নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • দীপ্ত সুন্দ অসুর
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

রোমান্টিক অাল্লাহ চাই, ভালোবাসার বিকল্প নাই!


শ্রদ্ধেয় অাপনি!
ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিন অাজ। ঋতুরাজ এলে অামি অামার ভাড়া বাসার ছাদের ফুলগাছগুলির পাশে বসে সময় কাটাতাম মাঝেমধ্যে। কিছুক্ষণ পরই অাবার উঠে যেতে হত।
মুসলিমদের মহান ধর্মে সারাদিনে পাঁচবার নামাজ পড়া ফরজ, অর্থাৎ কোন সৃজনশীল চিন্তা বেশি সময় ধরে করার সুযোগ নেই।
অাজান হলেই নামাজ পড়ানোর জন্য ছুটতে হতো মসজিদে।
অবোধ্য, অপ্রয়োজনীয় কিছু উঠবোস করে মুসুল্লিরা চলে যেত যার যার বাড়ি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
মুসুল্লিরা জানেনা, তাদের ইমাম সাহেব নামাজে কি পাঠ করলেন। ইমাম সাহেব জানলেও সঠিক কথা না বলে বরং ঘুরিয়ে বলেন।
কোরঅানের অালিফ-লাম-মীম, ত্বা-সীন-মীম কিংবা হা-মীম ইত্যাদি যে সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল এর মতই, সে কথা মুসুল্লিদের বলার মত সাহস কোন ইমামেরই নেই; অামারও ছিলনা! এখন অবশ্য বলছি; কারণ মাথাটা চাপাতি থেকে কিছুটা দূরত্বেই অাছে!

প্রিয় অাপনি!
গত বসন্তের দিনগুলি কি মনোহরই ছিল, তাই না?
অামার গোলাপ গাছে অনেকগুলি ফুল ফুটেছিল, তাই না?
মনে পড়ে কি সেসব কথা?
পৃথিবীতে এ মুহুর্তে যে কয়জন মানুষ খুব মনোকষ্টে দিন কাটাচ্ছে তাদের মধ্যে অাপনার র্যাংকিং উপরের দিকে।
অাপনার সাথে এখন কথাবার্তা হয়না, এবং অাপনার ধর্ম মোতাবেক অাপনি এখন অামার কেউ না। তাই অাপনাকে ফরমাল সম্বোধন করছি।
গত বসন্তে অামরা কক্সবাজার গিয়েছিলাম।
সারাদিনের জন্য গাড়ি রিজার্ভ করে হিমছড়ি, ইনানী সহ বহু জায়গায় ঘুরেছি, মনে পড়ে কি সেসব?
কক্সবাজার থেকে মন রিফ্রেশ করে তারপর অাপনাকে কতবার বোঝাতে চেষ্টা করেছি - অামাকে লেখার স্বাধীনতা দেয়ার ব্যাপারে, মনে পড়ে নিশ্চয়?

স্ত্রীরা বরের কাছে স্বাধীনতা চায়, অার অামি চেয়েছিলাম অাপনার কাছে - শুধু একটু গোপনে লেখালেখির স্বাধীনতা!
অামি অাপনাকে স্বাধীনতা দিয়েছি এমন মিথ্যা অাড়ম্বরতা দেখাবো না, বরং বলতে পারি, একজন মানুষ হিসেবে অাপনার নিজস্ব স্বাধীনতা হরণ করিনি কখনো।
অামাকে লেখার স্বাধীনতা দিলেন না! অবশ্য এর দোষটা অাপনার ওপর বর্তায়না, বরং অাপনার সন্ত্রাসী নবীর ঘাড়েই বর্তাবে এর দায়ভার।
হেফাজতে ইসলাম সহ সমস্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের সকল উস্কানি ও সহিংসতার দায়ভার নবীপাকের।
হি ইজ দ্যা গ্রেটেস্ট টেরোরিস্ট অন দ্যা অার্থ।

'স্বামী' শব্দে অামার ছিল তীব্র অাপত্তি, যা অাপনি জানতেন। অাপনার কাছে অবশ্য এসব ছিল 'নাস্তিকতার কথাবার্তা' যা ইহুদীরা ঢুকিয়ে দিয়েছে মুসলিম মানসে।

পুরুষতান্ত্রিক হুজুররা বলে দিল, "নাস্তিকের সাথে থাকলে তুই এবং তোর সন্তান দোজখের অাগুনে অনন্তকাল জ্বলবি" - অাপনি দমে গেলেন।
অামাদের মাঝে চলে এলো ভয়ানক এক দোজখ। দোজখে কাঁটাযুক্ত যাক্কুম বৃক্ষ অাছে, রক্ত, পুঁজ ও দুর্গন্ধযুক্ত গরম পানি অাছে। হাতির চেয়েও বড় বড় বিচ্ছু অাছে। এমন সাপ দংশন করবে সেখানে যে সাপের একটি নিশ্বাস প্রক্ষেপণে সারা পৃথিবীর সব জীবজন্তু মরে যাবে। অাপনি ভয় পেলেন।
অামিও ভয় পেলাম। তবে অামার ভয়টা ভিন্নরকম। ঈশ্বর যদি থেকেই থাকেন তাহলে তিনি যদি অামাকে বিচার দিবসে প্রশ্ন করেন - যুদ্ধ, ধর্ষণ, গুপ্তহত্যা, গণহত্যা, শিশুকাম, বহুবিবাহ সহ সবরকমের নোংরা ও নৃশংস কাজ যে করেছে তাকে কিভাবে তুমি নবী মানলে?
ঈশ্বর যদি প্রশ্ন করেন - নারীর প্রতি ন্যূনতম মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যার ছিলনা, নারীকে যে ভাবতো শস্যক্ষেত্র এবং যত্ন করে রাখা গৃহপালিত পশু; তাকে কিভাবে নবী মানলে?
জেনেবুঝে কেন চুপচাপ রইলে?
- তাহলে কি জবাব দেব অামি?

এসব অবশ্য তখনকার চিন্তা। মানুষ এবং তার চিন্তার জগত ক্রম বিবর্তনশীল। জ্ঞান ও অধ্যবসায় মানুষকে শাণিত করে, এবং ভাবনায় বিপ্লব ঘটায়।
অামি এখন ধর্ম, ঈশ্বর, অাল্লাহ, ভগবান নিয়ে ভাবছি না। ভাবছি শুধুই মানুষ নিয়ে।
একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সুখ হচ্ছে তার কথা বলার স্বাধীনতা। কথা বলার সুখের জন্য অন্য শতশত সুখ অামি পেছনে ছুঁড়ে ফেলেছি। কথা বলার স্বাধীনতার জন্য অামার অাত্মত্যাগ কটতুকু তা সবাই জানে।
অাপনার বিশ্বাসের জন্য অাপনার ত্যাগও মুসলিমদের ইতিহাসে কিংবদন্তী হয়ে থাকার কথা।
অাল্লাহ, রাসুল, বেহেশত, দোজখের কারণে অাপনার মত ত্যাগ স্বীকার করেছে খুব কম নারীই।
অাপনাকে স্যালুট জানাই, অাদর্শের অবিচলতার কারণে। যদিও সে অাদর্শ একজন নরপিশাচের তৈরি করা অাদর্শ।

অাপনি জঙ্গিবাদের বিপক্ষে ছিলেন, অথচ অাপনার নবী যে পৃথিবীর সবচে বড় জঙ্গি সে কথা অাপনাকে কোনভাবে বোঝাতেই পারিনি!
অাপনি অহেতুক সব জঙ্গিবাদের দায় চাপাতেন ইহুদী-নাসারার উপর, অথচ অাপনার নবীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী যে পৃথিবীতে জন্মায়নি সে কথা সবাই মানছে।
অবশ্য অাপনি এখনো অাপনার চরমোনাই পীর এবং শফি হুজুরদের মতই নবীর মিথ্যাচার ও ধোঁকাবাজিতে অাস্থা রাখেন।

নিজেকে নিয়ে বাগাড়ম্বর কিংবা অহমিকা দেখাবোনা, কিন্তু অামার নারীবাদী চিন্তা তখন মোল্লাদের চেয়ে অনেক উন্নত ছিল, অার এখন কিছু কিছু নাস্তিকদের চেয়েও বহুগুণে উঁচুমানের; নির্দ্বিধায় বলতে পারি।

অাজ অামি একা, কিন্তু তবুও ভালো অাছি; কারণ অামি কথা বলতে পারি। অামি লিখতে পারি।
অামাকে অামার মুক্তমনা বন্ধুরা কথা বলতে দিচ্ছে, অাপনাকে কি অাপনার বদ্ধমনা তেঁতুল হুজুররা কথা বলতে দিচ্ছে?
ফেসবুক লাইভে কিংবা ভিডিও বক্তব্য ছেড়ে অামাকে কাউন্টার করার অধিকার কি তেঁতুলিষ্টরা দিয়েছে অাপনাকে?
অামার প্রতি নিশ্চয়ই অাপনি সন্তুষ্ট নন, তাহলে অসন্তোষ প্রকাশ করার সুযোগ কি অাছে অাপনার?
প্রতিরাতে নতুন নতুন নারী ও মদ-গাঁজা খাওয়ার জন্য অামি 'নাস্তিক' হয়েছি.... তাহলে অামার গোমর ফাঁস করার মধ্যে নিশ্চয়ই অাপনি প্রশান্তি খুঁজে পেতেন? যেমন অামি ইসলামের অসারতা নিয়ে অালোচনা করে তৃপ্তি লাভ করি, মুক্তির স্বাদ অনুভব করি।
অাপনাকে কি অামার সমান সুযোগ দিচ্ছে অাপনার ইসলামিক লোকেরা?
অাফসোস, অাপনার ধর্ম একজন মুমিনা নারীকে প্রাণখুলে কাঁদারও অনুমতি দেয়না?
প্রাণখুলে হাসার অনুমতি দেয়না, নিশ্বাস নেয়ার অনুমতি দেয়না, অাবেগ প্রকাশ করার অনুমতি দেয়না।
অদ্ভুত এক ধর্ম, অদ্ভুত তাদের নারী অধিকার!
অদ্ভুত তাদের নবীজি।
'স্বামীর' হাতে মার খাওয়া, তালাকপ্রাপ্তা হওয়া, দোজখে অধিকসংখ্যক হওয়া, শয়তানের রশি হওয়া, কম বুদ্ধিমান তকমা পাওয়া, শস্যক্ষেত্র হওয়া, গৃহপালিত পশুতুল্য হওয়াকে সেখানে "নারী অধিকার" ভাবা হয়!
যেহেতু অাল্লাহই এসব কথা বলেছেন তাই অাল্লাহপন্থী নারীকুলও নিজেদেরকে উল্লেখিত অভিধায় ভূষিত করতে অাপত্তি করেনা।
প্রিয় অাপনি, অামাকে অাপনি লেখার স্বাধীনতা দেননি কিন্তু এতে কি অাপনার কোন উপকার হয়েছে?
তেঁতুলিষ্টরা কি অাপনার বাকস্বাধীনতায় (নারীর বাকস্বাধীনতায়) বিশ্বাস করে?
অবশ্য পৃথিবীর সর্বাশ্চর্য এটাই যে, অাপনি এবং অাপনার স্বজাতিগণ এই টুটি চেপে ধরাকে নিজেদের জন্য 'মর্যাদাকর' ভাবছেন!

নাস্তিকরা অামার এই ত্যাগকে সম্মান দিচ্ছে। মুমিনরা কি অাপনার এই ত্যাগকে সম্মান করছে?
নাস্তিকরা অামার লেখা ও ভিডিওর ব্যাপারে অামাকে উৎসাহ জোগায়, মুমিনরা কি অাপনাকে উৎসাহ জোগায় অাপনার ধর্মপ্রচারে?
মুমিনীয় দৃষ্টিতে কি অাপনি তথা নারী জাতি প্রতিবন্ধী নয়? অার এই প্রতিবন্ধীর কান্নার অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে!
কাঁদলে নাকি পর্দার খেলাপ হয়!
হাসলে নাকি পর্দার খেলাপ হয়!
গান গাইলে নাকি পর্দার খেলাপ হয়!
পড়াশোনা করলে, চাকরি করলে পর্দার খেলাপ হয়!
অাসলে নারী জন্মের সাথে সাথেই পর্দার খেলাপ শুরু হয়, কন্যাসন্তান জন্মদান করে পর্দার খেলাপকারী অাল্লাহর ফঁাসি হওয়া উচিত নয় কি?
নারীরা পর্দার খেলাপ করলে অাল্লাহর অনুভূতি নাকি অাহত হয়! কিভাবে?
তাহলে কি অাল্লাহর অনুভূতি অাছে মানুষের মত?
তাহলে কি অাল্লাহর হার্ট অাছে?
হার্ট থাকলে হার্ট এ্যাটাক হয়নি এত কোটি কোটি বছরে?
অাল্লাহর হার্ট এ্যাটাক হলে চিকিৎসা কে করে?
এত বড় এত বড় অাল্লাহ, অথচ তার ক্ষুদ্র সৃষ্টি নারী 'বেহায়া' চলাফেরা করলে তার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় কেন?
উত্তেজিত হলে তিনি সেটা পূরণ করার চেষ্টা করবেন, কিন্তু পোশাকের উপর অবরোধ অারোপ করবেন কেন?

এ কেমন অ-রোমান্টিক অাল্লাহ?
অামরা অ-রোমান্টিক অাল্লাহ মানিনা, রোমান্টিক অাল্লাহ চাই।
ভালোবাসা দিবসে সবার স্লোগান হোক, "রোমান্টিক অাল্লাহ চাই, ভালোবাসার বিকল্প নাই।"

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুফতি মাসুদ
মুফতি মাসুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 10 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, আগস্ট 14, 2017 - 6:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর