নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কোরানের আলোকে ইসলামের ইতিহাস (১৩)


৩য় অধ্যায়

কোরানের মিস্‌র কোনটা?

* ইউসুফের মিস্‌রঃ প্রথম খাদ্য গুদাম

কোরানে মিস্‌র শব্দটির প্রথম দেখা পাওয়া যায় সূরা ইউসুফে (১২) নবী ইউসুফের গল্পে। মিস্‌র সত্যিই কী , সেই রহস্য সমাধানের প্রথম সুত্র পাওয়া যায় নিচের আয়াতেঃ

{তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, তোমরা ইউসুফ কে হত্যা করো না, বরং ফেলে দাও তাকে অন্ধকূপে যাতে কোন কাফেলা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, যদি তোমাদের কিছু করতেই হয়। ১২:১০}

উপরের এই আয়াত থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে , ইয়াকুব ও তার সন্তানেরা হামেশা বানিজ্যিক কাফেলা যায় এমন একটি রাস্তার নিকটেই বাস করত এবং তারা জানত এই রাস্তার পাশের অন্ধকূপে ইউসুফকে ফেলে দিলে কোন না কোন কাফেলার চোখে পড়বে এবং তাকে বেচার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাবে। ফলে ইউসুফের ভাইরা চিরদিনের মতো ইউসুফের থেকে নিষ্কৃতি পাবে , যা মেরে ফেলে নিষ্কৃতি পাওয়ার চেয়ে উত্তম।(এমনটাই তারা ভেবেছিল) এখন প্রশ্ন ইয়াকুব সত্যিই কোথায় বাস করত?

কোরান আমাদের আরো একটি সুত্র দিয়েছেঃ

{তারা সন্ধ্যা বেলায় কাঁদতে কাঁদতে পিতার কাছে এল। ১২:১৬}

এই আয়াত থেকে আমরা জানলাম ইয়াকুবের বাড়ি বানিজ্যিক রাস্তা থেকে খুব একটা দুরে ছিলনা , কারন ইউসুফের হিংসুক ভাইরা দিনে দিনে যেয়ে ইউসুফকে রাস্তার পাশে অন্ধকূপে ফেলে সেই দিন সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি ফিরেছে। গল্পের পরবর্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেঃ

{এবং একটি কাফেলা এল। অতঃপর তাদের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ করল। সে বালতি ফেলল। বললঃ কি আনন্দের কথা। এ তো একটি কিশোর। তারা তাকে পন্যদ্রব্য গণ্য করে গোপন করে ফেলল। আল্লাহ খুব জানেন যা কিছু তারা করেছিল। ১২:১৯}

ইউসুফের হিংসুটে ভাইরা ঠিক যেমনটি ভেবেছিল , ঠিক তেমনি একটি কাফেলা এসে কূপের কাছে থামল পানি নেয়ার জন্য। তারা পানির বদলে একটি ছেলে পেল। উদ্ধারকারীদের বক্তব্য "কি আনন্দের কথা ও পন্যদ্রব্য" আমাদের একথায় বলে যে , এটা ছিল একটি বানিজ্যিক কাফেলা এবং এরা ব্যবসার উদ্দেশ্যেই এপথ দিয়ে যাচ্ছিল। মুফতে একটি দাঁস পাওয়াটাই তাদের জন্য আনন্দের কথা।

{ওরা তাকে কম মূল্যে বিক্রি করে দিল গনাগুণতি কয়েক দেরহাম এবং তাকে বেচার জন্য উদ্গ্রিব ছিল। (
l-zāhidīna الزَّاهِدِينَ
those keen to give up.
১২:২০}

কোরান বলছে তারা ইউসুফকে অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছে। এর অর্থ দাড়ায় ব্যাবসায়ীরা খুব বেশি দেরি না করে বা দুরে না যেয়ে প্রথম সুযোগেই ইউসুফকে বিক্রি করে দিয়েছে। এমনটি ভাবার কারন দুটোঃ-

১) যত দেরিতে তারা তাকে বেচবে , তত বেশি ইউসুফের ভরনপোষন ও লুকিয়ে রাখার ব্যায় বাড়বে।

২) ইউসুফকে তারা বিনা পয়সায় পেয়েছে , সুতরাং ব্যাবসায়িক মানসিকতা এটাই বলে যে যত তাড়াতাড়ি তাকে বেচবে এবং যে দামেই
বেচবে সেটাই লাভ। অন্যথায় ব্যায় বিক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যেতে পারে।

তাহলে আমরা কি জানলাম? আমরা মোটামুটি নিশ্চিতভাবে জানলাম যে ব্যাবসায়ীরা সবচেয়ে নিকটবর্তী এমন কোন বাজারে প্রথম সুযোগেই ইউসুফকে বিক্রি করে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন ব্যাবসায়ীরা কোথায় ইউসুফকে বিক্রি করেছিল? চলুন পড়তে থাকি এবং খুজে বের করিঃ

{মিসর থেকে (مِن مِّصْرَ) যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করল, সে তার স্ত্রীকে বললঃ একে সম্মানে রাখ। সম্ভবতঃ সে আমাদের লাভ নিয়ে আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করে নেব। এমনিভাবে আমি ইউসুফকে এদেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম এবং এ জন্যে যে তাকে বাক্যাদির পূর্ণ মর্ম অনুধাবনের পদ্ধতি বিষয়ে শিক্ষা দেই। আল্লাহ নিজ কাজে প্রবল থাকেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। ১২:২১}

উপরের এই আয়াত অনুযায়ী ক্রেতা ইউসুফকে এমন একটি জায়গা থেকে কিনেছে , যাকে কোরান বলছে 'মিস্‌র'। লক্ষ্য করুন "মিস্‌র থেকে" , এর মানে দাড়ায় ক্রেতা মিস্‌রে থাকে না , পার্শ্ববর্তী কোন গ্রাম থেকে মিস্‌রে এসে ইউসুফকে কিনে বাড়ি ফিরে বউকে বলছে তাকে দেখেশুনে রাখার জন্য। আয়াত থেকে এটা পরিস্কার যে , লোকটির বাড়ি ও মিস্‌র ভিন্ন জায়গা। অন্যথায় মিশর থেকে যে কিনেছে না বলে , বলা হতো- যে কিনেছে , সে তার স্ত্রীকে বলল....... ।

এই আয়াতগুলো থেকে আমরা প্রাচীন আরবের বানিজ্য কাফেলা কিভাবে কাজ করত তার একটা ধারনা পাই। বানিজ্য কাফেলা একটি নির্দিষ্ট রাস্তা (trade route) দিয়ে চলাচল করত। এই রাস্তা প্রতিটি গ্রাম বা লোকালয়ের ভিতর দিয়ে যেত না। অনেক দুর পর পর ছোট খাট শহর বা গঞ্জের ভিতর দিয়ে যেত , যেখানে কাফেলা রাত কাটাত , রসদ সামগ্রি কিনত ও বেচাকেনা করত। এই রাস্তা থেকে শাখা প্রশাখা দিয়ে নিকটবর্তী বা দুরের গ্রাম বা লোকালয়ে যাওয়া যেত। যেমনটি আমরা দেখেছি ইউসুফের ভাইরা সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে কাফেলা চলাচলের রাস্তার পাশের অন্ধকূপে ইউসুফকে ফেলে দিয়ে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরেছে এবং ইউসুফের ক্রেতা ১২ দরজা বিশিষ্ট দেয়াল ঘেরা দূর্গ শহর মিস্‌র থেকে ইউসুফকে কিনে নিজের গ্রামের বাড়ি ফিরেছে।

বানিজ্য কাফেলার রাস্তা বা ট্রেড রুট যে সকল স্টেশনের উপর দিয়ে যায় , তার মধ্যে কিছু স্টেশন আয়তন ও মর্যাদায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর কারন হলো এই স্টেশনগুলো অনেক কাফেলার রাস্তার মিলনস্থল /জংশন বা এর চারিপাশে অনেক গ্রাম ও জনপদ থাকায় এই স্টেশনের বাজার / মার্কেট অনেক বড়। ফলে এখানে প্রচুর পন্য সামগ্রীর আমদানি ও বেচাকেনা হয়ে থাকে এবং এখানে কাফেলার মালিকরাও বিভিন্ন পরিসেবা পায়। এই সকল গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনকে আরবিতে বলে 'আমসার' , যা 'মিস্‌র' শব্দের বহুবচন।

এরপরে অনেক বছর কেটে যায়। কোরান আমাদের ইউসুফের জীবণের অনেক ঘটনার বর্ণনা করেঃ কিভাবে তাকে দোষ না করা সত্বেও দোষী বানানো হলো , কিভাবে জেল হলো, কিভাবে জেলে তার কিছু বন্ধু হলো এবং অবশেষে এই ভূমিতে উচ্চ রাজকীয় পদে আসীন হলো। স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা দেয়ার পারদর্শিতার জন্য ইউসুফ মিস্‌র শহর ও এর চতুর্পার্শ্বের রাজ্যের রাজার পরামর্শদাতা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক হলো। কোরান এই রাজাকে 'আল-মালিক' বলেছে , ফেরাউন নয়। কারন ফেরাউনের তখনো রঙ্গমঞ্চে আগমনের সময় হয় নি , সেতো আসবে মূসার সাথে।

এরপরে আমরা কোরানের ইউসুফের গল্পের বর্ণনা থেকে একটি বড় গুরুত্বপূর্ণ সুত্র পাই যে , ইউসুফের জীবণের ঘটনাবলী ইজিপ্টে ঘটেনি। এটা এমন এক সুত্র যা অধিকাংশ মুসলমান উপলব্ধি করতে ব্যার্থ হয়েছে , কারন গত হাজার বছরের ও বেশি সময় ধরে মুসলমানেরা কোরানকে তাকের ঊপরে তুলে রেখে , হাদীস ও ইহুদিদের মিথ্যা জালিয়াতির গল্পকে সত্য ভেবে মেনে নিয়েছে। মিস্‌র শহর ও এর চতুর্পার্শ্বের রাজ্যের রাজা একটি স্বপ্ন দেখেনঃ "৭টি মোটাতাজা গরুকে ৭টি রুগ্ন পাতলা গরু খেয়ে ফেলছে"। এই স্বপ্নের মানে জানার জন্য রাজা সেই সময়ে জেলে থাকা ইউসুফের স্মরনাপন্ন হন। ইউসুফ এই স্বপ্নের ব্যাখ্যায় জানান যে , পরবর্তি ৭ বছর ভাল বৃষ্টি ও অনুকুল আবহাওয়ার ফলে ভাল ফসল ফলবে এবং এর পরের ৭বছর ক্ষরা ও অনাবৃষ্টির ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ হবে। ক্ষরার পরে আবার বৃষ্টি হবে , আবার ফসল ফলবে। একারনে পরবর্তি ৭বছর খাদ্য শস্য জমিয়ে গুদামজাত করে রাখার পরামর্শ দেন , যাতে দুর্ভিক্ষের সময় কাজে লাগে। পড়ুন কোরানের আয়াতঃ

{এর পরেই আসবে একবছর-এতে মানুষের উপর বৃষ্টি (يُغَاثُ) বর্ষিত হবে এবং এতে তারা রস নিঙড়াবে। ১২:৪৯}

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে , কোরানের 'ইউগাত' শব্দটি 'গাইত' শব্দের ব্যাকরনগত এক রুপ এবং কোরানের যত জায়গায় কৃষিকাজের সাথে 'গাইত' এসেছে , তত জায়গায় এর অর্থ নিশ্চিতভাবে বৃষ্টি। দেখুন আরো কয়েকটি উদাহরন-

{নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন (وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ) এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। ৩১:৩৪}

আরবি ' ইউনাজ্জিলুল গায়তা' অর্থ পরিস্কার- বৃষ্টি নেমে আসা।

{মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পরে তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন (يُنَزِّلُ الْغَيْثَ)এবং স্বীয় রহমত ছড়িয়ে দেন। তিনিই কার্যনির্বাহী, প্রশংসিত। ৪২:২৮}

আবারো একি আরবি অভিব্যাক্তি ' ইউনাজ্জিলুল গায়তা' এই আয়াতে এসেছে। আরো পরিস্কার উদাহরন নিম্নের আয়াতে-

{তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির (غَيْثٍ) অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়। ৫৭:২০}

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফারুক
ফারুক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: বুধবার, জুলাই 29, 2015 - 9:16অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর