নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ইস্পা আত্মহত্যা করেনি তাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছিল


স্বভাব চরিত্র এমন কি দৈহিক দিক দিয়ে অপূর্বসুন্দরের অধিকারিণী ছিল ইস্পা,ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জননী সে।পরিবারের সবচেয়ে বেকার ও লাফাঙ্গা চরিত্রের একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছিলো ইস্পার। পারিবারিক লালসার শিকার এই মেয়েটি হত্যা কাণ্ডের শিকার হয়েছিল গত বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের মে মাসের ছয় তারিখে। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে মিডিয়া থানা পুলিশ সবকিছুই বশীভূত করেছিল ইস্পার শশুর বাড়ির লোকজন ।সমস্ত ঘটনা আড়াল করে হত্যার মূল আলামত নষ্ট করে আত্মহত্যার তকমা লাগিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় আত্মহত্যার শিরোনাম দিয়ে সংবাদ ছাপাতেও দ্বিধাবোধ করেনি শশুর বাড়ির পাষণ্ড লোক গুলো।টাকা নামের স্লিপিং পিল সেবন করে এমসি রিপোর্ট ফরেনসিক রিপোর্ট আরো কত বালছালের দোহাই দিয়ে মামলা দায়ের করেনি সুনামগঞ্জের ছাতক থানার পুলিশ।অবশেষে মাস খানেক পর ইস্পার বড় ভাই আদালতে গিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিল ,বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন হত্যা কাণ্ডের সাথে জড়িত একজল আসামি জেল হাজতে এবং বাকি আসামীরা পলাতক রয়েছে।

কি ঘটেছিল সেদিন !ইস্পার ছোট ভাই হিমেলের ফেসবুক স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে কিছু কথা,হিমেল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা লিখেছে তা এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো-

“ইস্পা, আমার আপন বোন ।
শুধু বোন না , ছিলো আমার বন্ধুর মত । বাড়িতে যখনই যেতাম , তার সাথেই বেশি গল্প করে সময় কাটাতাম । দিনগুলো সুখের ছিলো কিন্তু রীতি অনুযায়ী বোনকে বিয়ে দিতে হয় । তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে ধুমধাম করে বিয়ে দিই। দেড় বছরের মাথায় সে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জননী হয়।

কখনোই ভাবিনি সেই বোনটাকে নিয়ে আমার একদিন এরকম কিছু লিখতে হবে।

বোনটা একবারের জন্যও আমাদের বলেনি যে বিয়ের পরেই সে ছিল ঐ বাড়িতে অবহেলিত। যদিও শেষের দিকে আমরা কিছুটা টের পাচ্ছিলাম কিন্তু সেটা বুঝারও সময় পেলাম না।

“৬ই মে ২০১৭, রাত ১.১০ মিনিটে আমার বড় ভাইয়ের কাছে একটা ফোন আসে । বোনের শ্বশুড়বাড়ি থেকে বলতেছিলো সে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে। আগুনে অনেকটা পুড়ে গেছে। আমরা দুই ভাই হতভম্ব হয়ে গেলাম। কিভাবে পুড়েছে , কতটুকু পুড়েছে , এখন কোথায়, কিছু না বলেই ফোনটা কেটে দিল। বুঝতে পারতেছিলাম না কি করবো। টানা ফোন দিয়ে যাচ্ছি । অনেকক্ষণ ফোন দেওয়ার পর ধরলে বললাম, ভাই তাড়াতাড়ি ওসমানি মেডিকেলে নিয়ে আসেন। ছুটে গেলাম ওসমানিতে। ভাবলাম সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে রাখবো। কিন্তু গিয়ে দেখলাম তারা চলে এসেছে। কিন্তু ১ ঘন্টার রাস্তা তারা ২০ মিনিটে কিভাবে আসলো এইসব তখন মাথায় ছিলোনা। বোনের মুখটা দেখে ভিতরটা ভেঙে গেলো। ভাবতেও পারিনি কখনো বোনটাকে এই অবস্থায় দেখা লাগবে। ডাক্তার বললো, ৮০% পুড়ে গেছে। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলল। তাড়াহুড়া করে গাড়িতে উঠলাম বোনটাকে নিয়ে। মাথা কাজ করতেছিল না। শুধু হা করে চেয়ে রইলাম। অনেক কথা জিজ্ঞেস করার ছিল। হাজা্রো প্রশ্ন , হাজারো দ্বিধা । কিছুই জিজ্ঞেস করা হলোনা। আপুটা কথা বলার মতো অবস্থায় নাই। ঢাকা পর্যন্ত আর নিয়ে যেতে পারলাম না। ঢাকায় পৌছানোর কিছু আগেই আপুটা আমাদের ছেড়ে চলে গেলো। কান্না ভুলে গেছিলাম। কথা বলতে ভুলে গেছিলাম। মস্তিষ্ক বলতে যে আমার কিছু ছিল ভুলে গেছিলাম। কাউকে কিছু বলিনি, পৃথিবীটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।“

কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন, তখন মাথায় আসেনি। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত থাকে। প্রতিনিয়তো এইগুলার সাথে যুক্তি খাটাই।

আপনাদের বাস্তব জ্ঞানের কাছে প্রশ্নগুলা থাকলো-

তারা বলেছে আপু নিজে নিজে সুইসাইড করার চেষ্টা করেছে। তাদের পরিবারের কেউ বলেছে পেট্রোল দিয়ে, কেউ বলেছে কেরোসিন দিয়ে, কেউ বলেছে একটা দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে, আবার কেউ বলেছে গ্যাসের চুলা থেকে নাকি আগুন লেগেছিলো। ডাক্তার বলেছে পেট্রোল, কেরোসিনের মতো কোনো দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়েনি। ডাক্তারের কথা মতো, একটা মানুষ কিভাবে কোনো দাহ্য পদার্থ ছাড়া নিজের ৮০% পুড়িয়ে ফেলতে পারে?

তারপর, তারা যে রুমে আপু পুড়েছে বললো, ঐ রুমে তেমন কোনো আগুনে পোড়ার কোনো চিহ্নই দেখতে পেলাম না। শুধু দেয়ালে আগুনের ছোট্ট একটা শিষের ছাপ । কিন্তু তারা বললো, আপু নাকি রুমের একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসে পুড়েছে । আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একটা মানুষ যদি একটা রুমে ৮০% পুড়ে তাহলে রুমটার কি অবস্থা হওয়া উচিত? আর সে কী একটুও নড়াচড়া করার চেষ্টা করেনি অথবা ছুটোছুটো করেনি ? আপুর পাশে প্লাস্টিকের জিনিসপত্র থাকা সত্ত্বেও রুমের আর কিছুই পুড়েনি , সব যেমন ছিলো তেমনই রয়ে গিয়েছিলো । শুধু আমার বোনটাই পুড়ে গেলো !! (রুমের ভিডিওটা সাথে দিলাম)।

তারা বললো, দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছে কিন্তু দরজা ভাঙার কোনো চিহ্ন দেখলাম না ।

পু্রো শরীর ৮০% পোড়ার পরও তার ১৪ ইঞ্চি অক্ষত চুল ছিল কীভাবে??

এরপর আসি, গত প্রায় এক বছরে আপুর আত্মাটাকে একটু শান্তি দেওয়ার চেষ্টায় আমাদের কি কি করতে হয়েছে-

এক মাস ছাতক থানায় মামলা করার চেষ্টার পরেও ওদের ক্ষমতার দাপটে ও কালো টাকার কাছে হার মেনে অবশেষে এক মাস পর সুনামগঞ্জ জেলা আদালতে মামলা করতে হয়েছিল। মামলা করার পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন রকম চেষ্টা চালাতে থাকে । প্রথমে আমাদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ও পরে না মানায় নানা হুমকি দিতে থাকে আমার পরিবারকে। তাদের ক্ষমতার দরুন পোস্টমর্টেম এর রিপোর্ট-টাও ছিল আমাদের প্রতিকূলে। যে লাশটা দেখে যেকোনো সাধারণ মানুষ ও বলতে পারবে এটা আত্মহত্যা নয় , হত্যা! সেখানে আর.এম.ও. বলতেছে কিছুই পাওয়া যায় নাই। তারা ভিসেরা পর্যন্ত পরীক্ষা করার জন্য পাঠায় নি। জিজ্ঞেস করায় রেগে গিয়ে বলে এইটা নাকি তাদের ইচ্ছা!!

গত ১২.০২.১৮ তারিখে প্রধান আসামী লিটন আদালতে জামিনের আবেদনের পর বিচারক নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আরেক আসামি লিটনের বড় ভাই আব্দুস শহীদ বাপন এখনো পলাতক।

তাদের ক্ষমতা ও টাকার বিরুদ্ধে লড়াই করে করে এতদূর এসেছি। জানিনা আর কতদূর যেতে পারবো। মাঝের হাজারো ঘটনা লিখার মতো শক্তি পাচ্ছি না।
সবশেষে এই দাবী , আমার বোন এর হত্যার যেন সুষ্ঠু বিচার হয়। আর কোনো ভাইয়ের চোখের সামনে যেনো তার বোনের হত্যাকারী এরকম দিব্যি শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকতে না পারে। কোনো মা-বাবা যেন তার সন্তানের মৃত্যু এভাবে দেখতে না হয়।”

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জলাভূমি
জলাভূমি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 1, 2017 - 6:51অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর