে যে, আপনি "আফসোস" করবেন, কেন আগাম টাকা দিয়ে কাজটি করেন নি আপনি! আমার প্রতিমাসের বেতন এখন আমার নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি জমা হয় পরবর্তী মাসের ১০/১২ তারিখ। কিন্তু কোন মাসে যদি এজি অফিসে আগাম যোগাযোগ করে ১০০/২০০ টাকা দিয়ে আসি, তবে সে মাসে বেতন জমা হয় ১-২ তারিখ। ৭ বছর আগে দুটো ফ্ল্যাট কিনে তা না পেয়ে আমরা ৫-ফ্ল্যাটক্রেতা ২০১৬ সনে একটা মামলা করি কোর্টে। কিন্তু মামলার কোন "তদবির" তথা নোটিশ প্রেরণের "যোগাযোগ" না করাতে, উক্ত মামলার সমন বা নোটিস ২০১৮ সনেও প্রেরণ করা হয়নি নেজারত থেকে। সম্প্রতি "তদবির" করে উক্ত নোটিস পাঠিয়েছি আমি এ মাসে। আমি নিজে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারি হয়েও হরহামেশা আমাকে এসব দেখতে হয় নানাবিধ অফিসে। তারপরো কি আর করা! এটাই নাকি এখন বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক বাস্তবতা! কিন্তু বাংলাদেশের সব এজি অফিস বা এজি অফিসের প্রধান (CEO) কি দুর্নীতিবাজ বা ঘুষখোর? এটা জানার জন্য আমার সকল ফেসবুক বন্ধুদের এ লেখাটা পড়ার অনুরোধ করছি!
:
BTV-তে "সহকারি চিত্রগ্রাহক" হিসেবে জব করতেন, আমার এমন এক স্বজন সম্প্রতি অবসরে গিয়েছেন। পেনশন বাবদ তার প্রাপ্য ৪৩-লাখ টাকার মত। কিন্তু ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ ইত্যাদি নানাবিধ ডিজিজে আক্রান্ত আমার বর্ণিত স্বজন। যে কারণে তিনি পেনশন তোলার জন্য এজি অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করতে পারেননি। তাই তার পরিচিত বন্ধুবান্ধবরা তাকে জানিয়েছে, লাখ খানেক টাকা খরচ করলে, তার ৪৩-লাখ টাকা নির্বিিঘ্নে উঠেয়ে দেবে তারা! আমার একান্ত নিজের স্বজন বলে, দাপ্তরিক কাজ ফেলে ৪/৫ দিন আগে একদিন হাজির হলাম তথ্য মন্ত্রণালয়ের বর্ণিত এজি অফিসে। যার প্রধান বা CEO হচ্ছেন বিসিএস কর্মকর্তা মো:আবুল কালাম। তাকে খুলে বললাম বর্ণিত পেনশনারের অসুস্থ্যতার কথা। সব শুনে তিনি তাৎক্ষণিক ডেকে আনলেন পেনশন শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে। নির্দেশ দিলেন, ৩-দিনের মধ্যে যেন তার পেনশনের সব কাজ সমাধা হয়। যেহেতু পেনশনারের ন্যুনতম ১০-টি স্বাক্ষর করতে হবে বিভিন্ন ফরমে, তাই তিনি বললেন, যদি পেনশনার এ অফিসে আসতে পারে, তবে তাকে যেন নিয়ে আসি রোববার ১৮ তারিখ। আর যদি পেনশনার অফিসে আসতে অক্ষম হন, তবে তিনি লোক দেবেন তার বাসায় গিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনতে।
:
নিজে ড্রাইভ করে স্বজন পেনশনারসহ হাজির হলাম তথ্য মন্ত্রণালয়ের এজি অফিসে আজ। স্বজন অসুস্থ্য বিধায় তাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে ৪-তলায় CEO জনাব আবুল কালামের রুমে উপস্থিত হলাম একাকি। আমাকে দেখেই এক নজরে চিনলেন তিনি। পেনশন শাখা অফিসারকে ডেকে সব কাগজপত্র আনালেন। আমার স্বজনকে নিয়ে এলাম তার কক্ষে। নিজে স্বাক্ষর করালেন স্বজনের। ১০-মিনিটের মাথায় সমাধা করলেন কাজ। আমাকে বললেন, যেহেতু পেনশনার অসুস্থ্য, তাই তার আর আসতে হবেনা। কাল/পরশু চেক রেডি হবে, তার নামের চেক আমি যেন সুবিধাজনক সময়ে নিয়ে নেই তার থেকে।
:
তার এসব কর্মকান্ডে আমার স্বজন সোহরাব হোসেনের চোখ বেয়ে জল পড়লো তার চেম্বারেই! আমি কি বলবো বা কি বলে কৃতজ্ঞতা জানাবো তাকে ভাষা হারিয়ে ফেললাম। শেষে বললাম,"একটা ছবি নিতে চাই আপনার! আর আমাকে কি আপনার এ দায়িত্ব আর সততার কথা লিখে প্রকাশ করার অনুমতি দেবেন"? সকল সৎ মানুষের মত উনিও নিজেকে প্রকাশ করতে বা প্রচার চাননা। কিন্তু এ বিষাক্ত অসৎ সমাজে তার এমন "সততার কবিতা" পাঠ না করলে আমি যে অকবি হয়ে যাবো আমার এ পাঠকদের কাছে। আর রাতে ঘুমুতে পারবোনা, তাই আমার অনুরোধেই ছবি তুলতে, আর এ লেখা প্রকাশের অনুমতি দিলেন তিনি সবিনয়ে!
:
এবার বেড়ুলাম আমরা। আমার আর নিজ সন্তানের কাধে ভর দিয়ে আমার পেনশনার অসুস্থ্য স্বজন হাঁটছে লিফটের দিকে। অনেকদিন পর হাঁটতে হাঁটতে রোমান্টিকতার বুনো বাতাসে ভরা মাতাল ফাল্গুনের ঘ্রাণতা মস্তিকের পুরো মেমব্রেন ভিজিয়ে দিল আমার! নষ্ট সময়ের ভ্রষ্ট পঙ্কিলতায় ভরা এ ভোগবাদী অনৈতিক সমাজের মাঝে এই যে হৃদয়ের ভালবাসাময় পাঁচিলঘেরা হাট, সে ভালবাসার হাটে কতকাল হাঁটিনি আমরা, তা চিন্তনে পুরোটা দিন আমার চিন্তনের বুনো ঘুঘু, দোয়েল, শালিক আর গন্ধময় তিতিররা উড়তে থাকে এক প্রশান্তির নীলাকাশে! পুরো দেশে এ নৈতিকতার খোলা আকাশ আমাদের আর কতদূর!
:
ছবি পরিচিত :
----------------
ভাষার মাসে বাংলাদেশের পতাকার রঙে রাঙায়িত ওপরের ছবিতে লেখক বামে, মাঝে পেনশনার, আর ডানে CEO মো:আবুল কালাম। নিচের ছবিতে পেনশনার BTV-র সহকারি চিত্রগ্রাহক (অব) জনাব সোহরাব হোসেন নিজ সন্তানসহ!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 6 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর