নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

অামাদের মডার্ন বান্টিপা


বান্টি অাপা, অাল্ট্রামডার্ণ অাপা হিসেবে 'অাপামহলে' তার দুর্নাম অাছে। বান্টিঅাপার স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান ব্যবস্থাপক। গায়ের রং ফর্সা হওয়ার সুবাদে বান্টিপার কদর সবসময়ই ছিল এবং অাছে।
স্টুডেন্ট লাইফে বহু পুরুষকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছেন। চাইনিজে, পার্কে, শপিংমলে কিছুদিন ঢুঁ দিয়ে পকেট গড়েরমাঠ করে এবার রিপ্লেস করতে হয় গাধা; নতুন গাধার অাগমন ঘটে।

সেই ছোটকালে বাসায় হুজুরের কাছে কোরঅান পড়া শিখেছেন, কিন্তু নামাজ পড়া হয়ে ওঠেনি কোনকালেই।
বান্টিপার সরকারি অফিসার বাবা ছিলেন নিরামিষ টাইপের মানুষ। সারাদিন অফিস, এরপর বাসায় এসে গম্ভীর হয়ে টিভি দেখা, তারপর ঘুমুতে যাওয়া - এ যেন প্রতিদিনের চেনা দৃশ্য।
অাজ বান্টিপার ৩৮ তম জন্মদিন। স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে বিশাল অায়োজন করা হয়েছে। বান্টিপার বর মোজাম্মেলের কলিগরা এসেছে, অাত্মীয়-স্বজনরাও এসেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর সাহেবও এসেছেন।
একমাত্র মেয়ে রোদেলা তার মাকে কেক খাইয়ে দিল, সবার করতালি....।
অাজ বান্টিপাকে মোজাম্মেল কিনে দিয়েছে অাটত্রিশ হাজার টাকা দামের লেহেঙ্গা।
মোজাম্মেলের অাফসোস - তোমার বয়স যে কেন অাশি বছর হলো না!
বান্টিপা অবাক, কেন?
- কেন অাবার, তোমাকে তাহলে অাশি হাজার টাকা দামের লেহেঙ্গাটা কিনে দিতে পারতাম!

রোদেলার অারবি হুজুরও দাওয়াত পেয়েছেন। হুজুর এসে বিরস বদনে একটি চেয়ার নিয়ে বসেছেন।
হুজুর, মন খারাপ করে বসে অাছেন কেন? - বান্টিপার প্রশ্ন।
না, মন খারাপ না। রোদেলার জ্বর কি কমেছে? - হুজুরের প্রত্যুত্তর।
বান্টি : হ্যা, কমেছে। অাপনার পানিপড়ায় কাজ হয়েছে।
অবশ্য পানিপড়ায় মনেমনে বিশ্বাস নেই বান্টিপার, তবুও যদি কাজ হয় সে অাশায় ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি হুজুরের কাছ থেকে পানিপড়াটাও নিয়ে রাখেন!
বছর তিনেক অাগে অাটরশির দরবারে একটা খাসি মেনেছিলেন বান্টিপা, রোদেলার এপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন সাকসেস হওয়ার অাশায়। হয়েছেও, তাই খুশিতে একটার জায়গায় দুটি খাসি দিয়েছেন। অাটরশির বাবা খুব খোশদিল মানুষ, বান্টিপাকে অাটরশির মাহফিলে দাওয়াত দিয়েছেন। বান্টিপার বিশাল মন এবং ঝলকানো রূপেরও প্রশংসা করেছেন।

এলাকার ছেলেপুলেরা বান্টিপার জন্য একসময় দিওয়ানা ছিল, কারো ভাগ্যেই শিকেয় ছেঁড়েনি। হঠাৎ এলাকায় উড়ে এসে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন মোজাম্মেল সাহেব। ঝা চকচক গাড়িতে এসে ফ্ল্যাট দেখে যেতেন। এলাকার সব রোমিওদের কাঁদিয়ে বান্টিপাকে জয় করে নিলেন মোজাম্মেল সাহেব, কারণ বান্টিপার বাবার বাড়ির উত্তর পাশেই মোজাম্মেলের ফ্ল্যাট। রোমিওদের অভিযোগ, শুধুমাত্র টাকার লোভেই বয়স্ক, টাকমাথার মোজাম্মেলকে চুজ করেছে বান্টি!

বান্টিপার বাবা হাজী সদরুল সাহেব তার মেয়েকে বেশ স্বাধীনতা দিয়েই মানুষ করেছেন। লোকেরা বলে - উগ্র পোশাক, উগ্র পারফিউম, উগ্র মেকাপ মেখে সবসময় চলাফেরা করে বান্টি। বান্টির অাল্লা-খোদার ভয় নেই।

বান্টি নাকি মোজাম্মেলের নজর কেড়েছিল তার তীব্র পারফিউমের সুগন্ধের কারণে, যদিও বান্টির চেহারা দেখেই প্রেমে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাব্যতা বিরাজমান।
সরকারি অফিসার হাজী সদরুল সাহেব মেয়ের জন্য খরচে কখনো কার্পণ্য করেননি। প্রতিমাসে বান্টির মেকাপের জন্যই খরচ হতো প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা!
হাজী সাহেবের বিশ্বাস ছিল, মেয়েকে স্টাইলিশ চলাফেরা করতে দিলে যেমন নারী স্বাধীনতার হল্লে হবে তেমনি ভালো স্বামীও জুটবে। হাজী সাহেবের বিশ্বাস ভুল হয়নি। কোটিপতি স্বামী জুটেছে বান্টির, ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে তাদের বেশ কয়েকটি বাড়ি অাছে, জুয়েলারির ব্যবসাও অাছে।
বিয়েতে স্বর্ণালংকারই দিয়েছে একচল্লিশ ভরি! একচল্লিশ সংখ্যাটা অাবার মোজাম্মেলের পরিবারে খুব গুরুত্বপূর্ণ। মোজাম্মেলের বাবার পীর শাহসুফী সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম মোসাদ্দেক অাল কুতুবী অাল উয়াইসীর প্রিয় সংখ্যা হচ্ছে একচল্লিশ। পীর সাহেব নসীহত করেছিলেন মোজাম্মেলের বাবাকে, যেকোনো বরকতময় কাজ করতে হবে একচল্লিশ সংখ্যা দিয়ে। পীর সাহেবের ইন্তেকালের পর তার কুলখানির খরচের অর্ধেকটাই দিয়েছেন মোজাম্মেলের বাবা।
এখন দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর হচ্ছেন হুজুরের প্রথম স্ত্রীর ঘরের মেজ ছেলে অালহাজ্ব সৈয়দ শাহসুফী গোলাম মোজাম্মেল অাল কুতুবী অাল উয়াইসী সাহেব।
পীর সাহেবের ছেলের নামের সাথে মিলিয়েই জলিল সাহেব ছেলের নাম মোজাম্মেল রেখেছেন।
পীর সাহেবের বড়ছেলে সৈয়দ শাহসুফী গোলাম মোনাজ্জেম অাল কুতুবী অাল উয়াইসী মজযুব (খোদার পাগল) মানুষ, তাই তাকে গদ্দীনশীন করা হয়নি।
কথিত অাছে, অনেক বেশি তাহাজ্জুদের অামল করতে করতে সে অাল্লাহর এশকের তাজাল্লীতে পাগল হয়ে গেছে। তার সাথে কয়েক হাজার জ্বীন থাকে সবসময়।
হযরত মরহুম অালা পীর সাহেব কেবলা বড়ছেলেকে জ্বীনদের রাজত্ব দিয়েছেন, অার মেজছেলেকে মানবজাতির রুহানি রাজত্ব দান করেছেন। স্বপ্নযোগে অাল্লাহর রাসুল (সা.) এমনি হুকুম করেছিলেন মরহুম পীর সাহেব কেবলা হুজুরকে।

বাসায় ফিরতে একটু দেরিই হলো। সায়রা, জরিনা এবং মোতালেব ঘুমিয়ে পড়েছে। বারবার কলিংবেল টিপে জাগাতে হয়েছে ওদের; তাই মোজাম্মেলের ভাগে পড়েছে মোতালেব, অার বান্টির ভাগে পড়েছে সায়রা এবং জরিনা। চারপাঁচটা চড় থাপ্পড় পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রইলো, জন্মদিনে কাজের ছেলেমেয়েদেরকে এরচে বেশি মারতে মন চাইলোনা উভয়েরই।

তিনমাস পরে অাবার রোদেলার বার্থডে, ওর বয়স সেদিন নয় বছর পূর্ণ হবে। মেয়েটা দেখতে দেখতে কেমন যেন বড় হয়ে যাচ্ছে। দাদা-নানাদের প্রথম নাতনি, তাই রোদেলার অাদর-কদরের শেষ নেই। গতবারের জন্মদিনে তার নানা তাকে পাঁচলাখ টাকা দামের ডায়মন্ড সেট গিফট করেছেন, এটাই ছিল হাইয়েস্ট রেটেড গিফট।
এবছর অবশ্য দাদু-দীদা চমকে দেয়ার পাঁয়তারা করছেন, এটা মোজাম্মেল ছাড়া অার কেউ জানেনা।

মোতালেব কাজে বড্ড ফাঁকিবাজ, বান্টির গতবারের বার্থডে সেলিব্রেশনের সময় সে ছুটি নিয়েছিল তার মেয়ের অসুস্থতার কথা বলে। মোজাম্মেলের বাবার বাড়ির কাজের ছেলেটা এসে তখন কাজকর্ম করে দিয়েছিল। জন্ডিস না কি যেন হয়েছিল মোতালেবের মেয়ের, পরে সে মারা গেছে।
কি যে যন্ত্রণা, একবার ছুটি নিয়েছে অসুস্থতার কথা বলে, এরপর অাবার মৃত্যুর কারণে। মরবি তো মর। প্রথমবারের ছুটিতেই মরতি!

মেয়ের চিকিৎসার জন্য মোতালেব একমাসের মাইনে অগ্রিম চেয়েছিল, কিন্তু রোদেলার বার্থডের বিরাট খরচ সামলাতে হবে, তাই অার অগ্রিম মাইনে দেয়াটা সম্ভব হয়নি।
মোতালেবের মেয়ে মারা যাওয়ার কথা শুনে অবশ্য বান্টিপা অনেক হাপিত্যেশ করেছেন।

কোরবানির ঈদ সামনে, গরু কেনারও বিরাট খরচা। এত টাকা বেতন পেয়েও সংসারে সবসময় টানাটানি লেগেই থাকে। খরচ হয়ে যাচ্ছে লাগামছাড়া।
সেদিন মোজাম্মেল হাসতে হাসতে মোতালেবকে বললো - বুঝলে মোতালেব, তুমিই সুখী মানুষ, দু'পয়সা রোজগার করেই কি সুন্দর দিন কাটাতে পার! অার অামি লাখ লাখ টাকা দিয়েও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি!
হবেইনা না বা কেন, বসুন্ধরার বাড়িটা এখনো কমপ্লিট হলো না। অাটতলা বাড়ির নির্মাণে বাজেট ছিল দুই কোটি নব্বই লাখ টাকা, রড এবং টাইলসের দাম বাড়ায় সেটার নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ত্রিশ লাখ টাকা প্রায়!

রাত দেড়টা বাজে, বিছানায় শুয়ে অাছে বান্টি-মোজাম্মেল দম্পতি। মোজাম্মেল : চলোনা জন্মদিনেও হয়ে যাক একটু!
বান্টি : না, অাজ হবেনা।
মোজাম্মেল : কেন ডার্লিং?
বান্টি : ঈদের পর শিপ্রা অাপার বাড়িতে বেড়াতে যেতে চাই। অাপার ননদের বিয়েতে খুব মজা হবে, ওটা মিস করতে চাই না। রাজি হলে দেব, নইলে না - গাল ফুলিয়ে বলল বান্টি।
মোজাম্মেল : তুমি কি ভেবেছ, লন্ডন যাওয়াআসার খরচটা কেমন হতে পারে? তার ওপর অাবার গিফট দেয়ার ব্যাপারস্যাপারও অাছে, অাবার অামার কাজের চাপও এখন বেশি।
বান্টি : জানি সবি, কিন্তু তোমার কাছে এ সবকিছু ম্যানেজ করা নস্যি ব্যাপার।
মোজাম্মেল : ওকে, চিন্তা কোরোনা, হবে এবং উইথ সারপ্রাইজ। - এবার তাহলে করতে দাও।
বান্টি : তার অাগে বল, সারপ্রাইজটা কি?
মোজাম্মেল : থাক না।
বান্টি : না, বলতে হবে।
মোজাম্মেল : কাজ পাইয়ে দেয়ার কারণে একজায়গা থেকে উপহার পাবো চল্লিশ লাখ টাকা।
বান্টি : ওয়াও, ডার্লিং! শপিংটপিংও হয়ে যাবে তাহলে!
- বান্টি ঝাঁপিয়ে পড়ল মোজাম্মেলের বুকের উপর। অাজ তাহলে তুমি শুয়ে থাক, অামিই করছি যা যা করার। - বান্টির বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস।

কোরবানির ঈদ। এলাকার সবচে বড় গরু কেনেন যুবলীগ নেতা অালহাজ্ব দবিরউদ্দিন হোসেন সাহেব। সেকেন্ড বৃহত্তম গরু কেনেন ব্যাংক অফিসার মোজাম্মেল সাহেব। মোজাম্মেল সাহেব এবং তার সুন্দরী স্ত্রী বান্টি কোনোদিনই নামাজ-রোজার ধার ধারেননা, কিন্তু মসজিদে দানখয়রাত করেন একটুঅাধটু।
অালহাজ্ব দবিরউদ্দীনের বাড়ির মসজিদে দান করতে হয়। গতবছর ছাদ ঢালাই দেয়ার সময় একচল্লিশ হাজার টাকা দান করেছে মোজাম্মেল। নেতা দাবি করেছিল দুই লাখ টাকা, সেটাকে কমিয়ে একচল্লিশ হাজার পর্যন্ত নামানো সম্ভব হয়েছে কষ্টেসৃষ্টে।

মোজাম্মেলের দাদীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাশরীফ এনেছেন পীর সাহেব। মাদ্রাসার ছাত্ররা বাসায় এসে কোরঅান খতম করে গেছে।
প্রতিমন্ত্রী সাহেবও এসেছেন, তিনি বক্তব্য দিলেন কিছুক্ষণ। এরপর হাজী দবিরউদ্দীন সাহেব বক্তব্য দিলেন। শেষে পীর সাহেব সবাইকে নসীহত করে মোনাজাত ধরলেন।
মোনাজাতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, দবির হাজী, মোজাম্মেল এবং তার বাবা-মা-সন্তান সবার জন্য দোয়া করা হলো। সর্বশেষে তামাম জাহানের মুসলমানের জন্য দোয়া করা হলো।
মোনাজাত শেষ...... পীর সাহেব মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে তার দরবার শরীফে তাশরীফ রাখার অনুরোধ করলেন, প্রতিমন্ত্রী কথা দিলেন - যাবেন।

প্রচুর খাবার রয়ে গেছে, সেসব খাবার স্থানীয় মাদ্রাসায় এবং ভিক্ষুকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

অাবারো দাওয়াত, বড় অফিসার হওয়ার এই হচ্ছে যন্ত্রণা - খেদ ঝরছে মোজাম্মেলের কন্ঠে।
ভালোই তো হবে! - খুশির ঝিলিক বান্টির মুখে।
অামার কচু হবে, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের জি এম সাহেবের ছেলের বিয়ে!

বান্টি : ও হ্যা,.......চিনেছি। একটা অনুষ্ঠানে ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলে তুমি। লোকটা অামার রূপের প্রশংসায় ষষ্ঠমুখ ছিল পুরো সময় জুড়ে। - বান্টির মুখে তৃপ্তির ঝিলিক।
মোজাম্মেল : তোমার রূপের প্রশংসা করলেই সে মহামানব হয়ে যায়, এজন্যই তো পীর সাহেব পর্যন্ত তোমার দিকে তাকিয়ে চোখ সরাতে পারেনা!
বান্টি : এতে সম্মান তোমারও বাড়ে, সুন্দরী বউ নিলে কদর পাওয়া যায় সবজায়গায়। সবাই বলে - কি সুন্দরী বউ মোজাম্মেল সাহেব পেয়েছেন! রেস্টুরেন্টে সুন্দরী বউ নিয়ে গেলে ওয়েটাররা পর্যন্ত সার্ভ করে খুব যত্নের সাথে। অামার বান্ধবী অানিশাকে নিয়ে তার স্বামী সপ্তাহে দুদিন নিয়ম করে চাইনিজে যায়, কেএফসিতে যায়; অার তুমি তো মাসে একবারও সময় পাওনা। তাই দাওয়াত পেলে অামি তো খুশি হবোই।

অডিট অফিসার মিনহাজ অাহমেদ হজ্ব করেছেন এবছর। মোজাম্মেল স্যারের জন্য মদিনা থেকে দামি জায়নামাজ কিনেছেন।
মিনহাজ : স্যার, এই জায়নামাজটা অাপনার জন্য মদিনা থেকে এনেছি, প্লিজ গ্রহণ করলে খুশি হব স্যার।
মোজাম্মেল : মিনহাজ সাহেব, অামি ধর্মের ধার ধারিনা, নামাজও পড়িনা কখনো। অাপনি বরং জায়নামাজ কোন নামাজীকে দিয়ে দিন।

অাসলে মিনহাজের উপর মোজাম্মেল মহাক্ষ্যাপা। ব্যাংকের মালিকের অাত্মীয় হওয়ার কারণে মোজাম্মেলের সামনে সে ভাব দেখায়! অথচ সে মোজাম্মেলের চেয়ে বহুধাপ নিচের অফিসার।

বান্টির ফোন এসেছে, দ্রুত বাসায় যেতে হবে, সায়রা নাকি খুব অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দ্রুত বাসায় ফিরেছে মোজাম্মেল।
মোজাম্মেল : কি হয়েছে বান্টি? পুরো ঘটনা খুলে বল।
বান্টি : কি অার হবে? অকর্মার ঢেঁকি সায়রা অাজ অাবার কাজ করতে গিয়ে সিরামিকের জগটা ভেঙে ফেলেছে, এরপর খুন্তি দিয়ে মারতে গিয়ে ওর চোখে লেগেছে! অাঘাতটা একটু জোরেই লেগেছে!
মোজাম্মেল : ও এখন কোথায়?
বান্টি : ক্লিনিকে পাঠিয়েছি।
মোজাম্মেল : তা সমস্যা কি, প্রায়ই তো মারো!
বান্টি : অারে কোত্থেকে কোন শিশু অধিকার সংস্থা এসেছে, সায়রার মাকে উস্কানি দিচ্ছে মামলা করার জন্য! চৌদ্দ বছরের দামড়ি নাকি এখনো শিশু?
মোজাম্মেল : তোমাকে বলেছিলাম, রয়েসয়ে পেটাতে। এভাবে পিটিয়ে জখম করলে মামলা তো হবেই, তবুও
দেখছি কি করা যায়।

মোজাম্মেল : মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় কি অাছেন?
প্রতিমন্ত্রী : হ্যা বলছি।
মোজাম্মেল: স্যার অামার কাজের মেয়ে....
প্রতিমন্ত্রী : বলতে হবেনা অার, অামি সব জানি।
দেখছি কি করা যায় - প্রতিমন্ত্রীর জবাব।
মোজাম্মেল : না, স্যার একটু গুরুত্ব দিয়ে দেখুন প্লিজ......... মানসম্মানের প্রশ্ন।
প্রতিমন্ত্রী : অাচ্ছা মোজাম্মেল সাহেব, অাপনি দবিরের সাথে কথা বলুন।
মোজাম্মেল : ওকে, বলছি।

হাজী দবির ভাই হাজির হয়েছে মোজাম্মেলের বাসায়।
দবির : প্রতিমন্ত্রীসাব ফোন করেছেন অামাকে।
সব মিটিয়ে দেবেন তিনি, কিন্তু ত্রিশলাখ টাকা লাগবে!
মেয়েটার একচোখ অন্ধ হয়ে গেছে, জানতে পারলাম।
এই ত্রিশলাখ টাকার বিশলাখ প্রতিমন্ত্রীর, পাঁচলাখ টাকা মেয়ের বাবার, অার পাঁচলাখ শিশু অধিকার কর্মীদের। অামাকে দিতে হবেনা কিচ্ছু, একসাথে চলাফেরা করি, অাপনার কাছ থেকে কি টাকা নিতে পারি! এতে অাল্লাহও বেজার হবেন।
টাকা কিন্তু পুরা ত্রিশলাখ.....
রাজি থাকলে এখনি বলুন, নইলে কিন্তু মিডিয়ার লোক চলে অাসবে।
মোজাম্মেল : একটু কনসিডার করুন হাজী ভাই, অার্থিকভাবে খুব বিপদে অাছি।
দবির : না, এটাই ফাইনাল। মন্ত্রী মহোদয়কে বিশলাখের নিচে দিলে নেবেন না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
মোজাম্মেল : ঠিক অাছে, টাকা দিচ্ছি অাজই।

রাতে শুয়ে অাছে বান্টি-মোজাম্মেল দম্পতি।
মোজাম্মেল: লন্ডন ক্যান্সেল। পুরো ত্রিশলাখ দিতে হয়েছে তোমার পিটুনির খেসারতে; কন্ঠে খেদ।
বান্টি : কাজের মেয়ে পাচ্ছি না, সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। সায়রার কারণে বদনাম হয়ে গেছে, এখন কেউ কাজ করতে চায় না অামাদের বাসায়। জরিনাকে দিয়ে সব কাজ করাচ্ছি, কিন্তু ও একা একা সব কাজ সামলাতে পারছে না।
মোজাম্মেল : তুমি চিন্তা কোরোনা, অামার অফিসের সিকিউরিটি গার্ডের এক ভাতিজী অাছে, তাকে অানতে পাঠানো হয়েছে। তিন সন্তান অাছে, এখন স্বামী-পরিত্যক্তা।
বান্টি : অারে বল কি, সন্তানদের অসুস্থতার কথা বলে ঘনঘন ছুটি নেবে! ওসব অাপদ এনো না!
মোজাম্মেল : এছাড়া অাপাতত উপায় দেখছি না। তাছাড়া তাকে বলা হয়েছে, সন্তানরা এখানে অাসতে পারবেনা। সে ছয়মাসে একবার একসপ্তাহের জন্য ছুটি পাবে, অার গ্রামেরবাড়ি থেকে কেউ অাসতে পারবেনা।

সায়রার একচোখ অন্ধ হয়ে গেছে। সায়রার মা দেখা করতে এসেছেন মোজাম্মেল সাহেবের সাথে। দুখের সাথে জানালেন, অালহাজ্ব দবিরউদ্দীন সায়রার চিকিৎসার জন্য মাত্র দশহাজার টাকা দিয়েছে, বাকিটা নিজেই মেরেছে!
ক্রুদ্ধ হয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে মোজাম্মেল......অাপনি তখন শিশু অধিকার সংস্থার কথায় নেচে নেচে অামার সম্মানহানি করেছেন, অামার ত্রিশ লাখ টাকা নষ্ট করেছেন, এখন কোন মুখে অামার সামনে দাঁড়িয়েছেন?
অামার চোখের সামনে অাসবেননা কোনোদিন, এই মুহুর্তে চলে যান।

ডাক্তার বলেছেন - সময়মত চিকিৎসা করালে সায়রার চোখটা ভালো করা যেত, কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করা যায়নি সায়রার।

বান্টিপার বাবা তার বাসায় মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে দিয়ে খতম পড়াচ্ছেন, অাটরশির হুজুরের কাছেও দোয়া চেয়েছেন। মেয়ে এবং জামাইয়ের ওপর দিয়ে মহাধকল গেছে।
অাটরশির মাজারের খাদেম মাওলানা অালকাছ অালি মরহুম বিশ্বওলী খাজাবাবার নামে একটি গরু মান্নত করতে বলেছে বান্টির বাবাকে।
স্থানীয় ইমাম সাহেব অাবার অাটরশির পীরকে বেদাতি ভন্ডপীর বলে থাকেন। ইমাম সাহেব হাজী সদরুলকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন - বেদাতিদেরকে টাকা দিলে অাল্লাহর নবীর সুপারিশ মিলবেনা, কেয়ামতের দিন নবীজি তাদেরকে চিনবেননা। অাপনি বরং মসজিদ কিংবা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করুন।

অাপনারা হুজুররা হিংসাহিংসি বন্ধ করুন তো, - সদরুল সাহেবের বিরক্তি প্রকাশ!

অফিস টাইমে বান্টির ফোন।
বান্টি : এই শোনো.... কপাল ভালো, শিপ্রাপুর ননদের বিয়ে পিছিয়ে গেছে। অাগামী ডিসেম্বরে হবে। - ততদিনে তুমিও প্রস্তুত হতে পারবে - তাই না অামার জান?
ঠিক অাছে - মোজাম্মেলের বিরস উক্তি।
তুমি দিনদিন রসহীন হয়ে যাচ্ছ কেন? - বান্টির প্রশ্ন।
মোজাম্মেল : দেখ, তোমরা মেয়েমানুষেরা সারাদিন স্টার জলসা অার জি বাংলা ছাড়া তো কিছু জানোনা। জগতের বাস্তবতা ও বোঝোনা। জানো শুধু লরিয়েলের মেকাপ বক্সের দাম, অাইলাইনারের মান ও পারফিউমের ঘ্রাণ।
অার ব্যাংক অফিসারের বউ হওয়ার সুবাদে কিচেনেও যেতে হয়না তেমন একটা।
বান্টি : বুঝেছি, তোমার মন মজেছে অন্য নারীতে!
মোজাম্মেল : যা বুঝে তুমি স্বাদ পাও তা-ই বুঝে নাও, সমস্যা নেই।
বান্টি : তোমার অফিসের নতুন সুন্দরী অফিসারকে তুমিই তো চাকরি দিয়েছ, তাই নয় কি?
মোজাম্মেল : হঠাৎ কেন এ প্রশ্ন?
বান্টি : না, বলছিলাম সামনের মাসে তোমাদের লন্ডন সফরে নাকি সে মেয়েটিও যাবে?
মোজাম্মেল : এটা তো অফিসিয়াল ডিসিশন।
বান্টি : কিন্তু অফিসিয়াল ডিসিশনটা তৈরি করেন তো অাপনি, মিস্টার মোজাম্মেল সাহেব?
মোজাম্মেল : ও, অামার ডিসিশন পছন্দ না হলে তুমি এসে অামার অফিস চালাও, তোমার মনমতো ডিসিশন মেইক কর।
বান্টি : যাও, যাও, নতুন বউ নিয়ে লন্ডন হানিমুন সেরে অাসো। অামার বেলায় সময় থাকেনা, টাকা থাকেনা....অার ওই কমবয়সী রূপবতীর বেলায় কোনোকিছুর অভাব হয়না।
মোজাম্মেল : তুমি কেন বুঝতে পারছনা বান্টি, এটা অফিসিয়াল ট্যুর, এর ব্যয় সম্পূর্ণ অফিসের উপর।
বান্টি : স্টার জলসার প্রিয়ন্তীর কাহিনীর সাথে পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে তোমার গল্প। কমবয়সী, রূপবতী অফিসারকে নিয়ে অফিসের খরচায় হানিমুন!....
ফোন কেটে দিল বান্টি।

মোজাম্মেল : কোরবানির ঈদের মাত্র সাতদিন বাকি, গরু কিনতে হবে এবার সবচেয়ে দামিটা। অার খাসি এবার কিনবো দশটা, গতবছরের চেয়ে চারটে বেশি। দবির হাজীকে টেক্কা দিতে হবে।
বান্টি : এই, অারেকটা ডিপফ্রিজ কিনতে হবে।
মোজাম্মেল : ঘরে তিনটে বড়সড় ফ্রিজ অাছে, তারপরও অারো লাগবে?
বান্টি : হ্যা লাগবে, কারণ গতবছর সব মাংস গাদাগাদি করে ফ্রিজে রাখার কারণে অনেক মাংস নষ্ট হয়েছিল, মনে নেই?
মোজাম্মেল : ঠিক অাছে, কাল ফ্রিজ কিনতে যাবো।

ঈদের দিন। মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা রক্তমাখা ছুরি নিয়ে ঘুরছে। গরু জবাই করছে, চামড়া কালেকশন করছে। মোজাম্মেল সাহেব দুটো গরু কিনেছেন। একটির দাম দুই লাখ অাঠারো হাজার টাকা, অন্যটার দাম সাতানব্বই হাজার টাকা। একটি গরুর চামড়া বিক্রির টাকার এক তৃতীয়াংশ মাদ্রাসায় দান করলেন, অার বাকি টাকা কাজের মেয়ে, ছুটা বুয়া, সৌমেন ও মোতালেবকে ভাগ করে দিলেন।
দুই লাখ অাঠারো হাজার টাকা দামের গরুর চামড়ার দাম হয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা!
অার অন্যটির চামড়ার দাম হয়েছে চব্বিশশত টাকা।
একহাজার টাকা মাদ্রাসায় দিয়ে অবশিষ্টাংশ কাজের লোকদেরকে, গাড়ির ড্রাইভারকে, বাড়ির দারোয়ানকে দিতে হয়েছে। ঈদ বোনাস বলতে ওরা এই চামড়া বিক্রির টাকাই পায়, অার মাংস পায়না তেমন একটা। শুধু কিছু চর্বি ও হাড্ডি দেয়া হয়েছে মোতালেব, জরিনা, রহিমা ও সৌমেনকে।

সৌমেন হচ্ছে মোজাম্মেলের গাড়ির ড্রাইভার, ওর বাড়ি সাতক্ষীরায়। হিন্দু হওয়ার কারণে ওদের বাড়িঘর, বসতভিটা সব ছাড়তে হয়েছে। এলাকায় শোর উঠেছিল, সৌমেন নবীকে অপমান করেছে। সব হিন্দুদের ঘরে অাগুন দেয়া হয়েছে, পালপাড়ার বাকি হিন্দুরা পুনরায় মার খাওয়ার ভয়ে সৌমেনদেরকে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল।
নবীকে নাকি কটুক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে জেলে গিয়েছিল সৌমেন, ছাড়া পাওয়ার পর মাস্টার্স পাশ সৌমেনকে কেউ চাকরি দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার গাড়ি চালায়।
তবে হিন্দু হলেও সে গরুর মাংস খায়, পুজোটুজোর ধার ধারেনা। রোজার মাসে একটা শাড়ি ও একটা লুঙ্গি পায় তার স্যারের কাছ থেকে, জাকাতের ভাগ থেকে। কোরবানির ঈদে চামড়া বিক্রির কিছু টাকা অার গরুর কিছু চর্বি ও হাড় পায়।

গাড়িতে যেদিন প্রথম বান্টি ম্যাডাম চড়েছেন সেদিন সৌমেন ভেবেছিল, ম্যাডামও বুঝি তার মত নাস্তিক।
বুকে ওড়না নেই, উগ্র পারফিউম মাখা, শর্ট স্কার্ট পরা ম্যাম নিশ্চয়ই নাস্তিক হবেন? গাড়িতে চড়েই সৌমেনকে ঝাড়ি দিলেন - অামাকে সালাম দিলেনা কেন?
সৌমেন : ম্যাডাম অামি হিন্দু!
বান্টি : তোমাকে হিন্দু হতে বললো কে?
অামাকে সালাম দেবে এখন থেকে।
সৌমেন : জি ম্যাডাম।

বান্টিপা যেদিন গাড়ি থামিয়ে মদের দোকান থেকে মদ কিনেছিলেন সেদিন সৌমেন অাবার ভাবতে চাইলো, ম্যাডাম বুঝি নাস্তিক!
কিন্তু ম্যাডাম গাড়িতে উঠেই তার লন্ডনপ্রবাসী চাচাতো বোন শিপ্রার সাথে কথা বলার সময় বলেছেন - চিন্তা করবি না, অাল্লার কাছে দোয়া কর, অাল্লা সবকিছু ঠিক করে দেবেন।

মোজাম্মেল স্যার শুক্রবার জুমঅার নামাজের সময়ে ঘরে বসে নিরিবিলি মদপান করেন, তাকেও নাস্তিক ভেবেছিল সৌমেন।
একদিন স্যার মদ্যপ অবস্থায় বলতে থাকেন - অাল্লা অামাকে মাফ করে দিও, নবীজি অামারে সুপারিশ করো, উয়াইসী বাবা অামারে পার করে দিও!

সৌমেন যখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে তখন এলাকার বিএনপি নেতা লতিফ হাজীর সামনে সিগারেট মুখে নিয়ে হেঁটে যাওয়ার কারণে যুবদলের ছেলেদের হাতে কি মারটাই না খেয়েছিল!
মারার সময় সবাই বলছিল - মার শালার মালাউনের বাচ্চারে, নেতার সামনে বিড়ি খায়!
সৌমেন কিন্তু বিড়ি খায়নি, সে খেয়েছিল বেনসন।
সৌমেনকে মেরে বাড়িতে পাঠানোর সময় নেতা বলেছিলেন - মালাউনের বাচ্চা শুইন্না রাখ, সিগারেট খাওয়া হারাম। অথচ নেতা তখন সিগারেট ফুঁকছিল!

সৌমেন ভাবছে, সে মালাউন বলে তার জন্য সিগারেট খাওয়া হারাম, কিন্তু মোজাম্মেল স্যারের মদ্যপান কি হালাল?
মোল্লারা তো মোজাম্মেল স্যারকে দেখলে ইয়া লম্বা সালাম দেয়, পীর সাহেব তো মোজাম্মেলের জন্য বেহেশত কনফার্ম করে যায়! বান্টিপার বেহেশতও নাকি কনফার্ম!

সৌমেনের ছোটবোন শীলার স্কুলে যাওয়ার সময় নাকি স্থানীয় জব্বার হাজীর ছেলের অনুভূতিতে সমস্যা হয়েছিল, তাই তার স্কুলগমন বন্ধ করা হয়েছিল।
একদিন জব্বার হাজীর ছেলে রাস্তায় অাই লাভ ইউ বলে শীলার ওড়না ধরে টানাটানি করে, সৌমেনের বাবা এর বিচার চাইতে গেলে মাতব্বররা সবাই দোষ দেয় শীলাকে। তার ওড়না নাকি পাতলা ছিল, তাই টান দিতে বাধ্য হয়েছে জব্বার হাজীর ছেলে!
শেষে রায় দেয়া হয়, অাগামীকাল থেকে শীলার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। মালাউন মেয়ের কারণে মুসলমান ছেলেদের চরিত্র নষ্ট হতে দেয়া যাবেনা।

সৌমেন ভাবে, ওড়নাবিহীন বুকের অর্ধাংশ বের করে চলাফেরা করা বান্টি ম্যাডাম বেহেশতে যাবে। জুমঅার নামাজের সময় ঘরে বসে মদ্যপান করা মোজাম্মেল স্যার বেহেশতে যাবে; কিন্তু মালাউন সৌমেন এবং তার বাবা, মা, ছোটবোন দোজখে যাবে!
সৌমেনের মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হয়, ভগবানের সাথে দেখা করে তার পাছায় কষে একটা লাথি মারতে!

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুফতি মাসুদ
মুফতি মাসুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 10 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, আগস্ট 14, 2017 - 6:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর