নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • দীপ্ত সুন্দ অসুর
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

প্রশ্নপত্র ফাঁসঃ প্রতিকারের কার্যকর উপায় কি নেই?



মাথাব্যথা হলে কেউ মাথা কেটে ফেলার চিন্তা করে না। করতে পারে কেবল উন্মাদ প্রকৃতির লোকজন। যেভাবে এখন ইন্টারনেটের সুবিধা নিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে ইন্টারনেট বন্ধেরই চিন্তাভাবনা চলছে। আজকে করবারও কথা ছিল বেশ দীর্ঘ একটা সময়। কালকে এই ব্যাপারে আধঘন্টার মহড়াও করা হলো। এই অল্প সময় ইন্টারনেট বন্ধ থাকবার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণটা কি যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা আঁচ করতে পারেন? সম্ভবত পারেন না। টাকার অংকে এই ক্ষতির পরিমাণটা বিশাল হবার কথা, সেই সাথে দেশে ও দেশের বাইরে জরুরী যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভোগান্তি তো বোনাস। অনেক সময়ই দেখা যায় ব্যবসার জন্য, প্রাতিষ্ঠানিক কাজে এই সময়ে তাৎক্ষণিক ইমেইল কিংবা ডকুমেন্ট পাঠাবার প্রয়োজন হয়। গতকালের আধঘন্টাতেই কতজন এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন কে জানে।

আমি যতদূর জানি (জানাটা ভুলও হতে পারে), আমাদের দেশে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণ পদ্ধতি এখনো ব্রিটিশ আমলে যেভাবে চলতো, ঠিক সেভাবেই চলছে, হুবহু সেভাবে। সারাবিশ্ব যখন তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে হাতের নাগালে, তখন এই ব্রিটিশ পদ্ধতি আঁকড়ে ধরে থাকবার মানে কী তা বুঝি না।

এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিকার নিয়ে ইতিমধ্যে হাজার মানুষ হাজারটা কার্যকর সমাধান বের করে ফেলেছেন, তা নিয়ে লিখেছেন। আমি যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তি রিলেটেড সাবজেক্টের ছাত্র ছিলাম, আমার মাথায় কাজ করছে ইন্টারনেটের ব্যবহার করেই এই ফাঁস এফেক্ট কাউন্টার করবার চিন্তা। এজন্য দরকার প্রতিটা কেন্দ্রে একটা বা দুটা করে হেভি ডিউটি প্রিন্টার, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ আর কাগজ, এর বাইরে একদম কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষাবোর্ডের প্রধান, টেকনিক্যাল লাইনের অল্পকিছু লোক আর যেদিন যে যে পরীক্ষা হবে তার একটা প্রশ্ন ব্যাংক যার থেকে প্রশ্ন চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা যাবে তাতক্ষণিকভাবে।

- দেশে যদি ১০ বা ২০ হাজার পরীক্ষাকেন্দ্র থাকে, তবে ১০-২০ বা ৩০ হাজার প্রিন্টার লাগবে, সাথে একটা করে কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগ। আমার ধারণা যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত হয়, তাদের মাঝখান থেকে এমন একটা কেন্দ্রও খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে অন্তত একটা কম্পিউটার আর প্রিন্টার নেই। আলাদাভাবে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে তা দেয়া যেতে পারে, সাথে প্রশ্নপত্র ছাপাতে কাগজ আর প্রিন্টার কার্ট্রিজ।

- সকল কেন্দ্রের নামে আলাদা করে একটা করে ইমেইল আইডি খুলে, নানা জোন আর জেলা হিসেবে ইমেইল এড্রেসের তালিকাগুলো একত্রে রাখা সম্ভব যাতে পুরো লিস্ট একসাথে সিলেক্ট করে একটা ইমেইলেই সব কেন্দ্রে একত্রে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রশ্নপত্র পাঠানো যায়। এই কাজের জন্য দরকার মাত্র ৫-১০ মিনিট সময়।

- ঢাকাতে বা বোর্ড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যেখানে চূড়ান্তভাবে প্রশ্নপত্র নির্বাচন করা হবে, সেখানে প্রতিটা সাবজেক্টের একটা করে প্রশ্নব্যাংক থাকবে। প্রশ্নব্যাংকে অন্তত ৪-৫ সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা যায় এমন সংখ্যক প্রশ্ন থাকতে পারে। এই প্রশ্নব্যাংক যদি আগেই কারো হাতে চলে যায় তবে যাক। ৪-৫ সেট বা ৩ সেট প্রশ্নের প্রস্তুতিও যদি কোনো ছাত্র নেয়, তবে তাকে পুরো বই মুখস্ত করে ফেলতে হবে।

- একটা ছোট সফটওয়ার তৈরি করা যেতে পারে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র র‍্যান্ডম সিলেকশনের মাধ্যমে কয়েক ক্লিকেই তৈরী করে ফেলা সম্ভব পিডিএফ ফরম্যাটে। এরপর সেই প্রশ্নপত্রগুলো পরীক্ষাকেন্দ্রে ইমেইল করে দিয়েই নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কাজ শেষ। এই কাজটা পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘন্টা আগে শুরু করে এক ঘন্টা পনেরো মিনিট আগেই শেষ করে ফেলায় কোনোরকম সমসা হবার কথা নয়।

- এবার কেন্দ্র ইমেইলে যে প্রশ্নপত্র পাবে, সেটা কেবল পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রিন্টআউট নিলেই চলবে। এই কাজে একদিনে যদি আলাদা আলাদা বিষয়ের ৫-৬ টা প্রশ্নপত্রও থাকে, তারপরেও আধঘন্টায় শেষ করে ফেলা সম্ভব। কেবল পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছাতে যা সময় লাগার তা লাগবে।

- একদমই রিস্ক না নিতে গিয়ে যদি তিনঘন্টা আগেও কেউ প্রক্রিয়া শুরু করে, আর নিয়ম করে দেয় যে পরীক্ষার্থীদের একঘন্টা আগে কেন্দ্রে ঢুকতে হবে, তাহলেও হয়। নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে প্রশ্ন লিক হয়ে কারো হাতে পৌঁছাতেও যে সময়টুকু দরকার তা পেরোতে পেরোতে তার কেন্দ্রে ঢুকবার সময় চলে আসবে।

- এভাবে করলে খরচও বেশি না। হয়ত ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা লাগবে যেখানে নেই। এর বাইরে প্রিন্টের খরচ তো এমনিতেও লাগে। সেইসাথে লাগে সারাদেশব্যাপী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাবার পরিবহন খরচ, সেগুলো দিয়ে এই খরচের বোঝাপড়া হয়ে যাবে।

অন্য অনেকের মাথায় হয়ত আরও অনেক সহজ ও কার্যকর উপায় থাকতে পারে। হয়ত আমি যা ভাবছি তাতেও সমস্যা আসতে পারে, আলোচনা পর্যালোচনা করে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর পদ্ধতি অবশ্যই বের করা সম্ভব যাতে বছরের পর বছর লাগবে না। মাসখানেক সামান্য সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করলেই সম্ভব। এসবে আলাদা প্রশিক্ষণেরও দরকার নেই। কেবল কীভাবে কাজগুলো হবে তার সে ব্যাপারে উদাহরণ সহ কার্যপদ্ধতি বা চাইলে ভিডিও টিউটোরিয়াল বানিয়ে দেখানো যেতে পারে। এসব না পারবার কিছু নেই, সকলেই এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে, কম্পিউটার অপারেট করে। তারপরেও কেউ যদি না পারে, তবে তাকে বলা উচিত, বিয়ের পরে কী করলে ভবিষ্যত প্রজন্ম পৃথিবীতে আনতে পারবেন সেটা কেউ না শিখাইলেও পারবেন, জানেন, ওইটা আরো জটিল প্রক্রিয়া। এটা পারবেন না কেন?

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মাথাব্যথায় স্বাভাবিক মানুষ মাথা কেটে ফেলবার চিন্তা করে না, বরং মাথা খাটায় মাথাব্যথা কী করলে কমবে তা নিয়ে ভাবতে। ইন্টারনেটে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আপনারা নাহয় ইন্টারনেটের কিছু ফিচার সামান্য পরিমাণে ইউটিলাইজ করলেন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর