নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

গল্প : শূন্যস্থান কিংবা স্থানাধিক্য


ওঘরে মৃদুস্বরে গান হচ্ছে। টিভিতে। বোধহয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। এঘর থেকে শুনেই বোঝা যায় যে, টিভির সামনে সোফায় পাশাপাশি বসে থাকা মানুষ দু'জনের কিছুই আসে যায় না সেই গানে। অনেক আগে বাসায় যখন কোন ডিশ ছিল না, শুধু বিটিভি দেখতে হতো, তখন হিয়া এসব বোরিং অনুষ্ঠানও বসে বসে দেখতো।

হিয়ার ভালো লাগে না, কিছুই ভালো লাগে না। সেই মানুষটা বাসায় যখন আসে, হিয়ার জন্য সব সময়ই কিছু না কিছু নিয়ে আসে। গিফট পেতে খারাপ লাগে না। কিন্তু ঐ মানুষটা যখন মায়ের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করে, ছোঁয়াছুঁয়ির খেলা হয়, হিয়া পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখেছে কয়েকদিন, তার মোটেও ভাল লাগে না। মা এমন কেন, সে বোঝে না হিয়া বড় হয়েছে? এখন সে মোটেই আর ছোট্টটি নেই? যদি মা তার বন্ধুর সাথে কিছু সময় কাটাতেই চায়, বাইরে কোথাও বেড়াতে যায় না কেন?

নাকি মা বাবাকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই এসব করে? আগের মতো ঘন ঘন উঁচু গলায় বাবা-মা আর ঝগড়া করে না। তবে হিয়া বোঝে, যখন ঝগড়া হতো, অন্ততপক্ষে এখনকার মতো এত শূন্য লাগতো না। মা প্রায়ই বাবাকে ভয় দেখাতো। বলতো, হিয়াকে নিয়ে আলাদা থাকবে। এরকম আরও অনেক কিছু। হিয়া জানে এইসব পরিস্থিতি সুখকর না হলেও, এদেশে অস্বাভাবিক নয় একদম। হরহামেশা এমন পরিস্থিতির মুখেও তো কত ফ্যামিলি সুতো না ছিঁড়ে উড়ছে।

খুব ধীরে অবস্থা পাল্টে গেছে। কবে থেকে মায়ের সব উঁচু গলার কথাগুলোর প্রতিবাদ করা বাবা বন্ধ করে দিয়েছে, হিয়ার খেয়াল নেই। কবে থেকে বাবা রাত দশটায় বাড়ি ফিরে নিজে নিজে ওভেনে খাবার গরম করে খাওয়া শুরু করেছে, হিয়া ঠিক ধরতে পারে নি। শীতল একটা স্তব্ধতা ধীরে নেমে এসেছে সারা বাড়িতে। ঢুকে গেছে ড্র‍য়িং রুম থেকে চিলেকোঠা অবধি। সন্ধ্যের সময় ছাদে দাঁড়ালে কেমন একটা পুরোনো শ্যাওলার গন্ধ পাওয়া যায়, হিয়ার কাছে এখন সারা বাড়ি জুড়ে সেই শ্যাওলাগন্ধী অস্তিত্বটাই প্রবল। যে কোন একদিন হিয়ার শরীরেও জমতে শুরু করবে লাইট গ্রিন, অফ ব্রাউন, ডার্ক গ্রে - এবং আরও নানা রকম অচেনা রঙের শ্যাওলা।

মা আসে। মাঝরাতে। মশারী টাঙিয়েছে কিনা, গায়ে কাঁথা জড়ানো আছে কিনা, দেখেটেখে চলে গেল। কেন আসে মা? ওসব কি এখনও ফুরিয়ে যায় নি?

বাবা কোনরূপ প্রতিবাদহীন। তাহলে কি বাবাও নিজস্ব জগত তৈরি করে চলেছে অন্য কোন টিভিরুমে? আচ্ছা, সে বাড়িতে কি হিয়ার মতো ক্লাস নাইনে পড়া একটা মেয়ে আছে? নাকি ছেলে? নাকি এই বাড়ির মতো একজন শুধু নয়, দুই কিংবা তিন?

কে হতে পারে, হিয়া মনে মনে ভাবে। যে আন্টি গাল টিপে দিয়ে একদিন বলেছিল, আরে এই মেয়েকে তো এখনও ফ্রক পরিয়ে চুলে লাল ফিতের ঝুঁটি বেঁধে দেওয়া যায়?

নাকি যে আন্টি কোন উপলক্ষ্যে বাসায় এলে, সেদিন মায়ের মুখ থাকতো থমথমে? হিয়ার এক জন্মদিনে সেই আন্টির দেওয়া ম্যাকবুকটা অন্য সব গিফটকে কেমন ম্লান করে দিয়েছিল। যেন, সরু সরু কতগুলো সাদা নিষ্প্রভ মোমবাতির মাঝখানে একটা লাল মোটা, জরির কাগজ পেঁচানো লম্বা মোমবাতি জ্বলে চলেছে।
হিয়ার তবু বাবাকে কষ্ট দিতে ভালো লাগে না। কয়েকবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মনের সাথে আর লড়ে উঠতে পারে নি।
মাকে দিয়েছে মাঝে মাঝে। ভয় লেগেছে অনেক। যদি মা কিছু বুঝে ফেলে?

একদিন মা তার শোবার ঘরে রাতের ওষুধ আর একগ্লাস পানি চাইলো। হিয়া নীল বড়িটা অর্ধেকের বদলে পুরোটা নিয়ে গিয়েছিল, সাথে রাতের অন্যান্য ওষুধ। মা পানি দিয়ে বরাবরের মতোই গিলে নিয়েছে। হিয়া জানে না নীল ওষুধটার ফাংশন কি। তবু একটু আগুন টের পায় ভেতরে। তার বশেই ঝটিতি দিয়ে দেয় শাস্তি। যা হয় হোক।

কখন যে কি করে সব হিয়ার মনেও থাকে না। একেক সময় একেক খেয়ালে পেয়ে বসে। বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে মায়ের কোল থেকে চশমাটা নিচে পড়ে গেল। হাত দিয়ে বারবার চেষ্টাতেও ওঠাতে পারছিল না মা, মায়ের হাতের নাগালের বাইরে ছিল চশমাটা। হিয়াকে ডাকছিল মা। হিয়া ডাক শুনে বারান্দার দরজা দিয়ে পাশের ঘর থেকেই উঁকি দিয়ে দেখছিল সব। বাহ! মায়ের তাহলে বয়স হয়ে যাচ্ছে, মা আর পারছে না আগের মতো সবকিছু। ধুর! এটা কোন শাস্তি হলো? মা উঠে দাঁড়ালেই তো একটু খোঁজাখুজি করলে চশমাটা পেয়ে যাবে। হিয়া গিয়ে আলতো করে চশমাটা মায়ের কোলে রেখে দিয়েছে সেদিন।

কাল সকালে অফিসে যাওয়ার আগে মা যখন কিচেনে বুয়াকে সারাদিনের কাজ বুঝিয়ে দিতে ঢুকবে, হিয়া তখন মায়ের ভ্যানিটিব্যাগে রাখা মিনি মেকআপ বক্সটা তুলে ড্রেসিং টেবিলের সবচেয়ে নিচের ড্রয়ারে রেখে দেবে। মায়ের সারাদিনের অনুজ্জ্বল মুখশ্রী ভাবতে ভাবতে হিয়া স্কুলের ক্লাস বাংক করে তার নতুন হ্যাংলা বিএফটার সাথে ঘুরবে ।

পরদিন সকালে গাড়িতে বসে মোবাইল বের করার জন্য ভ্যানিটিব্যাগ খুলতেই নাজমা বুঝলেন মেকআপ বক্সটা মিসিং। খোলা ভ্যানিটিব্যাগ হাতে নিয়ে নিশ্চুপ বসে রইলেন কিছুক্ষণ। ভালো করেই জানেন বাসার ঠিক কোন কুঠুরিতে আছে সেটা। আনমনে হাসতে গিয়ে কিংবা মন খারাপ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখলেন। চাইলেই গোপন একটা মেকআপ বক্স কিনে নিতে পারেন, যেটা আর হারাবে না। কিন্তু নাজমা জানেন, সম্ভাবনাময় সেই মেকআপ বক্স তিনি কোনদিনই কিনবেন না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অর্বাচীন স্বজন
অর্বাচীন স্বজন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 3 দিন ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2013 - 1:00পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর